আমেরিকার অপরাধঃ বৃত্তান্ত ও করণীয়!

হাকিমুল উম্মাহ শায়খ আইমান

বুশ মুসলিমদের বিরুদ্ধে তার ক্রুসেডারদেরকে পাঠানোর পর সতেরো বছর (লেখাটি ২০১৭ ঈসায়ী সনের) পার হয়ে গেছে। এটি এমন একটি যুদ্ধ, যা ঐতিহাসিক শত্রুতার সাথে সম্পৃক্ত, যা ইসলামের সূর্যোদয়ের সময় থেকে আজকের দিন অবধি পরিচালিত হয়ে আসছে।

আমার মুসলিম ভাইয়েরা!

আমাদের অবশ্যই ইসলাম ও মুসলিমদের প্রতি সমসাময়িক কাফেরদের শত্রুতাকে সঠিক দৃষ্টিকোণ থেকে অনুধাবন করতে হবে, যেন তাদের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আমাদের প্রতিরক্ষা, প্রতিরোধ ও জিহাদের পদ্ধতি নিরূপণ করতে পারি।

মুসলিমদের সকল বিরোধের পেছনে হয়তো পশ্চিমা ধর্মনিরপেক্ষ ক্রুসেডার আমেরিকার সরাসরি হাত, নয়তো তার নীরব অনুমোদন, পরোক্ষ সম্মতি, অশুভ আঁতাত অথবা চক্রান্ত দেখা যায়।

এটি মূলত একটি ধর্মীয় শত্রুতা, যদিও অর্থনৈতিক লোভ, কৌশলগত ভৌগলিক অবস্থানের উপর কর্তৃত্ব স্থাপনের ইচ্ছা, এবং এসবের মত শত্রুতার অন্যান্য কারণও এর সাথে জড়িত রয়েছে।

এটি মূলত একটি ধর্মীয় শত্রুতা, যদিও পশ্চিমারা মিথ্যা ও প্রোপাগান্ডার মাধ্যমে এই শত্রুতার ধর্মীয় প্রকৃতিকে লুকানোর চেষ্টা করে থাকে।

আমেরিকানদের মাঝে খৃষ্টীয় ও ইহুদিবাদী প্রবণতা থাকায় – নামেমাত্র ধর্মনিরপেক্ষতা সত্ত্বেও – মুসলিমদের সাথে আমেরিকার শত্রুতা রয়েছে, এছাড়াও রয়েছে তাদের ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা।

তাদের ধর্মীয় শত্রুতাটি ইহুদিবাদী-ক্রুসেডারদের পক্ষ্য থেকে উদ্ভুত, যদিও পশ্চিমের অনেক মানুষই স্পষ্টত খৃষ্টধর্ম বাদ দিয়ে ধর্মনিরপেক্ষ হয়ে গেছে। কোন ধর্মের আনুগত্য ছাড়াই তাদের আত্মা ক্রুসেডারদের জন্য উর্বর প্রজননক্ষেত্র ও মুসলিমদেরকে ঘৃণার পাত্রে পরিণত করেছে।

কাজেই,

ট্রাম্প যখন আমেরিকান দূতাবাসকে জেরুজালেমে স্থানান্তরের প্রতি জোর দেয়, তখন এটা প্রকাশ হয়ে পড়ে যে, আমেরিকা জেরুজালেমকে ইসরায়েলের স্থায়ী রাজধানী হিসাবে স্বীকৃতি প্রদান করেছে। তার এ সিদ্ধান্ত তার মস্তিষ্কপ্রসূত নয়, বরং এটি খৃষ্টীয়-ইহুদিবাদী পক্ষ থেকে একটি স্পষ্ট উচ্চারণ। ইসলাম ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে আমেরিকার শত্রুতা ঐতিহাসিকভাবে গভীরে প্রোথিত এবং এটি চলমান থাকবে যতদিন এ পৃথিবীর অস্তিত্ব বহাল থাকবে ততোদিন।

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আউফ ইবনে মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে বলেনঃ

قال رسولُ اللهِ -صلى اللهُ عليه وسلم- لعوفٍ بنِ مالكٍ رضي اللهُ عنه: “اعْدُدْ سِتًّا بَيْنَ يَدَيِ السَّاعَةِ”. إلى قوله صلى اللهُ عليه سلم: “ثُمَّ هُدْنَةٌ تَكُونُ بَيْنَكُمْ وَبَيْنَ بَنِي الأَصْفَرِ فَيَغْدِرُونَ فَيَأْتُونَكُمْ تَحْتَ ثَمَانِينَ غَايَةً تَحْتَ كُلِّ غَايَةٍ اثْنَا عَشَرَ أَلْفًا”1. وقال صلى اللهُ عليه وسلم: “لاَ تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى يَنْزِلَ الرُّومُ بِالأَعْمَاقِ أَوْ بِدَابِقَ”2.

“কিয়ামাতের কাছাকাছি সময়ের ছয়টি বিষয় গণনা করে রাখো। এক পর্যায়ে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ

তারপর তোমাদের এবং হলুদ চর্মযুক্ত মানুষের মাঝে সাময়িক যুদ্ধবিরতি চুক্তি হবে, তারা তোমাদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করবে এবং ৮০টি পতাকাতলে সমবেত হয়ে তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে আসবে, যার প্রত্যেক পতাকাতলে বারো হাজার (১২,০০০) সৈন্য থাকবে।

রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আরও বলেনঃ রোমানরা সিরিয়ার ‘আ’মাক’ অথবা ‘দাবিক’ অঞ্চলে অবতরণ না করা পর্যন্ত কিয়ামাত সংঘটিত হবে না।”

ইসলামের বিরুদ্ধে আমেরিকার শত্রুতা প্রায় সমগ্র বিশ্বকে স্পর্শ করেছে। এমন একটি মুসলিম দেশ নেই, যেখানে আমেরিকা তার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে আগ্রাসনমূলক হস্তক্ষেপ করেনি। আমরা যেন ভুলে না যাই যে, আমেরিকাই আরব বসন্তকে বাতিল করার ক্ষেত্রে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে এবং সর্বোতভাবে আমেরিকাবিরোধী বিপ্লবী শক্তির বিপক্ষে প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখেছে।

ওহে মুসলিমগণ যারা ধর্মকে সম্মান করেন!

ভারতের প্রতি দেখুন, এরা কাশ্মীরে আপনাদের ভাই-বোনদের রক্ত ঝরাচ্ছে। কে আসামে, গুজরাট এবং অন্যান্য স্থানে সমস্ত অপরাধ সত্ত্বেও ভারতকে সমর্থন করে এবং খোলাখুলিভাবে তার মিত্র হিসাবে ঘোষণা করে? এটি আমেরিকা ব্যতীত আর কেউ নয়।

মুসলমানদের বিরুদ্ধে ভারতের অপরাধমূলক কার্যকলাপে আমেরিকাই ভারতের অংশীদার। কাশ্মীরের ক্ষত আমাদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ ঘটায়। হে আমাদের কাশ্মীরের মানুষ! আমরা তোমাদের ভুলে যাইনি এবং ভুলে যাবও না বিইযনিল্লাহ।

পাকিস্তানের কথা ভেবে দেখুন, কে লাল মসজিদকে পোড়ানো এবং জামিয়া হাফসা’য় ছাত্রীদের হত্যার জন্য সাহস জুগিয়েছে? এটি আমেরিকা ছাড়া অন্য কেউ নয়। কে উপজাতী অধ্যুষিত সোয়াত উপত্যকায় হাজার হাজার মুসলমানের হত্যাকান্ডের আদেশ দিয়েছে, তত্বাবধান করেছে এবং বিপুল অর্থ ব্যয় করেছে? এটিও আমেরিকা ব্যতীত আর কেউ নয়।

কে আফগানিস্তানে হাজার হাজার মুসলমানকে হত্যা করতে ব্যস্ত? এটিও আমেরিকা ছাড়া আর কেউ নয়।

মায়ানমারে আপনাদের ভাই-বোনদের বিরুদ্ধে সরকারের অপরাধে কে অন্ধ সেজে বসেছে? এটিও আমেরিকা ব্যতীত আর কেউ নয়।

ফিলিপাইনের কিছু অংশ কে দখল করেছে? কে বিগত শতাব্দীতে সেখানে মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ এবং এ যুদ্ধে তাদের বিরুদ্ধে সহায়তা বৃদ্ধি করেছে এবং এখনও করে যাচ্ছে? এটিও আমেরিকা ছাড়া আর কেউ নয়।

চেচনিয়ার প্রতি লক্ষ্য করুন, কে সেখানে রাশিয়ান অপরাধকে অনুমোদন করে যাচ্ছে? এটিও আমেরিকা ছাড়া অন্য কেউ নয়।

বসনিয়ার প্রতি লক্ষ্য করুন, কে মুসলমানদের জন্য অস্ত্র প্রবেশ নিষিদ্ধ করার পর একটি স্বাধীন মুসলিম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় বাঁধা প্রদান করতে ‘ডেটন একর্ড’ ঘোষণা করেছে? এটিও আমেরিকা।

ইরাকের প্রতি লক্ষ্য করুন, কে এই দেশটিকে ধ্বংস করে রাফেযি শিয়াদের হাতে তুলে দিয়েছে? এটিও আমেরিকা।

সিরিয়ার প্রতি লক্ষ্য করুন, কে এই রাষ্ট্রটির বিভাজন দেখেও রাশিয়ান, রাফেযিদের আক্রমণে অন্ধ সেজেছে? এটিও আমেরিকা।

শিয়া-রাফেযি ইরানের প্রতি লক্ষ্য করুন, কে ইরাকে, সিরিয়ায়, আফগানিস্তানে এবং ইয়েমেনে এদের সাথে আঁতাত করেছে? এবং কে হুথিদেরকে তাদের মিথ্যে শ্লোগান “ডেথ টু আমেরিকা”, “ডেথ টু ইসরাইল” সত্ত্বেও তাদেরকে বোম্বিং করা থেকে বিরত থেকেছে? এটিও আমেরিকা।

আরব উপদ্বীপের প্রতি লক্ষ্য করুন, কে এর পেট্রল ছিনতাই করছে? এবং কে এই এলাকায় ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত এমন দুর্নীতিবাজ অপরাধী পরিবারকে চাপিয়ে দিয়েছে, যে ইসরাইলের সাথে সুসম্পর্ক রাখে? নিশ্চই এটি আমেরিকা।

মিশরের প্রতি লক্ষ্য করুন, কে এখানে ধর্মভ্রষ্টতা, দুর্নীতি এবং অপরাধমূলক ব্যবস্থাকে উস্কে দিয়েছে, যা কেবল ইসরাইলের আজ্ঞাবহ প্রতিনিধি হিসাবে কাজ করে? নিশ্চই আমেরিকা।

ফিলিস্তিনের প্রতি লক্ষ্য করুন, কে অপরাধী গোষ্ঠীর নেতৃত্ব দিচ্ছে, যারা এর পবিত্রতা লঙ্ঘন করে চলেছে? আবারও এটি আমেরিকা।

আসুন আমরা ট্রাম্প এর নির্বুদ্ধিতার প্রতি লক্ষ্য করি, যে তেলআবিবের আমেরিকান এম্বেসি স্থানান্তর করেছে। এটা দ্বারা কি বোঝা যায়? এটি বিশ্বের প্রধান অপরাধীদের অপরাধের ধারাবাহিকতা বোঝায় – আর তাদের সর্বাগ্রে আমেরিকা। সে মুসলিম বিশ্বের হৃদয় হিসাবে বিবেচিত এ এলাকায় পারমানবিক অস্ত্রে সজ্জিত সুসংহত এক বিশাল আমেরিকান সশস্ত্র বাহিনী প্রতিষ্ঠা করতে চায়, যা ইসরাইল নামে অভিহিত।

ইসলামিক মাগরিবের প্রতি দৃষ্টিপাত করুন, কে সেখানে অপদার্থ, বোকা হাফতারকে প্রতিপালন, অর্থায়ন ও অস্ত্রে সজ্জিত করেছে? নিঃসন্দেহে আমেরিকা।

এবং কে আলজেরিয়াতে অপরাধী এবং বর্বর ব্যবস্থাকে সমর্থন এবং এর প্রাকৃতিক সম্পদ চুরি করেছে? নিশ্চয় আমেরিকা।

সাহারা এবং পশ্চিম আফ্রিকা অঞ্চলে মুসলিমদেরকে হত্যার উদ্দেশ্যে কে ফ্রান্সের সাথে ক্রুসেডার জোট গঠন করেছে? আমেরিকা।

হে আমার মুসলিম উম্মাহ!

ইসলামিক মাগরিবের যুদ্ধ একটি ইসলামি জিহাদ, যা আমাদের সকল সামর্থ দিয়ে সমর্থন করতে হবে। আমি আমার সকল মুসলিম ভাইদেরকে বলি, আপনারা ব্যাপকভাবে আপনাদের ইসলামিক মাগরিব, সাহারা অঞ্চল, সাহেল এবং পশ্চিম আফ্রিকা অঞ্চলের মুসলিম এবং মুজাহিদ ভাইদেরকে সহযোগিতা করুন। বিশেষত জিহাদে বের হওয়ার উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে। আমি বিশেষভাবে ইসলামী মাগরিবের জনগণের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি যে, হয়তো তাঁরা তাঁদের নিজ দেশে বসবাস করছেন অথবা বিভিন্ন ফ্রন্টে ইসলামি জিহাদে লিপ্ত, আমি তাঁদের আহ্বান জানাই, যেন তাঁরা ইসলামিক মাগরিবের যুদ্ধে ইসলাম ও মুসলিমদের জন্য জিহাদে বেরিয়ে আসেন। তাঁরা যেন আমেরিকান-ফ্রান্স জোটের বিরুদ্ধে তাঁদের জীবন দিয়ে, জিহ্বা দিয়ে, সম্পদ ও জ্ঞান, তাঁদের অভিজ্ঞতা ও দু’আ দিয়ে যুদ্ধে পিছিয়ে না পড়েন।

হে সম্মানিত ও উদ্যমী মুসলিমগণ!

সোমালিয়া এবং পূর্ব আফ্রিকার প্রতি দৃষ্টিপাত করুন!

কে সেখানে শরীয়াহ প্রতিষ্ঠার পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে? কে সেখানে ক্রুসেডার বাহিনীকে অর্থায়ন করেছে? কে তার গোয়েন্দা সংস্থা, দক্ষতা এবং কর্মীবাহিনী দ্বারা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছে? আমেরিকা।

কে দক্ষিণ সুদানকে উত্তর থেকে আলাদা করেছে? কে আফ্রিকাতে ইসরায়েলি প্রভাব ছড়িয়েছে? এটিও আমেরিকাই।

কে মহান রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিন্দাকারী সালমান রুশদীকে সম্মানিত করেছে এবং তারপর তাকে হোয়াইট হাউজে স্বাগত জানিয়েছে? এটিও আমেরিকাই।

সুতরাং, আমাদেরকে আমেরিকানদের সঙ্গে যুদ্ধের প্রকৃতি এবং তার বিশ্বব্যাপী বিস্তৃতি বুঝতে হবে। পাকিস্তানের উপজাতি এলাকা, আফগানিস্তান, ইরাক, সিরিয়া, ফিলিস্তীন, মিশর, আলজেরিয়া, তিউনিসিয়া, ইয়েমেন, মালি, সোমালিয়া এবং অন্যত্র সকল স্থানে যুদ্ধ মুসলিমদের সাথে কেবল স্থানীয় সরকারের যুদ্ধ নয়, এটি বরং সর্বদাই মুসলিম এবং আন্তর্জাতিক অপরাধীদের ব্যবস্থার সাথে যুদ্ধ, যাদের অগ্রজ হচ্ছে আমেরিকা।

ইসলামের বিরুদ্ধে আমেরিকার নেতৃত্ব সম্পর্কে সচেতনতা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যুদ্ধের ব্যাপক ও বৈশ্বিক প্রকৃতি বোঝা ছাড়াও আমাদেরকে এটা অবশ্যই বুঝতে হবে যে, যুক্তরাষ্ট্র কিভাবে যুদ্ধ করে থাকে?

প্রথমতঃ

যুদ্ধ সূচনা করার পূর্বে যুক্তরাষ্ট্র একটি জোট গঠন করে, যেন তাদের সরঞ্জাম ও সহযোগীদের সমর্থনের দ্বারা তার আর্থিক ও মানবিক খরচ বজায় রাখতে পারে।

দ্বিতীয়তঃ

আমেরিকা যুদ্ধের পুর্বে ও যুদ্ধের সময়কালে বিভিন্ন উপায়ে তার শত্রুকে দূর্বল করে দেয়ার চেষ্টা করে, সেগুলোর কতকগুলো এমনঃ

ইসলাম বিরোধী ক্রুসেডারদের বিভিন্ন বিশেষজ্ঞদের দক্ষতা ব্যবহার করে শত্রুদের মাঝে বিভক্তি ও বিচ্ছিন্নতা তৈরি করার প্রয়াস পায়, যাদের অধিকাংশই বৃটিশ ঔপনিবেশিক উত্তরাধিকার হিসাবে প্রাপ্ত প্রাচ্যের বিশেষজ্ঞরা। তারা শত্রুকে বিশৃঙ্খল করতে তাদের মুখপাত্র ও গোয়েন্দা সংস্থা অথবা তাদের প্রতিনিধি দ্বারা সম্ভাব্য সকল পন্থা অপপ্রচারে ব্যয় করে। বিভিন্ন কৌশলে বিভক্ত করতে প্রানান্তকর চেষ্টা করে, যার মাঝে রয়েছে ঐকান্তিক অর্থদাতাদের একটি দল যারা প্রয়োজন অনুযায়ী প্রতিশ্রুতি ও হুমকি দিয়ে থাকে।

যার মাঝে রয়েছে অনৈতিক অনেক বিমান হামলা, যাতে তারা কাল্পনিক ঘুরে দাঁড়াতে পারে, উন্মুক্ত লড়াইগুলোতে তার সৈন্যদের বাঁচাতে পারে, সকল মুজাহিদদের উপর আক্রমণ করতে পারে। অতঃপর সেই সহিংস বোমা হামলাগুলোর পর আমেরিকা তা প্রত্যাখ্যান করবে এবং জিহাদি জামা’আতগুলো নষ্ট করার জন্য কিছু সময় ছাড় দিয়ে রাখবে।

ইরাক ও সিরিয়ায় যা ঘটছে, সেগুলো এটার আরও স্পষ্ট ও বড় দলীল।

সুতরাং, যারা মুজাহিদদের মাঝে শত্রুতার বীজ বপন করে, তাঁদের ঐক্য ভাঙ্গার চেষ্টা করে, তাঁদের জামা’আতকে ছত্রভঙ্গ করার প্রয়াস চালায়, যারা অভ্যন্তরীণ যুদ্ধের আগুন উস্কে দেয়, মুজাহিদদের মাঝে দ্বন্দ্ব তৈরি করে, প্রকৃতপক্ষে তারা নিজ হাতে আমেরিকার লক্ষ্যকে সুরক্ষা দান করে, এবং এভাবে তারা আমেরিকানদের বিশাল প্রচেষ্টাকে সংরক্ষণ করে। অস্বাভাবিক খরচ বৃদ্ধি, মানবিক ও আর্থিক ক্ষতি, এসবই বিদ্রোহের প্রচারক অথবা ক্ষমতালোভীদের দ্বারা উৎসারিত সন্দেহমাত্র।

এসকল সন্দেহ এবং মিথ্যা দাবীর চিকিৎসা নিহিত রয়েছে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা এর বাণীতেঃ

﴿كُنتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَتَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنكَرِ وَتُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ﴾.

“তোমরাই হলে সর্বোত্তম উম্মত, মানবজাতির কল্যাণের জন্যেই তোমাদের উদ্ভব ঘটানো হয়েছে। তোমরা সৎকাজের আদেশ দান করবে ও অন্যায় কাজে বাঁধা দেবে, এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান আনবে।” (সূরা আলে-ইমরানঃ ১১০)

এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণীঃ

“إن الناسَ إذا رأَوا الظالمَ فلم يأخذوا على يديه أوشك أن يعمَهم اللهُ بعقابٍ”

“যদি মানুষ কাউকে জুলুম করতে দেখে এবং তাকে না থামায়, তবে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা এমন শাস্তি প্রেরণ করবেন, যা সবাইকে গ্রাস করে নেবে।” (আবু দাউদ, শাইখ আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।)

ঐক্য ভাঙ্গার প্রচেষ্টা, বিভাজন সৃষ্টি করা, অন্যায়ভাবে রক্ত ঝড়ানো, ইত্যাদি কাজকে উম্মাহ যদি তিরস্কার-নিন্দা করে, তবে এসকল অপরাধীরা এসব করার পূর্বে হাজারবার চিন্তা করবে। কাজেই, যারা এসব অপরাধ সংঘটিত করে, তাদের বিরুদ্ধে উম্মাহর সকল অংশে একটি সামগ্রিক ঐক্য প্রতিষ্ঠা করা আবশ্যক, যেন তাদের মন্দ পথের বিরুদ্ধে উম্মাহ এর সাধারণ মতামত প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়।

আমেরিকার ব্যবহৃত সরঞ্জামের মধ্যে আরেকটি হলোঃ প্রলোভন ও ভীতি প্রদর্শন

আমেরিকা কিছু মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেয় যে, তারা যদি তাদের শর্তগুলি গ্রহণ করে, তবে তা তাদেরকে ক্ষমতার কেন্দ্রে পৌঁছতে সাহায্য করবে, অপরদিকে অন্যদেরকে বোমাবর্ষণ ও সন্ত্রাসী সংস্থা হিসাবে কালো তালিকাভুক্তির হুমকি দেয়, অথবা তাদের প্রতিশ্রুতির বিপরীত কিছু না করে, তবে তাদের জামিনদার হয়।

এমনিভাবে, আমেরিকা যেসব পদ্ধতি ব্যবহার করে থাকে তার মধ্যে আরেকটা হলঃ

তার শত্রুদের উদ্দেশ্যকে ব্যহত করতে সচেষ্ট হয়, যেন তাঁরা তাঁদের মূল লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হয়। এর একটি উদাহরণ হচ্ছে মিশরের বিভিন্ন আন্দোলনের সময় পৌছা চুক্তিসমূহ, যাতে স্থানীয় সরঞ্জামাদি এবং সামরিক পরিষদকে ব্যবহার করে, ফলে এই আন্দোলনগুলো তাদের শরীয়াহ শাসনের দাবির উদ্দেশ্য থেকে বিচ্যুত হয়ে ধর্মনিরপেক্ষ জাতি-রাষ্ট্রের নীচে ডুবে যায় এবং ইসরায়েলের সাথে শান্তিচুক্তি সহ আমেরিকার সাথে সামরিক ও অসামরিক সহযোগিতার কথাও স্বীকার করে নিতে বাধ্য হয়। আর এই নাটকের পতনের দৃশ্যটি এমন ছিলো যে, আন্দোলনকারীদেরকে কতিপয় পুতুল সৈন্যদের দ্বারা শক্তহাতে দমন করা হয়।

জোট গঠন করা এবং শত্রুকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়ার পর আমেরিকা আকাশ পথে ব্যপক ও চূড়ান্ত আঘাত হানে এবং তাদের বাহিনীর সামনে মুনাফিকদের দলকে এগিয়ে দেয়। এভাবে সে তার শক্তি ও সম্পদের চুড়ান্ত সংরক্ষণ করে। এগুলো হচ্ছে আমেরিকান কৌশলের সাধারণ রূপরেখা। এমন কৌশল, যা বেশ কিছু ক্ষেত্রে সফল হয়েছে এবং অন্য ক্ষেত্রে আল্লাহর অপার করুণায় ব্যর্থ হয়েছে।

আমি এখানে সংক্ষিপ্তভাবে আমেরিকার সহায়ক শক্তি সম্পর্কে বলতে চাই।

আমেরিকার সহায়ক শক্তি-সরঞ্জাম কারা?

আমেরিকার সহায়ক শক্তি-সরঞ্জাম হচ্ছে ঐ সকল সরকার ও গোষ্ঠী, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যাদের সামরিক সহযোগিতার চুক্তি বা জোটবদ্ধতা রয়েছে; যাদের মাটিতে আমেরিকান ঘাঁটি এবং গোয়েন্দা সহযোগিতা রয়েছে; যারা জিজ্ঞাসাবাদের পর বন্দীদেরকে আমেরিকার কাছে হস্তান্তর করে থাকে এবং অকথ্য নির্যাতন করে তাদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে থাকে।

আমেরিকার সহযোগিতাকারী তারা, ইসরায়েলের সঙ্গে যাদের গোপন অথবা প্রকাশ্য সম্পর্ক রয়েছে।

আমেরিকার সহযোগিতাকারী তারা, যারা প্রকাশ্য ঘোষণা দিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধীদের অগ্রজ আমেরিকার সাথে তাদের কথিত মিথ্যা পরিভাষা ‘টেররিজম’-এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অংশগ্রহণ করে।

তারাই আমেরিকার সহযোগিতাকারী সরঞ্জাম, যারা আফগানিস্তান, ইরাক, সিরিয়া, ইয়েমেন, সোমালিয়া, মালি অথবা অন্য যেকোন স্থানে আমেরিকান নেতৃত্বাধীন জোটে অংশগ্রহণ করে।

আমেরিকার সহযোগিতাকারী তারাই, যাদেরকে আমেরিকা তার সাহায্য প্রসারিত করে, ফলে তারা আমেরিকার শত্রুদের বিরুদ্ধে লড়াই করে এবং আমেরিকার স্বার্থ রক্ষা করে থাকে।

আমেরিকার সহযোগিতাকারী তারা, যারা মুসলিমদের সম্পদচোরদের অভিভাবকত্ব করে এবং মানব ইতিহাসের সবচেয়ে বড় চোরদের জন্য নিজেদের জনগণকে দমন করে।

আমেরিকার সহযোগিতাকারী সরঞ্জামাদির মাঝে অনেক প্রতারণামূলক উপায় রয়েছে। তাদের অনেক মুফতী, আলেম, এবং মিডিয়া চ্যানেল রয়েছে। আসলে বাস্তবতা হলো, মুজাহিদদেরকে দমন করার জন্য তাদের মধ্যে এমনকি কিছু অর্থদাতাও রয়েছে।

এছাড়াও, তাদের এমন কিছু মধ্যস্থতাকারী আছে, যারা আমেরিকার স্বার্থ রক্ষার জন্য পেছনের দরজা ব্যবহার করে আলোচনা চালিয়ে যায়। মুফতী ও বিশেষজ্ঞদের মধ্যে এমন একটি বিভাগ রয়েছে সরকারের কাছে, যাদের মর্যাদা-গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে চাকুরী রয়েছে। এখানে আরেক প্রকারের লোক রয়েছে, যারা আরও বিপজ্জনক – এরা নিজেদেরকে নিরপেক্ষ-স্বাধীন পক্ষ হিসাবে দাঁড় করিয়ে ক্লায়েন্ট সরকার থেকে বিভিন্ন সুবিধাদি আদায় করে নেয়। অথচ বাস্তবতা হলো এরা সরাসরি অথবা পরোক্ষভাবে এসব সরকার থেকে সহযোগিতা আদায় করে থাকে।

যদি আমরা মুসলিমদের বিরুদ্ধে আমেরিকার যুদ্ধ কৌশল এবং এটা কীভাবে কাজ করে তা বুঝতে পারি, তবে এটা আমাদের জন্য বুঝতে সহজ হয়ে যাবে যে, কীভাবে তাদের এ পদ্ধতির ক্ষতিসাধন করতে হবে। শেষ পর্যন্ত আমেরিকানরাও অন্যান্য মানুষদের মতই দুর্বল ও সাধারণ মানুষ বৈ বিশেষ কিছু নয়।

যদি আমরা আমেরিকার বিরুদ্ধে আমাদের সংগ্রামের বিস্তৃত রূপরেখা টানতে চাই, তবে সংক্ষেপে নিম্নলিখিত বিষয়গুলোতে মনোযোগ দিতে চাইঃ

প্রথমতঃ আমাদের প্রতি শত্রুদের শত্রুতার মতাদর্শগত মাত্রা অনুধাবন করতে হবে।

দ্বিতীয়তঃ অবশ্যই ইসলামী বিশ্বের সকল স্থানে যুদ্ধ চালাতে হবে, যেমনটি একটি জোটের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ফ্রন্টে যুদ্ধ করা হয়।

তৃতীয়তঃ একজন মুসলমান যেভাবে আল্লাহর কালিমার শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য জিহাদ করে থাকেন, আমাদেরকে সেভাবে যুদ্ধ করতে হবে।

চতুর্থতঃ আমরা অবশ্যই শত্রুদের আঙ্গিকে যুদ্ধ করবো না, কিংবা ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধান ও আইনের জন্য যুদ্ধ করবো না, যদি তা করি তবে সেটা আমাদের দ্বীন-দুনিয়ার পরাজয় ও ক্ষতি হিসাবে সাব্যস্ত হবে। সাম্প্রতিক আরব বসন্তের অভিজ্ঞতা এই সত্যের সাক্ষ্য হয়ে রয়েছে।

পঞ্চমতঃ আমাদেরকে এটা অবশ্যই অনুধাবন করতে হবে যে, এ যুদ্ধে আমাদের বিজয় নিহিত রয়েছে দাওয়াহ ও জিহাদের মাধ্যমে। দুর্বল শান্তিবাদ, নির্বাচন পদ্ধতি অথবা আমেরিকার সহযোগী সরকার কর্তৃক নিক্ষিপ্ত কিছু রুটির টুকরা দ্বারা এ বিজয় অর্জিত হবে না।

ষষ্ঠতঃ আমাদের যুদ্ধে বিজয় অর্জনের মাধ্যম হচ্ছে আমাদের শত্রুকে চেনা।

পাকিস্তান, তুরস্ক, মিশর, তিউনিশিয়া, লিবিয়া, আলজেরিয়া, ইয়েমেন, সোমালিয়া, বাংলাদেশ এবং অন্যান্য দেশের ধর্মনিরপেক্ষ সেনাবাহিনী নিজেদেরকে শুধুমাত্র আন্তর্জাতিক অপরাধীদের হাতের যন্ত্র হিসাবে প্রমাণ করেছে, বিশেষত আমেরিকার হাতের যন্ত্র হিসাবে। আর যারা বোঝাপড়ায় পৌঁছাতে চেয়েছিলেন এবং তাদের আইন গ্রহণ করেছেন, তারা দুনিয়া ও আখেরাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

ধর্মনিরপেক্ষ আন্দোলনকারীরা কোনভাবেই শরীয়াহ শাসনের সাথে আপোষ করবে না, তারা তো মুহাম্মাদ মুরসী, ঘানুশী এবং হামাসকেও গ্রহণ করেনি তাদের পক্ষ থেকে আপোষের বন্যা বয়ে যাওয়া সত্ত্বেও।

সপ্তমতঃ আমরা অবশ্যই আমেরিকা থেকে সহায়তা নেবো না এবং মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে আমেরিকাকে সহায়তা করবো না, এমনকি এটি যদি বিদ’আতী চরমপন্থীদের বিরুদ্ধেও হয়, যারা আমাদেরকে তাকফির করে থাকে এবং আমদের রক্তকে হালাল ঘোষণা করে, এবং তাদের বিরুদ্ধেও নয়, যাদের বিরুদ্ধে আমরা হয়তো যুদ্ধ করতে বাধ্য হই।

এটা এজন্য যে, আমরা অবশ্যই তাদের ব্যপারে আল্লাহর আদেশের আনুগত্য করি, যদিও তারা আমাদের ব্যপারে আল্লাহর আদেশ অমান্য করে থাকে।

অষ্টমতঃ রিয়াল, ডলার, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং গোয়েন্দাবাহিনীদের ভাড়াটে সালাফিদের থেকে যেন আমরা সচেতন হই, যারা এমন উলুল আম’রের আনুগত্য করে যারা সকল ধর্মের ঐক্যের কথা বলে বেড়ায়, সুদকে বৈধ করে, প্রাকৃতিক সম্পদ চুরি করে, হিজাবের বিপক্ষে প্রচারণায় পুরস্কার দেয়, ব্যভিচার ছড়ায় এবং ইসরায়েলকে স্বীকৃতি প্রদান করে।

নবমতঃ আমাদেরকে তাদের বিরুদ্ধে একসাথে জোট বেঁধে যুদ্ধ করতে হবে, যারা ঐক্যের কথা বলে অথচ তা ভাঙতে বা দুর্বল করতে কাজ করে, জেনে অথবা না জেনে আমেরিকান স্বার্থের সুরক্ষা প্রদান করে অথচ ধারণা রাখে তার বিপরীত।

দশমতঃ মুজাহিদীন এবং মুসলিমদের মাঝে ব্যাপক জনমত গড়ে তুলতে হবে, যেন সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজে বাঁধা প্রদান ফরজটি পুনরুজ্জীবিত হয়। ফলে মুসলিমদেরকে বিভক্তকারী, তাদের রক্ত ও সম্মান লঙ্ঘনকারী ক্ষমতালোভীদের সামনে যেন বাঁধা সৃষ্টি হয়।

একাদশঃ আমাদেরকে এটা উপলব্ধি করতে হবে যে, আমেরিকার হাতের যন্ত্রগুলি কখনোই আমেরিকার বিরুদ্ধে ইসলাম ও মুসলমানদের সহায়তা করবে না, এমনকি যদিও তারা সাময়িকভাবে তাদের অস্থায়ী স্বার্থের জন্য কিছু বিষয়ে সুবিধা প্রদান করে থাকে।

দ্বাদশঃ আমাদেরকে আরও অনুধাবন করতে হবে যে, এ আন্দোলন শুরুর দিন থেকে আজ পর্যন্ত শিয়া-রাফেযিরা তাদের মানসিকতা নূন্যতম পরিবর্তন করেনি। তারা শুধুমাত্র আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা’আহকে ধ্বংস করেই সন্তুষ্ট হবে, এবং তাদের এ লক্ষ্য অর্জনের জন্য এমনকি আমেরিকানদের সাথে তাদের সকল শত্রুতা সত্ত্বেও তাদের সাথে সহযোগিতা এবং একত্রে কাজ করতে কুণ্ঠিত হয় না।

ত্রয়োদশঃ বিশাল এ যুদ্ধ এবং আরব বিপ্লব থেকে পাওয়া শিক্ষা এটাই প্রমাণ করে যে, আমেরিকাকে চাপ প্রয়োগ এবং ধ্বংস করা ব্যতীত আমরা আমাদের বিজয় অর্জন করতে পারবো না, কারণ আমেরিকা যে কোন ইসলামী আন্দোলনকে অঙ্কুরেই বিনষ্ট করতে সচেষ্ট।

চতুর্দশঃ আমেরিকার নেতৃত্বাধীন অপরাধীদের সাথে আমাদের যুদ্ধ সকল ইসলামিক বাহিনীর সাথে পারস্পরিক সহযোগিতার দাবী করে, বিশেষত বিশেষজ্ঞ, নেতৃপর্যায়ের ব্যক্তি এবং মুজাহিদদের সাথে। এটি উম্মাহর পক্ষ থেকে দাবী, তাঁরা যেন মুজাহিদদের সহায়তা করে, যুদ্ধ কৌশল রপ্ত করে, এবং জিহাদে ফিরে আসে। এটি একটি মানসিকতার দাবী, যাতে আল্লাহকে ভয় করা হয়। সংঘাতের প্রকৃতি অনুযায়ী দায়িত্বের মাত্রা বৃদ্ধি পায়, যেখানে দুর্বল পদ্ধতির জন্য কোন স্থান নেই, নিরর্থক ধর্মনিরপেক্ষ নির্বাচন, একের উপর অপরের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার পারষ্পরিক সংঘাত, বরং এক ঘন্টার জন্য ঐক্য সৃষ্টির প্রতিষ্ঠান ও সংহতিরও স্থান নেই।

আমার মুসলিম ভায়েরা!

আমেরিকার সাথে আমাদের এই যুদ্ধ অনিবার্য ও কোনভাবেই এড়ানো যাবে না। আমাদের সামনে দুইটি পথ খলা রয়েছে। এক, সম্মানের পথ, যেটি হলো তাদের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে মুখোমুখি লড়াই করা। দুই, অপমানের পথ, যেটি হলো তাদের বশ্যতা মেনে নেয়া। আল্লাহ যদি সাহায্য করেন অবশ্যই আমরা অপমানের জীবন বেছে নিবো না।

আর আল্লাহ যদি চান, আমরা পূর্ণ সচেতনতার সাথে আমেরিকার বিরুদ্ধে আমাদের জিহাদ চালিয়ে যাবো। আমরা তাদেরকে কঠোরভাবে আঘাত করবো, তাদেরকে সামরিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতির মাধ্যমে বিপর্যস্ত করে তুলবো ততক্ষণ পর্যন্ত, যতক্ষণ না তারা আমাদের হারানো ভূমিগুলো থেকে বহিষ্কৃত হয়, যেভাবে হয়েছিলো ভিয়েতনাম, এডেন, ইরাক ও সোমালিয়া থেকে।

اجمعْ شتاتَك واحمِلْ أيها البطلُ فالوعدُ يُنجزُ للقومِ الأولى بذلوا

الصابرين برغمِ القَرحِ والألمِ والصادقين وسوقُ الكِذْبِ مبتذلُ

والحافظين عهودَ اللهِ ما نكثوا والثابتين ولو جُلُ الورى نكلوا

والقانعين قليل الزاد يُرْضِيَهم والشاكرين على زهدٍ وإن محَلوا

الممسكين بحبلِ اللهِ رايتُهم شعارُها الصدقُ بالتوحيدِ تشتملُ

الواثقين بوعدِ اللهِ عُدَّتُهم دعاءُ من قام في الأسحارِ يبتهلُ

وهجرةٌ في سبيلِ اللهِ ماضيةٌ قبولُها حفه الإشفاقُ والوجلُ

أُخُوَّةٌ في سبيلِ اللهِ صادقةٌ ما شابها الغشُ والتفريقُ والخللُ

وصفُهم في سبيلِ اللهِ متحدٌ بنيانُهم -في الوغى- المرصوصُ متصلُ

لم يرجعوا عن سبيلِ الحقِ من طمعٍ منهم يساومُه الأنذالُ والسُّفَلُ

يسعَون في دحرِ أمريكا وزمرتِها هُدَّتْ بغزوتِهمْ والنزفُ يتصلُ

الحقِ بركبِهمُ واشددْ عزائمَهم وقوِ شوكتَهم لا تقفُ من خذلوا

واثبتْ على منهجِ الأصحابِ متبعًا للراشدين ودعْ من حاد أو عدلوا

خلافةً في سبيلِ اللهِ نطلبُها من منهجِ الآلِ والأصحابِ تمتثلُ

نهجُ النبوةِ نرضاها وتجمعُنا بسنةٍ لرسولِ اللهِ تتصلُ

خيرُ القرونِ بها الإسلامَ قد نصروا والراشدون بها ساسوا وقد عدلوا

من منبرٍ لرسولِ اللهِ ذا عمرٌ قد قالها وجموعُ الصحبِ قد نقلوا

الأمرُ شورى فلا عهدٌ لمختلسٍ ونهجُ كسرى فشرٌ فاسدٌ وَغِلُ

يا طالبًا لجنانِ الخلدِ مجتهدًا احذرْ عقوبةَ من للملكِ قد قتلوا

النارُ مثوى ظلومٍ للدما نهمٍ لم يخشَ أخرى بها النيرانُ تشتعلُ

واثبتْ على مسلكِ التوحيدِ مجتنبًا طوائفًا دينُها الإرجاءُ والزغلُ

وليُهم وحدَّ الأديانَ مفتريًا ومنه شاع الربا والفحشُ والدجلُ

فوحِدِ الصفَ من شنقيطَ مجتمعًا يُمدُ نصرًا إلى الشيشانِ مُكتملُ

إليك مُدَّتْ وكلِ المخلصين يدٌ باللهِ تسألُكم يا أيها البطلُ

অনুবাদ

উম্মাহর বীর সৈনিকেরা জড়ো হও এবং কাজগুলো ভাগ করে নাও!

যে জাতির কুরবানি যত বেশি আল্লাহর সাহায্য তত নিকটবর্তী

তাঁদের জন্য যারা জখম ও ব্যথাতেও ধৈর্য ধারণ করে,

তাঁদের জন্য যারা মিথ্যায় সয়লাবের এই দুনিয়াই এখনো সত্যবাদী আছে,

তাঁদের জন্য যারা আল্লাহর সাথে করা ওয়াদা রক্ষা করে যাচ্ছে,

তাঁদের জন্য যারা সারা পৃথিবী বিপক্ষে চলে গেলেও দ্বীনের উপর অবিচল থাকে,

তাঁদের জন্য যারা তাঁদের কাছে যা কিছু অল্প আছে তাতেই সন্তুষ্ট,

তাঁদের জন্য যারা জীবনের ভয়াবহ মুহূর্তেও আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ,

তাঁদের জন্য যারা আল্লাহর রজ্জুকে শক্তভাবে ধরে রাখে,

তাঁদের জন্য যারা সত্য ও তাওহীদের পতাকাতলে আছে,

তাঁদের জন্য যারা আল্লাহর ওয়াদাতে দৃঢ় বিশ্বাসী।

তাঁদের অস্ত্র হচ্ছে এমন লোকদের দোয়া, যারা রাত্রি যাপন করে আল্লাহর ইবাদতে।

হিজরত আল্লাহর পথে এগিয়ে যাওয়ার আরেকটি ধাপ

আল্লাহ তা’আলার প্রতি ভয় ও আন্তরিকতার উপর এর গ্রহণযোগ্যতা নির্ভর করে।

আল্লাহ তা’আলার পথের ভাইদের বন্ধন

কখনোই প্রতারণা, অনৈক্য আর খণ্ডিত হওয়ার মাধ্যমে কলঙ্কিত হয় না।

আল্লাহর পথে ঐক্যবদ্ধ হয়ে থাকাই তাঁদের শান।

যুদ্ধের মাঠে তাঁরা যেন সিসাঢালা প্রাচীর।

তাঁরা আল্লাহর পথ থেকে পিছু হটেন না।

দুনিয়ার প্রতি ভালোবাসার চাইতে সাধারণ জীবনযাপন তাঁদের পছন্দ।

তাঁরা আমেরিকা ও তার সহযোগীদের ধ্বংস করতে সর্বাত্মক চেষ্টা করে।

তাঁদের আক্রমণে আমেরিকা আজ মরণ জখমে রক্তাক্ত।

সত্য তাঁদের পক্ষে তাই এই ভাইদের পক্ষে থাকুন!

তাঁদেরকে সাহায্য করার মাধ্যমে শক্তিশালী করুন! তাদেরকে নয় যারা এপথ ছেড়ে চলে গেছে!

সাহাবীদের দেখানো পথে দৃঢ়পদ থাকুন!

দ্বীনের সঠিক অনুসারীদের অনুসরণ করুন! তাদেরকে নয় যারা পথ পরিবর্তন করেছে বা পথভ্রষ্ট হয়েছে!

আল্লাহ তা’আলা যেভাবে তাঁর খেলাফত প্রতিষ্ঠিত দেখতে চান আমরাও সেভাবেই চাই!

সাহাবাগণের দেখানো পদ্ধতিতে…

নবুয়তের দেখানো পথ আমাদেরকে প্রশান্ত করে!

নবীজির সুন্নাহ আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ করে।

ইসলামের স্বর্ণযুগে এই “সুন্নাহ” ইসলামকে বিজয়ী করেছিলো।

সঠিক পথের অনুসারীরা এটিকে অনুসরণ করে ন্যায়বিচার করে।

নবুয়তের বেদি থেকে এটি ঘোষিত হয়েছিলো।

সাহাবীরা এই “সুন্নাহ” অনুসরণের মাধ্যমেই সমৃদ্ধির শিখরে পৌঁছান।

কোন প্রতারকের উপর বিশ্বাস রাখার চাইতে একা একা পরামর্শ করাই উত্তম পথ।

সিজার এর দেখানো পথ ভিত্তিহীন দুর্নীতিগ্রস্থ ও শয়তানের পথ।

হে চিরস্থায়ী জান্নাত পিয়াসীরা!

ক্ষমতার জন্য লড়াই করে যারা মারা যায় তাদের শাস্তির ব্যপারে ভয় করো!

রক্তচোষা জালিমদের শেষ ঠিকানা জাহান্নাম!

যে আখেরাতকে ভয় করে না তাকে দিয়েই জাহান্নামের আগুন জালানো হবে।

তাওহীদের পথে দৃঢ়পদ থাকুন!

ইসলামের সেসকল শাখার ব্যপারে সতর্ক থাকুন যারা দ্বীনের মুল অংশ বাদ দিয়ে অন্য কিছুকে আঁকড়ে ধরে এবং প্রতারণাই যাদের প্রধান কাজ।

তারা ইসলামকে অপবাদ দিয়ে নিজেরাই পরিবর্তন করে ফেলেছে।

সুদ, অশ্লীলতা ও প্রতারণা বিস্তার ঘটিয়েছে।

সুতরাং তোমার জামা’আতের কাতারকে এক করে নাও!

চেচনিয়া পূর্ণভাবে বিজয় হয়ে যাবে,

সকল আন্তরিক মানুষের হাত তোমার দিকে প্রসারিত হয়েছে

তোমাকেই আল্লাহর নামে মিনতি করে বলছি হে বাহাদুর!

وآخرُ دعوانا أن الحمدُ للهِ ربِ العالمين، وصلى اللهُ على سيدِنا محمدٍ وآلِه وصحبه وسلم. والسلامُ عليكم ورحمةُ اللهِ وبركاتُه.

1 أخرجه البخاري.

(Visited 32 times, 1 visits today)