শায়খ ইবনে বাজ: “কল্পনা বনাম বাস্তবতা!”

শায়খ আবু মুহাম্মাদ আইমান

ডাউনলোড

আমি কিছু মুসলমানকে শায়েখ ইবনে বাজের ফতোয়াকে প্রচার করতে শুনেছি- যিনি মুসলমানদের মসজিদে নামাজ পড়তে আহবান করেন। আবার ইজরাইলের সাথে ব্যবসাসহ অন্যান্য লেন-দেনকে বৈধ সাব্যস্ত করেন।

অতপর আমি ইজরাইলের প্রধানমন্ত্রী ইসহাক রাবীনের পক্ষ থেকে ইবনে বাজকে শুভেচ্ছা প্রদানের কাহিনী ও শুনেছি। আর এই ধরনের ব্যাক্তি থেকে এমন কান্ড প্রকাশ পাওয়ায় আমি তেমন আশ্চর্যও হইনি যেমনটা অনেক মানুষ হয়েছে। কারণ তার ক্ষেত্রেও আমার আদর্শ হল, ব্যাক্তির পদস্খলনকে কখনোই আকড়ে ধরা হবে না; যদিও অনেকেই তাকে বড় মনে করে থাকে।

আমার অক্ষম বচন ও দূর্বল মেধা দ্বারা এটাই বুঝতে পেরেছি যে, একজন ব্যাক্তির পক্ষে দ্বীনি নেতৃত্ব, ফতোয়া ও তা’লীমের কাজ, আবার সৌদি রাজপরিবারের দ্বীনি উঁচু পদে দায়িত্ব পালন সম্ভব না। কারন সৌদি হচ্ছে আমেরিকার গোলাম। তাহলে কীভাবে সে ঐ ব্যাক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ পদের দায়িত্ব অর্পণ করতে পারে যখন সে আমেরিকার গোলাম হয়ে কাজ করে।

এটা তখনই সম্ভব যখন ঐ ব্যাক্তিকে উক্ত পদের দায়িত্ব অর্পণে সৌদি রাজপরিবারের কোন ফায়দা নিহিত থাকে। যারা মুসলমানদের উপর শক্তির বলে শাসন করে যাচ্ছে। আর যদি শায়খ থেকে তাদের বিরোধীতা ও রাজত্ব ধ্বংসের সম্ভাবনা থেকেও থাকে তাহলেও তারা তাঁকে গ্রহন করে নিবে তাকে বিরোধীতা, লড়াই থেকে চুপ করানোর জন্য। কারণ বিরোধীদের সাথে সৌদির ইতিহাস সবারই জানা।

অবশ্য এই সব কথা দ্বারা আমার উদ্দেশ্য হচ্ছে যে,ইবনে বাজ ও তার আদর্শের শায়েখদের মানুষ দ্বীনি ব্যাপারে নেতৃত্বের আসন দিচ্ছে,তাদেরকে ফতোয়ার নির্ভরযোগ্য পাত্র মনে করছে,দ্বীনি বিষয় যেমন আক্বীদা ও তাওহীদের ক্ষেত্রে তাদের লেখা, বক্তব্যকেই গ্রহন করছে, দ্বীনের স্পর্শকাতর বিষয় তথা মুরতাদ শাসকদের ক্ষেত্রেও যারা মুসলিম দেশগুলোতে রাজত্ব করছে।

আর তার মাযহাবী (অন্ধ) তাকলীদ বা অনুসরণ থেকে মানুষকে অনুৎসাহিত করা সত্ত্বেও মানুষ এই তায়েফার অনুসরণ করে।এমনকি শত শত যুবক এদের অনুসারীতে পরিণত হয়েছে। ফলে তা একটি গ্রহনযোগ্য বিষয় হয়ে গেছে। এমনকি ড. সফর আল হাওয়ালীর মত আলেমে দ্বীনও সুস্পষ্টভা ষায় বলছে যে, দেশকে নৈরাজ্য থেকে রক্ষা করতে গনতন্ত্রের কোন বিকল্প নেই।

অথচ উনার সামনে জাযায়েরের (আলজেরিয়া) ঘটনা স্পষ্ট। তারপরও তিনি ইবনে বাযের মতকেই গ্রহন করেছেন। তো উনার মত ব্যাক্তির যদি এই হালত হয় যিনি তাওহীদের শিক্ষাদানে দীর্ঘ সময় কাটিয়েছেন। এমনকি জাতীয়তাবাদ নিয়ে কিতাবও লিখেছেন; তাহলে অন্যদের ব্যাপারে তোমার ধারনা কি?

হাজার হাজার যুবক ইবনে বায, উসাউমিন ও আবূ বকর আল- জাযায়েরীর মত ব্যাক্তিদের অনুসরণে আবদ্ধ হয়ে আছে। অন্ততপক্ষে তারা এদের থেকে চরম বিচ্যুতি ও ভ্রান্তি প্রকাশ পেলেও বিরোধীতা করার সাহস করবে না।

আর আমি অবাক হই যে,মানুষ কিভাবে এমন কাউকে দ্বীনের ব্যাপারে অনুসরণ করে যার আল্লাহর রাস্তায় কোন ত্যাগ নেই এবং কোন পরীক্ষার সম্মুক্ষীন ও হয়নি। বরং যে তাগুতের প্রতিরক্ষা করে গেছে তাকে মানুষ কিভাবে তাগুতের রক্ত ও তার রাজত্ব বিলীনের প্রশ্ন করতে পারে!

সুতরাং এখন যুবকদের সময় এসেছে এই সব নামের অন্ধ অনুসরণ থেকে মুক্ত হওয়া, যারা তাগুতের নিফাকের ছত্রছায়ায় থেকেছে। সময় এসেছে সত্যবাদী আলেমদের দ্বারস্থ হওয়া, যারা আল্লাহর দ্বীনকে সহযোগীতা করছেন এবং সম্মুখীন হয়েছেন অনেক কষ্ট- ক্লেশের। যাদের বর্ণনা আল্লাহ তা’আলা এভাবে দিয়েছেন

“আর তাদের মাঝে আমি এমন কিছু নেতা বানিয়েছি যারা আমার নির্দেশেই পথনির্দেশ করে যখন তারা ধৈর্য্য ধারণ করে।আর আমার নিদর্শনসমূহকে তারা বিশ্বাস করে।”

যুবকদের সময় এসেছে এই অসম্পূর্ণতা থেকে বের হয়ে আসা, যার মাঝে যারা জীবন- যাপন করছে। আর এই উপলদ্ধি করা যে, ইসলাম ও কুফর, হক ও বাতিলের যুদ্ধ অবশ্যম্ভাবী যার থেকে কোন গাঁ-বাঁচানো চলবে না। আর আমরা চেয়েছিলাম এই সব আলেমদের ব্যাপারে চুপ থাকতে। যদিও তারা এই চুপ থাকাতে সন্তুষ্ট এবং এমন সব কথাই বলে বেড়ায় যা তাগুতকে অসন্তুষ্ট করে না।

কিন্তু এরা যুবকদের আক্বীদা বিনষ্ট করছে, তাগুতদের কুফরীকে শোভনীয় করে তুলছে, সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধের বিরোধীতা করছে, জাযীরাতুল আরবে আমেরিকান ক্রুসেডারদের আক্রমনের বৈধতা সাব্যস্ত করছে, মুসলিম রাষ্ট্রগুলোতে ইহুদীদের নিকৃষ্ট রাজনৈতিক রূপরেখার প্রয়োগকে বরকতময় করে তুলছে!

আর এগুলো এমন বিষয় যার অন্তরে প্রাণ আছে এবং সামান্য ঈমান আছে সে এর থেকে চুপ থাকতে পারে না। আর আমি জানি যে, অনেক বড় বড় শায়খ আমার এইসব কথা বাড়াবাড়ি মনে করবেন, যারা শুধু ধারনার জগতেই বসবাস করছে।

অথবা যারা আমার সাথে একমত কিন্তু সুস্পষ্ট ভাষায় বলার সাহস পাচ্ছে না এই ভয়ে যে মানুষ উলামাদের মানহানি করার অপবাদ দিবে কিংবা দীর্ঘকাল ধরে চলে আসা বিষয়ের বিরোধীতা তারা করতে পারবে না বলে।

কিন্তু সত্য প্রস্ফুটিত আর মিথ্যা বিতাড়িত। নিশ্চয়ই ইবনে বায ও তার দরবারী আলেমদের দল অর্থ এবং উঁচু পদের বিনিময়ে আমাদেরকে শত্রুদের কাছে বিক্রি করে দিচ্ছে।

নিশ্চয় কাফেরদের মুখোমুখি হওয়ার আগে মুমিনদের কাফেলাকে নিশ্চয় মুনাফিক ও ভ্রান্তদের থেকে পবিত্র করতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *