তাকফীরের ব্যাপারে কিছু প্রাথমিক দিকনির্দেশনা

প্রশ্নঃ শায়খ! আল্লাহ্‌ আপনার উপর রহম করুন। সম্প্রতি আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, কিছু তালিবুল ইলম ও সাধারণ মানুষের মাধ্যমে তাকফির আল মু’আইয়্যান (ব্যক্তি বিশেষকে কাফির বলে ঘোষণা করা) ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। এই তালিকায় এমন লোকও আছেন, যারা দ্বীনের উপর অটল থাকার ক্ষেত্রে হয়তো খুবই দুর্বল অথচ তাকফির করার ক্ষেত্রে অগ্রগামী ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন। এ ব্যাপারে আপনার মতামত কী?

উত্তরঃ তাকফির করা ও এটা নিয়ে গবেষণা করা নিঃসন্দেহে অনেক বড় ও সাহসিকতার কাজ । এটি ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তবে আমি আপনাকে এ বিষয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ  মূলনীতি বলে দিচ্ছি-

১ম মূলনীতিঃ একটি বিষয় খেয়াল রাখতে হবে যে তাকফির বিষয়ে যারা পড়ালেখা ও গবেষণা করেন, তারা সাধারণ কোন মানুষ নন। দ্বীনের বিষয়ে যাদের সূক্ষ্ম জ্ঞান রয়েছে এবং ইসলামী ফিকহে যারা পর্যাপ্ত জ্ঞান রাখেন, তারাই সাধারণত তাকফির নিয়ে কাজ করে থাকেন। বিষয়টি পরিষ্কার হয়েছে কি?

২য় মূলনীতিঃ একজন ব্যক্তি ইয়াক্বীনের সাথে ইসলামে প্রবেশ করে থাকে এবং ইয়াক্বীনের সাথেই সে ইসলাম থেকে বেরিয়ে যেতে পারে।

৩য় মূলনীতিঃ যে সকল কারণে একজন ব্যক্তি ইসলাম থেকে বের হয়ে যায়, সেগুলো একটি অপরটি থেকে আলাদা। কিছু কিছু ঈমানভঙ্গকারী বিষয় কেবল আলেম-উলামারাই অনুধাবন করতে পারেন। কারণ এই বিষয়গুলো শুধু আলেম-উলামারাই ভালো বুঝেন। অন্যদিকে কিছু ঈমানভঙ্গকারী বিষয় রয়েছে যেগুলো সুস্পষ্ট, যেমনঃ শিরক, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ﷺ -কে অপবাদ দেওয়া। উম্মতের অধিকাংশই এই ঈমানভঙ্গকারী বিষয়গুলো সম্পর্কে জানেন। আর কিছু ঈমানভঙ্গকারী বিষয় রয়েছে, যেগুলো উম্মাহ সাধারণভাবে জানেই না। যাইহোক, প্রত্যেকের উচিত এই ব্যাপারে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা।

যখন কোন ব্যক্তি  ‘তাকফির’-এর মূলনীতি ও ফিকহী জ্ঞান ছাড়া এই ব্যাপারে কাজ করা শুরু করে, এই বিষয় নিয়ে ব্যস্ত  হয়ে পড়ে, তখন সে অবশ্যই গুনাহের মধ্যে জড়িয়ে পড়ে। পর্যাপ্ত জ্ঞান ছাড়া এ বিষয়ে কোন কথা বলা যাবে না। পর্যাপ্ত প্রয়োজনীয় জ্ঞান এবং কুরআন, সুন্নাহ ও ইজমা থেকে বিশুদ্ধ প্রমাণ থাকার পরেই এ বিষয়ে কথা বলা যাবে।

আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন-

عن عبد الله بن عمر رضي الله عنهما أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال أيما رجل قال لأخيه يا كافر فقد باء بها أحدهما

“কেউ যদি তার ভাইকে “হে কাফির” বলে সম্বোধন করে, অথচ সে কাফির নয়; তাহলে তা ব্যক্তির (তাকফিরকারীর) দিকে ফিরে আসবে।”(বুখারী-৫৭৫৩, মুসলিম-৬০, তিরমিজী-২৬৩৭, আবু দাউদ-৪৬৮৭)

যদি আপনি কাউকে তাকফির করেন অর্থাৎ কাফির বলেন, অথচ সে কাফির নয়, তবে তাকফির আপনার উপর ফিরে আসবে। এই কারণেই তাকফিরের ব্যাপারে সতর্ক হওয়া খুব জরুরী।

অনেকেই হয়তো ইসলামী ইলমের জগতে কেবল যাত্রা শুরু করেছেন অথবা কিছু না জেনেই বা অল্প জেনে তাকফিরের ব্যাপারগুলো নিয়ে মাথা ঘামানো শুরু করেন। কোন কোন ব্যক্তিকে দেখা যায় তাকফির করতে গিয়ে অন্যান্য আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে এড়িয়ে যাচ্ছেন। এই লোকদের মধ্যে এমন মানুষও দেখা যায় যারা অজু বা নামাজের নিয়মগুলোই ঠিকভাবে জানেন না। তাদেরকে যদি আপনি তালাক বিষয়ে কোন মাসআলা জিজ্ঞাসা করেন, দেখা যাবে তিনি তা জানেন না। দ্বীনের ভিত্তিগুলো যেমন-নামাজ, অজু, তালাক এসকল বিষয়ের চাইতেও তাকফির আরও বড় ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, (কেননা তাকফিরের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত জ্ঞান ছাড়া ভুল তাকফির করলে তা ব্যক্তির নিজের উপর আপতিত হয়) অথচ এই ব্যক্তিরা এগুলোকে সমমানের মনে করে। (যেহেতু নামাজ ফরজ তাই এর সাথে সম্পর্কযুক্ত অন্যান্য বিষয়াবলী গুরুত্তের দিক থেকে এগিয়ে থাকবে। আর তাকফিরকে নামাজ,অজু ও তালাকের চাইতে গুরুত্বপূর্ণ বলা হচ্ছে এর জ্ঞানগত দিক বিবেচনা করে। কারণ তাকফিরের ব্যপারে আলোচনার ক্ষেত্রে তুলনামূলক বেশি ও সূক্ষ্ম জ্ঞান এর প্রয়োজন হয়।) যদি আমরা তাকে জিজ্ঞাসা করি যে , ‘একজন লোক তার স্ত্রীকে তিনবার তালাক দিলে সে ক্ষেত্রে ইসলামের বিধান কী হবে?’ দেখা যাবে, সে হয়তো উত্তর জানে না। যদি সে তালাকের মত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের মাসআলা না জানে, কীভাবে সে তাকফিরের মাসআলাগুলো জানে বলে আশা করা যায়। অথচ, তাকফির এগুলোর চাইতেও বড় ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

(উত্তর দিয়েছেন শায়খ সুলাইমান আল উলওয়ান হাফিযাহুল্লাহ)

মুরজিয়া ও কুফর

শায়খ সুলাইমান আল-উলওয়ান

আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ এ ব্যপারে একমত যে কুফর হতে পারে কথার মাধ্যমে, যেমন দ্বীনের কোন বিষয়কে স্পষ্ট উপহাস (ইস্তিহযা) করা। এবং কুফর হতে পারে কোন কর্মের মাধ্যমে, যেমন কোন মূর্তি অথবা চন্দ্র-সূর্য ইত্যাদির জন্য সিজদায় অবনত হওয়া, অথবা আল্লাহ ব্যতিত অন্য কারো নামে পশু জবাই করা।

কোন ব্যক্তি থেকে কুফর এর কিছু সংঘটিত হওয়ার কুফর হবার ব্যাপারে কিতাবুল্লাহ ও সুন্নাহ থেকে প্রমাণসমূহ খুবই স্পষ্ট। এই কুফর কেবলমাত্র কোন কথা অথবা কোন কর্মের মাধ্যমে হতে পারে, এর সাথে ইচ্ছাকৃত অস্বীকার (জুহদ) অথবা হালাল করা (ইস্তিহলাল) যুক্ত হওয়া ব্যাতীতই। কথা ও কর্মের কুফরকে শুধুমাত্র ইচ্ছাকৃত অস্বীকার (জুহদ) অথবা হালাল করা (ইস্তিহলাল) এর সাথে সীমাবদ্ধ করে দেয়া সহীহ নয়। কেননা সাহাবায়ে কিরাম রাদিয়াল্লাহু আনহুম, তাবেয়ীন আজমাঈনগ অথবা ইমামগণের কেউ এমন বলেননি।

Continue reading

আত-তাওকিদ – শায়খ সুলাইমান আল উলওয়ান

তাওহিদ ও তাওহিদের সঠিক দাওয়াত নিয়ে শায়খ আল-আল্লামা সুলাইমান বিন নাসির আল-উলওয়ানের অনবদ্য একটি রচনা হল আত-তাওকিদ। সংক্ষিপ্ত কিন্তু গভীর অর্থবোধক এ লেখাটি ইন শা আল্লাহ সকল মনযোগী পাঠকের জন্য অত্যন্ত উপকারী হবে।

 

 

ডাউনলোড লিংক ১ – http://pc.cd/IqJ

ডাউনলোড লিংক ২ – http://bit.ly/2D1dAMd

ডাউনলোড লিংক ৩ – http://bit.ly/2oNTUIL

“যে কাফেরকে কাফের বলেনা সে কাফের” – এই মূলনীতির বিশ্লেষণ!

আল্লামা সুলাইমান আল উলওয়ান

“কাফের কে কাফের না বললে কাফের হয়ে যাবে” এই মূলনীতির ব্যাখ্যা রয়েছে ।

এখানে ৭ টি প্রকার রয়েছেঃ Continue reading

মুরজিয়াদের অপকৌশল

আল্লামা সুলাইমান আল উলওয়ান

বর্তমানে লোকদের স্বভাব হয়েছে যে ভিন্নমত পোষনকারীদের খারেজি বলে ঘায়েল করছে। যে ব্যক্তি আমর বিল মারুফ নাহি আনিল মুনকার করতে গেল ব্যাস খারিজি হয়ে গেল, যে মুরতাদদেরকে কাফের বললো সে খারেজি হয়ে গেল, বিশৃংখলা সৃষ্টিকারী বিকৃতিগ্রস্থদের যারা প্রকাশ করে দিলো খারেজি হয়ে গেল, কেউ ঈমান ভঙ্গের কারণসমূহ নিয়ে আলোচনা করেছেন তো ব্যাস খারেজি আখ্যা পেয়ে যাচ্ছেন। Continue reading

আল্লামা সুলাইমান আল উলওয়ান

সুলাইমান ইবন নাসির ইবন আবদুল্লাহ আল-‘উলওয়ানের জন্মে বিলাদুল হারামাইনের আল-ক্বাসিম প্রদেশের বুরাইদা শহরে। ১৩৮৯ হিজরিতে। শায়খ সুলাইমান ‘ইলম শিক্ষা শুরু করেন ১৫ বছর বয়সে। শুরু থেকেই শায়খ সুলাইমান শারীয়াহর বিভিন্ন ব্যাপারে গভীর অন্তর্দৃষ্টি ও তার বিস্ময়কর স্মৃতিশক্তির কারনে প্রশংসিত ছিলেন। Continue reading

“লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” – তাগুতকে প্রত্যাখ্যান ও ঈমান আনয়ন!

শায়খ আল আল্লামা সুলাইমান বিন নাসির আল উলওয়ান (ফাক্কাল্লাহু আসরাহ)

পিডিএফ ডাউনলোড

নিশ্চয়ই তাওহীদ আল উলুহিয়্যাহ্‌ই হচ্ছে সেই উদ্দেশ্য, যাকে সামনে রেখে নবী-রাসূলগণকে দুনিয়াতে পাঠানো হয়েছে, আসমানী কিতাব নাযিল করা হয়েছে এবং জিহাদের জন্য তরবারী উন্মুক্ত হয়েছে।

এবং যার জন্য মানুষ দুটি দলে বিভক্ত হয়ে গেছে, একদল হয়েছে সন্তুষ্ট, অপরদল হয়েছে অসন্তুষ্ট।

Continue reading

কোনো ব্যক্তিকে কাফির বলার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন!

শায়খ সুলাইমান আল উলওয়ান

প্রশ্নঃ শায়খ, আল্লাহ আপনাকে উত্তম পুরস্কার দান করুন। আজকাল তাকফীর আল মুয়া’ইয়ান [কোন ব্যক্তিকে কাফের ঘোষনা করা] অনেক বেড়ে গেছে। এমনকি কিছু ত্বলিবে ইলম (দীনি শিক্ষার ছাত্র)ও এই কাজে লিপ্ত হচ্ছেন। এছাড়াও কিছু মানুষ সর্বদাই তাকফীরের ব্যাপারে আলোচনায় মগ্ন থাকে। অথচ এদের অনেকেই দ্বীনচর্চার ক্ষেত্রে অনেক পিছিয়ে আছে। এ ব্যাপারে আপনার মতামত কি?

উত্তরটি দিয়েছেন শায়খ সুলাইমান আল-উলওয়ান (আল্লাহ শায়খকে দ্রুত সৌদি তাগুতদের কারাগার থেকে মুক্তি দান করুন) Continue reading

একজন মানুষের আমল/কর্ম তাকে ঈমানের বাইরে নিয়ে যায় না’, তাহলে কি তাকে মুরজি’আ বলা যাবে?

প্রশ্ন: কেউ যদি বলে যে, ‘ঈমান বাড়ে এবং কমে , আমাদের কাজও ঈমানের অংশ,কিন্তু একজন মানুষের কর্ম তাকে ঈমানের বাইরে নিয়ে যায় না’, তাহলে কি তাকে মুরজি’আ বলা যাবে?

জবাব দিয়েছেনঃ শায়খ সুলাযইমান বিন নাসের আল উলওয়ান (আল্লাহ্ তাঁকে সৌদি কারাগার থেকে দ্রুত মুক্তি দান করুন)

Continue reading

আমাদের বর্তমান পরিস্থিতিকে মাক্কী জীবনের সাথে তুলনা করা কী ঠিক হবে?

লেখকঃ শায়খ সুলায়মান আল-উলওয়ান (আল্লাহ্ তাঁকে সৌদির কারাগার থেকে দ্রুত মুক্তি দান করুন)

মাক্কী জীবনে সাহাবীরা দুর্বল অবস্থায় ছিলেন। আর রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه و سلم) বিভিন্ন কারণে মক্কার উদ্ভূত পরিস্থিতিগুলোকে মদীনার সময়ের থেকে ভিন্ন ভাবে মোকাবেলা করেছিলেন। Continue reading

শারিয়াহর পরিবর্তে আইন রচনাই কি ইসলাম ত্যাগের জন্য যথেষ্ট? নাকি অন্তর থেকেও অবিশ্বাস জরুরী?

উত্তর প্রদানে – শায়খ সুলাইমান আল ‘আল্ওয়ান (আল্লাহ্ তাঁকে সৌদি কারাগার থেকে মুক্তি দান করুন)

প্রশ্নঃ

আমি শায়খ মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল উসাইমীন (আল্লাহ তাঁকে রক্ষা করুন) কর্তৃক লিখিত বই ‘আল ক্বাউল আল মুফীদ ফী শারহু কিতাব আত-তাওহীদ’ এ উনার কথা পড়েছি। সেখানে তিনি যা উল্লেখ করেছেন তার অর্থ এরূপঃ ‘আল্লাহ যা নাযিল করেছেন তা ব্যতীত অন্য কোন আইন দ্বারা যারা শাসন করে তাদের মনে এই বিশ্বাস কাজ করে যে এইসব মানবরচিত আইন তাদের দেশের ও দেশের মানুষের জন্য অধিক উপকারী ও আল্লাহর আইন অপেক্ষা শ্রেয়’। 

এটা কি সত্য যে, কোন শাসক যদি শরীয়ার কোন আহকামকে প্রতিস্থাপন করেন তাহলে এটাই প্রমাণ হয় যে তিনি মানবরচিত আইনকে আল্লাহর শরীয়াহ অপেক্ষা শ্রেয় মনে করেন? এটা কি তার কুফরের কারণ হবে? নাকি এরূপ কাজ নিজেই একটা কুফর?

Continue reading