একটি সংশয়ঃ অজ্ঞতা ও বাধ্যবাধকতার অজুহাত দেখিয়ে তাগুতকে অব্যাহতি দেয়া

প্রশ্নঃ

ক) যখন কোন মানুষের উপর হুজ্জাত ক্বায়েম করা হয় এবং তার মাঝে যদি তাকফীর এর প্রতিবন্ধকগুলোর মধ্য থেকে কোনটি তাঁর মাঝে পাওয়া না যায় তবে তাকে তাকফীর করা যাবে

খ) শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া’র (রহ.) জাহমিয়া সম্প্রদায়ের উপর হুজ্জাত প্রতিষ্ঠা করেছিলেন কিন্তু তাদের নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের তাকফির করেননি

এই দুই অবস্থানের মধ্যকার বিরোধ কিভাবে নিরসন করা হবে?

এমনিভাবে মু’তাযিলা সম্প্রদায় এর ব্যাপারে ইমাম আহমাদ রহ. এর অবস্থান। তাদের উপর হুজ্জাত প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, তাদেরকে পরাজিত করেছিলেন। আর তারা (মুতাযিলারা) তো ভাষা ও দ্বীন সম্পর্কে আলিমদের জামাত ছিলো (কিন্তু তিনি তাদের নির্দিষ্ট করে তাকফির – তাফফির মুয়াইয়্যিন – করেননি)।

Continue reading

মুয়ালাত এবং তাওয়াল্লির মধ্যে সীমানা বিভাজক

[এই পর্বটি মূলত শাইখ আলি আল-খুদাইর (فك الله أسره) –এর প্রশ্নোত্তর- ‘আল-হাদ্দুল ফাসিল বায়ানুল মুয়ালাত ওয়াত-তাওয়াল্লিলুল কুফফার’ –থেকে সংগৃহীত। আর শেষে শাইখ নাসির আল ফাহাদ (فك الله أسره) –এর ‘আত-তিবইয়ান’ এবং সংশ্লিষ্ট কিছু বিষয় যোগ করা হয়েছে।]

 

সম্মানিত শাইখ আলি ইবনু খুদাইর আল-খুদাইর (فك الله أسره)  -কে প্রশ্ন করা হয়েছিল:

“মুয়ালাত এবং তাওয়াল্লির মধ্যবর্তী সীমানা কোনটি? আর উভয়ের মাঝে পার্থক্য কীভাবে বুঝব?”

 

উত্তরে সম্মানিত শাইখ বলেন: “কুফফারদের সাথে তাওয়াল্লি করা হচ্ছে বড় কুফর (তথা কুফরে আকবার)[1], এবং এর মধ্যে কোনো তাফসিল নেই। আর এটি চার প্রকারের:

Continue reading

শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া রহ. এর বক্তব্য থেকে সৃষ্ট মুরজিআদের সংশয়ের নিরসন

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি জগতসমূহের প্রতিপালক। আম্মাবাদ…

শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া রহ. এর একটি বক্তব্য বর্ণিত হয়েছে, যার বিবরণ নিম্নরূপ:

“যে সমস্ত প্রকাশ্য কাজ কুফর হয়- যেমন প্রতিমাকে সিজদাহ করা, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে গালি দেওয়া বা এজাতীয় কাজগুলো- (এগুলোর কুফর হবার কারণ হল) তার কারণ হল, তার মধ্যে অনিবার্যভাবে আভ্যন্তরীণ কুফরও বিদ্যমান থাকে। অন্যথায় যদি ধরে নেওয়া হয় যে, সে মূর্তির সামনে সিজদাহ করেছে, কিন্তু মনে মনে তাকে সিজদাহ করার ইচ্ছা করেনি, বরং মনে মনে আল্লাহকেই সিজদাহ করার ইচ্ছা করেছে, তাহলে এটা কুফর হবে না। Continue reading

মুরজিয়া ও কুফর

শায়খ সুলাইমান আল-উলওয়ান

আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ এ ব্যপারে একমত যে কুফর হতে পারে কথার মাধ্যমে, যেমন দ্বীনের কোন বিষয়কে স্পষ্ট উপহাস (ইস্তিহযা) করা। এবং কুফর হতে পারে কোন কর্মের মাধ্যমে, যেমন কোন মূর্তি অথবা চন্দ্র-সূর্য ইত্যাদির জন্য সিজদায় অবনত হওয়া, অথবা আল্লাহ ব্যতিত অন্য কারো নামে পশু জবাই করা।

কোন ব্যক্তি থেকে কুফর এর কিছু সংঘটিত হওয়ার কুফর হবার ব্যাপারে কিতাবুল্লাহ ও সুন্নাহ থেকে প্রমাণসমূহ খুবই স্পষ্ট। এই কুফর কেবলমাত্র কোন কথা অথবা কোন কর্মের মাধ্যমে হতে পারে, এর সাথে ইচ্ছাকৃত অস্বীকার (জুহদ) অথবা হালাল করা (ইস্তিহলাল) যুক্ত হওয়া ব্যাতীতই। কথা ও কর্মের কুফরকে শুধুমাত্র ইচ্ছাকৃত অস্বীকার (জুহদ) অথবা হালাল করা (ইস্তিহলাল) এর সাথে সীমাবদ্ধ করে দেয়া সহীহ নয়। কেননা সাহাবায়ে কিরাম রাদিয়াল্লাহু আনহুম, তাবেয়ীন আজমাঈনগ অথবা ইমামগণের কেউ এমন বলেননি।

Continue reading

মাদখালি – সালাফি না, মুরজিয়া

আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহ
সকল প্রশংসা আল্লাহ তা’আলার, সালাত ও সালাম বর্ষিত হোন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর উপর।

সালাফিয়্যার ছদ্মবেশে সমসাময়িক ইরজা আন্দোলন যে আহলুস সুন্নাহ এর আকিদার উপর আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে, তার বিপক্ষে আমি এই ফোরামে বিগত কয়েক বছর যাবত বিভিন্ন সময় কলম ধরেছি। বস্তুত, গত বছর মুরাদ শুকরির লিখা বইয়ের বিপক্ষে আল-লাজনাহর একটি ফাতওয়ায় বলা হয় যে, এই দলটি (যারা নিজেদের জর্ডানের সালাফী বলে পরিচয় দেয়) আকিদায় ইরজা ধারন করে।

Continue reading

মুরতাদ শাসকের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের ব্যাপারে সালাফগণের অবস্থান – সত্যিকারের খারেজি কারা?

ইমাম নববী রাহ: বলেন:

আল-ক্বাদ্বি ‘ইয়াদ্ব বলেছেন, ‘উলামাদের ইজমা হল নেতৃত্ব (ইমামাহ) কখনো কাফিরের উপর অর্পণ করা যাবে না, আর যদি (কোন নেতার) তার পক্ষ থেকে কুফর প্রকাশিত হয় তবে তাকে হটাতে হবে… সুতরাং যদি সে কুফর করে, এবং শারীয়াহ পরিবর্তন করে অথবা তার পক্ষ থেকে গুরুতর কোন বিদ’আ প্রকাশিত হয়, তবে সে নেতৃত্বের মর্যাদা হারিয়ে ফেলবে, এবং তার আনুগত্য পাবার অধিকার বাতিল হয়ে যাবে, এবং মুসলিমদের জন্য আবশ্যক হয়ে যাবে তার বিরোধিতা করা, বিদ্রোহ করা, তার পতন ঘটানো এবং তার স্থলে একজন ন্যায়পরায়ণ ইমামকে বসানো – যদি তারা (মুসলিমরা) সক্ষম হয়। যদি একটি দল (তাইফা) ব্যাতীত অন্যান্য মুসলিমদের পক্ষে এটা করা সম্ভব না হয়, তবে যে দলের (তাইফা) সক্ষমতা আছে তাদের জন্য এই কাফিরের (শাসকের) বিরোধিতা করা, বিদ্রোহ করা এবং তার পতন ঘটানো অবশ্য কর্তব্য। আর যদি শাসক কাফির না হয়ে শুধুমাত্র বিদ’আতী হয় তবে, এটা বাধ্যতামূলক হবে না, যদি তারা (তাইফা) সক্ষম হয় তবে তারা তা করবে। আর যদি কেউই সক্ষম না হয় এ ব্যাপারে সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়, তবে বিদ্রোহ করা আবশ্যক না, তবে তখন মুসলিমদের সেই ভূমি থেকে অন্য কোথাও হিজরত করতে হবে, নিজেদের দ্বীনের সংরক্ষণের জন্য।”[সাহিহ মুসলিম বি শারহ আন-নাওয়াউয়ী, ১২/২২৯]

 

হাফিয ইবনে হাজার আল আসকালানী রাহ: বলেন:

“আদ দাউদী বলেছেন, “উলামাদের ইজমা হল, অত্যাচারী (মুসলিম) শাসককে যদি ফিতনাহ (যুদ্ধ) ব্যতিত অপসারণ করা সম্ভব হয় তবে তা করা ওয়াজিব; কিন্তু যদি এতে ফিতনাহ (যুদ্ধ)শুরু হয়ে যাওয়ার আশংকা থাকে তাহলে ধৈর্য ধারণ করা বাধ্যতামূলক। এবং কোন কোন আলিমগণের দৃষ্টিভঙ্গি এমন যে, ফাসিক ব্যক্তিও শাসন কার্যের জন্য অনুমোদিত নয় যদি সে পূর্বে থেকেই ফাসিক হয়ে থাকেন। কিন্তু যদি এমন হয় যে, তাকে শাসক বানানোর সময় তিনি ফাসিক ছিলেন না পরবর্তীতে ফিস্‌কে লিপ্ত হয়েছেন তবে এমন ফাসিক শাসকের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করার ব্যাপারে আলিমগণ মতভেদ আছে। এক্ষেত্রে সঠিক মত হলো তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ নিষিদ্ধ।

কিন্তু যে শাসক ‘কুফর’ এ লিপ্ত হন তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ওয়াজিব।” (ফাতহুল বারী ১৩/১০)

Continue reading

সংশয়ঃ কুফরে লিপ্ত ব্যক্তির ব্যাখ্যার ওজরকে উপেক্ষা করা

শায়খ আবু কাতাদা আল ফিলিস্তিনি

মাদখালি-মুরজিয়াদের একটি মারাত্মক সংশয়ঃ
“সালাফরা মুতাজিলা শাসকদের তাকফির করেন নি, তাই আল্লাহ’র আইন প্রত্যাখ্যানকারীদেরকেও তাকফির করা যাবে না।”

খাওয়ারিজদের একটি মারাত্মক সংশয়ঃ
“কোনো প্রকার কুফরে আকবার পেলেই তাউইয়িল বা ব্যাখ্যার সুযোগকে অগ্রাহ্য করে ঢালাও তাকফির করতে হবে।” Continue reading

সংশয়ঃ শাসকপন্থী বিখ্যাত আলেমদের বিরোধীতা উচিৎ নয়!

শায়খ আবু কাতাদা আল ফিলিস্তিনি হাফিজাহুল্লাহ

পিডিএফ ডাউনলোড

প্রশ্নঃ

অনেক তরুণ (বিশেষত যাদের বিভিন্ন মুসলিম রাষ্ট্রে সরকারি ও এসব শাসনপন্থ আলেমদের সাথে সম্পর্ক/আন্তরিকতা রয়েছে তারা) বলে যে তোমাদের শায়খ আবু কাতাদা এমন অনেক বিষয় অবতারণা করেন যা আমাদের দেশের ‘আহলুল হল্ল ওয়াল আক্বদ’ তথা কর্তৃত্ববান আলেমদের প্রচলনের পরিপন্থ Continue reading