মক্কা কি দারুল-হারব হতে পারে?

শায়খ ইমাম হামাদ বিন আতিক (রহঃ)(১)কে তার সমসাময়িককালে একজন প্রশ্ন করেছিলো 
যে,মক্কা ও এর লোকজনের ব্যাপারে ইসলামের হুকুম কী হবে?  শায়খ উত্তরে নিচের কথাগুলো বলেছিলেন(২)-

আল্লাহ্‌ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা বলেন,

قَالُوا سُبْحَانَكَ لَا عِلْمَ لَنَا إِلَّا مَا عَلَّمْتَنَا ۖ إِنَّكَ أَنتَ الْعَلِيمُ الْحَكِيمُ ﴿٣٢

তারা বলল, তুমি পবিত্র, আমরা কোন কিছুই জানি না, তবে তুমি যা আমাদেরকে শিখিয়েছ (সেগুলো ব্যতিত) নিশ্চয় তুমিই প্রকৃত জ্ঞানসম্পন্ন, হেকমতওয়ালা।(সূরা বাকারাঃ ৩২)(৩)

বর্তমানে মক্কার ব্যাপারে যে প্রশ্নটি উঠেছে সেটি হল- “মক্কা কি এখন দারুল-ইসলাম নাকি দারুল-কুফর?”

এ ব্যাপারে আল্লাহ্‌র অনুগ্রহে আমি আমার মতামতটি জানাচ্ছি।

আল্লাহ্‌ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা মানুষ সৃষ্টির পর থেকে যুগে যুগে তাদেরকে শিখানোর জন্য নবী রাসুলগণকে সত্য দ্বীন সহকারে পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন। প্রতিটি দ্বীন এর মূল ভিত্তি ছিল তাওহীদ। মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)কেও আল্লাহ্‌ তা’আলা ঐ একই তাওহীদের ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত ইসলামের দাওয়াত দেওয়ার জন্য পৃথিবীতে পাঠিয়েছিলেন। তাওহীদের মূল শিক্ষাটি হল “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” এটিকে মুখে স্বীকার করা ও কাজের মাধ্যমে বাস্তব রূপ প্রদান করা। বান্দা একমাত্র আল্লাহ্‌ ছাড়া আর কারও ইবাদত করবে না। আল্লাহ্‌ ছাড়া আর কারও কাছে দোয়া করবে না বা কিছু চাইবে না। এখানে যে ইবাদত বা দোয়া(৪) এর কথা বলা হচ্ছে তাকে ৫টি ভাগে ভাগ করা যায়-

১. খাওফ (আল্লাহ্‌ তা’আলাকে ভয় করা)

২. রাজা (আল্লাহ্‌ তা’আলার নিকট হতে আশা করা)

৩. তাওয়াককুল (আল্লাহ্‌ তা’আলার উপড় ভরসা করা)

৪. ইনাবাহ (আল্লাহ্‌ তা’আলার কাছেই তওবা করা ও তার কাছে ফিরে আসা)

৫. থাবহ (আল্লাহ্‌ তা’আলার জন্যই উৎসর্গ করা)

৬. সালাত (আল্লাহ্‌ তা’আলার কাছে দোয়া করা/ আল্লাহ্‌ তা’আলার জন্য নামাজ পরা)

ইবাদতের কয়েকটি রূপ বা প্রকারভেদ রয়েছে (৫)। তাওহীদের শিক্ষার ১ম শর্ত হল এই সকাল প্রকারের বা রুপের ইবাদত একমাত্র আল্লাহ্‌ তা’আলার জন্যই করতে হবে। কেউ যদি এই ইবাদতের মধ্যে অন্য কাউকে বা কিছুকে শরিক করে তাহলে তার ইবাদত কবুল হবে না। কেননা যে কোন ধরণের ইবাদত কবুল হওয়ার পূর্বশর্ত হল সেটি একমাত্র আল্লাহ্‌ তা’আলার জন্য হতে হবে।

দ্বিতীয় শর্ত হল, নবীজি মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর আনুগত্য করতে হবে। তার আদেশ-নিষেধগুলো মেনে চলতে হবে, ছোটবড় সকল বিষয়ে তার বিচার মেনে নিতে হবে। তিনি যে আসমানি শরিয়াহ নিয়ে এসেছিলেন তার আনুগত্য করতে হবে। দ্বীনের মৌলিক ও গৌণ সকল বিষয়ে তার আদেশ- নিষেধের আনুগত্য করতে হবে।

তাহলে দেখা যাচ্ছে যে, প্রথম শর্তের মাধ্যমে শিরককে অস্বীকার করা হচ্ছে। শিরক ও তাওহীদ একসাথে থাকতে পারে না। আর দ্বিতীয় শর্ত বিদআতকে অস্বীকার করছে। বিদআত ও নবীজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর অনুসরণ একসাথে হতে পারে না।

সুতরাং যে বা যারাই উপরের দুইটি শর্তের ব্যাপারে জ্ঞান অর্জন করবে, অর্জিত জ্ঞান অনুযায়ী আমল করবে এবং লোকজনকে দাওয়াত দিবে তারাই সঠিক পথে আছে বলে ধরা হবে। পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তের যে কোন শহরের লোকজন যদি উপরের শর্ত অনুযায়ী জ্ঞান অর্জন করে, সে অনুযায়ী আমল করে ও এই হক পথের দিকে দাওয়াত দেয় এবং যারা এই পথে চলে তাদের সাথে বন্ধুত্ব রাখে ও এই পথের বিরোধিতাকারীদের সাথে শত্রুতা পোষণ করে তবেই তারাই হবে ‘মুওয়াহ্‌হিদিন’। আর এরাই হচ্ছে সঠিক পথের অনুসারী।

আর যদি কোন শহরে ভয়াবহভাবে শিরক ছড়িয়ে পরে যেমন, আল্লাহ এর কাছে চাওয়ার বদলে তারা যদি ক্বাবা, মাকামে ইব্রাহিম, হাতিম, নবীগণ ও পুণ্যবান সালাফদের কাছে দোয়া করে বা চায় তাহলে সেখানে ইসলামী পরিবেশ কায়েম আছে এমনটা বলার আর অবকাশ নেই। যদি দেখা যায় সে শহরে প্রকাশ্য শিরক এর পাশাপাশি শিরক প্রকাশ পায় এমন কাজকর্ম বিদ্যমান যেমন, ব্যভিচার, সুদ, নানা রকমের জুলুম, সুন্নাহ কে বাদ দিয়ে ধর্মদ্রোহিতা ও বিদআতের প্রচলন বেড়ে যায় তাহলে সে শহরকে আর দারুল ইসলাম বলে গণ্য করা যাবে না।

যদি সে অঞ্চলের বিচার ব্যবস্থা আল্লাহর আইনের পরিবর্তে জালিম শাসক(৬) ও মুশরিকদের প্রতিনিধি(৭) কর্তৃক রচিত আইন দ্বারা পরিচালিত হয় এবং কুরআন- সুন্নাহ ব্যতিরেকে অন্য কোন মতবাদের দিকে লোকজনকে আহবান জানানো হয় তবে সেই অঞ্চলকে দারুল কুফর বলার পরিস্থিতি তৈরি হয়ে গেছে। আর যদি সে অঞ্চলের শাসক তাওহীদের ধারক-বাহকদের প্রতি শত্রুতা পোষণ করে এবং তাদেরকে ও তাদের দ্বীনকে পৃথিবী থেকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে চায় তবে দ্বীনের ব্যাপারে অল্পকিছু জ্ঞান থাকলেও কেউ এই অঞ্চলের দারুল কুফর বলে গণ্য হওয়ার ব্যাপারে কোন সন্দেহ প্রকাশ করবেন না। এখন এই অঞ্চল পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তেই হোক না কেন উপরোক্ত লক্ষণ প্রকাশিত হলে তাকে দারুল কুফর বলেই গণ্য করা হবে।

আর উপরোক্ত সিদ্ধান্তের ব্যাপারে আপনি যদি প্রমাণ খুজতে চান তাহলে সমগ্র কুরআনেই এর স্বপক্ষে অনেক প্রমাণ পাবেন। এছাড়া উলামাদেরও এ ব্যাপারে ঐকমত রয়েছে। আর এটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ইলম। গুরুত্বের দিক থেকেও এই ইলম এর অবস্থান উপড়ের দিকে। আর তাই প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্বকে প্রাধান্য দেওয়ার কারণে সকল উলামারাই এ ব্যাপারে জ্ঞান রাখেন।

যে এ কথা বলে থাকে যে,

“এখানে কোন একটি অঞ্চল দারুল কুফর হওয়ার জন্য যে সকল শিরকের উপস্থিতির কথা শর্ত হিসেবে বলা হয়েছে সেগুলো (মক্কার আশপাশের) বেদুইন শ্রেণীর লোকদের মধ্যে দেখা যায়। মূল শহরের (মক্কার) লোকদের মধ্যে এগুলো তেমন একটা দেখা যায় না।” তার জন্য আমার উত্তরটি হল-

প্রথমত , এই ধরণের কথা যারা বলেন তারা অহংকারবশত বা বাস্তবতার ব্যাপারে জ্ঞানের স্বল্পতার কারণে এই কথা বলে থাকেন। একথা সবাই জানে যে এই বেদুইন শ্রেণীর লোকেরা ক্বাবা, মাকামে ইব্রাহিম ও হাতিমের নিকট চাওয়া ও এর দিকে অন্যদের আহবান করা মূল শহরের বাসিন্দাদের (মক্কার বাসিন্দা) কাছ থেকেই শিখেছে। যারা তাওহীদের অনুসারী ও যাদের শোনার মতো কান আছে তারা সবাই এগুলো জানে ও শুনতে পায়।

দ্বিতীয়ত, উপরের ঘটনাটি প্রতিষ্ঠিত সত্য হওয়ার পরে এই দায় মক্কাবাসীর উপর না দিয়ে শুধুমাত্র বেদুইন শ্রেণীর বাসিন্দাদের উপর চাপিয়ে দেওয়ার কোন সুযোগ নেই। আমার কাছে খুবই অবাক লাগে যে শহরে আপনাদের তাওহীদের বহিঃপ্রকাশ করার স্বাধীনতা নেই, আপনি আপনার দ্বীনকে পূর্ণভাবে প্রকাশ করতে পারেন না, আপনাকে আপনার নামাজ আড়াল করতে হয় এইজন্য যে সেখানে এমন শাসকগোষ্ঠী বিদ্যমান যারা এই দ্বীনকে ও এই দ্বীনের অনুসারীদেরকে ঘৃণা করে ও শত্রুতা পোষণ করে তেমন ভূমিকে দারুল কুফর বলার ব্যাপারে কোন বুদ্ধিমান মানুষের কোন সংশয় থাকার প্রশ্নই আসে না।

ক্বাবা, মাকামে ইব্রাহিম বা হাতিমের কাছে সাহায্য চায় ও এর দিকে মানুষকে আহবান করে এমন কাউকে তাওহীদের অনুসারীদের (মুওয়াহহিদীন) কেউ যদি এই কথা বলে যে “হে আদম সন্তান, আল্লাহ্‌ ছাড়া আর অন্য কারও কাছে কিছু চাওয়া যাবে না ও এর দিকে মানুষকে আহবান করো না”। অথবা যদি এই কথা বলে যে, “তুমি একজন মুশরিক” তাহলে আমরা কি দেখতে পাই? তাওহীদের অনুসারীদের এই কথা গুলো কি স্বাধীনভাবে বলতে দেওয়া হয় নাকি এগুলো বলার কারণে তারা অন্যদের দ্বারা ষড়যন্ত্রের স্বীকার হয়?

তাই আসুন এ কথা স্বীকার করে নেই যে, যারা তাওহীদের অনুসারীদেরকে এভাবে বাঁধা দেয় সে নিজেকে কোনভাবেই তাওহীদের অনুসারী দাবি করতে পারে না। আল্লাহর শপথ সে তাওহীদের অর্থই বুঝে না। সে রাসুলাল্লাহ (সাঃ) এর দ্বীন প্রতিষ্ঠার কোন কাজে সাহায্যও করছে না।

এমন ঘটনা বিরল যে, শিরকে লিপ্ত একজন ব্যক্তি আরেকজন শিরকে লিপ্ত ব্যক্তিকে এই বলে দাওয়াত দেয় যে, “আপনারা দ্বীন ইসলামে ফিরে আসুন” অথবা “কবরস্থানে নির্মিত এই কাঠামো ধ্বংস করুন এবং আপনাদের জন্য আল্লাহ্‌ ব্যতীত অন্য কারও কাছে কোন কিছু চাওয়ার অনুমতি নেই “। আর একথা যদি কেও বলে তখন এই শিরকে লিপ্ত লোকজন কি তা মেনে নেয়? নাকি তাদের আচরণ তেমন হয়ে যায় যেমনটা মক্কার কুরাইশবাসী নবীজি (সাঃ) এর সাথে করেছিলো?

আল্লাহর শপথ এই সকল শিরকে লিপ্ত লোকজন তাওহীদের অনুসারীদের প্রতি কুরাইশবাসীদের মতই অত্যাচার- নির্যাতন চালায় যেমনটা চালিয়েছিল নবীজি (সাঃ) এর উপর। আল্লাহর শপথ, অনেক ক্ষেত্রে অত্যাচার ও নির্যাতনে তারা কুরাইশবাসীকেও ছাড়িয়ে যায়।(৮)

আর যদি এই অঞ্চলকে আমরা দারুল ইসলাম বলে দাবি করি তবে কেন আপনি এই সকল শিরকে লিপ্ত লোকজনকে ইসলামের দিকে ডাকছেন না? কেন তাদেরকে কবরের উপর নির্মিত স্থপতিগুলো ধ্বংসের আহবান করছেন না? কেন তাদেরকে শিরকে আকবর  ও এর অন্যান্য রূপগুলো ছেড়ে দ্বীন ইসলামে আসার আদেশ করছেন না?(৯)

আর যদি আপনি তাদের নামাজ পড়া, রোজা রাখা, হজ্জ পালন করা ও সাদাকা করা(১০) দেখে সংশয়ে পরে যান তাহলে আসুন দেখে আসি ইতিহাস এ ব্যাপারে কি বলে-

মক্কাতে ইব্রাহিম আল খলিল (আঃ) এর ছেলে ইসমাইল (আঃ) এর মাধ্যমে তাওহীদের দিকে দাওয়াত শুরু হয়েছিলো। মক্কাবাসী এই তাওহীদের উপর বেশ কিছুকাল অটল ছিলেন। এরপর আমর ইবন লুহায়(১১) এর মাধ্যমে মক্কাতে শিরকের সূচনা ঘটে। আস্তে আস্তে পুরো জাযিরাতুল আরবে এই শিরক বিস্তার লাভ করে। আমর ইবন লুহায় এর আনা মূর্তিকে পূজার মাধ্যমে মক্কাবাসী মুশরিকে পরিণত হয় যদিও তাদের মধ্যে তখনো ইব্রাহিম (আঃ) এর দ্বীনের(১২) কিছু অংশের অস্তিত্ব বিদ্যমান ছিল। তারা মূর্তিপূজার পাশাপাশি তখনো হজ্জ পালন করতো, হাজী ও হাজীদের বাইরেও অনেককে তারা সাদাকা প্রদান করতো। এছাড়াও অন্যান্য অনেক ভাল গুণ তাদের মধ্যে ছিল। আবদুল মুত্তালিবের কবিতা ইতিহাসের বইগুলোর মাধ্যমে আমাদের কাছে এসে পৌঁছেছে। আমরা দেখতে পাই সেখানে তিনি হাতিদের ঘটনা (সূরা ফীল এর ঘটনা)খুব সুন্দর ভাবে তুলে ধরেছেন। তাহলে দেখা যাচ্ছে মক্কার সে সময়কার বাসিন্দাদের মধ্যে ইব্রাহিম (আঃ) এর দ্বীনের অংশবিশেষ এবং অন্যান্য ভাল গুণাবলীর চর্চা থাকার পরও তারা মুসলিমদের কাতারে থাকতে পারেননি। শুধু শিরকের উপস্থিতি থাকার কারণে তাদেরকে মুশরিক বলে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে ও তাদের ভূমিকে ‘দারুল কুফর’ বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। বর্তমানে আমরা যে শিরক দেখতে পাই তা তখনকার শিরকের তুলনায় আরও ভয়াবহ।

আমরা যদি ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম) থেকে আরও পিছনের ইতিহাস দেখি তাহলে দেখতে পাই যে, আদম (আলাইহিস সালাম) এর পর প্রায় ১০ প্রজন্ম পর্যন্ত মানুষ দ্বীনের উপর অটল ছিল। এরপর তাদের মধ্যে কিছু ক্ষেত্রে অতিরিক্ত করার প্রবনতা দেখা গেল। তারা তাদের সময়কার বা পূর্ববর্তী পুণ্যবানদের পূজা করা শুরু করলো । আল্লাহর পাশাপাশি তারা এই সকল পুণ্যবানদের কাছে চাওয়া শুরু করলো । এভাবে আস্তে আস্তে তারা শিরকের মধ্যে ডুবে যেতে শুরু করলো । এ সময় তাদেরকে আবার তাওহীদের শিক্ষা দেওয়ার জন্য আল্লাহ্‌ তা’আলা  নুহ (আলাইহিস সালাম)কে দুনিয়াতে পাঠালেন। আমাদের জন্য কুরআনে পূর্ববর্তী নবী ও তাদের উম্মাতকে নিয়ে যে আলোচনা করা হয়েছে সেগুলো খুব ভালভাবে অধ্যয়ন করা উচিত। এই ঘটনাগুলোতে আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা রয়েছে।(১৩)

এরপর আমরা হুদ (আলাইহিস সালাম) এর জীবনীতে দেখতে পাই যে তিনি তার কওমকে একমাত্র আল্লাহ্‌ তা’আলার ইবাদত করার দিকে ডেকেছেন। এখানে একটা খেয়াল করার মতো বিষয় হল হুদ (আলাইহিস সালাম) এর কওম আল্লাহ্‌ তা’আলার ইবাদত করার কথা অস্বীকার করতো না। তারা আল্লাহ্‌ তা’আলার পাশাপাশি অন্যান্যদেরও ইবাদত করতো। কিন্তু তাওহীদের মূলভিত্তি হল এক আল্লাহ্‌ তা’আলা ব্যতীত আর কারও ইবাদত করা যাবে না। তাই হুদ (আলাইহিস সালাম) তাদেরকে অন্য সকল ইলাহ বাদ দিয়ে ইবাদতের সকল ক্ষেত্রে এক আল্লাহ্‌ সুবহানাহু ওয়া তা’আলার ইবাদত করার আহবান জানান। ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম) এর ক্ষেত্রেও একই ঘটনা। তার কওম আল্লাহকেই ইবাদত করতো কিন্তু পাশাপাশি অন্যদের ইবাদতের যোগ্য মনে করতো। ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম) তাদেরকে এককভাবে আল্লাহ্‌ তা’আলার দিকে আহবান জানিয়েছিলেন।

উপরের কথাগুলোর সারসংক্ষেপ হলঃ যদি কোন অঞ্চলে আল্লাহ্‌ সুবহানাহু ওয়া তা’আলার পাশাপাশি অন্য কারও ইবাদত করা হয় সেটা ইবাদতের যে কোন স্বরূপেই হোক না কেন, এই শিরকের ব্যাপারটি যদি সবার নিকট স্পষ্ট হয়ে যায় এবং লোকজন এই শিরকের দিকেই মানুষকে আহবান করে, প্রয়োজনে এই শিরককে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য যুদ্ধ করে তবে সেই অঞ্চল দারুল ইসলাম থাকার যোগ্যতা হারাবে। আর যদি পরিস্থিতি এমন দাড়ায় যে শিরকে লিপ্ত এই সকল ব্যক্তিরা তাওহীদের অনুসারীদের প্রতি শত্রুতা পোষণ করে এবং তাওহীদের দিকে ফিরে আসার আহবানকে প্রত্যাখ্যান করে তবে সেই অঞ্চলকে আর কিভাবে দারুল ইসলাম বলা যাবে? আর যদি এমন হয় এই শিরকে লিপ্ত লোকজন তাওহীদের অনুসারীদের সাথে সম্পর্ক ছেদ করে, তাদেরকে অভিশাপ দেয়, তাদেরকে খাওয়ারিয বলে আখ্যায়িত করে এবং বলে যে তাওহীদের অনুসরণকারীরা ভুল দ্বীনের উপর আছে তবে সে অঞ্চল কি আর দারুল ইসলাম থাকবে? আর যদি এই সকল গুণাবলি একটা অঞ্চলের জামায়াতের মধ্যে পাওয়া যায় যদিও আসলি কুফফারদের সাথে তারা বন্ধুত্ব করে না তবুও এই অঞ্চলকে দারুল কুফর ছাড়া আর কি বলা যায়?

আর এটাই হল উপরোক্ত প্রশ্নের পরিপ্রেক্ষিতে মাসআলা।

এরপরের কথা হল,

কুরআন ও সুন্নাহ থেকে আমরা যে দলিল পাই তাতে স্পষ্ট প্রমাণিত যে যদি কোন মুসলিম এককভাবে বা জামায়াতগতভাবে শিরকে লিপ্ত কোন ব্যক্তি বা জামায়াতের কাছে আনুগত্যের ও সাহায্যের ঘোষণা দেয় তাহলে সেই মুসলিম ব্যক্তি বা জামায়াতের উপর রিদ্দার (ইসলাম থেকে বের হয়ে যাওয়া) হুকুম জারি হবে।

এ বিষয়ে আল্লাহ্‌ তা’আলা বলেছেন,

নিশ্চয় যারা সোজা পথ ব্যক্ত হওয়ার পর তৎপ্রতি পৃষ্ঠপ্রদর্শন করে, শয়তান তাদের জন্যে তাদের কাজকে সুন্দর করে দেখায় এবং তাদেরকে মিথ্যা আশা দেয়।

(সূরা মুহাম্মাদ: ২৫)(১৪)

আল্লাহ্‌ তা’আলা আরও বলেছেন,

হে মুমিনগণ, তোমরা ইহুদি ও খ্রিস্টানদেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করো না। তারা একে অপরের বন্ধু। তোমাদের মধ্যে যে তাদের সাথে বন্ধুত্ব করবে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ্‌ জালেমদেরকে পথ প্রদর্শন করেন না। (সূরা মাইদাহঃ ৫১)(১৫)

এই বিষয়ে আল্লাহ্‌ তা’আলার নির্দেশগুলো খুব ভাল করে খেয়াল করুন,

“আর কোরআনের মাধ্যমে তোমাদের প্রতি এই হুকুম জারি করে দিয়েছেন যে, যখন আল্লাহ্‌ তা’আলার আয়াতসমুহের প্রতি অস্বীকৃতি জ্ঞাপন ও বিদ্রুপ হতে শুনবে, তখন তোমরা তাদের সাথে বসবে না, যতক্ষণ না তারা প্রসঙ্গান্তরে চলে যায়। তা না হলে তোমরাও তাদেরই মতো হয়ে যাবে। আল্লাহ্‌ দোযখের মাঝে মুনাফিক ও কাফেরদেরকে একই জায়গায় সমবেত করবেন”। (সূরা আন-নিসাঃ ১৪০)(১৬)

আল্লাহ্‌ সূরা আত-তাওবাতে কি বলেছেন দেখুন,

“ছলনা করো না, তোমরা যে কাফের হয়ে গেছ ঈমান প্রকাশ করার পর। তোমাদের মধ্যে কোন কোন লোককে যদি আমি ক্ষমা করে দেইও, তবে অবশ্য কিছু লোককে আজাবও দিব। কারণ, তারা ছিল গুনাহগার”। (সূরা আত-তাওবাঃ ৬৬)(১৭)

আল্লাহ তা’আলা আরও বলেন,

তারা কসম খায় যে, আমরা বলিনি, অথচ নিঃসন্দেহে তারা বলেছে কুফরি বাক্য এবং মুসলমান হবার পর অস্বীকৃতি জ্ঞাপনকারী হয়েছে। (সূরা আত-তাওবাঃ ৭৪)(১৮)

এবং আল্লাহ্‌ সুব হানাহু ওয়া তা’আলা বলেন,

“তাছাড়া তোমাদেরকে একথা বলাও সম্ভব নয় যে, তোমরা ফেরেশতা ও নবীগণকে নিজেদের পালনকর্তা সাব্যস্ত করে নাও। তোমাদের মুসলমান হবার পর তারা কি তোমাদেরকে কুফরি শেখাবে”? (সূরা আল-ইমরানঃ ৮০)(১৯)

তাওহীদের অনুসারীদের প্রতি কাফিরদের আচরণের ব্যাপারে আল্লাহ্‌ সুব হানাহু ওয়া তা’আলা কি বলছেন দেখুন,

“যখন তাদের কাছে আমার সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ আবৃত্তি করা হয়, তখন তুমি কাফেরদের চোখে মুখে অসন্তোষের লক্ষণ প্রত্যক্ষ করতে পারবে। যারা তাদের কাছে আমার আয়াত সমূহ পাঠ করে, তারা তাদের প্রতি মারমুখো হয়ে উঠে। বলুন, আমি কি তোমাদেরকে তদপেক্ষা মন্দ কিছুর সংবাদ দেব? তা আগুন; আল্লাহ্‌ কাফেরদেরকে এর ওয়াদা দিয়েছেন। এটা কতই না নিকৃষ্ট প্রত্যাবর্তনস্থল”। (সূরা আল-হাজ্জঃ ৭২)(২০)

এবং আপনি ইতিমধ্যেই এই সকল শিরকে লিপ্ত লোকজন তাওহীদের অনুসারীদের সাথে কি ধরণের আচরণ করছে তা দেখেছেন।

ইমাম হামাদ ইবনে আতিক (রহঃ) এর বক্তব্য এখানেই শেষ হল।

——————————-

১. তার নাম আল-আল্লামাহ হামাদ ইবন আলি ইবন আতিক। তিনি নজদের(ইরাকের) উলামাদের অন্যতম একজন। তিনি আয-যুলাফি এলাকায় ১২২৭ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন । তিনি আব্দুর রাহমান ইবন হাসান আল আশ-শায়েখ কতৃক কয়েকটি শহরে বিচারক হিসেবে নিযুক্ত হয়েছিলেন। তার অনেক উপকারী লেখা রয়েছে। এগুলোর মধ্যে ইবতাল আত-তানদিব, শরহে কিতাব আল তাওহীদ ও সাবিল আল নাজাত ওয়াল ফিকাক উল্লেখযোগ্য। তার ছাত্রদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকজন হল তার ছেলে সাদ, ইমাম আবদুল্লাহ ইবন আবদুল লতিফ, শায়েখ সুলাইমান ইবন সাহমান এবং শায়েখ হাসান ইবন আবদুল্লাহ ইবন হাসান । ইমাম হামাদ ১৩০১ হিজরিতে আল-আফলাজে মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তিনি ১০জন ছেলে সন্তান রেখে যান।যাদের অনেকেই পরবর্তীতে বিভিন্ন এলাকার বিচারক নিযুক্ত হয়েছিলেন। [ তথ্য সুত্রঃ “নজদের উলামাগন” (১/২২৮) এবং “মাশাহির উলামা নাজদ”(২৪৪)]

২. এই নিবন্ধের প্রধান অংশটুকু ইমাম হামাদ ইবনে আতিকের “মাজমু আর-রিসালাহ ওয়াল-মাসায়েল আন-নাজদিয়্যাহ” (১/৭৪২-৭৪৬) বই থেকে নেওয়া হয়েছে।

৩. সূরা আল-বাকারাঃ ৩২

৪. এখানে এ বিষয়ে দুইটি হাদিসের কথা আলোচনায় আসে। “দোয়া হচ্ছে ইবাদতের মূল অংশ” এই হাদিসটি তিরমিজি থেকে বর্ণিত (৩৩৭১)। এই হাদিসটি আল আলবানি তার “যইফ সুনান আত-তিরমিজি” (৩৬১১)তে ‘যইফ’ বলেছেন। এব্যাপারে আরেকটি হাদিস আছে যা বেশ শক্তিশালী। এটিও তিরমিজি থেকে বর্ণিত। হাদিসটি হলঃ” দোয়াই হচ্ছে ইবাদত”। এটিকে আল আল বানী তার “সুনান আত-তিরমিজি”তে সহিহ বলেছেন(২৩৭০) ।

৫. তাহাকুম বলতে এখানে বান্দা তার জীবনের সকল ধরণের বিচারের ক্ষেত্রে তার রবের আনুগত্য করবে সে বিষয়টি বুঝানো হচ্ছে। এ বিষয়ে আবদুল আযিয ইবন বায (রহঃ) বলেন,” বান্দা ততক্ষণ পর্যন্ত পরিপূর্ণ আবেদ হতে পারবে না যতক্ষণ পর্যন্ত সে নিজেকে পরিপূর্ণভাবে তার রবের নিকট আত্মসমর্পণ করবে। বান্দা যদি তার জীবনের কিছু ক্ষেত্রে তার রবকে মানে আর কিছু ক্ষেত্রে রবের সৃষ্ট কোন মাখলুকাতের আনুগত্য করে তবে সে কখনোই পরিপূর্ণ আবেদ হতে পারবে না। যখন কোন বান্দা পরিপূর্ণ ভাবে নিজেকে তার রবের নিকট সমর্পণ করবে, তাকে মেনে চলবে, এবং বিচারের জন্য তার কুরআন-সুন্নাহের অনুসরণ করবে তখনই সে পরিপূর্ণভাবে আবেদ হওয়ার পথে এগিয়ে যাবে।  আর যে বা যারা আল্লাহ্‌ ছাড়া অন্য কারও কাছে আত্মসমর্পণ করবে , আল্লাহর আইন বাদ দিয়ে মানুষের আইন দ্বারা বিচার চাইবে বা বিচারকার্য পরিচালনা করবে তখন সে আর আল্লাহর উপসনাকারী বলে বিবেচিত হবে না। সে হবে তখন তাগুতের উপসনাকারী। ‘লা ইলাহা ইল্ললাহ’ বলে ঈমান আনার একটা শর্ত হলে উবুদিয়্যাহ (আল্লাহ্‌ একমাত্র ইবাদত পাওয়ার যোগ্য ও তারই ইবাদত করতে হবে) মেনে নিতে হবে। তাওহীদ আল-উবুদিয়্যাহ মানার শর্ত হল বান্দাকে তাগুত ও তাগুতি বিচারব্যবস্থা বর্জন করতে হবে।

তাই হে মুসলমান ভাইয়েরা, উপড়ের তথ্য থেকে এই কথা একদম স্পষ্ট যে আল্লাহর আইন ছাড়া আর অন্য কারও    আইন মানা যাবে না এবং বিচার চাওয়া ও বিচার করা একমাত্র আল্লাহর আইন অনুসারে হতে হবে। আর এটা আল্লাহ্‌ সুবহানাহু ওয়া তা’আলার ইবাদতের একটি শর্ত। এই শর্ত না মানলে বান্দা পরিপূর্ণ ভাবে আল্লাহর ইবাদত করছে এ কথা বলা যাবে না। “ [ তথ্যটি শায়েখ ইবন বাযের “মাজমু ফতওয়া ইবন বায” (১/৭৭-৮৪) বই থেকে নেওয়া হয়েছে] এই প্রসঙ্গে কুরআনের অবস্থান দেখুন –

আল্লাহ্‌ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা বলেন,

আপনি কি তাদেরকে দেখেননি, তারা দাবি করে যে, যা আপনার প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে আমরা সে বিষয়ের উপর ঈমান এনেছি এবং আপনার পূর্বে যা অবতীর্ণ হয়েছে। তারা বিরোধীয় বিষয়কে শয়তানের দিকে নিয়ে যেতে চায়, অথচ তাদের প্রতি নির্দেশ হয়েছে, যাতে তারা ওকে মান্য না করে। পক্ষান্তরে শয়তান তাদেরকে প্রতারিত করে পথভ্রষ্ট করে ফেলতে চায়। (সূরা আন-নিসাঃ ৬০)

৬. এখানে তাহাকুম বলতে সে সকল তাগুত শাসকদের কথা বলা হচ্ছে যারা আল্লাহ্‌ তা’আলার পাশাপাশি অন্যান্যদের আনুগত্য করে। এই জালিমরা ইসলাম ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে।

৭. এরা হচ্ছে ঐ সকল ব্যক্তি যারা অন্তরে কুফুরি ও জায়নবাদের ধারক বাহক। এদেরকে কূটনীতিক, পরামর্শদাতা এরকম তকমা দিয়ে মুসলিম দেশের শাসকেরা তাদের রাষ্ট্র ব্যবস্থার অংশ করে নিয়েছে। এই জালিম শাসকেরা ক্রুসেডারদেরকে  ‘অতিথি’ হিসেবে নবীজি (সাঃ) এর জাজিরাতুল আরবে আসার সুযোগ করে দিচ্ছে।

৮. আপনি নিশ্চয়ই দেখেছেন যে, তাওহীদের অনুসারীদের সাথে তাদের এক আল্লাহর দিকে দাওয়াতের বিনিময়ে কি আচরণ করা হয়। কেউ যদি বলে যে “তাগুতকে অস্বীকার করো ও এক আল্লাহর উপাসনা কর” অথবা “কুরআন-সুন্নাহ বিরোধী কোন আইন প্রণয়ন করো না” বা “বর্তমানে মুসলিমদের বিরুদ্ধে চালানো যুদ্ধে জায়নবাদী ইহুদি ও ক্রুসেডারদের সাহায্য করো না” বা “অমুসলিম কাফিরদেরকে ‘জাজিরাতুল আরব’ থেকে বের করে দাও” ইত্যাদি বললে তার সাথে কি আচরণ করা হয়? যদি মক্কা বা তার আশে পাশের কেউ এধরণের কথা বলে তাহলে শাসকগোষ্ঠী তার সাথে কি ধরণের আচরণ করে? শাসকগোষ্ঠীকে আপনি কি তাওহীদের বানী প্রচারক এই ব্যক্তির প্রতি নমনীয় দেখতে পান? কখনোই না। বরঞ্চ আমরা দেখতে পাই যে শাসকগোষ্ঠী ঐ লোকের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। এরপর তাকে বন্দী করে তার উপর অবর্ণনীয় নির্যাতন চালানো হয়। অবশেষে তাকে হত্যা করা হয় অথবা কুফফার ক্রুসেডারদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

৯. একইভাবে আপনি যদি কোন ভূমিকে দারুল-ইসলাম মনে করেন তাহলে কেন সেখানে আল্লাহ্‌র আইন বাস্তবায়ন করার কথা বলছেন না? কেন লোকজনকে পার্লামেন্টগুলোকে ধ্বংস করে দেওয়ার কথা বলছেন না? কেন শাসকদের কুফফারদের বিভিন্ন কাজে সহযোগিতা করা ও তার প্রতি আনুগত্য প্রকাশে নিষেধ করছেন না? আল্লাহর একত্ববাদের প্রতিষ্ঠা ও দাওয়াতের কাজে কেন তাদেরকে জিহাদে ঝাঁপিয়ে পরার আদেশ দিচ্ছেন না?

১০. এই অংশটুকু ভালভাবে বুঝার জন্য শায়খুল ইসলাম মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল ওয়াহহাব (রহঃ) এর “কাশফ আশ-শুবুহাত”  বইটি দেখতে পারেন।

১১. ইব্রাহিম (আঃ) মারা যাওয়ার পর আরবে ইনিই প্রথম শিরকের প্রচলন করেন। ইবন ইসহাক বলেন-“ আমর ইবন লুহাই প্রথম ব্যক্তি যে ইব্রাহিম (আঃ) এর দ্বীনে পরিবর্তন এনেছিল এবং মূর্তি নির্মাণ করেছিলো”।

১২. তারা এই শিরকে লিপ্ত থাকা অবস্থাতেও ইব্রাহিম (আঃ) এর দ্বীনের কিছু অংশ মেনে চলতো। যেমন তারা হজ্জ পালন করা, রোজা রাখা, সাদাকা করা এই ইবাদতগুলো তখনও করতো। এই তথ্য ও ব্যাখ্যা কাশফ আশ-শুবুহাত এর ব্যাখ্যা থেকে নেওয়া হয়েছে।

১৩. কাশফ আশ-শুবুহাত  এর ব্যাখ্যা থেকে নেওয়া হয়েছে।

১৪. সূরা মুহাম্মাদঃ ২৫

১৫. সূরা আল-মাইদাহঃ ৫১। আল-আল্লামাহ ইবন হাযম এই আয়াতের ব্যাপারে বলেন-“ এই আয়াতের শাব্দিক অর্থকেই গ্রহণ করতে হবে। মুসলিমদের কেউ আসলি কাফেরদের সাথে বন্ধুত্ব করলে সেও তাদের মধ্যে থেকে একজন বলে গণ্য হবে। এটা এমন পরিষ্কার একটা বিষয় যে এ ব্যাপারে কোন মুসলিমই দ্বিমত পোষণ করবে না। [আল-মুহাল্লাহ (১১/১৩৮)]

১৬.  সূরা আন-নিসাঃ ১৪০

১৭.  সূরা আত-তাওবাঃ ৬৬

১৮. সূরা আত-তাওবাঃ ৭৪

১৯. সূরা আল-ইমরানঃ ৮০

২০. সূরা আল-হাজ্জঃ ৭২

তাকফীরের ব্যাপারে কিছু প্রাথমিক দিকনির্দেশনা

প্রশ্নঃ শায়খ! আল্লাহ্‌ আপনার উপর রহম করুন। সম্প্রতি আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, কিছু তালিবুল ইলম ও সাধারণ মানুষের মাধ্যমে তাকফির আল মু’আইয়্যান (ব্যক্তি বিশেষকে কাফির বলে ঘোষণা করা) ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। এই তালিকায় এমন লোকও আছেন, যারা দ্বীনের উপর অটল থাকার ক্ষেত্রে হয়তো খুবই দুর্বল অথচ তাকফির করার ক্ষেত্রে অগ্রগামী ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন। এ ব্যাপারে আপনার মতামত কী?

উত্তরঃ তাকফির করা ও এটা নিয়ে গবেষণা করা নিঃসন্দেহে অনেক বড় ও সাহসিকতার কাজ । এটি ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তবে আমি আপনাকে এ বিষয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ  মূলনীতি বলে দিচ্ছি-

১ম মূলনীতিঃ একটি বিষয় খেয়াল রাখতে হবে যে তাকফির বিষয়ে যারা পড়ালেখা ও গবেষণা করেন, তারা সাধারণ কোন মানুষ নন। দ্বীনের বিষয়ে যাদের সূক্ষ্ম জ্ঞান রয়েছে এবং ইসলামী ফিকহে যারা পর্যাপ্ত জ্ঞান রাখেন, তারাই সাধারণত তাকফির নিয়ে কাজ করে থাকেন। বিষয়টি পরিষ্কার হয়েছে কি?

২য় মূলনীতিঃ একজন ব্যক্তি ইয়াক্বীনের সাথে ইসলামে প্রবেশ করে থাকে এবং ইয়াক্বীনের সাথেই সে ইসলাম থেকে বেরিয়ে যেতে পারে।

৩য় মূলনীতিঃ যে সকল কারণে একজন ব্যক্তি ইসলাম থেকে বের হয়ে যায়, সেগুলো একটি অপরটি থেকে আলাদা। কিছু কিছু ঈমানভঙ্গকারী বিষয় কেবল আলেম-উলামারাই অনুধাবন করতে পারেন। কারণ এই বিষয়গুলো শুধু আলেম-উলামারাই ভালো বুঝেন। অন্যদিকে কিছু ঈমানভঙ্গকারী বিষয় রয়েছে যেগুলো সুস্পষ্ট, যেমনঃ শিরক, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ﷺ -কে অপবাদ দেওয়া। উম্মতের অধিকাংশই এই ঈমানভঙ্গকারী বিষয়গুলো সম্পর্কে জানেন। আর কিছু ঈমানভঙ্গকারী বিষয় রয়েছে, যেগুলো উম্মাহ সাধারণভাবে জানেই না। যাইহোক, প্রত্যেকের উচিত এই ব্যাপারে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা।

যখন কোন ব্যক্তি  ‘তাকফির’-এর মূলনীতি ও ফিকহী জ্ঞান ছাড়া এই ব্যাপারে কাজ করা শুরু করে, এই বিষয় নিয়ে ব্যস্ত  হয়ে পড়ে, তখন সে অবশ্যই গুনাহের মধ্যে জড়িয়ে পড়ে। পর্যাপ্ত জ্ঞান ছাড়া এ বিষয়ে কোন কথা বলা যাবে না। পর্যাপ্ত প্রয়োজনীয় জ্ঞান এবং কুরআন, সুন্নাহ ও ইজমা থেকে বিশুদ্ধ প্রমাণ থাকার পরেই এ বিষয়ে কথা বলা যাবে।

আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন-

عن عبد الله بن عمر رضي الله عنهما أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال أيما رجل قال لأخيه يا كافر فقد باء بها أحدهما

“কেউ যদি তার ভাইকে “হে কাফির” বলে সম্বোধন করে, অথচ সে কাফির নয়; তাহলে তা ব্যক্তির (তাকফিরকারীর) দিকে ফিরে আসবে।”(বুখারী-৫৭৫৩, মুসলিম-৬০, তিরমিজী-২৬৩৭, আবু দাউদ-৪৬৮৭)

যদি আপনি কাউকে তাকফির করেন অর্থাৎ কাফির বলেন, অথচ সে কাফির নয়, তবে তাকফির আপনার উপর ফিরে আসবে। এই কারণেই তাকফিরের ব্যাপারে সতর্ক হওয়া খুব জরুরী।

অনেকেই হয়তো ইসলামী ইলমের জগতে কেবল যাত্রা শুরু করেছেন অথবা কিছু না জেনেই বা অল্প জেনে তাকফিরের ব্যাপারগুলো নিয়ে মাথা ঘামানো শুরু করেন। কোন কোন ব্যক্তিকে দেখা যায় তাকফির করতে গিয়ে অন্যান্য আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে এড়িয়ে যাচ্ছেন। এই লোকদের মধ্যে এমন মানুষও দেখা যায় যারা অজু বা নামাজের নিয়মগুলোই ঠিকভাবে জানেন না। তাদেরকে যদি আপনি তালাক বিষয়ে কোন মাসআলা জিজ্ঞাসা করেন, দেখা যাবে তিনি তা জানেন না। দ্বীনের ভিত্তিগুলো যেমন-নামাজ, অজু, তালাক এসকল বিষয়ের চাইতেও তাকফির আরও বড় ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, (কেননা তাকফিরের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত জ্ঞান ছাড়া ভুল তাকফির করলে তা ব্যক্তির নিজের উপর আপতিত হয়) অথচ এই ব্যক্তিরা এগুলোকে সমমানের মনে করে। (যেহেতু নামাজ ফরজ তাই এর সাথে সম্পর্কযুক্ত অন্যান্য বিষয়াবলী গুরুত্তের দিক থেকে এগিয়ে থাকবে। আর তাকফিরকে নামাজ,অজু ও তালাকের চাইতে গুরুত্বপূর্ণ বলা হচ্ছে এর জ্ঞানগত দিক বিবেচনা করে। কারণ তাকফিরের ব্যপারে আলোচনার ক্ষেত্রে তুলনামূলক বেশি ও সূক্ষ্ম জ্ঞান এর প্রয়োজন হয়।) যদি আমরা তাকে জিজ্ঞাসা করি যে , ‘একজন লোক তার স্ত্রীকে তিনবার তালাক দিলে সে ক্ষেত্রে ইসলামের বিধান কী হবে?’ দেখা যাবে, সে হয়তো উত্তর জানে না। যদি সে তালাকের মত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের মাসআলা না জানে, কীভাবে সে তাকফিরের মাসআলাগুলো জানে বলে আশা করা যায়। অথচ, তাকফির এগুলোর চাইতেও বড় ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

(উত্তর দিয়েছেন শায়খ সুলাইমান আল উলওয়ান হাফিযাহুল্লাহ)

এরদোগান – ইসলাম নাকি ধর্মনিরপেক্ষতা?

আমি জানি, আমার এই গবেষণাটি এমন সময় সামনে এসেছে, যখন মানুষের মাঝে বিচিত্রসব ধ্যান-ধারণা ছড়িয়ে আছে। কেউ ঈমান-কুফরের সাথে সম্পর্কিত ফিকহের বিধি-বিধানের গণ্ডিতে আবদ্ধ থাকে। আর কেউ কেউ শরীয়তের লাগাম থেকে মুক্ত হয়ে নিজ প্রয়োজন ও প্রবৃত্তি অনুসারে বিচার করে। আবার পরাজিত মানষিকতা ও হীনমন্যতা অনেককে সুনির্দিষ্ট বিশেষ কোন মতামত গ্রহণ করতে বাধ্য ও প্ররোচিত করে। যেমন ডুবন্ত মানুষ ভেসে যাওয়া খড়কুটো আকড়ে ধরে।

Continue reading

গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে উলামায়ে দেওবন্দ

পশ্চিমাদের বানানো গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে কখনো  ইসলাম কায়েম হবে না। যেমনিভাবে কখনো পেশাবের মাধ্যমে ওযু হবে না। মোটকথা, নাপাকের মাধ্যমে যেমনিভাবে, পবিত্রতা হাসিল হবে না তেমনিভাবে, অনৈসলামিক ও পশ্চিমাদের বানানো কুফরী গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতেও কখনো ইসলাম কায়েম হবে না। যখন দুনিয়ায় আল্লাহ তায়ালার দ্বীন বিজয়ী হবে তখন তা সেই একটি পদ্ধতিইে হবে যে পদ্ধতি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম গ্রহণ করেছেন।

(মুফতি নিযামুদ্দিন শামযায়ী রাহিমাহুল্লাহ)

গণতন্ত্র এমন একটি স্বতন্ত্র মতাদর্শ, জীবনব্যবস্থা তথা দ্বীন যা ইসলামের সাথে মৌলিকভাবে সাংঘর্ষিক। আদর্শিক ও প্রায়োগিকভাবে গণতন্ত্র কুফর ও শিরক। গণতন্ত্রের মাধ্যমে কোনভাবেই ইসলাম প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব না।যদিও পরিস্থিতি বিবেচনায় ক্ষেত্রেবিশেষে তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ গণতন্ত্রকে অনুমোদন দিয়েছেন বৃহত্তর স্বার্থের কথা বিবেচনা করে, কিন্তু সাধারণত ঐতিহাসিকভাবে উলামায়ে দেওবন্দ গণতন্ত্রের বিরোধিতা করে এসেছেন। Continue reading

ভিসা ও আমান – শায়খ আবু মুহাম্মাদ আইমান হাফিযাহুল্লাহ

বর্তমান ভিসা কি শরয়ী আমান? মুসলিমদের দেশে ভিসা নিয়ে আসা কাফিরদের ব্যাপারে কি ধরা হবে যে তাদেরকে শরয়ী নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে? তাদের রক্ত কি হারাম বিবেচিত হবে? কাফিরদের দেশে ভিসা নিয়ে যাওয়া মুসলিমরা কি সেখানে হামলা করতে পারবেন? ৯/১১ এর মতো হামলা কি জায়েজ বলে গণ্য হবে? এই প্রশ্নগুলোসহ আরো অনেক প্রশ্নের উত্তর পাবেন শাইখ আবু মুহাম্মাদ আইমানের অন্যবদ্য এই রচনায়।

“ভিসার মাসআলাটি একটি আধুনিক মাসআলা। যার ব্যাপারে কুরআন, সুন্নাহ, ইজমা বা পূর্ববর্তী ফুকাহাদের কোন বক্তব্য নেই। শুধু তাই নয়, কতিপয় সমসাময়িক ফকীহ ভিসাকে আমেরিকায় আক্রমণ পরিচালনার জন্য বাঁধা হিসাবে গ্রহণযোগ্য নয় বলে ফাতওয়া দিয়েছেন। যেমন শায়খ নাসির আল-ফাহদ (আল্লাহ তাকে কারামুক্ত করুন)

তাদের অনেকে আমেরিকায় ৯/১১ আক্রমণের জন্য খুশি হয়েছেন, সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন এবং এ আক্রমণ যে পন্থায় করা হয়েছে, তা জানা সত্ত্বেও যারা এ আক্রমণ পরিচালনা করেছেন তাদের প্রশংসা করেছেন। যেমন শায়খ হামুদ বিন উকলা আশ-শুয়াইবি, শায়খ হুসাইন ওমর ইবনে মাহফুজ, শায়খ আবু মুহাম্মদ আলমাকদিসী, শায়খ আবু কাতাদা ও শায়খ আব্দুল্লাহ আর-রাশুদ।

এটি একটি মতবিরোধপূর্ণ ও গবেষণাগত মাসআলা। যিনি এতে তৃপ্তিবোধ করবেন না, তিনি তা গ্রহণ করবেন না। আর যিনি তৃপ্তিবোধ করবেন, তার জন্য তা গ্রহণ করার সুযোগ রয়েছে।

ফিকহুল জিহাদে ফুকাহায়ে কেরামের এমন অনেক ইখতিলাফের উদাহরণ রয়েছে, যার ফলাফল ব্যাপক। যেমন মুশরিক ও মূর্তিপূজারীদের ব্যাপারে ইখতিলাফ, মুরতাদ নারীকে হত্যার ব্যাপারে ইখতিলাফ এবং এছাড়াও আরো বিভিন্ন মাসআলায় ইখতিলাফ।”

পিডিএফ ডাউনলোড করুন –

ডাউনলোড লিঙ্ক ১

ডাউনলোড লিঙ্ক ২

ডাউনলোড লিঙ্ক ৩

(ডাউনলোড না করেও এই লিঙ্ক থেকে পড়া যাবে )

তাহকিমুল কাওয়ানিন – আল্লামা মুহাম্মাদ ইবন ইব্রাহিম রহঃ

নব্য মুরজিয়াদের সংশয় নিরসনে আল্লাহর আইন ব্যাতীত অন্য আইন দিয়ে শাসন কুফর হবার ব্যাপারে সৌদির আরবের প্রথম গ্র্যান্ড মুফতি ও শাইখ মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুল ওয়াহহাবের নাতি আল্লামা মুহাম্মাদ ইবনু ইব্রাহিমের বিখ্যাত রচনা “তাহকিমুল কাওয়ানিন”।

“রবের বিধানের প্রতি আত্মসমর্পন ও আনুগত্য হল হল সেই এক ও অদ্বিতীয় সত্ত্বার বিধানের প্রতি আত্মসমর্পন ও আনুগত্য করা, যিনি আমাদের সৃষ্টি করেছেন। যেমনিভাবে সৃষ্টি আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে সিজদাহ করতে পারে না, আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও ইবাদত করতে পারেনা, যেমনিভাবে কোন মাখলুকের ইবাদত করা হয় না – ঠিক তেমনিভাবে যিনি চির প্রশংসনীয়, সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়, দয়াময়, পরম করুনাময় তাঁর বিধান, তাঁর আইন ছাড়া অন্য কোন বিধানের প্রতি সৃষ্টি আনুগত্য, আত্মসমর্পন করতে পারে না, স্বীকৃতি দিতে পারে না, মেনে নিতে পারেনা। মানুষ এমন কোন মাখলুকের বিধান মেনে নিতে পারেনা যে অবিবেচক, যালিম, অজ্ঞ। বিভিন্ন সন্দেহ-সংশয় সুভাষ যাকে দলিত-মথিত করেছে। যার হৃদয়কে উদাসীনতা অন্ধকারাচ্ছন্ন করে নিয়েছে।

সুতরাং জ্ঞানীদের জন্য উচিত এ থেকে (আল্লাহর আইন ব্যাতীত অন্য আইনের শাসন) নিজেদের বাচিয়ে রাখা, কারন কুফরের পাশাপাশি এ তাদেরকে দাসত্বে আবদ্ধ করে এবং প্রবৃত্তির খেয়ালখুশি, স্বার্থ, ভুল আর ত্রুটির অনুযায়ী শাসিত হতে বাধ্য করে। কারণ আল্লাহ তাআলা বলেছেন,

ومَنْ لَمْ يَحْكُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللهُ فَأُولئِكَ هُمُ الكافِرون

যারা আল্লাহর নাযিলকৃত বিধান দ্বারা ফয়সালা করে না তারাই কাফের”। (সূরা মায়েদা: ৪৪)

পিডিএফ ডাউনলোড লিঙ্ক –

ডাউনলোড লিঙ্ক ১

ডাইনলোড লিঙ্ক ২

ডাউনলোড লিঙ্ক ৩ 

(ডাউনলোড না করেও এই লিঙ্ক থেকে পড়া যাবে)

 

আল্লাহর পথে ৮ টি বাঁধা – শায়খ ইউসুফ আল উয়াইরি রহঃ

কোন জিনিসগুলো আল্লাহর রাস্তা থেকে মানুষকে আটকে রাখে? কীভাবে দুনিয়া মানুষকে বিভ্রান্ত করে? পড়ুন শায়খ ইউসুফ আল উয়াইরির রহঃ অনবদ্য রচনা…

 

ডাউনলোড

ডাউনলোড

আহলুল কিবলা ও তাবীলকারীরা – শায়খ আবু কাতাদা আল ফিলিস্তিনি হাফিযাহুল্লাহ

ডাউনলোড লিংক ১

ডাউনলোড লিংক ২

ডাউনলোড লিংক ৩

 

মিথ্যে গণতন্ত্র

ডাউনলোড করুন –

লিঙ্ক ১

লিঙ্ক ২

লিঙ্ক ৩

 

যদিও ইরাক আক্রমণ করার সিদ্ধান্ত নেয়ার সময় আমেরিকা জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সাথে আলোচনা করেনি, এবং সাধারন পরিষদের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করেনি, তবুও বাস্তবতা হল জাতিসংঘের সাধারন পরিষদ ও নিরাপত্তা পরিষদ দুটোই আমেরিকার পরিকল্পন অনুযায়ীই ১৯৪৫ সালে স্থাপিত হয়েছিল। এ গণতন্ত্রকে ঘিরে একটি মিথ্যার পুনরাবৃত্তি করা হয় আর তা হল, মুসলিম উম্মাহ ও দেশগুলোতে গণতন্ত্রের অনুপস্থিতিই হল মুসলিম উম্মাহর তীব্র সমস্যার কারণ।

Continue reading

আত-তাওকিদ – শায়খ সুলাইমান আল উলওয়ান

তাওহিদ ও তাওহিদের সঠিক দাওয়াত নিয়ে শায়খ আল-আল্লামা সুলাইমান বিন নাসির আল-উলওয়ানের অনবদ্য একটি রচনা হল আত-তাওকিদ। সংক্ষিপ্ত কিন্তু গভীর অর্থবোধক এ লেখাটি ইন শা আল্লাহ সকল মনযোগী পাঠকের জন্য অত্যন্ত উপকারী হবে।

 

 

ডাউনলোড লিংক ১ – http://pc.cd/IqJ

ডাউনলোড লিংক ২ – http://bit.ly/2D1dAMd

ডাউনলোড লিংক ৩ – http://bit.ly/2oNTUIL

ধর্মনিরপেক্ষতা হল শিরক

মানব রচিত আইনই জুলুমের উৎস এবং জালেমদের অভয়ারণ্য। এটা এমন এক প্রান্তর যেখানে আশঙ্কাজনকহারে বাড়তে থাকে নানান জটিলতা। নতুন করে জন্ম নেয় আরও বহু বিয়োগান্তক ঘটনা।

পড়ুন ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়ে শায়খ মুহাম্মাদ আল ফিজাজির ফাকাল্লাহু আসরাহ বিশ্লেষণ: ধর্মনিরপেক্ষতা হল শিরক

 

ডাউনলোড লিঙ্ক ১

ডাউনলোড লিঙ্ক ২

ডাউনলোড লিঙ্ক ৩

ইউসুফ আল কারদাবিঃ তার পরিচয় ও চিন্তাধারার পর্যালোচনা

প্রত্যেক বিচ্যুতির একটি মূল থাকে।” আর আধুনিক সময়ের মর্ডানিস্ট এবং বিশেষ করে মডারেটদের বিচ্যুতির মূল হল এ ব্যক্তি – ইউসুফ আল-কারদাবি।

মর্ডানিস্ট বলুন কিংবা মডারেট বলুন আধুনিক সময়ের ফিরকাগুলো তাত্ত্বিক ও আদর্শিক ভাবে এক ব্যক্তির কাছে কৃতজ্ঞ। কাফিরের সংজ্ঞা, আল ওয়ালা ওয়াল বারা, হুদুদ, ফ্রি-মিক্সিং, সঙ্গীত, হাদীসের মনগড়া ব্যাখ্যা, কোন শার’ই বিধানকে বর্তমান সময়ে অপ্রযোজ্য ঘোষণা করা, ব্যাঙ্কিং, জিহাদ, আক্বিদাসহ ইসলামের যেসব বিষয়ে ক্রুসেডাও ও যায়নিস্টদের অ্যালার্জি আছে তার সবগুলোর ক্ষেত্রেই মর্ডানিস্ট ও মডারেট – দু দলই একজন ব্যক্তিকে কমন রেফারেন্স পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহার করে।

Continue reading

মানবরচিত আইন দ্বারা বিচার: ছোট কুফর না বড় কুফর?

শায়খ আবু হামজা আল মাসরি

ডাউনলোড

تبصير العقلاء بتلبيسات أهل التجهّم والإرجاء

تبصير العقلاء

بتلبيسات أهل التجهّم والإرجاء

وهو رد على كتاب (التحذير من فتنة التكفير)

للشيخ أبي محمد عاصم المقدسي

ডাউনলোড

 

A Decisive Refutation of the Neo-Murjia

আমাদের দেশের অনেক মুরজিয়ারা ইংল্যান্ডের মুরজিয়া প্রতিষ্ঠান Salafi Publications এর গোঁজামিল দেয়া দলীলসমূহ থেকে নিজেদের ভ্রান্ত আকিদার স্বপক্ষে প্রমাণাদি পেশ করার চেস্টা করে থাকে।

Salafi Publications মুরজিয়াদের স্বপক্ষে যত দলীল আনা সম্ভব সবই এনেছে তাই এই বইটির খন্ডন মুরজিয়াদের আকিদাগত বিচ্যুতি স্পষ্ট করার জন্য যথেষ্ট হবে ইনশা’আল্লাহ।

বইটি অনুবাদের কাজ চলছে। ইনশা’আল্লাহ শীঘ্রই আপনাদের কাছে বাংলায় আমরা তা পৌঁছে দিতে পারব।

A Decisive Refutation of the Neo-Murjia

 

Abū Huthayfah Yūsuf Al-Kanadī
Abū Sulaymān Haythem Ash-Shāmī

Download The PDF

অন্ধ অনুসরণ হতে সাবধান!

শায়খ আবু মুহাম্মাদ আইমান

ডাউনলোড

কোনো দলীল ছাড়া কিংবা শরয়ী দলীলের বিরোধিতায় নিজ পিতৃপুরুষ বা পূর্বসূরীদেরকে অন্ধ অনুসরণ করা চরম ভ্রষ্টতা বৈ কিছুই নয়। আর এটাই হলো কাফেরদের গোমরাহী ও কুফুরীর অন্যতম কারণ; তা আজকের হোক কিংবা পূর্বকালের হোক। Continue reading

কালিমাতুশ শাহাদাহ!

ভাই গাজি মুহাম্মাদ তানজিল

ডাউনলোড

কালিমা সম্পর্কে বর্তমানে অধিকাংশ লোকের অবস্থা অত্যন্ত দুঃখজনক। অধিকাংশ মানুষ এ ‘কালিমাতুশ শাহাদাহ’ বা সাক্ষ্যদানের বাক্য সম্পর্কে অজ্ঞ। একমাত্র আল্লাহ যার প্রতি করুণা করেছেন, আর শিরক থেকে রক্ষা করেছেন, সে ব্যক্তি ছাড়া বাকি সবাই তাদের অজান্তেই শিরক নামক মহামারিতে আক্রান্ত হচ্ছে। অধিকাংশ লোকের অবস্থা হচ্ছে তারা জানে না এ কালিমার অর্থ কী, কী এর গুরুত্ব ও মর্যাদা। Continue reading

ইসলাম বিনষ্টকারী বিষয়সমূহ!

শায়খুল ইসলাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব রহঃ

ডাউনলোড

জেনে রাখুন, ইসলাম বিনষ্টকারী বিষয় দশটি:

Continue reading

শুকনো খেজুর দিয়ে তৈরি গণতন্ত্রের মূর্তি!

শায়খ আবু মুহাম্মাদ আইমান

ইখওয়ানুল মুসলিমিনের পরিণতি থেকে শিক্ষা

ডাউনলোড

বর্তমান মুসলিমপ্রধাণ রাস্ট্রগুলো দারুল হারব কেন?

ফকিহুন নফস রশিদ আহমাদ গাঙ্গুহি রহঃ

মুফতি আব্দুল ওয়াহহাব রহঃ

ডাউনলোড

অনুবাদকের কথাঃ

দারুল ইসলাম ও দারুল হরবের মাসআলা ইসলামী শরীয়তের একটি বুনিয়াদী মাসআলা যার উপর আরোও অসংখ্য মাসআলার ভিত্তি। ফিকহ তথা ইসলামী আইন শাস্ত্রের প্রায় সকল কিতাবে এর আলোচনা রয়েছে এবং এর উপর ভিত্তি করে অসংখ্য অগণিত মাসআলা বর্ণিত হয়েছে। Continue reading

তাওহিদের দুই রুকন!

শায়খ আসিম বিন তাহির (হাফিজাহুল্লাহ)

 

 

ডাউনলোড

প্রত্যেকের জানা উচিত যে, আল্লাহ তাআলাই প্রতিটি বস্তু ও প্রতিটি জীবের সৃষ্টিকারী ও পালনকারী পরম সত্তা। নামাজ, যাকাত বা অন্য যেকোনো ইবাদতের পূর্বে দৃঢ়তম যে বিষয়টির জ্ঞানার্জন ও প্রয়োগের জন্য আল্লাহ তাআলা আদম সন্তানদেরকে আদেশ করেছেন তা হচ্ছে আল্লাহ তা’আলার একত্ববাদে ঈমান আনয়ন করা এবং অন্য সকল ইলাহকে (অর্থাৎ তাগুতকে) প্রত্যাখান ও অবিশ্বাস করা।

Continue reading

ইবাদাতের ব্যাপারে উপদেশ

শায়খ আসিম বিন তাহির

ডাউনলোড

ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রঃ) এর কিতাব “আলওয়াবিল আসসাইয়্যিব” এবং “ইগাসাত আললাহফান” এর কিছু বক্তব্যের ব্যাখ্যা স্বরূপ রচিত

সকল প্রশংসা একমাত্র আল্লাহ তাআলার জন্য এবং সালাম ও সালাত বর্ষিত হোক রাসূলুল্লাহ, তাঁর পরিবার ও তাঁর সাহাবীগণের প্রতি এবং যারা তাঁদেরকে বন্ধু হিসেবে নিয়েছেন তাদের প্রতি। Continue reading

আবু মুয়াজের তাওবা!

শায়খ আসিম বিন তাহির

ডাউনলোড

ঘটনার শুরুটা এভাবেঃ

দুই ডাকাতের দৃষ্টি তাদের শিকারের দিকে। তারা অন্যান্য বাড়িগুলোর থেকে তাদের দৃষ্টিতে অপেক্ষাকৃত সুন্দর একটি বাড়ি বেছে নিয়ে তার দিকে অগ্রসর হল। Continue reading

কীভাবে বসে থাকা সম্ভব?

ডাউনলোডঃ লিঙ্ক ১ | লিঙ্ক ২

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্যই। আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর কাছে সাহায্য চাই এবং তাঁর কাছে ক্ষমা চাই। আমরা নিজেদের নফস হতে এবং আমাদের কর্মের খারাপ ফলাফল হতে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই।

যাকে আল্লাহ পথ দেখান তাকে কেউ পথচ্যূত করতে পারে না, এবং যাকে আল্লাহ পথচ্যূত করেন তাকে কেউ পথ দেখাতে পারে না। Continue reading

আন্তরিক তাওবা!

আন্তরিক তাওবা

ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম রহঃ |  ইমাম ইবনে রজব রহঃ | ইমাম গাজ্জালি রহঃ

ডাউনলোড => লিঙ্ক ১ | লিঙ্ক ২