দৃঢ়তা ও স্পষ্টতা

শায়খ হারিস আন-নাজ্জারি

ডাউনলোড

 

السلام عليكم ورحمة الله وبركاته
الحمد لله رب العالمين، اللهم صلّ على محمد وآله وسلم وبارك، أما بعد

হামদ ও সালাতের পর কথা হল,
প্রচার মাধ্যমের সামনে দৃঢ়তা ও স্পষ্টতা(একটি জরুরী বিষয়)। জগতে ব্যাপকভাবে বহু প্রচার মাধ্যম ও প্রোপাগান্ডা(ছড়ানোর) সামগ্রী আবিষ্কৃত হয়েছে। জিহাদের ময়দানে এসব প্রচার ও প্রোপাগান্ডা সামগ্রীর বিরাট ভূমিকা রয়েছে। তাই বর্তমানে যুদ্ধের উপকরণের মধ্যে (এগুলো)অন্যতম উপকরণ। আমাদের শত্রুপক্ষ যুদ্ধে এসব গুজব এবং প্রোপাগান্ডা সামগ্রীকে ব্যাপকভাবে কাজে লাগায়। এমন অবস্থায় তাদের সাথে আমাদের আচরণ কেমন হওয়া উচিৎ?

আল্লাহ তা’আলা (তার দ্বীন রক্ষার জন্য)দ্বীনের মধ্যে দুটি মাধ্যম স্থির করেছেন,
প্রথম মাধ্যম হল- তথ্য আদান-প্রদানে যত্নবান হওয়ার বিষয়টি। আল্লাহ তা’আলা তথ্য আদান-প্রদানে যত্নবান হওয়ার বিষয়ে কিছু নিয়ম স্থির করেছেন। কোন জিনিস গুজব ছড়ায়? কোন জিনিস প্রোপাগান্ডা ছড়ায়? যবান, লোকজন এবং ব্যক্তি নিজেই কি?

আল্লাহ তা’আলা এ বিষয়ে একটি নিয়ম স্থির করেছেন – যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও হাদিসে বলেছেন। হাদিসটি আবু দাউদ শরীফে এসেছে। তা হল,
بئس مطية الرجل زعموا”
“ব্যক্তির নিকৃষ্ট বাহন হল তার ধারণা নির্ভর কথা”।

অর্থাৎ তুমি কোন সংবাদ সম্পর্কে নিশ্চিত বা সুদৃঢ় না হয়ে তা প্রচার করো না। সাধারণত মানুষজন একটি বিষয়ে ধারণা করে যে, বিষয়টি এভাবে ঘটে থাকতে পারে। তারপর বলে – এমনটিই ঘটেছে। আর এটাই ব্যক্তির সবচেয়ে নিকৃষ্ট বাহন যা ব্যক্তি প্রথমে গ্রহণ করে এবং পরবর্তীতে প্রচার করে।

সুতরাং প্রথম নীতি হল- তথ্য আদান-প্রদানে দৃঢ়তা অবলম্বন করা। ততক্ষণ পর্যন্ত তুমি কোন সংবাদ প্রচার করো না, যতক্ষণ পর্যন্ত তুমি তোমার সংবাদটি সঠিক হওয়ার বিষয়ে দৃঢ়তা অর্জন করতে না পারো। সংবাদটির বিষয়ে কোন সন্দেহ-সংশয় আছে কিনা সে সম্পর্কে নিশ্চিত হতে হবে। সংবাদ সম্পর্কে অবগত না হয়ে প্রচার করা যাবে না। আর নিজেকে মানুষের মাঝে মিথ্যা প্রচলনের মাধ্যম বানানো যাবে না। এই হল প্রথম বিষয়।
দ্বিতীয় বিষয় (বা নীতি) হল- নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম – “বলা হয়েছে” এবং “বলেছেন” -এমন কথা বলতে নিষেধ করেছেন।

অনর্থক বিষয়ে বেশি কথা বলা এবং যে কথাটি সঠিক হওয়াটা সুনিশ্চিত নয় এমন বিষয়ে- “বলা হয়েছে” এবং “অমুক এমন বলেছে” – এ জাতীয় কথা বলা নিষেধ। কোন সংবাদ ও কথা যা সঠিক হওয়াটা সুনিশ্চিত নয় তা বেশি পরিমাণে বলা মাকরুহ। অনির্ভরযোগ্য তথ্য ও সংবাদ বর্ণনা খোদ বর্ণনাকারীকেই দোষী সাব্যস্ত করে।
তা ছাড়া সহীহ মুসলিমে হযরত আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহুর সূত্রে বর্ণিত নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন,
كفى بالمرأ كذبا أن يحدث بكل ماسمع
“কোন ব্যক্তির মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্য এটাই যথেষ্ট যে, সে যা শুনে তাই বলে বেড়ায়”।

অর্থাৎ কোন ব্যক্তি অন্যের থেকে যে তথ্যই জানতে পায়- অতঃপর (যাচাই বাছাই ছাড়া) তাই যদি বলে বেড়ায়, তাহলে তার কথায় যথেষ্ট পরিমাণ মিথ্যা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও সে যা বর্ণনা করেছে তাতে সে সত্যবাদী এবং যেভাবে সে সংবাদ শুনেছে ঠিক সেভাবেই প্রচার করে থাকে। তারপরও সে মানুষের সামনে তা প্রচার করার সম্ভাবনা থাকে যাতে অধিক হারে মিথ্যা থাকে। হাদিসে তাই বলা হয়েছে:
كفى بالمرأ كذبا أن يحدث بكل ماسمع
“কোন ব্যক্তির মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্য এটাই যথেষ্ট যে, সে যা শুনে তাই বলতে থাকে”।

মানুষ বিভিন্ন সূত্র থেকে বিভিন্ন তথ্য সরবরাহ করে থাকে। তার সে তথ্যের উৎস হতে পারে – ইলেকট্রিক মিডিয়া, মানুষ বা প্রিন্ট মিডিয়া। এ ছাড়া আরো যত উৎস আছে এমন বহু উৎস থেকেও তথ্য সরবরাহ করে থাকে।
যখন সে এ সব উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ করে তা প্রচার করতে থাকে, স্বভাবতই তাতে অনেক মিথ্যা থাকে। যখন সে এ তথ্যগুলো সংগ্রহ করে প্রচার করছে, তখন সে স্বীকার করুক বা না করুক, সে- মিথ্যাকেই প্রচার করছে। কারো জন্য অন্যের তথ্য প্রচারের মাধ্যম অথবা মুখপাত্র হওয়া অনুচিত। অনেকে অন্যের মুখপাত্র হয়ে কাজ করে অথচ সে জানেও না যে, সে অন্যের মুখপাত্র হিসেবে কাজ করছে। সে না জেনেই এমন বিষয় প্রচার করতে থাকে যার দ্বারা সে মিথ্যা সংবাদের উৎসে পরিণত হয়। এ কারণেই নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন,
كفى بالمرأ كذبا أن يحدث بكل ماسمع
কোন ব্যক্তির মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্য এটাই যথেষ্ট যে, সে যা শুনে তাই বলে বেড়ায়।

এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ইমাম নববী রহ. তার মুসলিম শরীফ এর ব্যাখ্যা গ্রন্থে বলেন, এ অধ্যায়ের সাথে সংশ্লিষ্ট যত হাদিস ও আছার আছে সবগুলোতে – মানুষ যা শুনে তাই বলার ব্যাপারে ধমকি এসেছে। কারণ স্বভাবতই সে সত্য-মিথ্যা সবই শুনে থাকে। সুতরাং যদি সে যা শুনে তাই বলে বেড়ায়, তাহলে তো সে এমন সংবাদ প্রদানের ক্ষেত্রেও মিথ্যা বলল, যা মূলত সংঘটিতই হয়নি।

তারপর তিনি বলেন, ইতিপূর্বেই এ বিষয়টি আলোচনা হয়েছে যে, সত্যপন্থীদের মাযহাব হল – ‘কোন বিষয়ে বাস্তব বিরোধী সংবাদ দেয়াকে’ মিথ্যা বলা হয়। এতে ইচ্ছা শর্ত নয়। তবে ইচ্ছাটা গুনাহ সাব্যস্ত হওয়ার জন্য শর্ত(আল্লাহ তা’আলাই ভাল জানেন)। এই হল ইমাম নববী রহ. এর কথা।

এটাই (যাচাই বাছায় না করে সত্য-মিথ্যা যে কোন) তথ্য প্রচার বন্ধ করার প্রথম উৎস বা প্রথম অসিলা ও মাধ্যম। তাই সংবাদ গ্রহণ ও প্রচারের ক্ষেত্রে দৃঢ়তা আবশ্যক।

দ্বিতীয় মাধ্যম হল: যে কোন বিষয়কে সে বিষয়ের পারদর্শী ব্যক্তির নিকট হস্তান্তর করা। শাইখ আব্দুল্লাহ আযযাম রহ. বলেন, “তুমি নিজেকে সংশোধন কর, জবানকে হেফাজত কর এবং তুমি তোমার ও তোমার রবের মাঝের সম্পর্ককে সংশোধন কর। হতে পারে তুমি যা দেখছো তা সত্য নয়। বরং এক্ষেত্রে এমন বিদ্যাও থাকতে পারে যা তোমাদের জিজ্ঞাসা করে জেনে নেয় আবশ্যক এমন ব্যক্তিদের থেকে, যারা এবিষয়ে পারদর্শী। আর যুদ্ধের ময়দানে (যেমন আমরা বলে থাকি)-গুজব খুব বেশিই রটে থাকে।
আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন,

وَإِذَا جَاءهُمْ أَمْرٌ مِّنَ الأَمْنِ أَوِ الْخَوْفِ أَذَاعُواْ بِهِ
“আর যখন তাদের কাছে কোন সংবাদ পৌঁছে – শান্তি-সংক্রান্ত কিংবা ভয়ের, তখন তারা সেগুলোকে রটিয়ে দেয়”। [সূরা নিসা ৪:৮৩]
অর্থাৎ, তাদের কাছে যখন কোন সংবাদ আসে তা শান্তির হোক বা ভীতির, তারা তা (যাচাই না করে) প্রচার শুরু করে দেয়। কেন অমুক ব্যক্তি এমনটা করেছে? কেন অমুক ব্যক্তি তেমনটা করছে? ইত্যাদি।
আয়াতের পরের অংশে আল্লাহ তা’আলা বলেন:
وَلَوْ رَدُّوهُ إِلَى الرَّسُولِ وَإِلَى أُوْلِي الأَمْرِ مِنْهُمْ لَعَلِمَهُ الَّذِينَ يَسْتَنبِطُونَهُ مِنْهُمْ
তারা যদি তা রাসূল বা যারা কর্তৃত্বের অধিকারী তাদের কাছে নিয়ে যেত , তবে তাদের মধ্যে যারা তার তথ্য অনুসন্ধানী তারা তার বাস্তবতা জেনে নিত। [সূরা নিসা ৪:৮৩]

আল্লাহ তা’আলা আমাদেরকে শিক্ষা দিচ্ছেন আমরা কিভাবে যুদ্ধক্ষেত্রে গুজবের মোকাবেলা করব। আর যারা দায়িত্বশীল তাদের কাছে প্রশ্ন করে জানার জন্যও বলেছেন – যে অমুক ঘটনাটি কি?
সুতরাং তোমরা তোমাদের এবং আল্লাহর মাঝে পারস্পরিক সম্পর্ককে সংশোধন কর যাতে তোমরা তোমাদের নেকীগুলো হেফাযত করতে পার।

(শাইখ আবদুল্লাহ আযযাম রহ. এর কথা এখানে শেষ হল)
সুতরাং শেষ কথা হল প্রত্যেক বিষয়কে সে বিষয়ের পারদর্শীর নিকট হস্তান্তর করা এবং জানার ক্ষেত্রে তা গুরত্ব সহকারে জানা।

আর গুজবের ক্ষতি হল-
গুজব বিচ্ছিন্নতা এবং অন্তরে ক্রোধের সৃষ্টি করে। শত্রুরা সাধারাণ সৈনিক এবং আমিরদের মাঝে নিজেদেরকে মধ্যস্থতাকারী বানাতে বেশী পছন্দ করে। কারণ এর দ্বারা তারা আমিরের কথা বিকৃত করে মামুরদের কাছে বলবে আর মামুরদের কথা রদবদল করে আমিরদেরকে শুনাবে। এটা করতে পারলে সাধারণ সৈনিকদেরকে আমির থেকে দুরে সরানো যাবে, এটাই মূলত শত্রুদের চাহিদা। এটা একটি প্রসিদ্ধ এবং জানা কথা- তাই এরজন্য কথা বাড়ানোর কোন প্রয়োজন নেই।

উস্তাদ আব্দুল্লাহ আল-আ’দম বলেন, জিহাদ ও মুজাহিদদের জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর হল, সে সব বাতিল প্রোপাগান্ডা যা জিহাদে গমনকারীদের বিশেষ করে তাদের আমিরদের সম্মানের সাথে সম্পৃক্ত। এ ধরণের প্রোপাগান্ডা নেতৃত্বকে ধ্বংস করে এবং আমির ও সৈন্যদের মাঝে দীর্ঘ ব্যবধান তৈরি করে। সুতরাং তারা দুর্বল অন্তরসমূহে বিশ্বাসঘাতকতা ও শত্রুতা ঢেলে দেয় এবং এর অনিষ্টতাকে বৃদ্ধি করে তোলে, এরপর এর থেকে কেউই মুক্তি পায়না।

নিঃসন্দেহে এটা জিহাদি কাফেলার জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর বিষয়। তাই প্রত্যেক মুজাহিদের জন্য এব্যাপারে সতর্ক থাকা উচিৎ এবং এমন সব দল থেকে বেঁচে থাকা উচিৎ, যাদের জিহাদে নেতৃত্ব লাভ এবং শ্রুতবিষয়কে বিকৃত করা ব্যতীত আর কোন কাজ নেই। চাই এ বিকৃতিকারী জিহাদের কাতারের ভিতরের লোক হোক বা বাহিরের। শত্রু কখনো কাতারের বাহিরের হতে পারে আবার কখনো কাতারের ভিতর থেকে। কখনো দ্বীনের দিক থেকে, বিবেকের দিক থেকে অথবা মানবিক দিক থেকে দুর্বল এমন কেউও হতে পারে – যিনি শত্রুদের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনে, না জেনেই তাদের চক্রান্তে পড়ে যায়। দুর্বল চিন্তার অধিকারী ব্যক্তি – সংবাদ শুনে তা প্রচার করতে থাকেন, যদিও তার জানা নেই, তাতে কত বড় ফাসাদ রয়েছে।

আমরা আল্লাহ তা’আলার কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদেরকে আমাদের নফসের অনিষ্টতা থেকে রক্ষা করেন। আমীন

والحمد لله رب العالمين، والسلام عليكم ورحمة الله وبركاته

জিহাদ থেকে নিবৃত-কারীদের প্রসঙ্গে

শায়খ হারিস আন-নাজ্জারি

ডাউনলোড

 

السلام عليكم ورحمة الله وبركاته

الحمد لله رب العالمين، اللهم صلّ على محمد وآله وسلم وبارك، أما بعد

হামদ ও সালাতের পর,

আল্লাহ তা’আলা তার প্রিয় কিতাবে জিহাদের ভূমিতে জিহাদ থেকে নিবৃত-কারীদের বিষয়ে সতর্ক করেছেন। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তা’আলা এ প্রকারের নিকৃষ্ট মানুষদের সম্পর্কে ইরশাদ করেন:

لَوْ خَرَجُوا فِيكُمْ مَا زَادُوكُمْ إِلَّا خَبَالًا وَلَأَوْضَعُوا خِلَالَكُمْ يَبْغُونَكُمُ الْفِتْنَةَ وَفِيكُمْ سَمَّاعُونَ لَهُمْ وَاللَّهُ عَلِيمٌ بِالظَّالِمِينَ

অর্থ: ওরা যদি তোমাদের সঙ্গে বের হত, তবে তোমাদের কেবল অনিষ্টই বৃদ্ধি করত, এবং তোমাদের মধ্যে ফিতনা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে তোমাদের অভ্যন্তরে ছোটাছুটি করে বেড়াত আর তোমাদের মধ্যে তাদের জন্য কথা শোনার লোক (গুপ্তচর) আছে বস্তুত: আল্লাহ যালিমদের ভালভাবেই জানেন। [সুরা তাওবা ৯:৪৭]

ইমাম ইবনে কাসীর রহ. তাঁর তাফসীর গ্রন্থে(উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায়) বলেন,

لَوْ خَرَجُوا فِيكُمْ مَا زَادُوكُمْ إِلَّا خَبَالًا

“তারা তোমাদের সাথে বের হলে তোমাদের অনিষ্টই বৃদ্ধি করত”

যেহেতু তারা কাপুরুষ ও অপদস্থ তাই তারা এমনটা করতো।

مَا زَادُوكُمْ إِلَّا خَبَالًا

এখানে ‘খবালা’ অর্থ অনিষ্ট, বিভ্রান্তি। সুতরাং (জিহাদে বাধাদানকারীগণ)মুজাহিদদের সাথে বের হওয়াটা মুজাহিদদের অনিষ্টই বৃদ্ধি করে। তারা মূলত বিভ্রান্ত্রি সৃষ্টিকারী জাতি, তাই তারা মুজাহিদদের মাঝে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টায় থাকে।

(উক্ত আয়াতের পরের অংশে) আল্লাহ তা’আলা বলেন,

وَلَأَوْضَعُوا خِلَالَكُمْ يَبْغُونَكُمُ الْفِتْنَةَ

“তারা তোমাদের মধ্যে ফিতনা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে তোমাদের অভ্যন্তরে ছোটাছুটি করে বেড়াত”।

অর্থাৎ তারা তোমাদের মাঝে পরনিন্দা , শত্রুতা ও ফিতনা নিয়ে ছুটাছুটি করে বেড়াত। তারা তোমাদের মাঝে পরনিন্দা করে বেড়াত এবং মানুষের মাঝে ফিতনা সৃষ্টি জন্য ছোটাছুটি করত। গিবত, পরনিন্দা ও ফিতনার মাধ্যমে মুজাহিদদের মাঝেও ফ্যাসাদ সৃষ্টির চেষ্টা করত। আমরা আল্লাহর নিকট এদের থেকে আশ্রয় কামনা করছি।

(তার পরের অংশে) আল্লাহ তা’আলা বলেন,

وَفِيكُمْ سَمَّاعُونَ لَهُمْ

অর্থ: তোমাদের মধ্যে তাদের জন্য কথা শোনার লোক (গুপ্তচর)রয়েছে।

এখানে (তোমাদের মাঝে)কিছু মুমিন রয়েছে যারা তাদের জন্য কথা শোনে। ইবনে কাসীর রহ. বলেন, অর্থাৎ এ সব মুমিন তাদের আনুগত্য করে এবং তাদের কথাকে পছন্দ করে। তাদের প্রকৃত অবস্থা না জেনে অনেক সময় তাদের কাছে পরামর্শ চাওয়া হয়। পরবর্তীতে তাদের পরামর্শ গ্রহণ করা হলে তা মুমিনদের মাঝে অনিষ্ট ছড়ায় এবং কঠিন ফ্যাসাদ সৃষ্টি করে। এ ধরনের লোকদের কারণে এ ধরণের অনিষ্ট সৃষ্টি হয়।

উস্তাদ আব্দুল্লাহ আল-আ’দম বলেন:  জিহাদের ময়দান সাধারণত এ প্রকারের নিবৃত-কারী থেকে মুক্ত হয়না। (এ-প্রকারের লোক সাধারণত) আল্লাহ তা’আলার পক্ষ হতে পরীক্ষা স্বরূপ। তারা তাদের বিষ-বাষ্প এবং মস্তিষ্ক নি:সৃত নাপাক চিন্তাধারা জিহাদের ময়দানে ছড়িয়ে দেয়- জিহাদের ময়দান থেকে মানুষকে নিবৃত-করণ এবং গুজব সৃষ্টির লক্ষ্যে। এ ছাড়াও এরাই ঘৃণা ছড়ায় সবার মাঝে বিশেষ করে আমীর ও তার অধীনস্থদের মাঝে।

এরা জিহাদের ক্ষেত্রে এক দিকে যেমন কৌশলের ক্ষেত্রে বাধা দেয়, অন্যদিকে স্বীয় বিষ-বাষ্প (মুজাহিদদের মাঝে) ছড়ায়। অনেক গোয়েন্দা ও গুপ্তচর রয়েছে যাদের লক্ষ্যই এটি যে- মুসলমানদের মাঝে ফাটল সৃষ্টি করা এবং আমীর ও সাধারণ সৈন্যদের অন্তরে পারস্পরিক ক্রোধ প্রজ্বলিত করা।

তিনি বলেন, তারা এটি করে থাকে প্রচার মিডিয়ার মাধ্যমে। তারা ঘৃণিত জাতীয়তাবাদের অগ্নি প্রজ্বলিত করে। (তারা বলে)অমুকের সন্তান, অমুক গোত্রের, অমুক এলাকার, অমুক শহরের, এভাবে তারা (জাতীয়তাবাদ) প্রচার করতে থাকে।

তিনি (আরও)বলেন, ঘৃণিত জাতীয়তাবাদের অগ্নি প্রজ্বলন এবং তার গিঁটকে মজবুত করণ – এ ধরনের জাতীয়তাবাদকে আমরা কুফরি মনে করি। তারা বিভিন্নভাবে প্রোপাগান্ডা চালায় এবং দোষ-ত্রুটি প্রকাশ করে বেড়ায়। যে সব সাধারণ ভুলত্রুটি থেকে মানুষ মুক্ত নয়, সে গুলোকেও তারা ব্যাপক প্রচার চালায়। তারপর সবগুলো ভুলকে একত্রিত করে বলে, এমন এমন পাওয়া গেছে। আল্লাহ তা’আলা তাদেরকে অপদস্থ করুন।

তিনি আরও বলেন, “তারা আল্লাহর জন্য জিহাদে আসা নবাগতদেরকে এগুলো বড় করে দেখায়”। তারা নবাগত ভাইকে আগে আগে বুঝায় যে অমুক এক্ষেত্রে এমন, অমুক আমির অনেক বিষয়ে ভুলে রয়েছেন। একবার ভেবে দেখুন ভাইটির তখন কি অবস্থা হয়? দেখা যায় তার মাঝে অযথায় উৎকণ্ঠা ও ভয় সৃষ্টি হয়। এসমস্ত চিন্তা ভাবনা এবং প্রচার প্রচারণার কারণে নবাগত ভাইটি জিহাদ ও মুজাহিদদেরকে ছেড়ে পালিয়ে যায়।

তিনি আরও বলেন, এমনটা যে করবে সে সবচেয়ে নিকৃষ্ট জালেম। কেননা আল্লাহর রাহে বাধা প্রদান করা সবচেয়ে বড় গুনাহ। ইবনে হাজম রহ. বলেন, “কুফরির পর মুসলমানদেরকে ইসলামের জন্য কাফেরদের সাথে জিহাদ করা থেকে বাধা দেয়ার মত আর কোন বড় গুনাহ নেই”।

সুতরাং আল্লাহর দ্বীনের সাহায্যে এগিয়ে আসা নবাগত মুজাহিদদের জন্য আবশ্যক হল এদের থেকে সাবধান থাকা এবং এদের থেকে যে কোন পর্যায়ের সতর্কতা অবলম্বন করা। জিহাদের এসব শত্রুদের প্রচারকৃত প্রোপাগান্ডা থেকে নিজেদের দূরে রাখা। তিনি আরও বলেন, “সুতরাং তোমার জন্য যে ফন্দি পাতা হচ্ছে, তার ব্যাপারে সতর্ক থাক”

(উস্তাদ আব্দুল্লাহ আল-আ’দমের উপদেশমূলক কথা এখানেই শেষ)।

তোমার জন্য যে ফাঁদ পাতা হচ্ছে তার ব্যাপারে সতর্ক থাক এবং তোমার ভবিষ্যৎ চলার পথে যে সমস্ত সন্দেহ-সংশয় সৃষ্টি হবে তা সম্পর্কেও ধারণা রাখতে হবে। সত্যকে জানতে পারলে সত্য-পন্থীদেরও জানতে পারবে। আর তোমাকে যেন (তাদের) নামসমূহ ও মানুষের অন্তরে এ নামের বিশাল প্রভাব – এ বিষয়টি ধোঁকা না দেয়।

এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারণ জিহাদের ময়দানে এধরণের নিবৃত-কারীর সম্মুখীন তুমি হবেই, এরাই হল ফ্যাসাদ সৃষ্টিকারী দল।

আল্লাহ তা’আলার নিকট আমরা প্রার্থনা করি তিনি যেন মুসলমানদেরকে এদের অনিষ্টতা থেকে রক্ষা করেন। আমীন।

আল্লাহ তা’আলা আপনাদেরকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।

وجزاكم الله خيرًا، والسلام عليكم ورحمة الله وبركاته

মতবিরোধের ক্ষেত্রে আদব

শায়খ হারিস আন-নাজ্জারি

ডাউনলোড

মত-বিরোধপূর্ণ বিষয়ে করনীয়: মতবিরোধ এবং দ্বন্দ্বের সময় কুরআন ও সুন্নাহর দিকে ফিরে আসা। মতানৈক্য ও দ্বন্দ্ব বা বিতর্কের বিষয়টিকে কুরআন ও সুন্নাহর দিকে ফিরানো।

অর্থাৎ আল্লাহর কিতাব ও সুন্নতে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দিকে প্রত্যাবর্তন করা। সুন্নতে রসূল এবং আল্লাহর কিতাব দিয়ে যারা মত-বিরোধপূর্ণ বিষয়ে ফয়সালা করেন তারা হলেন, আহলে ইলম উলামায়ে কেরাম। Continue reading

মানুষের সাথে উদারতা

শায়খ হারিস আন-নাজ্জারি

ডাউনলোড

ইমাম বুখারী রহ. তার রচিত কিতাব সহীহ বুখারীতে, باب المُداراة مع الناس তথা ‘মানুষের সাথে উদারতা বা নম্রতা’ নামে একটি শিরোনাম (অধ্যায়) রেখেছেন। Continue reading

গুরাবা বা অপরিচিতগণ

শায়খ হারিস আন-নাজ্জারি

ডাউনলোড

নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন,

بدأ الإسلام غريبًا وسيعود غريبًا كمابدأ فطوبى للغرباء رواه مسلم

অর্থ: ইসলাম এসেছে নিঃসঙ্গ-অপরিচিতভাবে, অচিরেই আবার তা পূর্বের ন্যায় নিঃসঙ্গ-অপরিচিত হয়ে যাবে, সুসংবাদ (নিঃসঙ্গ-অপরিচিত) গুরাবাদের জন্যই। (মুসলিম) Continue reading

আল্লাহ ও তাঁর রসূলের (সা) দিকে ফিরে আসা।

শায়খ হারিস আন-নাজ্জারি

ডাউনলোড

আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেন:

{فَإِنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ إِنْ كُنتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ ذَلِكَ خَيْرٌ وَأَحْسَنُ تَأْوِيلًا}

অর্থ: কোন বিষয়ে তোমাদের মাঝে মতভেদ হলে তা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের দিকে প্রত্যাবর্তন কর। যদি তোমরা আল্লাহ ও আখেরাতে বিশ্বাস কর। এটাই উত্তম এবং পরিণামে উৎকৃষ্টতর। (সূরা নিসা – ৫৯) Continue reading

হিজরতের পথে মৃত্যুর ফযিলত

শায়খ হারিস আন-নাজ্জারি

ডাউনলোড

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন,

من فَصَلَ في سبيل الله فمات فهو شهيد اخرجه أبو داؤد (1/391) 

অর্থঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় বের হয়ে মৃত্যু বরণ করেছে সে শহীদ। (আবু দাউদ)

অর্থাৎ যে ব্যক্তি জিহাদের জন্য বের হয়েছে, অতঃপর যে কোনভাবে সে মারা যায়, তবে সে শহীদ। আর শহীদ ইনশা আল্লাহ (আল্লাহ চাহেন তো) জান্নাতে যাবে। Continue reading

ইসলাম ও রাস্ট্র

হাসান আব্দুস সালাম

ইসলামী রাষ্ট্রের মূলভিত্তি হচ্ছে শরীয়াহ আইন প্রতিষ্ঠা করা। অর্থাৎ ইসলামী রাষ্ট্রে বিধি বিধান হবে কেবলমাত্র কুরআন সুন্নাহ হতে আহরিত।

প্রতিষ্ঠার সূচনালগ্ন থেকেই এই রাষ্ট্র জানান দেবে যে, হুকুম আহকাম একমাত্র আল্লাহ্‌র। আর যে সমস্ত আইন শরীয়াহর বিপরীত, তার সবই স্থান পায়ের তলায়। শর্তহীন পরিপূর্ণ কর্তৃত্ব ও সার্বভৌমত্ব থাকবে শুধু শরীয়াহর নিয়ন্ত্রণে। Continue reading

শূরা (পরামর্শ)

শায়খ হারিস আন-নাজ্জারি

ডাউনলোড

পরামর্শ দ্বীনেরই একটি অংশ। এটি এমন এক ইবাদত যা দ্বারা আমরা আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করতে পারি। শূরা কি? এটাকে ওয়াজিব কিংবা মোস্তাহাব যাই বলি না কেন, সর্বশেষ কথা হচ্ছে এর দ্বারা আল্লাহর মোহাব্বত পয়দা হয়। তাছাড়া ‘পরামর্শ’ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহ এবং খুলাফায়ে রাশেদীনের আদর্শ । Continue reading

রবের জন্য বান্দার সাহায্য

ডাউনলোড

আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন,

يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِن تَنصُرُ‌وا اللَّهَ يَنصُرْ‌كُمْ وَيُثَبِّتْ أَقْدَامَكُمْ
অর্থ: হে বিশ্বাসীগণ! যদি তোমরা আল্লাহকে সাহায্য কর, আল্লাহ তোমাদেরকে সাহায্য করবেন এবং তোমাদের পা দৃঢ়প্রতিষ্ঠ করবেন। [ সূরা মুহাম্মাদ ৪৭:৭ ]

Continue reading