আমাদের কথা

আমাদের এই সময়টাতে ইসলাম সম্পর্কে জানার মাধ্যম অনেক। সুযোগ অনেক। ইন্টারনেট ‘ইলমের বিশাল ভান্ডার আমাদের হাতের নাগালে এনে দিয়েছে।

শত শত বছর ধরে পরম যত্নে লিখিত বইয়ের লাইব্রেরি স্মার্ট ফোনের মেমোরি কার্ডের মাধ্যমে পকেটে নিয়ে ঘোরা যায়।

‘ইলম অর্জনের জন্য এক হাজার বছর আগে আমাদের পূর্বপুরুষদের যে পরিমাণ কষ্টটুকু করতে হতো, অধিকাংশ ক্ষেত্রে আমাদের তার ক্ষুদ্র ভগ্নাংশ পরিমাণ কষ্টও করতে হয় না।
.
তবে প্রযুক্তি ‘ইলম অর্জন অনেকাংশে সহজসাধ্য করলেও, আমাদের চিন্তাভাবনা এবং প্রকৃতির মাঝেও কিছু পরিবর্তন এনে দিয়েছে। ধৈর্য লোপ পেয়েছে, অধ্যবসায় প্রায় বিলুপ্ত হয়েছে। কোন বিষয়ে গভীরভাবে অধ্যায়নের পর চিন্তার পরিবর্তে এক লাইনে উত্তর পাওয়ার প্রতিই আমাদের ঝোকটা বেশি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আর দালিলিক ও বিস্তারিত আলোচনা পড়ার চাইতে, নানা সেলিব্রিটি বক্তাদের বিনোদন হবার উপযোগী এমন বক্তব্য, লেকচারকে আমরা ‘ইলমের উৎস হিসেবে গ্রহন করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছি।
.
আর আমরা এমন একটা অবস্থার মুখোমুখি হচ্ছি যা মুসলিম ইতিহাসে সম্ভবত এমন ভাবে আগে আর আসেনি। যদিও অধিকাংশ বিষয়ে জানার সুযোগ এখন অনেক, কিন্তু কিছু বিষয়ে জানাটা এখন খুবই কঠিন।

সভ্যতার যে সংঘাতে মুখোমুখি আমরা এসে দাঁড়িয়েছি তার কারনেই হয়তো ‘ইলমের এমন অনেক কিছুই আজ গোপন করা হচ্ছে যা প্রকাশ করা দ্বীন ও উম্মাহর জন্য আবশ্যক। হয়তো ‘ইলমের এমন অনেক কিছুকেই আজ অপ্রয়োজনীয় সাব্যস্ত করা হচ্ছে যা আসলে অতীব প্রয়োজনীয়।
.
সহিহ বা হক্ব আক্বিদা শেখার অনেক সুযোগ, অনেক ম্যাটেরিয়াল আমরা পেলেও তাই সেখানে সম্পূর্ণ আলোচনা পাওয়া যাচ্ছে না। তাওহিদের ব্যাপারে অনেক তাত্ত্বিক আলোচনা পাওয়া গেলেও তাওহিদ আল-আমালি সম্পর্কে জানার সুযোগ তেমন হচ্ছে না।

সালাফ আস-সালেহিনের কথা বারংবার উচ্চারিত হলেও সালাফ-আস-সালহেইনের উদাহরন অনুসরনের শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে না।

আক্বাবিরদের কথা উচ্চারিত হলেও আক্বাবিরদের দেখানো পথ চিনিয়ে দেওয়া হচ্ছে না। আর তাই ‘ইলমপিপাসুরা যে ধারাগুলো নিজেদের সামনে পাচ্ছে, সমৃদ্ধ অতীত সত্ত্বেও সেগুলোর বাস্তবতা হল তারা বর্তমানে উৎসপথ থেকে বিচ্যুত।
.
আবার ইসলামের শত্রুরা ভেতরে থেকে ইসলামকে পরিবর্তন করে ফেলার কাজে হাত দিয়েছে, আর এই জন্য তারা ব্যবহার করছে নানা কৌশল। নামীদামী ইসলামী বক্তাদের ব্যবহার করা থেকে শুরু করে সিলেবাসে পরিবর্তন – বিভিন্ন ভাবে তারা তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করার জন্য কাজ করে যাচ্ছে। যারা পশ্চিমা ইসলাম প্রচার করে পশ্চিমা নিজ খরচে তাদের উম্মাহর উপরে ‘ইলমের ধারক-বাহক হিসেবে স্থাপন করতে চাচ্ছে।

নিজেদের প্রতিষ্ঠান, নেটওয়ার্ক, প্রচার যন্ত্র, প্রশাসনিক শক্তি সব কিছু ব্যবহার করে তারা এই পরিবর্তিত ইসলামকে, ইসলামের মূল ধারা হিসেবে প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করে যাচ্ছে।
.
আর তাই ইসলামের বুনিয়াদি বিষয়গুলোর ব্যাপারে আজ নতুন সব ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে, আর কিছু বিষয়কে সম্পূর্নভাবে বাদ দিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। দ্বারে দ্বারে ঘুরেও সত্যান্বেষীরা উত্তর খুঁজে পাচ্ছেন না। প্রশ্নের পাহাড় বড় হচ্ছে কিন্তু উত্তর মিলছে না। আমাদের পূর্বপূরুষদের ‘ইলম অর্জনের জন্য পরিশ্রম করতে হলেও বিশুদ্ধ আক্বিদা ও নববী মানহাজের উৎস খুজে পেতে এতোটা বেগ তাদের পেতে হয় নি।

আলহামদুলিল্লাহ, এটা নবী মুহাম্মাদের ﷺ নবুওয়্যাতের সত্যায়ন, কারন তিনি ﷺ শেষ যমানার এই ফিতনার ব্যাপারে আমাদের সতর্ক করেছেন। আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ﷺ সত্য বলেছেন।
.
আজ ‘ইলম সহজলভ্য কিন্তু বিশুদ্ধতা দুর্লভ। ‘ইলমের দাবিদার অনেক, কিন্তু মৌলিক প্রশ্নগুলোর সঠিক, দালিলিক উত্তর দেয়ার মতো কাউকে খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। আলেম অনেক কিন্তু নবীদের ওয়ারিশদের খুঁজে পাওয়া কঠিন।

প্রচলিত ধারাগুলো নিজ নিজ স্থানে সমৃদ্ধ। কিন্তু বর্তমানের চাহিদা পূরনে, প্রকাশ্যে নির্ভেজাল, নির্জলা সত্যকে ঘোষণা করতে ব্যর্থ।

এই শূন্যতাকে ‘ইলমপিপাসুদের এই চাহিদাকে, পূরনের জন্য প্রয়োজন এক নতুনধারার। চিন্তার নতুন এক বিপ্লবের যা পরবর্তীদের চিন্তাগত জঞ্জালকে ছুড়ে ফেলে উম্মাহকে আবারো সংযুক্ত করবে প্রথম প্রজন্মগুলোর বিশুদ্ধ পথে।
.
এই লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়েই, বিশুদ্ধ আক্বিদা ও নববী মানহাজকে তুলে ধরার জন্য শুরু হল নবধারা -র পথচলা।
.
শতবর্ষের আবর্জনাকে ঝেড়ে ফেলে শেকড়ে ফিরে যাবার বিপ্লব। ছড়িয়ে থাকা অগণিত ফরমায়েশি ইটের স্তূপ নিচ থেকে চাপা পরে যাওয়া হিরে-মণি-মুক্তো খুঁজে বের করে আনার প্রত্যয়।

বাংলাভাষাভাষী ‘ইলমপিপাসু-দের জন্য অনলাইনে ওয়ান স্টপ ডেস্টিনেশান ইন শা আল্লাহ

nobodhara.net

 

বল: ‘এটাই আমার পথ, আল্লাহর পথে আহবান জানাচ্ছি, আমি ও আমার অনুসারীরা, স্পষ্ট জ্ঞানের মাধ্যমে। আল্লাহ মহান, পবিত্র; আমি কক্ষনো মুশরিকদের মধ্যে শামিল হব না। [সুরা ইউসুফ, ১০৮]