একটি সংশয়ঃ অজ্ঞতা ও বাধ্যবাধকতার অজুহাত দেখিয়ে তাগুতকে অব্যাহতি দেয়া

প্রশ্নঃ

ক) যখন কোন মানুষের উপর হুজ্জাত ক্বায়েম করা হয় এবং তার মাঝে যদি তাকফীর এর প্রতিবন্ধকগুলোর মধ্য থেকে কোনটি তাঁর মাঝে পাওয়া না যায় তবে তাকে তাকফীর করা যাবে

খ) শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া’র (রহ.) জাহমিয়া সম্প্রদায়ের উপর হুজ্জাত প্রতিষ্ঠা করেছিলেন কিন্তু তাদের নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের তাকফির করেননি

এই দুই অবস্থানের মধ্যকার বিরোধ কিভাবে নিরসন করা হবে?

এমনিভাবে মু’তাযিলা সম্প্রদায় এর ব্যাপারে ইমাম আহমাদ রহ. এর অবস্থান। তাদের উপর হুজ্জাত প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, তাদেরকে পরাজিত করেছিলেন। আর তারা (মুতাযিলারা) তো ভাষা ও দ্বীন সম্পর্কে আলিমদের জামাত ছিলো (কিন্তু তিনি তাদের নির্দিষ্ট করে তাকফির – তাফফির মুয়াইয়্যিন – করেননি)।

আশা করবো দ্রুত উত্তর দেবেন, কারণ এটি এমন একটি মাস’আলাহ যা আমার কাছে বিভ্রান্তি হয়ে দাড়িয়েছে… আর আমরা আপনার কিতাব অধ্যয়ন করে যা পেয়েছি “অজ্ঞতার অজুহাত” (উযর বিল-জাহল) এর কথা পেয়েছি।তাই এটা নিয়ে অনেকেই বলতে শুরু করবে যে, তাহলে তো তাগুতদের উপর হুজ্জাত কায়েম করার পরও তাদেরকে (তাকফির থেকে) অব্যাহতি দেয়া উচিৎ তাদের অপারগতার কারনে যে, তারা আমেরিকা এবং অন্যান্য রাষ্ট্রের দ্বারা এটা (তাদের কুফরি ও ইমান বিধ্বংসী কর্মসমূহ) করতে বাধ্য ছিল। অথবা বলা হবে যে, তারা অজ্ঞ। সুতরাং যদি বলেন যে তাদের (জাহমিয়্যাহ, মুতাযিলা) জাহালাত দূর (খন্ডন) করা হয়েছে, তাহলে বলবো; এদের (বর্তমান তাগুত) জাহালাত তো আরও বেশি গ্রহণযোগ্য। আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দিন।

 

জবাবঃ

بسم اللہ والصلوۃ والسلام علی رسول اللہ وعلی آلہ وصحبہ ومن والاہ

আল্লাহর নামে শুরু করছি, সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূল এর উপর এবং তাঁর সাহাবাগণ ও পরিবার-পরিজনের উপর।

সম্মানিত ভাই,

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ

অজ্ঞতার অজুহাত (উযর বিল জাহল) সম্পর্কে:

এটি কার্যকর হিসাবে গ্রহণ করা হবে অপ্রকাশিত বিষয়সমূহের ব্যাপারে অথবা এমন অস্পষ্ট বিষয়ে যা স্পষ্ট করা অথবা বিবৃত করা প্রয়োজন হয়, এবং এমন ব্যাপারেও অজ্ঞতার অজুহাত (উযর বিল জাহল) গ্রহণযোগ্য হবে যদি তা ইসলামের সাম্প্রতিক বিষয় হয় অথবা সে ব্যক্তি দূরবর্তী কোন মরুভূমিতে অথবা কোন বিচ্ছিন্ন দ্বীপে বেড়ে উঠেছে এমন হয়। সুতরাং যদি এমন ব্যক্তির মাঝে ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলো (আসল)পাওয়া যায়, তবে ঐসব বিষয়ে তাঁর আপত্তি গ্রহণযোগ্য হবে যেগুলোর ব্যাপারে কেবল রিসালাতের মাধ্যমে হুজ্জাত প্রতিষ্ঠা হয়। আর দ্বীনের প্রয়োজনীয় ঐসব সুস্পষ্ট, সুপরিচিত বিষয়গুলোতে অজ্ঞতা তাকফীর করার প্রতিবন্ধক হিসাবে গ্রহণযোগ্য হবে না যে বিষয়ে এমনকি ইয়াহুদি-নাসারারাও আল্লাহর হুকুম কী, সেটা জানে। যেমন আল্লাহ তা’আলার সাথে ইবাদাতে শরীক করা অথবা তাঁর সাথে কাউকে ইলাহ সাব্যস্ত করা এবং তাঁর সমকক্ষ হিসাবে কাউকে দাড় করানো। সুতরাং এমতাবস্থায় তার এ অজ্ঞতা তার বিপরীতে হুজ্জাত হবে, তার পক্ষে নয়। কেননা এই অজ্ঞতাকে এমন বিষয়ে অবজ্ঞা-অনিচ্ছাজনিত অজ্ঞতা হিসাবে ধরা হবে যা কিতাবুল্লাহ দ্বারা সুপ্রতিষ্ঠিত এবং সকল রাসূলগণ এটার উপর প্রেরিত হয়েছেন। যার কাছে বার্তা পৌঁছে নি, ও শরঈ কোন ওজরের কারণে যার হক চিনার ক্ষমতা নাই, তার জন্য কোন জাহালাত নেই…

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা বলেন:

{وَالَّذِينَ كَفَرُوا عَمَّا أُنذِرُوا مُعْرِضُونَ}

আর কাফেররা তাদেরকে যে বিষয়ে সতর্ক করা হয় তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। [সূরা আহক্বাফঃ ৩]

তাগুতদের যখন এমন অবস্থা যে তারা আল্লাহর দ্বীনের বিরুদ্ধে যুদ্ধকারী, তাঁর দ্বীনের বিরোধীতাকারী, দ্বীনের হুদুদ ও আহকাম পরিবর্তনকারী এবং দ্বীনের বিধি-বিধানকে শক্তি ও দাপটের সাথে বাধা প্রদানকারী তখন এদের সম্পর্কে কী বলা হবে?

এজন্যই বর্তমানের কাফির তাগুতদের যারা আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন তা ব্যতিত অন্য কিছু দিয়ে শাসন করে, যারা আল্লাহর দ্বীন ও আল্লাহর বন্ধুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে আর আল্লাহর শত্রুদের সাথে বন্ধুত্ব করে তাদের বিবিধ সুস্পষ্ট ও বড় কুফরকে প্রাথমিক যুগের জাহমিয়্যাহ ও মু’তাযিলাদের বিদ’আদের সাথে কিয়াস করা একটি ভুল কিয়াস। কেননা কিছু মানুষের কাছে দলীল অপ্রকাশিত থাকায় মানুষের মাঝে বিস্তৃত হওয়া ঐ সকল বিদ’আতের সঙ্গে সুস্পষ্ট কুফরকারী ব্যক্তিদের কুফরের মাঝে সুস্পষ্ট বহু পার্থক্য রয়েছে।

ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল রহ. ও ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ রহ. ভাষা ও দ্বীন সম্পর্কে জ্ঞান রাখা জাহমিয়াদের আলিমদেরকে তাকফীর করেননি, এটি একটি ন্যাক্কারজনক দাবি। কারণ ইমাম আহমাদের ব্যাপারে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি জাহমিয়াদের ইমাম, দায়ী ও সাধারণ ব্যক্তিদের মধ্যে পার্থক্য করতেন। সুতরাং তাঁর (ইমাম) থেকে এমন বর্ণনা রয়েছে যে, তিনি তাদের দায়ী, তাদের খতিব ও তাদের উলামাদেরকে তাকফীর করতেনন কিন্তু তাদের আম (সাধারণ) ব্যক্তিদেরকে তাকফীর করতেন না।

তাগুতদের পক্ষে এ অজুহাত পেশ করা যে, তারা আল্লাহর বিধান ব্যতিত অন্য বিধান দিয়ে শাসন করতে আমেরিকা ও অন্যান্যদের দ্বারা বাধ্য হয়েছে এটা অকেজো অজুহাত হিসাবে সাব্যস্ত হবে, ইলম অন্বেষণকারীদের জন্য এর পেছনে সময় নষ্ট করা উচিৎ নয়।

এমনিভাবে অজ্ঞতাকে তাদের জন্য অজুহাত হিসাবে দাড় করানো – এটাও একইভাবে এমন অজুহাত ও এমন গুণাবলী যা তাগুতেরা নিজেরাই পছন্দ করে না। এই তাগুতেরা নিজেরাই নিজেদের উপর এমন গুণাবলী (অজ্ঞতা) লাগানো হোক এটা পছন্দ করে না। বরং যারা এই তাগুতদের ‘আমেরিকার অনুসারী’ বলে কিংবা তাগুতদের আমেরিকার গোলামী করার কথা বলে, তাদেরকে এই তাগুতেরা সাজা দেয়, কারাগারে নিক্ষেপ করে।

এমনিভাবে তাদের সম্পর্কে জাহালাতের কথা বলাকে তারা গালি হিসাবে দেখে এবং এর জন্য কাফিরদের আইন অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় নিরাপত্ত্বার কথা বলে এসব ব্যক্তিদের ৩ বছরের কারাবাসও দিয়ে থাকে। তারপরও কিছু নির্বোধ রয়েছে যারা তাদের পক্ষ হয়ে বিতর্ক করার জন্য এবং তাদেরকে রক্ষা করার জন্য ঘটনা থেকে চোখ বুঝে থাকে আর না দেখার ভান করে এসব অজুহাত দাড় করায়, যা তাদেরকে রক্ষা করতে পারবে না, তারা এতে সন্তুষ্টও নয়, বরং এটাকে তারা গালি এবং শাস্তিযোগ্য হিসাবে বিবেচনা করে।

সুতরাং জরুরী হল তাদের (তাগুত) নিজেদের বক্তব্য গ্রহণ করা, (তাদের পক্ষ হয়ে) বিতর্ককারীদের বক্তব্য নয়, কেননা মানুষ তাঁর নিজেকে খুব ভালোভাবে জানে যে তাঁর মাঝে কী রয়েছে।

তারপর কথা হল,

উলামাগণ ‘বাধ্যবাধকতা’ এবং এর শর্তসমূহ সম্পর্কে কি বলেছেন সেটার সীমারেখা সম্পর্কে ইলম অন্বেষণকারীদের মধ্যে যারা জানে ও বুঝতে পারে,  যেন তাকফীরের বাধাপ্রদানকারী বিষয় কখন গ্রহণযোগ্য হয় তা বিবেচনা করতে পারে, তারা বুঝবে যে, এদের (তাগুত) প্রকৃত অবস্থার সাথে ‘ইকরাহ’ তথা বাধ্যবাধকতা জড়িত না। (তাদের ক্ষেত্রে বাধ্যবাধকতার অজুহাত প্রযোজ্য না – অনুবাদক)

আর সেসকল শর্তসমূহ থেকে একটি হল যাকে বাধ্য করা হচ্ছে সে দুর্বলতার কারণে নিজেকে রক্ষা করতে অক্ষম, এমনকি পলায়ন করেও। এই তাগুতদের কারা বাধ্য করেছে? প্রত্যেকেই এটা ভালোভাবে জানে যে, ক্ষমতায় পৌঁছানো এবং সিংহাসনে আরোহন করার জন্য এরা প্রতারণা, বিশ্বাসঘাতকতা এবং খুন ও নিপীড়নের (এমনকি আত্মীয়-স্বজনদের উপরেও) সকল পদ্ধতি অবলম্বন করেছে। সুতরাং এটা স্বতঃসিদ্ধ যে, তাদেরকে কেউ এমন কাজ করতে বাধ্য করেনি, বরং তাদের শাসনই হল জোরপূর্বক শাসন করা, তারা জনগণের উপর জবরদস্তী করে তাদের প্রতি ‘ওয়ালা’ (বন্ধুত্ব স্থাপন) করতে, তাদের ইবাদাতে এবং তাদের আইন মানতে প্রবেশ করতে বাধ্য করে।

যদি এটা বলা হয় যে, তারা দেশে ক্ষমতা গ্রহণ করতে বাধ্য হয়েছে তাহলে এটা খুবই মিথ্যা হবে। তারপরও কে সে ব্যক্তি যাকে আল্লাহর আইন বাতিল করার জন্য রাষ্ট্রের ক্ষমতা দখল করে থাকতে বাধ্য করা হয়েছে, তাও এত লম্বা সময় যাবত? কে সেই ব্যক্তি যাকে ক্ষমতা একচ্ছত্র অধিকার করে থাকতে বাধ্য করা হয়েছে তাঁর সারাটি জীবন? বরং তাঁর বংশধরদের পর্যন্ত?

আর ‘ইকরাহ’ (বাধ্য করা) সহীহ হওয়ার জন্য উলামাগণ আরও যে শর্ত উল্লেখ করেছেন তার মধ্য একটি হচ্ছে, উক্ত কাজটিতে লেগে না থাকা, অর্থাৎ যে কাজে তাকে বাধ্য করা হয়েছে তার চেয়ে বেশি না করা… আর এ সকল তাগুতদেরকে যদি আল্লাহর শরীয়াহকে বাতিল করতে বাধ্য করাও হয়ে থাকে, তাহলে সে ব্যাক্তি কে যে তাদেরকে আল্লাহর দ্বীনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে বাধ্য করেছে? কে সে ব্যক্তি যে তাদেরকে আল্লাহর বন্ধুদের সাথে যুদ্ধ করতে বাধ্য করেছে? কে সেই ব্যক্তি যে তাদেরকে বাধ্য করেছে আল্লাহর দ্বীনের সাথে ঠাট্টা করতে? এবং দ্বীনের উপহাসকারীদেরকে লাইসেন্স দিতে? কে তাদেরকে ‘রিদ্দাহ’ ও কুফরকে বৈধতা দিতে এবং এগুলোকে রক্ষণাবেক্ষণ করতে বাধ্য করেছে? কে তাদের নিজেদেরকে আইন প্রণয়নকারী এবং ইলাহ হতে বাধ্য করেছে? কে বাধ্য করেছে আল্লাহ ব্যতিত অন্যের ইবাদাত করতে? কে তাদেরকে গনতন্ত্রকে জীবন বিধান হিসাবে কামনা করতে বাধ্য করেছে? কে?

কে?

সুতরাং এটি একটি অগ্রহনযোগ্য দাবী বাস্তবতা যাকে প্রত্যাখ্যান করে। আর খোদ তাগুতেরাই নিজেদের ব্যাপারে বাধ্যবাধকতার এই অজুহাত স্বীকার করে না, যা তাদের পক্ষ হয়ে অজুহাত দানকারীরা উপস্থাপন করে। বরং এই তাগুতেরা সর্বদা গর্ব আর দম্ভভরে নিজেদের সার্বভৌমত্ব আর স্বাতন্ত্র-স্বনির্ভরতার কথা বলে বেড়ায়। তারা এটা খোলাখুলিভাবে ঘোষণা করে যে, তারা কারো অনুসরণ করেনা! কেউ তাদের অভ্যন্তরীণ এবং এমনকি বৈদেশিক নীতিতেও হস্তক্ষেপ করে না!! তাদের দেশ, জনমানব ও জাতির সার্বভৌমত্ব রয়েছে! যেমন তারা অথবা তাদের পূর্বপুরুষ যা করেছে সেটাকে তারা বড় আকারে প্রকাশ করে এবং এটার প্রশংসায় এভাবে পঞ্চমুখ থাকে যে, তারা তাদের জনগণকে এই সংবিধান দিতে পেরে গর্বিত। এবং তারা দাবি করে যে, তারা তাদের জনগণের অধিকার নিশ্চিত করেছে এবং তা তাদের ভাষায় ন্যায়বিচারের চূড়ান্ত পর্যায়ের অন্তর্ভূক্ত। তারা এটা থেকে দায়মুক্তি ঘোষণা করে না অথবা এটা দাবি করে না যে এসব তাদের উপর জোরপুর্বক আরোপিত, যেমন নাকি তাদের পক্ষে নির্বোধ বিতর্ককারীরা  ধারণা করে থাকে।

এটা অতীব জরুরী যা আমরা আগেও বলেছি যে, তাদের নিজস্ব বক্তব্য তাদের থেকে পেশ করতে হবে, তাদের পক্ষাবলম্বনকারী বিতর্ককারীদের বক্তব্য নয়, কেননা মানুষ তাঁর নিজের অবস্থা অন্যের চেয়ে ভালো জানে।

আল্লাহর কসম করে বলছি আমি মনে করি এ সকল উন্মোচিত নির্বুদ্ধিতার পেছনে সময় ও চেষ্টা ব্যয় করা অপচয় ছাড়া আর কিছুই নয়। প্রশ্নকারী যদি এটা উল্লেখ না করতেন তবে আমি সেদিকে যেতাম না।

আর বর্তমান সময়ের তাগুতরা কাফির, আল্লাহর দ্বীনের বিরুদ্ধে যুদ্ধকারী, এবং শক্তির বাধ্যমে মানুষকে আল্লাহর শরীয়াত থেকে বিরতকারী, বাধাপ্রদানকারী; আর আহলে ইলমগণ তাদের ব্যপারে যা স্থির করেছেন সেটাই সঠিক যে, যুদ্ধরত কাফির যে মানুষকে শরীয়ত থেকে বাধাপ্রদান করে, বিরত রাখে  – তার হুজ্জাহ প্রতিষ্ঠা, কিংবা প্রতিবন্ধতাক কিংবা শর্ত খুজার হক নেই। এ ব্যপারে আরও দেখুন আল্লামা ইবনে তাইমিয়াহ রহ. এর الصارم المسلول على شاتم الرسول (আস-সারিমিল মাসলূল আলা শাতিমির রাসূল)।

আল্লাহর কাছে কামনা করি যেন তিনি আমাদেরকে এবং আপনাকে উপলব্ধি করার তাওফীক্ব দান করুন এবং এমন ইলম দান করুন যা আমাদের উপকারী হয় এবং আমাদেরকে তাঁর দ্বীনের সাহায্যকারী বানিয়ে দিন।

ওয়াসসালাম

আপনার ভাই ; আবূ মুহাম্মাদ আল মাক্বদিসী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *