তাওহিদের দুই রুকন!

শায়খ আসিম বিন তাহির (হাফিজাহুল্লাহ)

 

 

ডাউনলোড

প্রত্যেকের জানা উচিত যে, আল্লাহ তাআলাই প্রতিটি বস্তু ও প্রতিটি জীবের সৃষ্টিকারী ও পালনকারী পরম সত্তা। নামাজ, যাকাত বা অন্য যেকোনো ইবাদতের পূর্বে দৃঢ়তম যে বিষয়টির জ্ঞানার্জন ও প্রয়োগের জন্য আল্লাহ তাআলা আদম সন্তানদেরকে আদেশ করেছেন তা হচ্ছে আল্লাহ তা’আলার একত্ববাদে ঈমান আনয়ন করা এবং অন্য সকল ইলাহকে (অর্থাৎ তাগুতকে) প্রত্যাখান ও অবিশ্বাস করা।

Continue reading

মক্কা কি দারুল-হারব হতে পারে?

শায়খ ইমাম হামাদ বিন আতিক (রহঃ)(১)কে তার সমসাময়িককালে একজন প্রশ্ন করেছিলো 
যে,মক্কা ও এর লোকজনের ব্যাপারে ইসলামের হুকুম কী হবে?  শায়খ উত্তরে নিচের কথাগুলো বলেছিলেন(২)-

আল্লাহ্‌ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা বলেন,

قَالُوا سُبْحَانَكَ لَا عِلْمَ لَنَا إِلَّا مَا عَلَّمْتَنَا ۖ إِنَّكَ أَنتَ الْعَلِيمُ الْحَكِيمُ ﴿٣٢

তারা বলল, তুমি পবিত্র, আমরা কোন কিছুই জানি না, তবে তুমি যা আমাদেরকে শিখিয়েছ (সেগুলো ব্যতিত) নিশ্চয় তুমিই প্রকৃত জ্ঞানসম্পন্ন, হেকমতওয়ালা।(সূরা বাকারাঃ ৩২)(৩)

বর্তমানে মক্কার ব্যাপারে যে প্রশ্নটি উঠেছে সেটি হল- “মক্কা কি এখন দারুল-ইসলাম নাকি দারুল-কুফর?”

এ ব্যাপারে আল্লাহ্‌র অনুগ্রহে আমি আমার মতামতটি জানাচ্ছি।

আল্লাহ্‌ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা মানুষ সৃষ্টির পর থেকে যুগে যুগে তাদেরকে শিখানোর জন্য নবী রাসুলগণকে সত্য দ্বীন সহকারে পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন। প্রতিটি দ্বীন এর মূল ভিত্তি ছিল তাওহীদ। মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)কেও আল্লাহ্‌ তা’আলা ঐ একই তাওহীদের ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত ইসলামের দাওয়াত দেওয়ার জন্য পৃথিবীতে পাঠিয়েছিলেন। তাওহীদের মূল শিক্ষাটি হল “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” এটিকে মুখে স্বীকার করা ও কাজের মাধ্যমে বাস্তব রূপ প্রদান করা। বান্দা একমাত্র আল্লাহ্‌ ছাড়া আর কারও ইবাদত করবে না। আল্লাহ্‌ ছাড়া আর কারও কাছে দোয়া করবে না বা কিছু চাইবে না। এখানে যে ইবাদত বা দোয়া(৪) এর কথা বলা হচ্ছে তাকে ৫টি ভাগে ভাগ করা যায়-

১. খাওফ (আল্লাহ্‌ তা’আলাকে ভয় করা)

২. রাজা (আল্লাহ্‌ তা’আলার নিকট হতে আশা করা)

৩. তাওয়াককুল (আল্লাহ্‌ তা’আলার উপড় ভরসা করা)

৪. ইনাবাহ (আল্লাহ্‌ তা’আলার কাছেই তওবা করা ও তার কাছে ফিরে আসা)

৫. থাবহ (আল্লাহ্‌ তা’আলার জন্যই উৎসর্গ করা)

৬. সালাত (আল্লাহ্‌ তা’আলার কাছে দোয়া করা/ আল্লাহ্‌ তা’আলার জন্য নামাজ পরা)

ইবাদতের কয়েকটি রূপ বা প্রকারভেদ রয়েছে (৫)। তাওহীদের শিক্ষার ১ম শর্ত হল এই সকাল প্রকারের বা রুপের ইবাদত একমাত্র আল্লাহ্‌ তা’আলার জন্যই করতে হবে। কেউ যদি এই ইবাদতের মধ্যে অন্য কাউকে বা কিছুকে শরিক করে তাহলে তার ইবাদত কবুল হবে না। কেননা যে কোন ধরণের ইবাদত কবুল হওয়ার পূর্বশর্ত হল সেটি একমাত্র আল্লাহ্‌ তা’আলার জন্য হতে হবে।

দ্বিতীয় শর্ত হল, নবীজি মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর আনুগত্য করতে হবে। তার আদেশ-নিষেধগুলো মেনে চলতে হবে, ছোটবড় সকল বিষয়ে তার বিচার মেনে নিতে হবে। তিনি যে আসমানি শরিয়াহ নিয়ে এসেছিলেন তার আনুগত্য করতে হবে। দ্বীনের মৌলিক ও গৌণ সকল বিষয়ে তার আদেশ- নিষেধের আনুগত্য করতে হবে।

তাহলে দেখা যাচ্ছে যে, প্রথম শর্তের মাধ্যমে শিরককে অস্বীকার করা হচ্ছে। শিরক ও তাওহীদ একসাথে থাকতে পারে না। আর দ্বিতীয় শর্ত বিদআতকে অস্বীকার করছে। বিদআত ও নবীজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর অনুসরণ একসাথে হতে পারে না।

সুতরাং যে বা যারাই উপরের দুইটি শর্তের ব্যাপারে জ্ঞান অর্জন করবে, অর্জিত জ্ঞান অনুযায়ী আমল করবে এবং লোকজনকে দাওয়াত দিবে তারাই সঠিক পথে আছে বলে ধরা হবে। পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তের যে কোন শহরের লোকজন যদি উপরের শর্ত অনুযায়ী জ্ঞান অর্জন করে, সে অনুযায়ী আমল করে ও এই হক পথের দিকে দাওয়াত দেয় এবং যারা এই পথে চলে তাদের সাথে বন্ধুত্ব রাখে ও এই পথের বিরোধিতাকারীদের সাথে শত্রুতা পোষণ করে তবেই তারাই হবে ‘মুওয়াহ্‌হিদিন’। আর এরাই হচ্ছে সঠিক পথের অনুসারী।

আর যদি কোন শহরে ভয়াবহভাবে শিরক ছড়িয়ে পরে যেমন, আল্লাহ এর কাছে চাওয়ার বদলে তারা যদি ক্বাবা, মাকামে ইব্রাহিম, হাতিম, নবীগণ ও পুণ্যবান সালাফদের কাছে দোয়া করে বা চায় তাহলে সেখানে ইসলামী পরিবেশ কায়েম আছে এমনটা বলার আর অবকাশ নেই। যদি দেখা যায় সে শহরে প্রকাশ্য শিরক এর পাশাপাশি শিরক প্রকাশ পায় এমন কাজকর্ম বিদ্যমান যেমন, ব্যভিচার, সুদ, নানা রকমের জুলুম, সুন্নাহ কে বাদ দিয়ে ধর্মদ্রোহিতা ও বিদআতের প্রচলন বেড়ে যায় তাহলে সে শহরকে আর দারুল ইসলাম বলে গণ্য করা যাবে না।

যদি সে অঞ্চলের বিচার ব্যবস্থা আল্লাহর আইনের পরিবর্তে জালিম শাসক(৬) ও মুশরিকদের প্রতিনিধি(৭) কর্তৃক রচিত আইন দ্বারা পরিচালিত হয় এবং কুরআন- সুন্নাহ ব্যতিরেকে অন্য কোন মতবাদের দিকে লোকজনকে আহবান জানানো হয় তবে সেই অঞ্চলকে দারুল কুফর বলার পরিস্থিতি তৈরি হয়ে গেছে। আর যদি সে অঞ্চলের শাসক তাওহীদের ধারক-বাহকদের প্রতি শত্রুতা পোষণ করে এবং তাদেরকে ও তাদের দ্বীনকে পৃথিবী থেকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে চায় তবে দ্বীনের ব্যাপারে অল্পকিছু জ্ঞান থাকলেও কেউ এই অঞ্চলের দারুল কুফর বলে গণ্য হওয়ার ব্যাপারে কোন সন্দেহ প্রকাশ করবেন না। এখন এই অঞ্চল পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তেই হোক না কেন উপরোক্ত লক্ষণ প্রকাশিত হলে তাকে দারুল কুফর বলেই গণ্য করা হবে।

আর উপরোক্ত সিদ্ধান্তের ব্যাপারে আপনি যদি প্রমাণ খুজতে চান তাহলে সমগ্র কুরআনেই এর স্বপক্ষে অনেক প্রমাণ পাবেন। এছাড়া উলামাদেরও এ ব্যাপারে ঐকমত রয়েছে। আর এটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ইলম। গুরুত্বের দিক থেকেও এই ইলম এর অবস্থান উপড়ের দিকে। আর তাই প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্বকে প্রাধান্য দেওয়ার কারণে সকল উলামারাই এ ব্যাপারে জ্ঞান রাখেন।

যে এ কথা বলে থাকে যে,

“এখানে কোন একটি অঞ্চল দারুল কুফর হওয়ার জন্য যে সকল শিরকের উপস্থিতির কথা শর্ত হিসেবে বলা হয়েছে সেগুলো (মক্কার আশপাশের) বেদুইন শ্রেণীর লোকদের মধ্যে দেখা যায়। মূল শহরের (মক্কার) লোকদের মধ্যে এগুলো তেমন একটা দেখা যায় না।” তার জন্য আমার উত্তরটি হল-

প্রথমত , এই ধরণের কথা যারা বলেন তারা অহংকারবশত বা বাস্তবতার ব্যাপারে জ্ঞানের স্বল্পতার কারণে এই কথা বলে থাকেন। একথা সবাই জানে যে এই বেদুইন শ্রেণীর লোকেরা ক্বাবা, মাকামে ইব্রাহিম ও হাতিমের নিকট চাওয়া ও এর দিকে অন্যদের আহবান করা মূল শহরের বাসিন্দাদের (মক্কার বাসিন্দা) কাছ থেকেই শিখেছে। যারা তাওহীদের অনুসারী ও যাদের শোনার মতো কান আছে তারা সবাই এগুলো জানে ও শুনতে পায়।

দ্বিতীয়ত, উপরের ঘটনাটি প্রতিষ্ঠিত সত্য হওয়ার পরে এই দায় মক্কাবাসীর উপর না দিয়ে শুধুমাত্র বেদুইন শ্রেণীর বাসিন্দাদের উপর চাপিয়ে দেওয়ার কোন সুযোগ নেই। আমার কাছে খুবই অবাক লাগে যে শহরে আপনাদের তাওহীদের বহিঃপ্রকাশ করার স্বাধীনতা নেই, আপনি আপনার দ্বীনকে পূর্ণভাবে প্রকাশ করতে পারেন না, আপনাকে আপনার নামাজ আড়াল করতে হয় এইজন্য যে সেখানে এমন শাসকগোষ্ঠী বিদ্যমান যারা এই দ্বীনকে ও এই দ্বীনের অনুসারীদেরকে ঘৃণা করে ও শত্রুতা পোষণ করে তেমন ভূমিকে দারুল কুফর বলার ব্যাপারে কোন বুদ্ধিমান মানুষের কোন সংশয় থাকার প্রশ্নই আসে না।

ক্বাবা, মাকামে ইব্রাহিম বা হাতিমের কাছে সাহায্য চায় ও এর দিকে মানুষকে আহবান করে এমন কাউকে তাওহীদের অনুসারীদের (মুওয়াহহিদীন) কেউ যদি এই কথা বলে যে “হে আদম সন্তান, আল্লাহ্‌ ছাড়া আর অন্য কারও কাছে কিছু চাওয়া যাবে না ও এর দিকে মানুষকে আহবান করো না”। অথবা যদি এই কথা বলে যে, “তুমি একজন মুশরিক” তাহলে আমরা কি দেখতে পাই? তাওহীদের অনুসারীদের এই কথা গুলো কি স্বাধীনভাবে বলতে দেওয়া হয় নাকি এগুলো বলার কারণে তারা অন্যদের দ্বারা ষড়যন্ত্রের স্বীকার হয়?

তাই আসুন এ কথা স্বীকার করে নেই যে, যারা তাওহীদের অনুসারীদেরকে এভাবে বাঁধা দেয় সে নিজেকে কোনভাবেই তাওহীদের অনুসারী দাবি করতে পারে না। আল্লাহর শপথ সে তাওহীদের অর্থই বুঝে না। সে রাসুলাল্লাহ (সাঃ) এর দ্বীন প্রতিষ্ঠার কোন কাজে সাহায্যও করছে না।

এমন ঘটনা বিরল যে, শিরকে লিপ্ত একজন ব্যক্তি আরেকজন শিরকে লিপ্ত ব্যক্তিকে এই বলে দাওয়াত দেয় যে, “আপনারা দ্বীন ইসলামে ফিরে আসুন” অথবা “কবরস্থানে নির্মিত এই কাঠামো ধ্বংস করুন এবং আপনাদের জন্য আল্লাহ্‌ ব্যতীত অন্য কারও কাছে কোন কিছু চাওয়ার অনুমতি নেই “। আর একথা যদি কেও বলে তখন এই শিরকে লিপ্ত লোকজন কি তা মেনে নেয়? নাকি তাদের আচরণ তেমন হয়ে যায় যেমনটা মক্কার কুরাইশবাসী নবীজি (সাঃ) এর সাথে করেছিলো?

আল্লাহর শপথ এই সকল শিরকে লিপ্ত লোকজন তাওহীদের অনুসারীদের প্রতি কুরাইশবাসীদের মতই অত্যাচার- নির্যাতন চালায় যেমনটা চালিয়েছিল নবীজি (সাঃ) এর উপর। আল্লাহর শপথ, অনেক ক্ষেত্রে অত্যাচার ও নির্যাতনে তারা কুরাইশবাসীকেও ছাড়িয়ে যায়।(৮)

আর যদি এই অঞ্চলকে আমরা দারুল ইসলাম বলে দাবি করি তবে কেন আপনি এই সকল শিরকে লিপ্ত লোকজনকে ইসলামের দিকে ডাকছেন না? কেন তাদেরকে কবরের উপর নির্মিত স্থপতিগুলো ধ্বংসের আহবান করছেন না? কেন তাদেরকে শিরকে আকবর  ও এর অন্যান্য রূপগুলো ছেড়ে দ্বীন ইসলামে আসার আদেশ করছেন না?(৯)

আর যদি আপনি তাদের নামাজ পড়া, রোজা রাখা, হজ্জ পালন করা ও সাদাকা করা(১০) দেখে সংশয়ে পরে যান তাহলে আসুন দেখে আসি ইতিহাস এ ব্যাপারে কি বলে-

মক্কাতে ইব্রাহিম আল খলিল (আঃ) এর ছেলে ইসমাইল (আঃ) এর মাধ্যমে তাওহীদের দিকে দাওয়াত শুরু হয়েছিলো। মক্কাবাসী এই তাওহীদের উপর বেশ কিছুকাল অটল ছিলেন। এরপর আমর ইবন লুহায়(১১) এর মাধ্যমে মক্কাতে শিরকের সূচনা ঘটে। আস্তে আস্তে পুরো জাযিরাতুল আরবে এই শিরক বিস্তার লাভ করে। আমর ইবন লুহায় এর আনা মূর্তিকে পূজার মাধ্যমে মক্কাবাসী মুশরিকে পরিণত হয় যদিও তাদের মধ্যে তখনো ইব্রাহিম (আঃ) এর দ্বীনের(১২) কিছু অংশের অস্তিত্ব বিদ্যমান ছিল। তারা মূর্তিপূজার পাশাপাশি তখনো হজ্জ পালন করতো, হাজী ও হাজীদের বাইরেও অনেককে তারা সাদাকা প্রদান করতো। এছাড়াও অন্যান্য অনেক ভাল গুণ তাদের মধ্যে ছিল। আবদুল মুত্তালিবের কবিতা ইতিহাসের বইগুলোর মাধ্যমে আমাদের কাছে এসে পৌঁছেছে। আমরা দেখতে পাই সেখানে তিনি হাতিদের ঘটনা (সূরা ফীল এর ঘটনা)খুব সুন্দর ভাবে তুলে ধরেছেন। তাহলে দেখা যাচ্ছে মক্কার সে সময়কার বাসিন্দাদের মধ্যে ইব্রাহিম (আঃ) এর দ্বীনের অংশবিশেষ এবং অন্যান্য ভাল গুণাবলীর চর্চা থাকার পরও তারা মুসলিমদের কাতারে থাকতে পারেননি। শুধু শিরকের উপস্থিতি থাকার কারণে তাদেরকে মুশরিক বলে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে ও তাদের ভূমিকে ‘দারুল কুফর’ বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। বর্তমানে আমরা যে শিরক দেখতে পাই তা তখনকার শিরকের তুলনায় আরও ভয়াবহ।

আমরা যদি ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম) থেকে আরও পিছনের ইতিহাস দেখি তাহলে দেখতে পাই যে, আদম (আলাইহিস সালাম) এর পর প্রায় ১০ প্রজন্ম পর্যন্ত মানুষ দ্বীনের উপর অটল ছিল। এরপর তাদের মধ্যে কিছু ক্ষেত্রে অতিরিক্ত করার প্রবনতা দেখা গেল। তারা তাদের সময়কার বা পূর্ববর্তী পুণ্যবানদের পূজা করা শুরু করলো । আল্লাহর পাশাপাশি তারা এই সকল পুণ্যবানদের কাছে চাওয়া শুরু করলো । এভাবে আস্তে আস্তে তারা শিরকের মধ্যে ডুবে যেতে শুরু করলো । এ সময় তাদেরকে আবার তাওহীদের শিক্ষা দেওয়ার জন্য আল্লাহ্‌ তা’আলা  নুহ (আলাইহিস সালাম)কে দুনিয়াতে পাঠালেন। আমাদের জন্য কুরআনে পূর্ববর্তী নবী ও তাদের উম্মাতকে নিয়ে যে আলোচনা করা হয়েছে সেগুলো খুব ভালভাবে অধ্যয়ন করা উচিত। এই ঘটনাগুলোতে আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা রয়েছে।(১৩)

এরপর আমরা হুদ (আলাইহিস সালাম) এর জীবনীতে দেখতে পাই যে তিনি তার কওমকে একমাত্র আল্লাহ্‌ তা’আলার ইবাদত করার দিকে ডেকেছেন। এখানে একটা খেয়াল করার মতো বিষয় হল হুদ (আলাইহিস সালাম) এর কওম আল্লাহ্‌ তা’আলার ইবাদত করার কথা অস্বীকার করতো না। তারা আল্লাহ্‌ তা’আলার পাশাপাশি অন্যান্যদেরও ইবাদত করতো। কিন্তু তাওহীদের মূলভিত্তি হল এক আল্লাহ্‌ তা’আলা ব্যতীত আর কারও ইবাদত করা যাবে না। তাই হুদ (আলাইহিস সালাম) তাদেরকে অন্য সকল ইলাহ বাদ দিয়ে ইবাদতের সকল ক্ষেত্রে এক আল্লাহ্‌ সুবহানাহু ওয়া তা’আলার ইবাদত করার আহবান জানান। ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম) এর ক্ষেত্রেও একই ঘটনা। তার কওম আল্লাহকেই ইবাদত করতো কিন্তু পাশাপাশি অন্যদের ইবাদতের যোগ্য মনে করতো। ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম) তাদেরকে এককভাবে আল্লাহ্‌ তা’আলার দিকে আহবান জানিয়েছিলেন।

উপরের কথাগুলোর সারসংক্ষেপ হলঃ যদি কোন অঞ্চলে আল্লাহ্‌ সুবহানাহু ওয়া তা’আলার পাশাপাশি অন্য কারও ইবাদত করা হয় সেটা ইবাদতের যে কোন স্বরূপেই হোক না কেন, এই শিরকের ব্যাপারটি যদি সবার নিকট স্পষ্ট হয়ে যায় এবং লোকজন এই শিরকের দিকেই মানুষকে আহবান করে, প্রয়োজনে এই শিরককে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য যুদ্ধ করে তবে সেই অঞ্চল দারুল ইসলাম থাকার যোগ্যতা হারাবে। আর যদি পরিস্থিতি এমন দাড়ায় যে শিরকে লিপ্ত এই সকল ব্যক্তিরা তাওহীদের অনুসারীদের প্রতি শত্রুতা পোষণ করে এবং তাওহীদের দিকে ফিরে আসার আহবানকে প্রত্যাখ্যান করে তবে সেই অঞ্চলকে আর কিভাবে দারুল ইসলাম বলা যাবে? আর যদি এমন হয় এই শিরকে লিপ্ত লোকজন তাওহীদের অনুসারীদের সাথে সম্পর্ক ছেদ করে, তাদেরকে অভিশাপ দেয়, তাদেরকে খাওয়ারিয বলে আখ্যায়িত করে এবং বলে যে তাওহীদের অনুসরণকারীরা ভুল দ্বীনের উপর আছে তবে সে অঞ্চল কি আর দারুল ইসলাম থাকবে? আর যদি এই সকল গুণাবলি একটা অঞ্চলের জামায়াতের মধ্যে পাওয়া যায় যদিও আসলি কুফফারদের সাথে তারা বন্ধুত্ব করে না তবুও এই অঞ্চলকে দারুল কুফর ছাড়া আর কি বলা যায়?

আর এটাই হল উপরোক্ত প্রশ্নের পরিপ্রেক্ষিতে মাসআলা।

এরপরের কথা হল,

কুরআন ও সুন্নাহ থেকে আমরা যে দলিল পাই তাতে স্পষ্ট প্রমাণিত যে যদি কোন মুসলিম এককভাবে বা জামায়াতগতভাবে শিরকে লিপ্ত কোন ব্যক্তি বা জামায়াতের কাছে আনুগত্যের ও সাহায্যের ঘোষণা দেয় তাহলে সেই মুসলিম ব্যক্তি বা জামায়াতের উপর রিদ্দার (ইসলাম থেকে বের হয়ে যাওয়া) হুকুম জারি হবে।

এ বিষয়ে আল্লাহ্‌ তা’আলা বলেছেন,

নিশ্চয় যারা সোজা পথ ব্যক্ত হওয়ার পর তৎপ্রতি পৃষ্ঠপ্রদর্শন করে, শয়তান তাদের জন্যে তাদের কাজকে সুন্দর করে দেখায় এবং তাদেরকে মিথ্যা আশা দেয়।

(সূরা মুহাম্মাদ: ২৫)(১৪)

আল্লাহ্‌ তা’আলা আরও বলেছেন,

হে মুমিনগণ, তোমরা ইহুদি ও খ্রিস্টানদেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করো না। তারা একে অপরের বন্ধু। তোমাদের মধ্যে যে তাদের সাথে বন্ধুত্ব করবে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ্‌ জালেমদেরকে পথ প্রদর্শন করেন না। (সূরা মাইদাহঃ ৫১)(১৫)

এই বিষয়ে আল্লাহ্‌ তা’আলার নির্দেশগুলো খুব ভাল করে খেয়াল করুন,

“আর কোরআনের মাধ্যমে তোমাদের প্রতি এই হুকুম জারি করে দিয়েছেন যে, যখন আল্লাহ্‌ তা’আলার আয়াতসমুহের প্রতি অস্বীকৃতি জ্ঞাপন ও বিদ্রুপ হতে শুনবে, তখন তোমরা তাদের সাথে বসবে না, যতক্ষণ না তারা প্রসঙ্গান্তরে চলে যায়। তা না হলে তোমরাও তাদেরই মতো হয়ে যাবে। আল্লাহ্‌ দোযখের মাঝে মুনাফিক ও কাফেরদেরকে একই জায়গায় সমবেত করবেন”। (সূরা আন-নিসাঃ ১৪০)(১৬)

আল্লাহ্‌ সূরা আত-তাওবাতে কি বলেছেন দেখুন,

“ছলনা করো না, তোমরা যে কাফের হয়ে গেছ ঈমান প্রকাশ করার পর। তোমাদের মধ্যে কোন কোন লোককে যদি আমি ক্ষমা করে দেইও, তবে অবশ্য কিছু লোককে আজাবও দিব। কারণ, তারা ছিল গুনাহগার”। (সূরা আত-তাওবাঃ ৬৬)(১৭)

আল্লাহ তা’আলা আরও বলেন,

তারা কসম খায় যে, আমরা বলিনি, অথচ নিঃসন্দেহে তারা বলেছে কুফরি বাক্য এবং মুসলমান হবার পর অস্বীকৃতি জ্ঞাপনকারী হয়েছে। (সূরা আত-তাওবাঃ ৭৪)(১৮)

এবং আল্লাহ্‌ সুব হানাহু ওয়া তা’আলা বলেন,

“তাছাড়া তোমাদেরকে একথা বলাও সম্ভব নয় যে, তোমরা ফেরেশতা ও নবীগণকে নিজেদের পালনকর্তা সাব্যস্ত করে নাও। তোমাদের মুসলমান হবার পর তারা কি তোমাদেরকে কুফরি শেখাবে”? (সূরা আল-ইমরানঃ ৮০)(১৯)

তাওহীদের অনুসারীদের প্রতি কাফিরদের আচরণের ব্যাপারে আল্লাহ্‌ সুব হানাহু ওয়া তা’আলা কি বলছেন দেখুন,

“যখন তাদের কাছে আমার সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ আবৃত্তি করা হয়, তখন তুমি কাফেরদের চোখে মুখে অসন্তোষের লক্ষণ প্রত্যক্ষ করতে পারবে। যারা তাদের কাছে আমার আয়াত সমূহ পাঠ করে, তারা তাদের প্রতি মারমুখো হয়ে উঠে। বলুন, আমি কি তোমাদেরকে তদপেক্ষা মন্দ কিছুর সংবাদ দেব? তা আগুন; আল্লাহ্‌ কাফেরদেরকে এর ওয়াদা দিয়েছেন। এটা কতই না নিকৃষ্ট প্রত্যাবর্তনস্থল”। (সূরা আল-হাজ্জঃ ৭২)(২০)

এবং আপনি ইতিমধ্যেই এই সকল শিরকে লিপ্ত লোকজন তাওহীদের অনুসারীদের সাথে কি ধরণের আচরণ করছে তা দেখেছেন।

ইমাম হামাদ ইবনে আতিক (রহঃ) এর বক্তব্য এখানেই শেষ হল।

——————————-

১. তার নাম আল-আল্লামাহ হামাদ ইবন আলি ইবন আতিক। তিনি নজদের(ইরাকের) উলামাদের অন্যতম একজন। তিনি আয-যুলাফি এলাকায় ১২২৭ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন । তিনি আব্দুর রাহমান ইবন হাসান আল আশ-শায়েখ কতৃক কয়েকটি শহরে বিচারক হিসেবে নিযুক্ত হয়েছিলেন। তার অনেক উপকারী লেখা রয়েছে। এগুলোর মধ্যে ইবতাল আত-তানদিব, শরহে কিতাব আল তাওহীদ ও সাবিল আল নাজাত ওয়াল ফিকাক উল্লেখযোগ্য। তার ছাত্রদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকজন হল তার ছেলে সাদ, ইমাম আবদুল্লাহ ইবন আবদুল লতিফ, শায়েখ সুলাইমান ইবন সাহমান এবং শায়েখ হাসান ইবন আবদুল্লাহ ইবন হাসান । ইমাম হামাদ ১৩০১ হিজরিতে আল-আফলাজে মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তিনি ১০জন ছেলে সন্তান রেখে যান।যাদের অনেকেই পরবর্তীতে বিভিন্ন এলাকার বিচারক নিযুক্ত হয়েছিলেন। [ তথ্য সুত্রঃ “নজদের উলামাগন” (১/২২৮) এবং “মাশাহির উলামা নাজদ”(২৪৪)]

২. এই নিবন্ধের প্রধান অংশটুকু ইমাম হামাদ ইবনে আতিকের “মাজমু আর-রিসালাহ ওয়াল-মাসায়েল আন-নাজদিয়্যাহ” (১/৭৪২-৭৪৬) বই থেকে নেওয়া হয়েছে।

৩. সূরা আল-বাকারাঃ ৩২

৪. এখানে এ বিষয়ে দুইটি হাদিসের কথা আলোচনায় আসে। “দোয়া হচ্ছে ইবাদতের মূল অংশ” এই হাদিসটি তিরমিজি থেকে বর্ণিত (৩৩৭১)। এই হাদিসটি আল আলবানি তার “যইফ সুনান আত-তিরমিজি” (৩৬১১)তে ‘যইফ’ বলেছেন। এব্যাপারে আরেকটি হাদিস আছে যা বেশ শক্তিশালী। এটিও তিরমিজি থেকে বর্ণিত। হাদিসটি হলঃ” দোয়াই হচ্ছে ইবাদত”। এটিকে আল আল বানী তার “সুনান আত-তিরমিজি”তে সহিহ বলেছেন(২৩৭০) ।

৫. তাহাকুম বলতে এখানে বান্দা তার জীবনের সকল ধরণের বিচারের ক্ষেত্রে তার রবের আনুগত্য করবে সে বিষয়টি বুঝানো হচ্ছে। এ বিষয়ে আবদুল আযিয ইবন বায (রহঃ) বলেন,” বান্দা ততক্ষণ পর্যন্ত পরিপূর্ণ আবেদ হতে পারবে না যতক্ষণ পর্যন্ত সে নিজেকে পরিপূর্ণভাবে তার রবের নিকট আত্মসমর্পণ করবে। বান্দা যদি তার জীবনের কিছু ক্ষেত্রে তার রবকে মানে আর কিছু ক্ষেত্রে রবের সৃষ্ট কোন মাখলুকাতের আনুগত্য করে তবে সে কখনোই পরিপূর্ণ আবেদ হতে পারবে না। যখন কোন বান্দা পরিপূর্ণ ভাবে নিজেকে তার রবের নিকট সমর্পণ করবে, তাকে মেনে চলবে, এবং বিচারের জন্য তার কুরআন-সুন্নাহের অনুসরণ করবে তখনই সে পরিপূর্ণভাবে আবেদ হওয়ার পথে এগিয়ে যাবে।  আর যে বা যারা আল্লাহ্‌ ছাড়া অন্য কারও কাছে আত্মসমর্পণ করবে , আল্লাহর আইন বাদ দিয়ে মানুষের আইন দ্বারা বিচার চাইবে বা বিচারকার্য পরিচালনা করবে তখন সে আর আল্লাহর উপসনাকারী বলে বিবেচিত হবে না। সে হবে তখন তাগুতের উপসনাকারী। ‘লা ইলাহা ইল্ললাহ’ বলে ঈমান আনার একটা শর্ত হলে উবুদিয়্যাহ (আল্লাহ্‌ একমাত্র ইবাদত পাওয়ার যোগ্য ও তারই ইবাদত করতে হবে) মেনে নিতে হবে। তাওহীদ আল-উবুদিয়্যাহ মানার শর্ত হল বান্দাকে তাগুত ও তাগুতি বিচারব্যবস্থা বর্জন করতে হবে।

তাই হে মুসলমান ভাইয়েরা, উপড়ের তথ্য থেকে এই কথা একদম স্পষ্ট যে আল্লাহর আইন ছাড়া আর অন্য কারও    আইন মানা যাবে না এবং বিচার চাওয়া ও বিচার করা একমাত্র আল্লাহর আইন অনুসারে হতে হবে। আর এটা আল্লাহ্‌ সুবহানাহু ওয়া তা’আলার ইবাদতের একটি শর্ত। এই শর্ত না মানলে বান্দা পরিপূর্ণ ভাবে আল্লাহর ইবাদত করছে এ কথা বলা যাবে না। “ [ তথ্যটি শায়েখ ইবন বাযের “মাজমু ফতওয়া ইবন বায” (১/৭৭-৮৪) বই থেকে নেওয়া হয়েছে] এই প্রসঙ্গে কুরআনের অবস্থান দেখুন –

আল্লাহ্‌ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা বলেন,

আপনি কি তাদেরকে দেখেননি, তারা দাবি করে যে, যা আপনার প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে আমরা সে বিষয়ের উপর ঈমান এনেছি এবং আপনার পূর্বে যা অবতীর্ণ হয়েছে। তারা বিরোধীয় বিষয়কে শয়তানের দিকে নিয়ে যেতে চায়, অথচ তাদের প্রতি নির্দেশ হয়েছে, যাতে তারা ওকে মান্য না করে। পক্ষান্তরে শয়তান তাদেরকে প্রতারিত করে পথভ্রষ্ট করে ফেলতে চায়। (সূরা আন-নিসাঃ ৬০)

৬. এখানে তাহাকুম বলতে সে সকল তাগুত শাসকদের কথা বলা হচ্ছে যারা আল্লাহ্‌ তা’আলার পাশাপাশি অন্যান্যদের আনুগত্য করে। এই জালিমরা ইসলাম ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে।

৭. এরা হচ্ছে ঐ সকল ব্যক্তি যারা অন্তরে কুফুরি ও জায়নবাদের ধারক বাহক। এদেরকে কূটনীতিক, পরামর্শদাতা এরকম তকমা দিয়ে মুসলিম দেশের শাসকেরা তাদের রাষ্ট্র ব্যবস্থার অংশ করে নিয়েছে। এই জালিম শাসকেরা ক্রুসেডারদেরকে  ‘অতিথি’ হিসেবে নবীজি (সাঃ) এর জাজিরাতুল আরবে আসার সুযোগ করে দিচ্ছে।

৮. আপনি নিশ্চয়ই দেখেছেন যে, তাওহীদের অনুসারীদের সাথে তাদের এক আল্লাহর দিকে দাওয়াতের বিনিময়ে কি আচরণ করা হয়। কেউ যদি বলে যে “তাগুতকে অস্বীকার করো ও এক আল্লাহর উপাসনা কর” অথবা “কুরআন-সুন্নাহ বিরোধী কোন আইন প্রণয়ন করো না” বা “বর্তমানে মুসলিমদের বিরুদ্ধে চালানো যুদ্ধে জায়নবাদী ইহুদি ও ক্রুসেডারদের সাহায্য করো না” বা “অমুসলিম কাফিরদেরকে ‘জাজিরাতুল আরব’ থেকে বের করে দাও” ইত্যাদি বললে তার সাথে কি আচরণ করা হয়? যদি মক্কা বা তার আশে পাশের কেউ এধরণের কথা বলে তাহলে শাসকগোষ্ঠী তার সাথে কি ধরণের আচরণ করে? শাসকগোষ্ঠীকে আপনি কি তাওহীদের বানী প্রচারক এই ব্যক্তির প্রতি নমনীয় দেখতে পান? কখনোই না। বরঞ্চ আমরা দেখতে পাই যে শাসকগোষ্ঠী ঐ লোকের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। এরপর তাকে বন্দী করে তার উপর অবর্ণনীয় নির্যাতন চালানো হয়। অবশেষে তাকে হত্যা করা হয় অথবা কুফফার ক্রুসেডারদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

৯. একইভাবে আপনি যদি কোন ভূমিকে দারুল-ইসলাম মনে করেন তাহলে কেন সেখানে আল্লাহ্‌র আইন বাস্তবায়ন করার কথা বলছেন না? কেন লোকজনকে পার্লামেন্টগুলোকে ধ্বংস করে দেওয়ার কথা বলছেন না? কেন শাসকদের কুফফারদের বিভিন্ন কাজে সহযোগিতা করা ও তার প্রতি আনুগত্য প্রকাশে নিষেধ করছেন না? আল্লাহর একত্ববাদের প্রতিষ্ঠা ও দাওয়াতের কাজে কেন তাদেরকে জিহাদে ঝাঁপিয়ে পরার আদেশ দিচ্ছেন না?

১০. এই অংশটুকু ভালভাবে বুঝার জন্য শায়খুল ইসলাম মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল ওয়াহহাব (রহঃ) এর “কাশফ আশ-শুবুহাত”  বইটি দেখতে পারেন।

১১. ইব্রাহিম (আঃ) মারা যাওয়ার পর আরবে ইনিই প্রথম শিরকের প্রচলন করেন। ইবন ইসহাক বলেন-“ আমর ইবন লুহাই প্রথম ব্যক্তি যে ইব্রাহিম (আঃ) এর দ্বীনে পরিবর্তন এনেছিল এবং মূর্তি নির্মাণ করেছিলো”।

১২. তারা এই শিরকে লিপ্ত থাকা অবস্থাতেও ইব্রাহিম (আঃ) এর দ্বীনের কিছু অংশ মেনে চলতো। যেমন তারা হজ্জ পালন করা, রোজা রাখা, সাদাকা করা এই ইবাদতগুলো তখনও করতো। এই তথ্য ও ব্যাখ্যা কাশফ আশ-শুবুহাত এর ব্যাখ্যা থেকে নেওয়া হয়েছে।

১৩. কাশফ আশ-শুবুহাত  এর ব্যাখ্যা থেকে নেওয়া হয়েছে।

১৪. সূরা মুহাম্মাদঃ ২৫

১৫. সূরা আল-মাইদাহঃ ৫১। আল-আল্লামাহ ইবন হাযম এই আয়াতের ব্যাপারে বলেন-“ এই আয়াতের শাব্দিক অর্থকেই গ্রহণ করতে হবে। মুসলিমদের কেউ আসলি কাফেরদের সাথে বন্ধুত্ব করলে সেও তাদের মধ্যে থেকে একজন বলে গণ্য হবে। এটা এমন পরিষ্কার একটা বিষয় যে এ ব্যাপারে কোন মুসলিমই দ্বিমত পোষণ করবে না। [আল-মুহাল্লাহ (১১/১৩৮)]

১৬.  সূরা আন-নিসাঃ ১৪০

১৭.  সূরা আত-তাওবাঃ ৬৬

১৮. সূরা আত-তাওবাঃ ৭৪

১৯. সূরা আল-ইমরানঃ ৮০

২০. সূরা আল-হাজ্জঃ ৭২

তাকফীরের ব্যাপারে কিছু প্রাথমিক দিকনির্দেশনা

প্রশ্নঃ শায়খ! আল্লাহ্‌ আপনার উপর রহম করুন। সম্প্রতি আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, কিছু তালিবুল ইলম ও সাধারণ মানুষের মাধ্যমে তাকফির আল মু’আইয়্যান (ব্যক্তি বিশেষকে কাফির বলে ঘোষণা করা) ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। এই তালিকায় এমন লোকও আছেন, যারা দ্বীনের উপর অটল থাকার ক্ষেত্রে হয়তো খুবই দুর্বল অথচ তাকফির করার ক্ষেত্রে অগ্রগামী ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন। এ ব্যাপারে আপনার মতামত কী?

উত্তরঃ তাকফির করা ও এটা নিয়ে গবেষণা করা নিঃসন্দেহে অনেক বড় ও সাহসিকতার কাজ । এটি ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তবে আমি আপনাকে এ বিষয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ  মূলনীতি বলে দিচ্ছি-

১ম মূলনীতিঃ একটি বিষয় খেয়াল রাখতে হবে যে তাকফির বিষয়ে যারা পড়ালেখা ও গবেষণা করেন, তারা সাধারণ কোন মানুষ নন। দ্বীনের বিষয়ে যাদের সূক্ষ্ম জ্ঞান রয়েছে এবং ইসলামী ফিকহে যারা পর্যাপ্ত জ্ঞান রাখেন, তারাই সাধারণত তাকফির নিয়ে কাজ করে থাকেন। বিষয়টি পরিষ্কার হয়েছে কি?

২য় মূলনীতিঃ একজন ব্যক্তি ইয়াক্বীনের সাথে ইসলামে প্রবেশ করে থাকে এবং ইয়াক্বীনের সাথেই সে ইসলাম থেকে বেরিয়ে যেতে পারে।

৩য় মূলনীতিঃ যে সকল কারণে একজন ব্যক্তি ইসলাম থেকে বের হয়ে যায়, সেগুলো একটি অপরটি থেকে আলাদা। কিছু কিছু ঈমানভঙ্গকারী বিষয় কেবল আলেম-উলামারাই অনুধাবন করতে পারেন। কারণ এই বিষয়গুলো শুধু আলেম-উলামারাই ভালো বুঝেন। অন্যদিকে কিছু ঈমানভঙ্গকারী বিষয় রয়েছে যেগুলো সুস্পষ্ট, যেমনঃ শিরক, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ﷺ -কে অপবাদ দেওয়া। উম্মতের অধিকাংশই এই ঈমানভঙ্গকারী বিষয়গুলো সম্পর্কে জানেন। আর কিছু ঈমানভঙ্গকারী বিষয় রয়েছে, যেগুলো উম্মাহ সাধারণভাবে জানেই না। যাইহোক, প্রত্যেকের উচিত এই ব্যাপারে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা।

যখন কোন ব্যক্তি  ‘তাকফির’-এর মূলনীতি ও ফিকহী জ্ঞান ছাড়া এই ব্যাপারে কাজ করা শুরু করে, এই বিষয় নিয়ে ব্যস্ত  হয়ে পড়ে, তখন সে অবশ্যই গুনাহের মধ্যে জড়িয়ে পড়ে। পর্যাপ্ত জ্ঞান ছাড়া এ বিষয়ে কোন কথা বলা যাবে না। পর্যাপ্ত প্রয়োজনীয় জ্ঞান এবং কুরআন, সুন্নাহ ও ইজমা থেকে বিশুদ্ধ প্রমাণ থাকার পরেই এ বিষয়ে কথা বলা যাবে।

আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন-

عن عبد الله بن عمر رضي الله عنهما أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال أيما رجل قال لأخيه يا كافر فقد باء بها أحدهما

“কেউ যদি তার ভাইকে “হে কাফির” বলে সম্বোধন করে, অথচ সে কাফির নয়; তাহলে তা ব্যক্তির (তাকফিরকারীর) দিকে ফিরে আসবে।”(বুখারী-৫৭৫৩, মুসলিম-৬০, তিরমিজী-২৬৩৭, আবু দাউদ-৪৬৮৭)

যদি আপনি কাউকে তাকফির করেন অর্থাৎ কাফির বলেন, অথচ সে কাফির নয়, তবে তাকফির আপনার উপর ফিরে আসবে। এই কারণেই তাকফিরের ব্যাপারে সতর্ক হওয়া খুব জরুরী।

অনেকেই হয়তো ইসলামী ইলমের জগতে কেবল যাত্রা শুরু করেছেন অথবা কিছু না জেনেই বা অল্প জেনে তাকফিরের ব্যাপারগুলো নিয়ে মাথা ঘামানো শুরু করেন। কোন কোন ব্যক্তিকে দেখা যায় তাকফির করতে গিয়ে অন্যান্য আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে এড়িয়ে যাচ্ছেন। এই লোকদের মধ্যে এমন মানুষও দেখা যায় যারা অজু বা নামাজের নিয়মগুলোই ঠিকভাবে জানেন না। তাদেরকে যদি আপনি তালাক বিষয়ে কোন মাসআলা জিজ্ঞাসা করেন, দেখা যাবে তিনি তা জানেন না। দ্বীনের ভিত্তিগুলো যেমন-নামাজ, অজু, তালাক এসকল বিষয়ের চাইতেও তাকফির আরও বড় ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, (কেননা তাকফিরের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত জ্ঞান ছাড়া ভুল তাকফির করলে তা ব্যক্তির নিজের উপর আপতিত হয়) অথচ এই ব্যক্তিরা এগুলোকে সমমানের মনে করে। (যেহেতু নামাজ ফরজ তাই এর সাথে সম্পর্কযুক্ত অন্যান্য বিষয়াবলী গুরুত্তের দিক থেকে এগিয়ে থাকবে। আর তাকফিরকে নামাজ,অজু ও তালাকের চাইতে গুরুত্বপূর্ণ বলা হচ্ছে এর জ্ঞানগত দিক বিবেচনা করে। কারণ তাকফিরের ব্যপারে আলোচনার ক্ষেত্রে তুলনামূলক বেশি ও সূক্ষ্ম জ্ঞান এর প্রয়োজন হয়।) যদি আমরা তাকে জিজ্ঞাসা করি যে , ‘একজন লোক তার স্ত্রীকে তিনবার তালাক দিলে সে ক্ষেত্রে ইসলামের বিধান কী হবে?’ দেখা যাবে, সে হয়তো উত্তর জানে না। যদি সে তালাকের মত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের মাসআলা না জানে, কীভাবে সে তাকফিরের মাসআলাগুলো জানে বলে আশা করা যায়। অথচ, তাকফির এগুলোর চাইতেও বড় ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

(উত্তর দিয়েছেন শায়খ সুলাইমান আল উলওয়ান হাফিযাহুল্লাহ)

এরদোগান – ইসলাম নাকি ধর্মনিরপেক্ষতা?

আমি জানি, আমার এই গবেষণাটি এমন সময় সামনে এসেছে, যখন মানুষের মাঝে বিচিত্রসব ধ্যান-ধারণা ছড়িয়ে আছে। কেউ ঈমান-কুফরের সাথে সম্পর্কিত ফিকহের বিধি-বিধানের গণ্ডিতে আবদ্ধ থাকে। আর কেউ কেউ শরীয়তের লাগাম থেকে মুক্ত হয়ে নিজ প্রয়োজন ও প্রবৃত্তি অনুসারে বিচার করে। আবার পরাজিত মানষিকতা ও হীনমন্যতা অনেককে সুনির্দিষ্ট বিশেষ কোন মতামত গ্রহণ করতে বাধ্য ও প্ররোচিত করে। যেমন ডুবন্ত মানুষ ভেসে যাওয়া খড়কুটো আকড়ে ধরে।

Continue reading

দ্বীনের মৌলিক ভিত্তির ব্যাপারে অজ্ঞতার ওজর?

আসলুদ্দীনের ক্ষেত্রে উজর বিল-জাহল

শাইখ আবদুল আযীয আত-তুয়াইলী

সমস্ত প্রশংসা মহান আল্লাহ তা’আলার জন্য এবং অসংখ্য দুরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর প্রেরিত রাসূল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপর।

প্রকৃতপক্ষে, দ্বীনের মৌলিক বিষয়সমূহের মাঝে ‘আল উযর বিল জাহল’ অর্থাৎ ‘অজ্ঞতার অজুহাত’ বিষয়ে মতবিরোধ এবং ভুলত্রুটি ক্রমেই বেড়ে চলেছে। এবং তাদের মাঝে এমন অনেক লোক আছে যারা মনে করে, কোন অজ্ঞ (দ্বীন সম্পর্কে) ব্যক্তি যদি বড় কোন শিরক (শিরকে আকবর) করে তাহলে তার ওজর গ্রহণ করা হবে শুধুমাত্র এই কারনে যে সে নিজেকে ইসলামের সাথে সম্পর্কিত করে এবং দাবি করে সে মুসলমানদের একজন। যদিও সে আল্লাহ ব্যতিত অন্য কোন উপাস্যের ইবাদত করে, তার কাছে প্রার্থনা করে, তার নামে কুরবানি করে এবং জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত এগুলো করে আসছে; তবুও তাকে মুসলমান সাব্যস্ত করা হবে যদি সে মুখ দিয়ে দাবি করে যে “আমি একজন মুসলমান”।

Continue reading

শাসকদের ব্যাপারে সাবধান – সুফিয়ান সাওরী রহ. এর উপদেশমালা ও শিক্ষা

সুফিয়ান সাওরী[ii] রহ. আব্বাদ ইবন আব্বাদ আল খাওয়াস আল-আরসুফি[iii] কে একটি চিঠিতে বলেছিলেন-

“তুমি এমন এক সময়ে বসবাস করছ যে সময়ে বসবাস করা থেকে নবীজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সাহাবাগণ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) পানাহ চাইতেন। অবশ্যই দ্বীন এর যেকোনো ব্যাপারে তারা আমাদের চাইতে ভাল বুঝতেন। দ্বীন এর ব্যাপারে অন্যান্যদের মতামতের চাইতে তাদের মতামত আমাদের কাছে অগ্রগণ্য। ভাববার বিষয় হল সাহাবাগণ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) যে সময়টাকে অপছন্দ করতেন সে সময়ে আমরা যারা অবস্থান করছি তাদের কী অবস্থা? যেখানে আমাদের সাহাবাদের (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তুলনায় জ্ঞান কম, ধৈর্য কম, ভাল কাজে সাহায্যকারী কম, মানুষের মধ্যে মহামারীর মত দুর্নীতির বিস্তার সর্বোপরি একটি ভয়াবহ দূষণযুক্ত পৃথিবীতে আমাদের বসবাস করতে হচ্ছে। তোমার প্রতি নসীহা হচ্ছে দ্বীনের সঠিক ও মূল রাস্তাটি খুঁজে নাও এবং একে আঁকড়ে ধরে রাখ।[iv]

Continue reading

তালিবান আন্দোলনের প্রত্যক্ষদর্শী ১

মঙ্গলবার ২৪/০৯/২০০২

এটি শাইখ গুলামুল্লাহ রহমতীর সাথে একটি সাক্ষাৎকারের সারসংক্ষেপ। শাইখ গুলামুল্লাহ ছিলে শাইখ জামীলুর রাহমান[1]-এর (রহ.) ডেপুটি। সাক্ষাৎকারটি প্রথম আরবি আল-বায়ান ম্যাগাজিনে ১৭০ নং সংখ্যায় ২২শে শাওয়াল ১৪২২ (জানুয়ারী-২০০২) প্রকাশিত হয়েছিলো।

Continue reading

একটি সংশয়ঃ অজ্ঞতা ও বাধ্যবাধকতার অজুহাত দেখিয়ে তাগুতকে অব্যাহতি দেয়া

প্রশ্নঃ

ক) যখন কোন মানুষের উপর হুজ্জাত ক্বায়েম করা হয় এবং তার মাঝে যদি তাকফীর এর প্রতিবন্ধকগুলোর মধ্য থেকে কোনটি তাঁর মাঝে পাওয়া না যায় তবে তাকে তাকফীর করা যাবে

খ) শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া’র (রহ.) জাহমিয়া সম্প্রদায়ের উপর হুজ্জাত প্রতিষ্ঠা করেছিলেন কিন্তু তাদের নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের তাকফির করেননি

এই দুই অবস্থানের মধ্যকার বিরোধ কিভাবে নিরসন করা হবে?

এমনিভাবে মু’তাযিলা সম্প্রদায় এর ব্যাপারে ইমাম আহমাদ রহ. এর অবস্থান। তাদের উপর হুজ্জাত প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, তাদেরকে পরাজিত করেছিলেন। আর তারা (মুতাযিলারা) তো ভাষা ও দ্বীন সম্পর্কে আলিমদের জামাত ছিলো (কিন্তু তিনি তাদের নির্দিষ্ট করে তাকফির – তাফফির মুয়াইয়্যিন – করেননি)।

Continue reading

মুয়ালাত এবং তাওয়াল্লির মধ্যে সীমানা বিভাজক

[এই পর্বটি মূলত শাইখ আলি আল-খুদাইর (فك الله أسره) –এর প্রশ্নোত্তর- ‘আল-হাদ্দুল ফাসিল বায়ানুল মুয়ালাত ওয়াত-তাওয়াল্লিলুল কুফফার’ –থেকে সংগৃহীত। আর শেষে শাইখ নাসির আল ফাহাদ (فك الله أسره) –এর ‘আত-তিবইয়ান’ এবং সংশ্লিষ্ট কিছু বিষয় যোগ করা হয়েছে।]

 

সম্মানিত শাইখ আলি ইবনু খুদাইর আল-খুদাইর (فك الله أسره)  -কে প্রশ্ন করা হয়েছিল:

“মুয়ালাত এবং তাওয়াল্লির মধ্যবর্তী সীমানা কোনটি? আর উভয়ের মাঝে পার্থক্য কীভাবে বুঝব?”

 

উত্তরে সম্মানিত শাইখ বলেন: “কুফফারদের সাথে তাওয়াল্লি করা হচ্ছে বড় কুফর (তথা কুফরে আকবার)[1], এবং এর মধ্যে কোনো তাফসিল নেই। আর এটি চার প্রকারের:

Continue reading

শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া রহ. এর বক্তব্য থেকে সৃষ্ট মুরজিআদের সংশয়ের নিরসন

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি জগতসমূহের প্রতিপালক। আম্মাবাদ…

শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া রহ. এর একটি বক্তব্য বর্ণিত হয়েছে, যার বিবরণ নিম্নরূপ:

“যে সমস্ত প্রকাশ্য কাজ কুফর হয়- যেমন প্রতিমাকে সিজদাহ করা, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে গালি দেওয়া বা এজাতীয় কাজগুলো- (এগুলোর কুফর হবার কারণ হল) তার কারণ হল, তার মধ্যে অনিবার্যভাবে আভ্যন্তরীণ কুফরও বিদ্যমান থাকে। অন্যথায় যদি ধরে নেওয়া হয় যে, সে মূর্তির সামনে সিজদাহ করেছে, কিন্তু মনে মনে তাকে সিজদাহ করার ইচ্ছা করেনি, বরং মনে মনে আল্লাহকেই সিজদাহ করার ইচ্ছা করেছে, তাহলে এটা কুফর হবে না। Continue reading

তাগুতের কুফর সম্পর্কে সন্দেহ ও সংশয়?

তাগুতদের মধ্যে যারা নিজেদেরকে মুসলিম বলে পরিচয় দিয়ে থাকে তাদের কুফরের ব্যাপারে অনেকের অধ্যে সন্দেহ ও সংশয় কাজ করে। এ কারনেই তাগুতদের অবস্থা সাধারণ জনগোষ্ঠীর কাছে অস্পষ্ট হয়ে পড়েছে। বিশেষত এ কারনে যে, তারা ইসলামের বহু বিষয় যেমন: হজ্জ , সালাত, মসজিদ নির্মাণ, কুরআন তিলাওয়াত, সাদাকাহ বিতরণ ইত্যাদি বিষয়গুলো আদায় করে থাকে।

 

যারা তাদের কাফের ঘোষণা করে না তারা তিন শ্রেণীর হয়ে থাকে :

Continue reading

জাযিরাতুল আরবে ইহুদি খ্রিস্টানদের অবস্থানের ব্যাপারে বিধান

পবিত্র আল-কুদসের জনৈক অধিবাসীর পক্ষ থেকে আমাদের নিকট একটি প্রশ্ন এসেছে। প্রশ্নটির বিবরণ এই:

ফাযীলাতুশ শায়খ হামুদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উকালা আশ-শুআইবী (হাফিজাহুল্লাহ)

জাযীরাতুল আরবে ইহুদী, নাসারা ও মুশরিকদের বসবাসের বিধান কী? তাদের কর্তৃক জমি ও ঘর-বাড়ির মালিক হওয়ার বিধান কী? উল্লেখিত ভূমিতে তাদের জমির মালিক হওয়া ও বসবসা করা কি পরিণামে দখলদারিত্ব হওয়ার আশঙ্কা থাকে না? যেমনটা ফিলিস্তীনে হয়েছে।

আমাদেরকে সিদ্ধান্ত দিন! আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন!

Continue reading

মুরজিয়া ও কুফর

শায়খ সুলাইমান আল-উলওয়ান

আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ এ ব্যপারে একমত যে কুফর হতে পারে কথার মাধ্যমে, যেমন দ্বীনের কোন বিষয়কে স্পষ্ট উপহাস (ইস্তিহযা) করা। এবং কুফর হতে পারে কোন কর্মের মাধ্যমে, যেমন কোন মূর্তি অথবা চন্দ্র-সূর্য ইত্যাদির জন্য সিজদায় অবনত হওয়া, অথবা আল্লাহ ব্যতিত অন্য কারো নামে পশু জবাই করা।

কোন ব্যক্তি থেকে কুফর এর কিছু সংঘটিত হওয়ার কুফর হবার ব্যাপারে কিতাবুল্লাহ ও সুন্নাহ থেকে প্রমাণসমূহ খুবই স্পষ্ট। এই কুফর কেবলমাত্র কোন কথা অথবা কোন কর্মের মাধ্যমে হতে পারে, এর সাথে ইচ্ছাকৃত অস্বীকার (জুহদ) অথবা হালাল করা (ইস্তিহলাল) যুক্ত হওয়া ব্যাতীতই। কথা ও কর্মের কুফরকে শুধুমাত্র ইচ্ছাকৃত অস্বীকার (জুহদ) অথবা হালাল করা (ইস্তিহলাল) এর সাথে সীমাবদ্ধ করে দেয়া সহীহ নয়। কেননা সাহাবায়ে কিরাম রাদিয়াল্লাহু আনহুম, তাবেয়ীন আজমাঈনগ অথবা ইমামগণের কেউ এমন বলেননি।

Continue reading

মাদখালি – সালাফি না, মুরজিয়া

আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহ
সকল প্রশংসা আল্লাহ তা’আলার, সালাত ও সালাম বর্ষিত হোন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর উপর।

সালাফিয়্যার ছদ্মবেশে সমসাময়িক ইরজা আন্দোলন যে আহলুস সুন্নাহ এর আকিদার উপর আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে, তার বিপক্ষে আমি এই ফোরামে বিগত কয়েক বছর যাবত বিভিন্ন সময় কলম ধরেছি। বস্তুত, গত বছর মুরাদ শুকরির লিখা বইয়ের বিপক্ষে আল-লাজনাহর একটি ফাতওয়ায় বলা হয় যে, এই দলটি (যারা নিজেদের জর্ডানের সালাফী বলে পরিচয় দেয়) আকিদায় ইরজা ধারন করে।

Continue reading

মাদখালি – তাদের পরিচয় ও পথভ্রষ্টতা

মাদখালি কারা?

আল মাদাখিলা বা মাদখালিরা হল এমন এক ফিরকা যারা নিজেদেরকে সালাফি বলে পরিচয় দিয়ে থাকে। রাবী’ ইবনে হাদী আল-মাদখালি এর নামানুসারে এই নামকরণ হয়। যেমন আশ’আরীদের “আল-আশা’ইরাহ” নামকরন করা হয় ইমাম আবুল হাসান আশআরী এর নামানুসারে।

“মাদখালি” ছাড়া আরও বিভিন্ন নামেও তাদের ডাকা হয়ে থাকে, যেমন –

Continue reading

ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী কি কাফির?

সেকুলারিস্ট বা ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী কি কাফির?

জবাব দিয়েছেন- শায়খ ড. হামিদ বিন আব্দুল্লাহ আল-‘আলি।

প্রশ্ন: আমরা একই অনলাই্ন মেসেজ বোর্ডে (ফোরামে) আরাফাতের (ইয়াসির আরাফাত) কুফরির বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছিলাম। তখন একজন প্রশ্ন তুললেন এবং এ প্রশ্নটি বারবার উত্থাপিত হয়। তাই আমরা আশা করি যে আপনি আমাদের জন্য এ প্রশ্নের উত্তর দিবেন। বারাকাল্লাহ্।

(প্রশ্নটি হল) ইয়াসির আরাফাত কি কাফির? সব ধরনের কুফরের ক্ষেত্রেই কি উক্ত ব্যক্তির অবস্থার দিকে তাকাতে হবে? এবং তার উপর তাকফিরের কোন প্রতিবন্ধকতা আছে কি না তা দেখতে হবে? তার উপর কেউ হুজ্জাহ প্রতিষ্ঠা করেছে কি না আমাদের কি সেটার জন্য অপেক্ষা করতে দেখতে হবে? আর সকল কুফরের বেলায়ই কি এটি করা শর্ত?

Continue reading

শাইখ ইবনে বায এবং শাইখ আল-আলবানীকে নিয়ে শাইখ আবু কাতাদার মতামত

আল-আলবানীঃ

…শাইখ মুহাম্মাদ নাসির উদ্দিন আলবানী (রহিমাহুল্লাহ)-এর ব্যাপারে বলা যায়, এই মানুষটি হলেন এক ভিত্তি স্বরূপ – কিংবা এমন বলা ভালো যে তিনি ছিলেন আধুনিক সময়ে ইসলামী ইলম অর্জনের পুনর্জাগরনের দুর্গসমূহের একটি দুর্গ বিশেষ করে হাদীসশাস্ত্র, এবং ফিকহ ও মানহাজের আন্দোলনে। তাঁকে নিয়ে অনেক বই লেখা হয়েছে, এবং অন্যান্য অনেকের সাথে তাঁর নাম উল্লেখ করেছে।

শাইখের ইন্তেকালের পর আমি দুইটি লেকচার দিয়েছিলাম যেখানে আমি শাইখের বৈশিষ্ট্যগুলো স্পষ্ট করেছি – কোন বিষয়গুলো উনার মধ্যে উত্তম ছিল আর কোন বিষয়ের জন্য উনার বিরুদ্ধে প্রশ্ন আনা যেতে পারে। আমি তাদের মত না যারা তাঁর থেকে একেবারেই মুখ ফিরিয়ে নেয়  এবং আমি তাদেরও মত না যারা অন্ধভাবে তাঁর অনুসরণ করে। বরং শাইখ এর ব্যাপারে আমি এটাই বলি যা আয-যাহাবি বলেছিলেন ইবনে হায্‌মকে নিয়েঃ

Continue reading

সংশয়: ইমাম ছাড়া জিহাদ নেই?

লেখকঃ শাইখ ড. হাকিম আল মুতাইরি

প্রশ্নঅনেকে বলে থাকে যে, “ইমাম ও ঝান্ডা (রায়াহ) ছাড়া কোন জিহাদ নেই, এদুটো ব্যাতীত যা কিছু হচ্ছে তা হল ফিতনার লড়াই এবং সেগুলোতে যারা মারা যাবে তারা শহীদ হবে না৷ এবং শত্রুরা যদি কোন মুসলিম ভূমিতে আক্রমণ করে বসে তাহলে তাদেরকে প্রতিহত করার ক্ষমতা না রাখলে তখন তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করা মুসলমানদের জন্য হারাম৷”

তাহলে শরীয়তের মূলনীতি ও ফুকাহায়ে কেরামের মত অনুযায়ী এ মতটির বিশুদ্ধতার ব্যাপারে আপনাদের সম্মানিত রায় কী?

Continue reading

জিহাদ না করে যিকির?

“আবূদ দারদা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি তোমাদেরকে কি তোমাদের অধিক উত্তম কাজ প্রসঙ্গে জানাব না, যা তোমাদের মনিবের নিকট সবচেয়ে পবিত্র, তোমাদের সম্মানের দিক হতে সবচেয়ে উঁচু, স্বর্ণ ও রৌপ্য দান-খাইরাত করার চেয়েও বেশি ভাল এবং তোমাদের শক্রর মুকাবিলায় অবতীর্ণ হয়ে তাদেরকে তোমাদের সংহার করা ও তোমাদেরকে তাদের সংহার করার চাইতেও ভাল? তারা বললেন, হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ আল্লাহ তা’আলার যিকর।

মু’আয ইবনু জাবাল (রাযিঃ) বলেন, আল্লাহ তা’আলার শাস্তি হতে মুক্তি পাওয়ার জন্য আল্লাহ তা’আলার যিকরের তুলনায় অগ্রগণ্য কোন জিনিস নেই।”

Continue reading

শায়খ হামুদ বিন উক্বলা আশ শুয়াইবির রাহিমাহুল্লাহ জীবনী

তিনি হলেন বানু খালিদ গোত্রের আবু আব্দুল্লাহ হামুদ বিন আব্দুল্লাহ বিন উক্বলা বিন মুহাম্মাদ বিন আলি বিন উক্বলা আশ-শু’আইবি আল-খালিদি। তার জন্ম ১৩৪৬ হিজরিতে (১৯২৫ খ্রিস্টাব্দ)। ক্বাসীম প্রদেশের বুরাইদা বিভাগের আশ-শাক্বক্বাহ শহরে। তারায় পড়াশুনায় হাতেখড়ি হয় ৬ বছর বয়সে। ১৩৫২ হিজরিতে (১৯৩১ খ্রিস্টাব্দ) গুটিবসন্তের কারনে তিনি দৃষ্টিশক্তি হারান।

অন্ধত্ব তার ‘ইলম অর্জনের পথে বাধা হতে পারে নি। তিনি শায়খ আব্দুল্লাহ বিন মুবারাক আল-উমারির অধীনের ক্বুরআনের হিফয করা শুরু করেন এবং ১৩ বছর বয়সে সম্পূর্ণ ক্বুরআনের হিফয সমাপ্ত করেন। তবে হিফয ও তাজউয়িদ সম্পূর্নভাবে আত্মস্থ করতে তার সময় লাগে আরো ২ বছর। তার এই অর্জনের পেছনে তার পিতার গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল, তিনি সবসময় চাইতেন যে তার ছেলে একজন ‘ইলম অন্বেষণকারী হবে –  আল্লাহ তার উপর রহম করুন।

ক্বুরআন হিফয করার পর তিনি কিছদিন তার পিতাকে চাষাবাদ ও খেজুর বাগানের দেখাশুনায় সাহায্য করেন।

১৩৬৭ হিজরিতে (১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দ) পিতার নির্দেশ অনুযায়ী ‘ইলম অর্জনের লক্ষ্যে তিনি রিয়াদে আসেন। তিনি ;ইলম শিক্ষা শুরু করেন শায়খ আব্দুল লতিফ বিন ইব্রাহিম আলুশ-শাইখ রাহিমাহুল্লাহর অধীনে। এই মহান শিক্ষকের অধীনের তিনি আল-আজ্রুমিয়্যাহ, উসুল আস-সালাসা, রাহবিয়াতু ফিল ফারাইদ এবং ক্বাওয়াইদ আল-আরবা’আ  সম্পূর্ণ মুখস্থ ও এর ব্যাখ্যাসমূহ আত্মস্থ করা সম্পন্ন করেন।

অতঃপর১৩৬৮ হিজরিতে (১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দ) তিনি শায়খ মুহাম্মাদ বিন ইব্রাহিম আলুশ শায়খ রাহিমাহুল্লাহর শিষ্যত্ব গ্রহন করেন। এই মহান শায়খের অধীনে তিনি প্রাথমিক ভাবে যাদ আল মুস্তাক্বানি, কিতাবুত তাওহিদ, কাশফুশ শুবুহাত, আল ওয়াসিতিয়্যাহ (শায়খ আল-ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহ), আল-আরবা’ঈন আন-নাওয়াউইয়্যাহ, আলফিয়াতু ইবন মালিক, বুলুগ্বুল মারাম অধ্যায়ন। শায়খ মুহাম্মাদের রাহিমাহুল্লাহ অধিনে সকল ছাত্রকেই বাধ্যতামূলকভাবে এই কিতাবগুলো শিখতে হতো।

এগুলোর পর তিনি শায়খ মুহাম্মাদের কাছে অধ্যায়ন করেন আক্বিদা আত-তাহাউইয়্যাহ, আদ দুররাহ আল মুদানিয়্যাহ, আক্বিদা আল-হামাউইয়্যাহ। শায়খ মুহাম্মাদ আলাদা ভাবে তাকে এই কিতাবগুলোর শিক্ষাদান করেন।

এছাড়াও তিনি শিক্ষাগ্রহন করেন নিম্নোক্ত উলামার অধীনে –

তিনি আব্দুল আযিয বিন বাযের রাহিমাহুল্লাহ অধীনে তাওহিদ ও হাদিসের ‘ইলম অর্জন করেন।

শায়খ মুহাম্মাদ আল আমিন আশ-শানক্বিতি রাহিমাহুল্লাহ

শায়খ মুহাদ্দিস আব্দুর রাহমান আল-আফ্রিকি রাহিমাহুল্লাহ

শায়খ আব্দুল আযিয বিন রাশীদের রাহিমাহুল্লাহ অধীনে তিনি ফিক্বহ অধ্যায়ন করেন

শায়খ আব্দুল্লাহ আল খুলাইফি

শায়খ হামাদ আল-জাসির

শায়খ সাউদ বিন রাশুদ (রিয়াদের ক্বাযি)

শায়খ ইব্রাহিম বিন সুলাইমান

ইউসুফ উমার হাসনাইন, আব্দুল লতিফ সারহান, ইউসুফ দাবা’ সহ মিশরের বিভিন্ন আলিমের কাছে আরবী ব্যকরন শিক্ষা করেন

 

 

১৩৭৬ হিজরিতে (১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দ) তিনি কিং সাউদ ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষক নিযুক্ত হন। ১৩৭৭-১৪০৭ হিজরি পর্যন্ত (১৯৫৬-১৯৮৫ খ্রিস্টাব্দ) তিনি এই বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। তারপর তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়। এই দীর্ঘ সময় তিনি ইউনিভার্সিটিতে তাওহিদ, ফিক্বহ, ফারাইদ, হাদিস, উসুল, ব্যাকরনসহ বিভিন্ন বিষয়ের উপর শিক্ষাদান করেন। এছাড়া তিনি বেশ কিছু মাস্টার্স ও ডক্টরেট থিসিসের সুপারভাইজার ছিলেন।

তার অসংখ্য ছাত্রের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকজনের নাম হলঃ

 

আব্দুল আযিয আলুশ শায়খ (সৌদি আরবের বর্তমান মুফতি), আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল মুহসিন আত-তুর্কি প্রাক্তন ইসলাম বিষয়ক মন্ত্রী,আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন ইব্রাহিম আল আশ-শায়খ প্রাক্তন বিচার সংক্রান্ত মন্ত্রী, সালিহ আল-ফাউযান, গায়হাব আল গায়হাব, ক্বাজি আব্দুর রাহমান বিন সালিহ আল-জাবর, ক্বাজি আব্দুর রাহমান বিন আব্দুল্লাহ বিন আল-আজলান – প্রাক্তন প্রধান ক্বাজি ক্বাসিম প্রদেশ, সুলাইমান বিন মুহান্না – প্রাক্তন প্রধান ক্বাজি রিয়াদ, আব্দুল্লাহ আল-গ্বুনাইমান।

এছাড়া শায়খ যাদের ডক্টরেট থিসিস রিভিউ করেছেন তাদের মধ্যে আছেন।

আবু বাকর আল জাযাইরি, রাবি বিন হাদি আল-মাদ্বখালি, মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-উসাইমিন।

শায়খের সবচেয়ে অন্তরঙ্গ ছাত্র যারা তার আদর্শ ও মানহাজকে অবিকৃত ভাবে ধারন করেন তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন – শায়খ আলি আল খুদাইর, শায়খ সুলাইমান বিন নাসির আল-‘উলওয়ান, শায়খ নাসির আল ফাহাদ, আল্লাহ তাঁদের কল্যাণময় মুক্তি ত্বরান্বিত করুন।

যখন আফগানিস্তানে তালিবান কর্তৃক ইসলামি ইমারাত প্রতিষ্ঠিত হয় তখন শায়খ হামুদ এবং তার দুই ছাত্র সুলাইমান আল-‘উলওয়ান এবং আলি আল-খুদাইর, আমীরুল মু’মিনীন মুল্লাহ উমার রাহিমাহুল্লাহ-কে অভিনন্দন জানিয়ে চিঠি লেখেন এবং মুল্লাহ উমারকে আমিরুল মু’মিনিন বলে সম্বোধন করেন। এছাড়া সারা বিশ্বের মুসলিমদের জন্য তালিবানকে সাহায্য করা বাধ্যতামূলক বলে তিনি একটি ফতোয়া দেন। এছাড়া ২০০১ এ যখন সারা বিশ্ব মুসলিমদের বিরুদ্ধে অ্যামেরিকার সাথে জোট বাধছিল তখন এই মহান নির্ভীক শায়খ ফতোয়া দেন যে আগ্রাসী কাফির অ্যামেরিকার বিরুদ্ধে তালিবানকে এবং আফগানিস্তানের মুহাজিরদের সহায়তা করা সকল মুসলিম উম্মাহর জন্য বাধ্যতামূলক। শায়খ হামুদ প্রকাশ্যে সৌদি শাসকগোষ্ঠীর কুফর সম্পর্কে কথা বলতেন। এই কারনে ৭৫ বছর বয়সে এই অন্ধ বৃদ্ধকে কারারুদ্ধ করা হয়।

শায়খ হামুদ বিন উক্বলা আশ-শু’আইবি আপোষহীন, নির্ভীক এক নক্ষত্র, মিল্লাতু ইব্রাহিমের দিকে আহবানকারী, মুশরিক ও কাফিরদের উপেক্ষা করে প্রকাশ্যে সত্যকে ঘোষণাকারী – যিনি শায়খ আল-ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ এবং ইমাম ওয়াল মুজাদ্দিদ শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ও উলামায়ে নাজদের প্রকৃত উত্তরসূরি।

এই মহান শিক্ষক ১৪২২ হিজরির ৪ই জিলক্বদ (১৮ই জানুয়ারি, ২০০২) মৃত্যুবরন করেন। আল্লাহ তার উপর রহম করুন। ইমাম ওয়াল মুজাদ্দিদ আব্দুল্লাহ আযযাম রাহিমাহুল্লাহ –এর মৃত্যুর পর এটাই ছিল মুসলিম উম্মাহ ও মুজাহিদিনের জন্য সবচেয়ে বড় ক্ষতি।

মুরতাদ শাসকের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের ব্যাপারে সালাফগণের অবস্থান – সত্যিকারের খারেজি কারা?

ইমাম নববী রাহ: বলেন:

আল-ক্বাদ্বি ‘ইয়াদ্ব বলেছেন, ‘উলামাদের ইজমা হল নেতৃত্ব (ইমামাহ) কখনো কাফিরের উপর অর্পণ করা যাবে না, আর যদি (কোন নেতার) তার পক্ষ থেকে কুফর প্রকাশিত হয় তবে তাকে হটাতে হবে… সুতরাং যদি সে কুফর করে, এবং শারীয়াহ পরিবর্তন করে অথবা তার পক্ষ থেকে গুরুতর কোন বিদ’আ প্রকাশিত হয়, তবে সে নেতৃত্বের মর্যাদা হারিয়ে ফেলবে, এবং তার আনুগত্য পাবার অধিকার বাতিল হয়ে যাবে, এবং মুসলিমদের জন্য আবশ্যক হয়ে যাবে তার বিরোধিতা করা, বিদ্রোহ করা, তার পতন ঘটানো এবং তার স্থলে একজন ন্যায়পরায়ণ ইমামকে বসানো – যদি তারা (মুসলিমরা) সক্ষম হয়। যদি একটি দল (তাইফা) ব্যাতীত অন্যান্য মুসলিমদের পক্ষে এটা করা সম্ভব না হয়, তবে যে দলের (তাইফা) সক্ষমতা আছে তাদের জন্য এই কাফিরের (শাসকের) বিরোধিতা করা, বিদ্রোহ করা এবং তার পতন ঘটানো অবশ্য কর্তব্য। আর যদি শাসক কাফির না হয়ে শুধুমাত্র বিদ’আতী হয় তবে, এটা বাধ্যতামূলক হবে না, যদি তারা (তাইফা) সক্ষম হয় তবে তারা তা করবে। আর যদি কেউই সক্ষম না হয় এ ব্যাপারে সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়, তবে বিদ্রোহ করা আবশ্যক না, তবে তখন মুসলিমদের সেই ভূমি থেকে অন্য কোথাও হিজরত করতে হবে, নিজেদের দ্বীনের সংরক্ষণের জন্য।”[সাহিহ মুসলিম বি শারহ আন-নাওয়াউয়ী, ১২/২২৯]

 

হাফিয ইবনে হাজার আল আসকালানী রাহ: বলেন:

“আদ দাউদী বলেছেন, “উলামাদের ইজমা হল, অত্যাচারী (মুসলিম) শাসককে যদি ফিতনাহ (যুদ্ধ) ব্যতিত অপসারণ করা সম্ভব হয় তবে তা করা ওয়াজিব; কিন্তু যদি এতে ফিতনাহ (যুদ্ধ)শুরু হয়ে যাওয়ার আশংকা থাকে তাহলে ধৈর্য ধারণ করা বাধ্যতামূলক। এবং কোন কোন আলিমগণের দৃষ্টিভঙ্গি এমন যে, ফাসিক ব্যক্তিও শাসন কার্যের জন্য অনুমোদিত নয় যদি সে পূর্বে থেকেই ফাসিক হয়ে থাকেন। কিন্তু যদি এমন হয় যে, তাকে শাসক বানানোর সময় তিনি ফাসিক ছিলেন না পরবর্তীতে ফিস্‌কে লিপ্ত হয়েছেন তবে এমন ফাসিক শাসকের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করার ব্যাপারে আলিমগণ মতভেদ আছে। এক্ষেত্রে সঠিক মত হলো তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ নিষিদ্ধ।

কিন্তু যে শাসক ‘কুফর’ এ লিপ্ত হন তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ওয়াজিব।” (ফাতহুল বারী ১৩/১০)

 

ইবনে হাজার রাহ: সালাফগণ থেকে বর্ণনা করেন:

“(তাওহীদীবাদী মুসলিম)ফাসিক শাসকের আনুগত্য এবং তার পক্ষ নিয়ে জিহাদ করা বৈধ এ ব্যাপারে ফকিহগণের ইজমা’ আছে। তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা এবং অনেকের রক্ত ঝরানোর চেয়ে বরং তার আনুগত্য করাই উত্তম। শাসকদের থেকে সুস্পষ্ট কুফ্‌র প্রকাশ পাওয়া ব্যতিত এক্ষেত্রে আনুগত্যের ব্যাপারে ফকিহগণ কোন ছাড় দেননি। অপরদিকে শাসকের থেকে কুফর প্রকাশিত হলে সেই কুফরের ওপর তার আনুগত্য করা যাবে না, বরং তার বিরুদ্ধে জিহাদ করা প্রত্যেক সক্ষম ব্যক্তির উপর ওয়াজিব। (ফাতহুল বারী ৯/১০)

যে শাসকেরা ইয়াহুদী-খৃষ্টানদের থেকে জিযয়াহ আদায় করেনা, এবং কুফ্‌ফারদের বিরুদ্ধে জিহাদকে নিষিদ্ধ করে তাদের ব্যাপারে শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ রাহঃ বলেছেন –এসব কাজ করতে অস্বীকৃতি জানানো যেকোন দলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে, তারা যদি এসব কাজের আবশ্যিক হওয়াকে স্বীকারও করে, তবুও। এবং এ ব্যাপারে এর বিপরীত কোন মত আমার জানা নেই।(মাজমু আল-ফাতাওয়া, ২৮/৫০৩,৫০৪)

সুতরাং মুরতাদের শাসকের ব্যাপারে অবস্থান স্পষ্ট।

এ সকল ফক্বিহগণের বক্তব্য থেকে সুস্পষ্টভাবে এটা পরিস্কার হলো যে, ‘ফাসিক’ যালিম শাসক এবং মুবতাদি (বিদাতি) শাসকের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের মধ্যে ফকিহগণ পার্থক্য করেছেন। তার মধ্যে কিছু ফকিহ বিদ্রোহের ক্ষেত্রে শর্ত দিয়েছেন ‘ফিতনাহ ব্যতিত অপসারণ করার সক্ষমতা”।

যেমন ক্বাযী ইয়ায রাহ: বলেছেন; “আর যদি শাসক কাফির না হয়ে শুধুমাত্র বিদ’আতী হয় তবে, এটা বাধ্যতামূলক হবে না, যদি তারা (তাইফা) সক্ষম হয় তবে তারা তা করবে।”

এবং আদ দাউদী রাহ: বলেন, “উলামাগণ এ ব্যাপারে একমত যে, জালিম শাসককে যদি ফিতনা (যুদ্ধ) ব্যতিত অপসারণ সম্ভব হয় তবে তা ওয়াজিব হবে।”

কিন্তু যে শাসক কুফরে লিপ্ত তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহকে তারা শুধু অনুমোদনই করেননি বরং তাদের ইজমা হল (অর্থাৎ তাঁরা ঐক্যমত পোষণ করেছেন যে), এমন শাসককে অপসারণ করতেই হবে প্রয়োজনে রক্ত ঝড়িয়ে হলেও।

যেমন ইবনে হাজর রাহিঃ বলেছেন, কিন্তু যে শাসক ‘কুফর’ এ লিপ্ত হন তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ওয়াজিব।’, এবং ‘শাসকের থেকে কুফর প্রকাশিত হলে সেই কুফরের ওপর তার আনুগত্য করা যাবে না, বরং তার বিরুদ্ধে জিহাদ করা প্রত্যেক সক্ষম ব্যক্তির উপর ওয়াজিব।’

এবং ক্বাযী ইয়ায রাহ: বলেছেন, যদি নির্দিষ্ট জামাত ছাড়া অন্যদের জন্য বিদ্রোহ করা সম্ভব না হয় তবে সে জামাতের উপর ওয়াজিব হবে উক্ত কাফির শাসকের বিরুদ্ধে জিহাদের ঝান্ডা উত্তোলন করা এবং সে (কাফির) শাসককে অপসারণ করা।” ‘যদি একটি দল (তাইফা) ব্যাতীত অন্যান্য মুসলিমদের পক্ষে এটা করা সম্ভব না হয়, তবে যে দলের (তাইফা) সক্ষমতা আছে তাদের জন্য এই কাফিরের (শাসকের) বিরোধিতা করা, বিদ্রোহ করা এবং তার পতন ঘটানো অবশ্য কর্তব্য, ওয়াজিব

সুতরাং

যে সকল মুজাহিদীনগণ এমন কাফির-তাগুত শাসকের বিরুদ্ধে জিহাদের ঝান্ডা উত্তোলন করেন তাদেরকে ‘খাওয়ারিজ’ বলা কি ন্যায়সঙ্গত? অথচ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রকৃত খাওয়ারিজদের সম্পর্কে এভাবে বলেছেন; “তারা ইসলামের অনুসারীদেরকে হত্যা করবে, এবং মুর্তিপূজারীদেরকে ছেড়ে দিবে” [সহিহ বুখারি]

আজ কারা তাওহীদের সৈনিকদেরকে হত্যা করছে, বন্দী করছে, তাদের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তি করছে, নির্যাতন করছে, তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে, তাদেরকে গ্রেফতার করে জায়নিষ্ট এবং ক্রুসেডারদের কাছে হস্তান্তর করছে?

আজ কারা বিশ্বব্যপী লাখো মুসলিমদের হত্যাকান্ডে ক্রুসেডারদেকে সহায়তা করছে? এবং মুহাম্মাদে আরাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর আরব উপদ্বীপে ক্রুসেডারদেরকে ঘাঁটি গাড়তে দিচ্ছে? তাদের আশ্রয় প্রদান অব্যাহত রেখেছে?

আজ কারা কেবল মুশরিকদের ছেড়েই দিচ্ছে না, বরং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আরব উপদ্বীপে অবস্থান করা তারা প্রতিটি জায়নিষ্ট ও ক্রুসেডারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করছে?

আজ কারা কারা হোয়াইট হা্উজের কুফফারদের মানোতুষ্টির জন্য মুসলিমদেরকে হত্যা করছে?

কারা মুজাহিদীনের বিরুদ্ধে ক্রুসেডারদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুদ্ধ করছে?

কারা জায়নিষ্ট ও ক্রুসেডারদের তৃষ্ণা মেটাতে যে কোন ব্যক্তিকে হত্যা করতে পারে, আবার একইসাথে নিজেদের মুসলিম দাবি করার দুঃসাহস দেখাতে পারে?

আজ কারা মুসলিমদের থেকে জিযয়া গ্রহণ করে জায়নিষ্ট ও ক্রুসেডারদেরকে অনুদান দিচ্ছে?

কারা ক্রুসেডারদের পাশে নিজেকে নিরাপদ ভাবতে পারে আর মুজাহিদদের পাশে অনিরাপদ মনে করে?

ভাবুন, চিন্তা করুন, তাহলে হয়তো আপনার কাছে পরিষ্কার হবে কারা আসল খাওয়ারিজ…

গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে উলামায়ে দেওবন্দ

পশ্চিমাদের বানানো গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে কখনো  ইসলাম কায়েম হবে না। যেমনিভাবে কখনো পেশাবের মাধ্যমে ওযু হবে না। মোটকথা, নাপাকের মাধ্যমে যেমনিভাবে, পবিত্রতা হাসিল হবে না তেমনিভাবে, অনৈসলামিক ও পশ্চিমাদের বানানো কুফরী গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতেও কখনো ইসলাম কায়েম হবে না। যখন দুনিয়ায় আল্লাহ তায়ালার দ্বীন বিজয়ী হবে তখন তা সেই একটি পদ্ধতিইে হবে যে পদ্ধতি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম গ্রহণ করেছেন।

(মুফতি নিযামুদ্দিন শামযায়ী রাহিমাহুল্লাহ)

গণতন্ত্র এমন একটি স্বতন্ত্র মতাদর্শ, জীবনব্যবস্থা তথা দ্বীন যা ইসলামের সাথে মৌলিকভাবে সাংঘর্ষিক। আদর্শিক ও প্রায়োগিকভাবে গণতন্ত্র কুফর ও শিরক। গণতন্ত্রের মাধ্যমে কোনভাবেই ইসলাম প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব না।যদিও পরিস্থিতি বিবেচনায় ক্ষেত্রেবিশেষে তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ গণতন্ত্রকে অনুমোদন দিয়েছেন বৃহত্তর স্বার্থের কথা বিবেচনা করে, কিন্তু সাধারণত ঐতিহাসিকভাবে উলামায়ে দেওবন্দ গণতন্ত্রের বিরোধিতা করে এসেছেন। Continue reading

ভিসা ও আমান – শায়খ আবু মুহাম্মাদ আইমান হাফিযাহুল্লাহ

বর্তমান ভিসা কি শরয়ী আমান? মুসলিমদের দেশে ভিসা নিয়ে আসা কাফিরদের ব্যাপারে কি ধরা হবে যে তাদেরকে শরয়ী নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে? তাদের রক্ত কি হারাম বিবেচিত হবে? কাফিরদের দেশে ভিসা নিয়ে যাওয়া মুসলিমরা কি সেখানে হামলা করতে পারবেন? ৯/১১ এর মতো হামলা কি জায়েজ বলে গণ্য হবে? এই প্রশ্নগুলোসহ আরো অনেক প্রশ্নের উত্তর পাবেন শাইখ আবু মুহাম্মাদ আইমানের অন্যবদ্য এই রচনায়।

“ভিসার মাসআলাটি একটি আধুনিক মাসআলা। যার ব্যাপারে কুরআন, সুন্নাহ, ইজমা বা পূর্ববর্তী ফুকাহাদের কোন বক্তব্য নেই। শুধু তাই নয়, কতিপয় সমসাময়িক ফকীহ ভিসাকে আমেরিকায় আক্রমণ পরিচালনার জন্য বাঁধা হিসাবে গ্রহণযোগ্য নয় বলে ফাতওয়া দিয়েছেন। যেমন শায়খ নাসির আল-ফাহদ (আল্লাহ তাকে কারামুক্ত করুন)

তাদের অনেকে আমেরিকায় ৯/১১ আক্রমণের জন্য খুশি হয়েছেন, সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন এবং এ আক্রমণ যে পন্থায় করা হয়েছে, তা জানা সত্ত্বেও যারা এ আক্রমণ পরিচালনা করেছেন তাদের প্রশংসা করেছেন। যেমন শায়খ হামুদ বিন উকলা আশ-শুয়াইবি, শায়খ হুসাইন ওমর ইবনে মাহফুজ, শায়খ আবু মুহাম্মদ আলমাকদিসী, শায়খ আবু কাতাদা ও শায়খ আব্দুল্লাহ আর-রাশুদ।

এটি একটি মতবিরোধপূর্ণ ও গবেষণাগত মাসআলা। যিনি এতে তৃপ্তিবোধ করবেন না, তিনি তা গ্রহণ করবেন না। আর যিনি তৃপ্তিবোধ করবেন, তার জন্য তা গ্রহণ করার সুযোগ রয়েছে।

ফিকহুল জিহাদে ফুকাহায়ে কেরামের এমন অনেক ইখতিলাফের উদাহরণ রয়েছে, যার ফলাফল ব্যাপক। যেমন মুশরিক ও মূর্তিপূজারীদের ব্যাপারে ইখতিলাফ, মুরতাদ নারীকে হত্যার ব্যাপারে ইখতিলাফ এবং এছাড়াও আরো বিভিন্ন মাসআলায় ইখতিলাফ।”

পিডিএফ ডাউনলোড করুন –

ডাউনলোড লিঙ্ক ১

ডাউনলোড লিঙ্ক ২

ডাউনলোড লিঙ্ক ৩

(ডাউনলোড না করেও এই লিঙ্ক থেকে পড়া যাবে )

তাহকিমুল কাওয়ানিন – আল্লামা মুহাম্মাদ ইবন ইব্রাহিম রহঃ

নব্য মুরজিয়াদের সংশয় নিরসনে আল্লাহর আইন ব্যাতীত অন্য আইন দিয়ে শাসন কুফর হবার ব্যাপারে সৌদির আরবের প্রথম গ্র্যান্ড মুফতি ও শাইখ মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুল ওয়াহহাবের নাতি আল্লামা মুহাম্মাদ ইবনু ইব্রাহিমের বিখ্যাত রচনা “তাহকিমুল কাওয়ানিন”।

“রবের বিধানের প্রতি আত্মসমর্পন ও আনুগত্য হল হল সেই এক ও অদ্বিতীয় সত্ত্বার বিধানের প্রতি আত্মসমর্পন ও আনুগত্য করা, যিনি আমাদের সৃষ্টি করেছেন। যেমনিভাবে সৃষ্টি আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে সিজদাহ করতে পারে না, আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও ইবাদত করতে পারেনা, যেমনিভাবে কোন মাখলুকের ইবাদত করা হয় না – ঠিক তেমনিভাবে যিনি চির প্রশংসনীয়, সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়, দয়াময়, পরম করুনাময় তাঁর বিধান, তাঁর আইন ছাড়া অন্য কোন বিধানের প্রতি সৃষ্টি আনুগত্য, আত্মসমর্পন করতে পারে না, স্বীকৃতি দিতে পারে না, মেনে নিতে পারেনা। মানুষ এমন কোন মাখলুকের বিধান মেনে নিতে পারেনা যে অবিবেচক, যালিম, অজ্ঞ। বিভিন্ন সন্দেহ-সংশয় সুভাষ যাকে দলিত-মথিত করেছে। যার হৃদয়কে উদাসীনতা অন্ধকারাচ্ছন্ন করে নিয়েছে।

সুতরাং জ্ঞানীদের জন্য উচিত এ থেকে (আল্লাহর আইন ব্যাতীত অন্য আইনের শাসন) নিজেদের বাচিয়ে রাখা, কারন কুফরের পাশাপাশি এ তাদেরকে দাসত্বে আবদ্ধ করে এবং প্রবৃত্তির খেয়ালখুশি, স্বার্থ, ভুল আর ত্রুটির অনুযায়ী শাসিত হতে বাধ্য করে। কারণ আল্লাহ তাআলা বলেছেন,

ومَنْ لَمْ يَحْكُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللهُ فَأُولئِكَ هُمُ الكافِرون

যারা আল্লাহর নাযিলকৃত বিধান দ্বারা ফয়সালা করে না তারাই কাফের”। (সূরা মায়েদা: ৪৪)

পিডিএফ ডাউনলোড লিঙ্ক –

ডাউনলোড লিঙ্ক ১

ডাইনলোড লিঙ্ক ২

ডাউনলোড লিঙ্ক ৩ 

(ডাউনলোড না করেও এই লিঙ্ক থেকে পড়া যাবে)

 

গণতন্ত্রের মাধ্যমে কি ইসলামী বিপ্লব সম্ভব?

‘বিষয়টি খুবই গুরুত্বর্পূণ, এবং এ ব্যাপারে যথেষ্ট চিন্তা ও গবেষনার প্রয়োজন। এখানে যে বক্তব্যটি পেশ করছি তা মূলত জামায়াতে ইসলামীর সাথে ভালোভাবে যুক্ত দু’জন বিজ্ঞ ব্যক্তির মধ্যকার আলোচনা। তাঁরা জামায়াতে ইসলামী সম্পর্কেই আলোচনা করেছেন। কিন্তু আমরা মনে করি যে, এি আলোচনাটির পরিধি ব্যাপক। এ বিষয়টি পাকিস্তানের সকল ইসলামী দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ; বরং এক দৃষ্টিকোণ থেকে গোটা পৃথিবীর ইসলামী দলসমূহের সাথেই বিষয়টি জড়িত। তুরস্কে রয়েছে একটি ইসলামী শক্তিশালী দল, তিউনিসিয়ায় ইসলামী একটি দল আধিক্যতা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে, এ দিকে মিসরসহ অন্যান্য জায়গায় ইসলামী আন্দোলনের চেষ্ট চলছে। খোদ পাকিস্তানের এক অংশে ইসলামী দলগুলো বেশ শক্তি অর্জন করে ফেলেছে। এজন্য এ প্রশ্নের উপর যথেষ্ট চিন্তা-ভাবনার প্রয়োজন যে, পশ্চিমা গণতন্ত্রের মাধ্যমে (বাহ্যিক কিছু পরিবর্তন এনে ‘ইসলামী গণতন্ত্র’ নাম দিয়ে) কি ইসলামী বিপ্লব (অথবা ইসলামের বিজয়, শরিয়ত প্রতিষ্ঠা, নেযামে মোস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইত্যাদি) অর্জন করা সম্ভব? এ বিষয়ে আপনিও একটি মন্তব্য বলুন; আমরা ইনশাআল্লাহ ‘আল-বুরহান’-এর আগামী সংখ্যায় এ বিষয়ে আলোচনা করব।’ –  ড.মুহাম্মদ আমিন

Continue reading

আল্লাহ্ ওদের দৃষ্টিতে তোমাদের অল্পসংখ্যক করে দেখালেন

বুদ্ধিমান সেই যে তাঁর দুর্বলতা ঢেকে রাখে, যে সবর করতে জানে যখন তার লোকবল বা সাজ সরঞ্জামে ঘাটতি থাকে। নিঃশব্দে যে শত্রুর দূর্বলতা পর্যবেক্ষণ করে এবং সেই অনুযায়ী পরিকল্পনা গ্রহন করে যাতে তার পরিকল্পনাগুলো সুরক্ষিত ও নিরাপদ থাকে এবং এতে সে শত্রুর জন্য মোক্ষম সময়ের জন্য অপেক্ষা করতে পারে। অপরিপক্ব উত্তেজনা ও হুমকি কেবল শত্রুকে নিজের পরিকল্পনা সম্পর্কে সতর্কই করে দেয়, যা তার শত্রুকে প্রস্তুতি গ্রহনের সুযোগ করে দেয়। এর ফলে মুসলিমদের অবস্থা দাঁড়ায় ওই ব্যক্তির মত, যে সময় হবার আগেই তীর চালনা করে কিংবা তীর চালনার আগেই তার শিকারকে সতর্ক করে দেয়।

Continue reading

শরীয়তের সুস্পষ্ট বিধাণের বিরোধিতা বা প্রত্যাখ্যান করা দলের ব্যাপারে হুকুম

শাইখ নাসির আল-ফাহাদ (ফাক্কাল্লাহু আসরাহ) এর কাছে প্রশ্ন করা হয়েছিল –

যারা বলে তাইফাহ মুমতানি’য়াহ ব্যাপারে দুটি মত আছে, তাদের জবাবে কী বলা উচিৎ? আর শাইখুল ইসলাম (ইবনু তাইমিয়া) এ ব্যাপারে যে ইজমার কথা বলছেন – এটা যে  অস্বীকার করে এবং বলে, “আমি ইজমা থাকার ব্যাপারে দাবিটি খতিয়ে দেখলাম কিন্তু এমন কিছু খুঁজে পেলাম না” – তাদের ক্ষেত্রে জবাব কী হবে? তাছাড়া এটা কিভাবে সম্ভব যে তাইফাতুল মুমতানি’য়াহর ব্যাপারে সাহাবীদের রা. মধ্যে ইজমা থাকার পরও পরবর্তীতে ফকিহগণ এ ইজমার সাথে ভিন্নমত পোষণ করলেন? এবং তাইফা মুমতানি’য়াহর কুফরের ব্যাপারে ভিন্নমত পোষণ করলেন?

Continue reading

দরবারী আলিমদের মতে তাকফির

আশ-শাইখ আল্লামা নাসির ইবনু হামাদ আল-ফাহাদ ফাক্কাল্লাহু আসরাহ বলেনঃ

শুনে রাখুন আমার মুসলিম ভাইয়েরা, অধিকাংশ আলিমরা দুঃখজনকভাবে তাকফিরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে মূলনীতি এতোদিন জানতেন না, তা হল যে ব্যক্তি এমন কোন কাজ করে যা তাকে ইসলামের গণ্ডী থেকে বের করে দেয় – সে কখনো শাসকদের একজন হতে পারে না। কারণ শাসকরা যে কুফর বা শিরকই করুক না কেন, তাদের তাকফির করা হলে আকাশ ভেঙ্গে পড়া এবং পর্বতমালা ধ্বসে পড়ার মতো অবস্থা হবে।

Continue reading

গণতন্ত্র ও সংসদে অংশগ্রহণের ব্যাপারে হুকুম – শায়খ নাসির আল ফাহদ

শাইখ নাসির ইব্‌ন হামদ আল-ফাহাদ (ফাক্কাল্লাহু আশরাহ) -কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল গণতন্ত্রের অর্থ কী? শূরা এবং গণতন্ত্রের মধ্যে পার্থক্য কী? এবং সংসদে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে কী হুকুম?

শাইখ (ফাক্কাল্লাহু আশরাহ) -এর জবাব: গণতন্ত্র হল জনগণের শাসন। যার অর্থ হল আইন প্রণয়ন এবং হালাল-হারাম নির্ধারণের অধিকার জনগণের। ইসা (আ) -এর জন্মের আগে প্রাচীন গ্রীসে এর অস্তিত্ব ছিল। ইংরেজ এবং ফরাসী বিপ্লবের সময় থেকে এ ধারণা আরো বিকশিত হতে হতে আজকের অবস্থায় পৌছেছে।

এটি নির্জলা কুফর, বিধান দেয়ার অধিকার একমাত্র আল্লাহ তা’আলার, যার কোন শরীক নেই। যেমনটা তিনি বলেন,

وَلَا يُشْرِكُ فِي حُكْمِهِ أَحَدًا
হুকুম দেয়ার ক্ষেত্রে তিনি কাউকে নিজের সাথে শরীক করেন না” [সূরা কাহাফ: ২৬]

 

বিয়ে এবং ব্যাভিচারের মধ্যে যত পার্থক্য, শূরা এবং গণতন্ত্রের মধ্যে পার্থক্য তার চেয়েও বেশি। এবং সেগুলো কয়েকটি দিক থেকে:

১. শূরা শুধু ইজতিহাদি বিষয়ের ক্ষেত্রে হতে পারে, যেগুলোর ব্যাপারে স্পষ্ট কোন নস পাওয়া যায় না। কিন্তু যে বিধানগুলো সুস্পষ্ট, সেগুলোর ব্যাপারে কোন শূরা নেই। অথচ গণতন্ত্রের ক্ষেত্রে এরকম কোন শর্ত নেই।

২. শূরা হল “আহলুল-হাল ওয়াল-আকদ” এর মধ্য থেকে যারা ইহসান, ইখলাস এবং দ্বীনদারিতার ব্যাপারে সুপ্রসিদ্ধ, সেইসব সালিহ বান্দার জন্য। অথচ গণতন্ত্রের ক্ষেত্রে সংসদ হল এমন কিছু লোকদের জন্য যাদেরকে জনগণ নির্বাচিত করে নিজেদের খেয়ালখুশি ও কামনা অনু্যায়ী, নিজেদের স্বার্থ পূরণের জন্য, এমনকি তারা যদি সমাজের সর্বনিকৃষ্টও হয়।

৩. শূরার রায় যে সর্বদা সঠিক হয়, তা নয়। তাই যদি তিনি উত্তম বিকল্প পান, অথবা মান্য না করায় কল্যাণ আছে বলে মনে করেন তাহলে শূরার রায় মানতে ন্যায়বান শাসক বাধ্য নন। অথচ গণতন্ত্রের ক্ষেত্রে তা ব্যাপারটা বিপরীত। গণতন্ত্রে যে রায় আসবে সেটাই মানতে হবে।

৪. শূরাতে এমন কোন সিদ্ধান্ত ও আইন নিয়ে আসা হয় না, যা জনগণের উপর চাপিয়ে দেয়া হয়। অথচ গণতন্ত্র সিদ্ধান্ত জোর করে চাপিয়ে দেয়া হয়।

এসব পার্থক্য ছাড়াও, গণতন্ত্র এবং শূরার মধ্যে আরও বেশ কিছু পার্থক্য আছে। এই ইস্যুতে বেশ কিছু ভালো বই আছে, সেগুলো পড়লে ব্যাপারগুলো আরো স্পষ্ট হবে।

এবং বিভিন্ন দিক থেকে সংসদে অংশগ্রহণ করা মারাত্মক মুনকার (মন্দ), বেশ কয়েকটি দিক থেকে –

১. জনগণের আইনকে স্বীকৃতি দেয়া। সংসদ হল একটি বিধানসভা, যা আইন প্রণয়ণ করে। তাই এতে অংশগ্রহণ করার অর্থ হল, যে সংসদে অংশগ্রহণ করছে সে আল্লাহর ব্যাতীত অপর বিধানদাতার স্বীকৃতি দিচ্ছে, যা সুস্পষ্ট কুফর। এমনকি ইসলামপন্থীরাও যদি সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়, এবং সংবিধানকে ইসলামসম্মত করে, তবুও সেটা আল্লাহর বিধান, আল্লাহর আইনের শাসন বলে বিবেচিত হবে না। বরং এটা জনগনে শাসন হিসেবেই বিবেচিত হবে। কারণ এটা করা হয়েছে জনগণের ইচ্ছে অনুযায়ী, আল্লাহর নির্দেশ অনুযায়ী না। তাই যখন সংসদ সদস্য পরিবর্তন হয়, তখন আইনও বদলে যায়। সুতরাং এটি কখনোই শরীয়াহর শাসন না।

শরীয়াহ বাধ্য করে, নিয়ন্ত্রন করে, শর্তহীন শাসন করে। যারা একে অস্বীকার করে তাদেরকে তরবারী দ্বারা আঘাত করে আস্তাকুঁড়ে নিক্ষেপ করে, আর এ কাজের আগে আমরা পক্ষ-বিপক্ষের ভোট গুনতে বসি না।

২. এছাড়াও সংসদে অংশগ্রহণকারী প্রত্যেককে সংবিধানকে সম্মান করার শপথ করতে হয়, যে সংবিধানটি মূলত কুফর ছাড়া কিছুই নয়। এছাড়াও এর মধ্যে রয়েছে আরো অনেক মুকাফফিরাত, আর এই সংবিধানকে সম্মান করাও কুফর। তাহলে কীভাবে আপনি এই সংবিধানের ওপর শপথ করেন? কীভাবে এ সংবিধানকে সম্মান ও বাস্তবায়নের শপথ করেন!

৩. যাদেরকে ইসলামপন্থী বলা হয় তারা সংসদে যাবার জন্য দ্বীনের অনেক বিষয়ের ব্যাপারে ছাড় দেয়, দিয়ে আসছে। কিন্তু সংসদে যাবার জন্য দ্বীনের ব্যাপারে যা কিছু তারা ছাড় দিয়েছে তার ভগ্নাংশও তারা অর্জন করতে পারেনি। বর্তমান অবস্থা খেয়াল করলেই আপনারা তা ভালো করেই বুঝবেন।

 

শাইখ আহমাদ শাকির (রহ) তার উমদাতুল তাফসীরে আল্লাহর বাণী, এবং পরামর্শ করো তাদের সাথে” [আলী ইমরান: ১৫৯] এর আলোচনায় খুব সুন্দর ভাবে শূরার সাথে গণতন্ত্রের তুলনা করে দেখিয়েছেন। যারা গণতন্ত্রকে শূরার একটি প্রকারভেদ বলে দাবি করে এবং নির্বাচনে অংশগ্রহণের আহবান করে, এখানে শাইখ আহমাদ শাকির তাদের সুন্দর জবাব দিয়েছেন। তাই আমি আপনাদের বলবো শাইখের উমদাতুল তাফসির পড়ে দেখুন, কারণ এতে এমন কথা আছে যা স্বর্ণাক্ষরে লিখে রাখার মত।

৯/১১ হামলার ব্যাপারে শাইখ নাসির আল-ফাহদের ফতোয়া

আস সালামু আলাইকুম, আপনার উপর আল্লাহর রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক

সম্মানিত শায়খ, ভিসা কি শার’ঈ আমান (নিরাপত্তা চুক্তি) হিসেবে গণ্য হবে? যদি ভিসা শার’ঈ আমান হিসেবে গণ্য হয় তাহলে যেসব মুজাহিদীন অ্যামেরিকার টুইন টাওয়ারে হামলা চালিয়েছেন তারা কি শার’ই চুক্তি ভঙ্গকারী হিসেবে গণ্য হবেন?

Continue reading

আল্লাহর পথে ৮ টি বাঁধা – শায়খ ইউসুফ আল উয়াইরি রহঃ

কোন জিনিসগুলো আল্লাহর রাস্তা থেকে মানুষকে আটকে রাখে? কীভাবে দুনিয়া মানুষকে বিভ্রান্ত করে? পড়ুন শায়খ ইউসুফ আল উয়াইরির রহঃ অনবদ্য রচনা…

 

ডাউনলোড

ডাউনলোড