দাওয়াতের সঠিক পথ ও পন্থা!

শায়খ উসামা মাহমুদ 

আল্লাহ তা’আলা যেখানেই দাওয়াতের আদেশ করেছেন (ادع الى سبيل ربك) অর্থাৎ দ্বীন ও দ্বীনের কাজের প্রতি দাওয়াতের কথা বলেছেন, সেখানে তার পদ্ধতিও বলে দিয়েছেন। এ পদ্ধতি হলো হেকমত, উত্তম ওয়াজ নসিহত এবং আকর্ষণীয় পদ্ধতিতে মুনাযারা করা।  Continue reading →

দাওয়াতের ক্ষতিকর পদ্ধতি!

শায়খ উসামা মাহমুদ

এবিষয়ে আলোচনা করার আগ্রহ তৈরী হয়েছে ইন্টারনেটে জিহাদের প্রতি দাওয়াত বিষয়ক কিছু পেইজ দেখে। এসকল পেইজের পরিচালকগণ একদিকে প্রশংসা পাওয়ার যোগ্য।

কারণ তারা এই চতুর্মুখী ফেতনার সময়ে জিহাদের দিকে দাওয়াতের ঝান্ডা উঁচু করে বাতিলের বিরোধিতা করছে। এমনকি তারা এই বাতিল শাসনব্যবস্থা দূর করার উপায় একমাত্র (দাওয়াহ, ইদাদ ও) জিহাদকেই সাব্যস্ত করেছে। এদিক থেকে তাদের যত প্রশংসাই করা হোক না কেন তা কম হবে। Continue reading →

নব্য জাহেলিয়াতের মূর্তিঃ লিবারেলিজম বা উদারনৈতিকতা!

উস্তাদ ইয়াহিয়া আব্দুল হাফিজ

জাহেলি যুগে আরবের মুশরিকরা অসংখ্য মূর্তির উপাসনা করতো। তিনশ ষাটটির মতো মূর্তি তারা বাইতুল্লাহর অভ্যন্তরে এবং এর আশাপাশে স্থাপন করে রেখেছিল। তাদের উপাস্য মূর্তিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় ও জনপ্রিয় মূর্তিটি ছিল হুবাল। হুবালের পর তাদের কাছে সর্বাধিক জনপ্রিয় ছিল তিনটি নারী মূর্তি – লাত, মানাত ও উযযা।  

বর্তমানেও আমরা দেখতে পাই, আরব্য জাহেলিয়াতের মতো নব্য জাহেলিয়াতেরও তিন মূর্তি রয়েছে। গণতন্ত্র, সেকুলারিজম ও লিবারেলিজম।

জাহেলি যুগে যেমন তখনকার মুশরিকদের আকিদা-বিশ্বাসে লাত, মানাত ও উযযা একটি অপরটির সাথে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত ছিল ঠিক তেমন নব্য জাহেলিয়াতের তিন মূর্তিও একটি অপরটির সাথে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। আমাদের আজকের আলোচনা এই ত্রিমূর্তির সর্বশেষটিকে নিয়ে। Continue reading →

নব্য জাহেলিয়াতের মূর্তিঃ নারীবাদ

উস্তাদ ইয়াহিয়া আব্দুল হাফিজ

আধুনিক নব্য জাহেলিয়াতের কাঠামোকে যে দর্শনগুলো সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত করেছে তার একটি হল ফেমিনিজম বা নারীবাদ। গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা, উদারনৈতিকতার (লিবারেলিজম) পাশাপাশি নারীবাদকে এ সময়ের বড় একটি মূর্তি বলা ভুল হবে না।

আধুনিক মানুষের যে ফিতরাতি (প্রাকৃতিক) বিকৃতি ঘটেছে, ন্যায়-অন্যায়, স্বাভাবিক-অস্বাভাবিক, সাদা-কালোর বিবেচনায় আজ যে ওলোটপালোট হয়েছে তার পেছনে নারীবাদের বড় ভূমিকা রয়েছে। Continue reading →

আমেরিকাঃ স্বপ্ন থেকে দুঃস্বপ্ন!

উস্তাদ আবু আনওয়ার

সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পেছনে দুটি প্রধান কারণের কথা বলা হয়। ১৯৮৬ সালে চেরনোবিল পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে বিস্ফোরন, এবং ১৯৮৯ সালে খোরাসানে লাল ফৌজের পরাজয়। যেকোন বড় রাষ্ট্র কিংবা শক্তির পতন একটি জটিল প্রক্রিয়া।

অনেক পরস্পরসংযুক্ত নিয়ামক (factor) এখানে ভূমিকা রাখে। কিন্তু এমন কিছু ঘটনা থাকে যা পতনের প্রক্রিয়ার সূচনা করে, কিংবা একে এমন পর্যায়ে নিয়ে যায়, যেখান থেকে ফেরত আসার আর সুযোগ থাকে না।

চেরনোবিল এবং খোরাসানে পরাজয় ছিল এমন দুটি ঘটনা। এ ঘটনাগুলোর প্রভাব ছিল ব্যাপক ও বহুমুখী। দুটি ক্ষেত্রেই সোভিয়েত ইউনিয়ন বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করতে বাধ্য হয়েছিল, যা তাদের অর্থনীতিকে নড়বড়ে অবস্থা থেকে ধসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গিয়েছিল। একইসাথে এই দুই ঘটনার ফলে ভেঙ্গে পড়েছিল পরাশক্তি হিসেবে সোভিয়েত ইউনিয়নের অজেয়, পরাক্রমশালী ভাবমূর্তি। Continue reading →

সবর ও ইয়াকিনঃ দীনী নের্তৃত্বের চাবিকাঠি

উস্তাদ আহমাদ নাবিল

১৪৩০ হিজরির কোন এক দিন। আফগানিস্তানের পর্বতমালার পাদদেশে বসে আছেন সাদা-কালো শ্মশ্রুমণ্ডিত মধ্যবয়স্ক একজন বুজুর্গ ব্যক্তি। মাথায় শোভা পাচ্ছে, আফগানী ধাঁচে বাঁধা বিখ্যাত কাল পাগড়ী। পাশেই পাথরের কোল ঘেঁষে রাখা একে-৪৭।

তিনি ক্যামেরার সামনে তৎকালীন অ্যামেরিকান প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে লক্ষ্য করে কিছু কথা বলছিলেন। খুব শান্ত কণ্ঠে, সাবলীল ভাষায়, সহজ কিছু বাক্য। কিন্তু তাঁর প্রতিটি শব্দ হৃদয়ে নাড়া দিচ্ছিল, গভীর প্রভাব ফেলছিল এবং অন্তরকে ছুঁয়ে যাচ্ছিল। Continue reading →

আমরা একঃ তালেবান ও সালাফি উলামা

ইমারাতে ইসলামিয়্যাহ আফগানিস্তানের অফিসিয়াল প্রকাশনা সংস্থা আল–ইমারাহ একটি গুরুত্বপূর্ণ অডিও প্রকাশ করে। সেই অডিওর শিরোনাম ছিল : ‘সালাফি উলামা ও বাইয়াত’। অর্থাৎ ইমারাতে ইসলামিয়্যাহর উদ্দেশে প্রদত্ত সালাফি আলিমগণের বাইয়াত।  

সেই গুরুত্বপূর্ণ বার্তা অবিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। আল্লাহ যদি চান, উম্মাহর এই ক্রান্তিকালে নিজেদের মানহাজ পরিশুদ্ধকরণে এটি বিরাট অবদান রাখবে। Continue reading →

দুর্বল ঈমান: লক্ষণ, কারণ ও প্রতিকার!

উস্তাদ হাশিম হাদ্দাদ

একজন মানুষের জন্য তার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও মূল্যবান সম্পদ হচ্ছে ঈমান, আর এই ঈমান কখনো মজবুত থাকে আবার কখনো দূর্বল হয়ে যায়।

রাসূল (সঃ) কে মজবুত ঈমান সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেনঃ Continue reading →

আরবের জায়নিস্ট শাসকবর্গের স্বরূপ

হাকিমুল উম্মাহ শায়খ আইমান

আজ আমি আপনাদের সামনে ঐসব জায়নবাদী শাসকদের ব্যপারে কিছু বেদনাদায়ক সত্য কথা তুলে ধরবো-যারা ইসলামের কেন্দ্রভূমি, কুরআন নাযিলের পুণ্যভূমি, নবুওত ও খেলাফতের রাজধানী আরব উপদ্বীপের বিস্তীর্ণ অঞ্চল শাসন করে, আমাদেরই মতো নাম পরিচয়- লেবাসপোশাক ধারণ করে, কিন্তু চিন্তা, বিশ্বাস ও কর্মে এরা জায়নবাদীদের আদর্শ লালন করে। Continue reading →

আকল ও প্রবৃত্তির লড়াই!

হাকিমুল উম্মাহ শায়খ আইমান

ইসলামী কর্মকাণ্ডের সাথে সম্পৃক্ত অনেক দল ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধান ও আইন-কানুনের ধারা অনুযায়ী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা নিয়ে দ্বন্দ্ব-সংঘাতে লিপ্ত হয়েছে, যার ফলে সর্বত্র দুর্যোগ ও ক্ষতিই হয়েছে।

মরক্কো থেকে ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়া পর্যন্ত এই ব্যর্থ পরীক্ষার ধ্বংসাবশেষ নিয়ে একটু বিবেচনা করুন! তাতে আপনি শুধুমাত্র ক্ষতি এবং ব্যর্থতাই পাবেন। Continue reading →