কুফফারদের সাথে নম্রতা ও আনন্দের সাথে কথা বলার হুকুম কি?

প্রশ্নঃ শ্রদ্ধেয় শায়েখ! আমাদের সমস্যা হলো আমাদের মা অসুস্থ ছিলেন এবং আমাদেরকে তাকে নিয়ে আমেরিকায় যেতে হয়। যদিও বিষয়টি আমাদের জন্য খুবই বিরক্তিকর ছিল কিন্তু অনেক চিন্তাভাবনা এবং ইস্তেখারা করার পরই আমরা এই পদক্ষেপ গ্রহন করি। 

তাই আমরা যখন সেখানে ছিলাম আমাদের সাথে মেডিক্যাল কর্মকর্তা না হয় সাধারন জনগনের আচরন ভালো ছিল। প্রত্যেকেই আমাদের সাথে সৌহার্দ্য পূর্ন, সহানুভূতিশীল আচরণ করে। প্রতিউত্তরে আমার অন্তরে তাদের প্রতি ঘৃণা থাকা সত্ত্বেও আমি তাদেরকে স্বাগতম জানাই এবং তাদের মেয়েদেরকে সহাস্য অভিনন্দন জানাই এই কামনা নিয়ে যেন তারা ইসলামের দিকে আকৃষ্ট হয়।

আলহামদুলিল্লাহ সেখানে আমি ইসলামিক হিজাবের নিয়ম মেনে চলি। 

এখন আমি যা জানতে চাই তা হচ্ছে, এই কাজ করার ফলে মানে অন্তর থেকে কোন রূপ ভালবাসা ছাড়াই তাদের সাথে অনুরূপ আচরন করা- এটা কি আল ওয়ালাহ ওয়াল বারাআহ পরিপন্থী নয়। আমি আপনার থেকে উপকৃত হতে চাই। আল্লাহ আপনাকে সর্বোত্তম পুরস্কার দান করুন। 

প্রশ্নকর্তাঃ একজন মুসলিম বোন 

জবাবঃ
আমি পরম করুনাময় দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি। 
প্রশংসা আল্লাহর, জগৎসমূহের রব, সালাত এবং সালাম বর্ষিত হোক নবী মুহাম্মাদ (সাঃ), তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর সাহাবীদের উপর।

আবু যর (রাঃ) থেকে বর্ণীত যে নবী ﷺ বলেন

أَفْضَلُالْأَعْمَالِ: الْحُبُّفِياللَّهِ،وَالْبُغْضُفِياللَّهِ
“সব আমলের মধ্যে সর্বোত্তম আমল হল আল্লাহর জন্য ভালবাসা এবং আল্লাহর জন্য ঘৃনা করা” (আবু দাউদ)

আব্দুল্লাহ ইবনে মাস’উদ (রাঃ) থেকে বর্ণীত, নবী বলেনঃ

المَرْءُمَعَمَنْأَحَبَّ
কেয়ামতের দিনে লোকেরা তাদের সাথে থাকবে যাদেরকে তারা ভালবেসেছিল। (বুখারী, মুসলিম)

আলী (রাঃ) থেকে বর্নিত, নবী বলেনঃ 

وَلَايُحِبُّرَجُلٌقَوْمًاإِلَّاحُشِرَمَعَهُمْ
লোকদেরকে তাদের সাথে জড়ো করা হবে যে জাতিকে তারা ভালবেসেছিল। (তাবারানি)

“رَجُلٌ” শব্দ দ্বারা এই হাদিসে নির্দিষ্ট ভাবে শুধু পুরুষদেরকে বুঝাচ্ছে না বরং মহিলারাও এর অন্তর্ভূক্ত। 

উপরোক্ত হাদিসগুলো দ্বারা প্রমানিত যে আল্লাহর শত্রুদের প্রতি শত্রুতা করা বাধ্যতামূলক। যা এই আয়াত দ্বারাও সমর্থিত।

لَاتَجِدُقَوْمًايُؤْمِنُونَبِاللَّهِوَالْيَوْمِالْآخِرِيُوَادُّونَمَنْحَادَّاللَّهَوَرَسُولَهُوَلَوْكَانُواآبَاءَهُمْأَوْأَبْنَاءَهُمْأَوْإِخْوَانَهُمْأَوْعَشِيرَتَهُمْأُ

ولَئِكَكَتَبَفِيقُلُوبِهِمُالْإِيمَانَوَأَيَّدَهُمْبِرُوحٍمِنْهُوَيُدْخِلُهُمْجَنَّاتٍتَجْرِيمِنْتَحْتِهَاالْأَنْهَارُخَالِدِينَفِيهَا

رَضِيَاللَّهُعَنْهُمْوَرَضُواعَنْهُأُولَئِكَحِزْبُاللَّهِأَلَاإِنَّحِزْبَاللَّهِهُمُالْمُفْلِحُونَ

“তুমি এমন কোন সম্প্রদায় পাবে না যারা আল্লাহ ও শেষ দিনের উপর ঈমান আনে তারা ওদেরকে ভালবাসে যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের সাথে শত্রুতা করে যদিও তারা তোমাদের বাবা, তোমাদের পুত্র, তোমাদের ভাই অথবা, তোমাদের জ্ঞাতী গোত্রের হয়।

এরা হচ্ছে ঐসব লোক যাদের অন্তরে আল্লাহ ঈমানের বীজ বোপন করে দিয়েছেন। তিনি তাদেরকে এমন জান্নাতে প্রবেশ করাবেন যার নিচ দিয়ে নদী প্রবাহিত হয়। যেন তারা সেখানে চিরকাল থাকবে। আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট এবং তারাও আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট। তারাই হল আল্লাহর দল। আর জেনে রেখো আল্লাহর দলই সত্যিকার অর্থে বিজয়ী হবে।” (সূরা মুজাদালাহ ৫৮ আয়াত ২২)

এই আয়াত থেকে বোঝা যায় যে আল্লাহ এবং তাঁর রাসুল (সাঃ) এর প্রতি শত্রুতা ও ঘৃণা পোষণকারী ব্যক্তির প্রতি ভালবাসা এবং ঈমান একসাথে অবস্থান করতে পারে না। 
যদিও সাধারন বিষয়াদিতে কুফফারদের সাথে লেনদেন এমনকি সে যদি যুদ্ধরত হয় তবেও কিছু নির্দিষ্ট অবস্থার প্রেক্ষিতে জায়েজ হয়।
অবিশ্বাসীদের প্রতি হাসা এবং তাদের সাথে নম্রভাবে কথা বলা শুধু ২টি অবস্থায় জায়েজ। 

প্রথমত, যখন তাদেরকে ইসলামের দিকে আকৃষ্ট করা লক্ষ্য হয় যেন তারা ইসলাম গ্রহন করে।

দ্বিতীয়ত, যখন ব্যক্তিগত ভাবে অবিশ্বাসীদেরকে আতিথেয়তা করা প্রয়োজন হয়ে পড়ে।

আবু দারদা (রাঃ) থেকে বর্নিত 

إِنَّالَنَكْشِرُفِيوُجُوهِأَقْوَامٍ،وَإِنَّقُلُوبَنَالَتَلْعَنُهُمْ
আমরা আমাদের মুখে হাসি মেখে নিয়েছিলাম যখন আমাদের অন্তর কিছু মানুষকে অভিশাপ দিচ্ছিল।

এবং আল্লাহই সবচেয়ে ভাল জানেন।
প্রশংসা আল্লাহর প্রাপ্য, সারা জাহানের রব।

উত্তরদাতাঃ শায়েখ আবু মুনযির আল-শানকিতি
শারীয়াহ কমিটির সদস্য
মিমবার  আত তাওহীদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *