যুগের পরিবর্তনের সাথে ফতোয়ার পরিবর্তনের মানে কী?

মুফতী তাকি উসমানি (দা বা)

পশ্চিমাদের গুণমুগ্ধ আধুনিক কিছু মডারেট মুসলিম ও ইসলামী রাজনীতির দোহাই দিয়ে যত্রতত্র দীনী বিকৃতিতে লিপ্ত ভাইদের বহুল প্রচলিত একটি সংশয় নিরসনে আলোচনা করছেন মুফতি তাকি উসমানি (দা বা)

এ কথা বলা হয় যে, যুগ পরিবর্তন হয়েছে। অবস্থার মধ্যে পরিবর্তন এসে গেছে। সুতরাং বর্তমান সময়ে হুকুমের পরিবর্তন হওয়া উচিত। সেই সঙ্গে নিচের কথাটিও খুব বেশি বলা হয়।

الا حكام تغير بتغير الزمان

‘যুগের পরিবর্তনের কারণে হুকুমের পরিবর্তন হবে’

এবং

الفتوي تغير بتغير الزمان

আমাদের ফকিহগণই এ কথা লিখেছেন। কিন্তু আমি যাদের সঙ্গেই এ বিষয়ে কথা বলেছি তারা সেটিকে ইজতিহাদের পূর্বের উদ্দেশ্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত করেন। শুরুতে যার আলোচনা করেছি, সেটির সঙ্গে সম্পৃক্ত করে তারা বলেন, যুগের পরিবর্তনের উদ্দেশ্য হলো, যুগের পরিবর্তনের কারণে যদি হিকমাত ও উপকারিতা পরিবর্তিত হয়ে যায়, (তাদের ধারণা যে এ অবস্থাতে) তাহলে হুকুমের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন হওয়া উচিত।

সুতরাং এখানে বোঝার বিষয় হলো, হুকুমে যে পরিবর্তন আসে, সেটি ইল্লতের পরিবর্তনের কারণে আসে। হিকমাত বা উপকারিতার পরিবর্তনের কারণে নয়। যে জিনিসকে শরিয়ত কোনো হুকুমের ইল্লত সাব্যস্ত করেছে, সেটি পরিবর্তনের কারণে হুকুমে পরিবর্তন হবে।

অর্থাৎ কোথাও যদি শরিয়তের পক্ষ থেকে নির্ধারিত ইল্লতের অনুপস্থিতি ঘটে, তাহলে হুকুম পরিবর্তন হয়ে যাবে। কিন্তু যদি ইল্লত বাকি থাকে। আর শুধু আমাদের চিন্তা ও ধারণাতে তার হিকমাত না পাওয়া যায়, তাহলে সে কারণে হুকুমে কোনো পরিবর্তন আসবে না।

হুকুমের মূল ভিত হলো ইল্লত, হিকমাত নয়

নিয়ম হলো, হুকুমের মূল ভিত্তি হলো ইল্লতের ওপর, হেকমতের ওপর নয়। এটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং এটিকে দৃষ্টিতে না রাখার কারণে অনেক ভ্রান্তির জন্ম হয়।

যারা ইজতিহাদের দাবি করে, তাদের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। তারা হিকমাতকে ইল্লত সাব্যস্ত করে। এ কারণেই তারা বলে যে হুকুম পরিবর্তন হয়ে গেছে।

একটি বাস্তবিক উদাহরণ

বর্ণিত নীতিটির ফিকহি উদাহরণ দেয়ার আগে একটি বাস্তবিক উদাহরণ দিচ্ছি। কেননা, অনেক সময় ফিকহি উদাহরণে ইল্লত ও হেকমতের মধ্যে পার্থক্য বোঝা কঠিন হয়ে যায় এবং সাধারণ মানুষ ইল্লত ও হেকমতের মধ্যে পার্থক্য বোঝে না। এ কারণে একটি বাস্তব উদাহরণ দিচ্ছি, যেনো ইল্লত ও হেকমতের মধ্যকার পার্থক্যটি বুঝে আসে। আর সেটা এই যে, আমরা যখন গাড়ি চালাই তখন দেখি চৌরাস্তায় সিগনাল লাগানো থাকে। আইন রয়েছে যে, লাল বাতি জ্বললে গাড়ি থামিয়ে রাখতে হবে, সে সময়ে গাড়ি চালানো নিষেধ। আর সবুজ বাতি জ্বললে গাড়ি চালাবে, এখন গাড়ি চালানো বৈধ।

লাল বাতি জ্বলাকালীন সময়ে থেমে যাওয়া হলো হুকুম। লাল বাতি জ্বলা তার ইল্লত। আর দুর্ঘটনা থেকে বঁচে থাকা হলো হিকমাত।

এখন থেমে যাওয়ার যে হুকুম সেটির মূল ভিত্তি কি লাল বাতি জ্বলার ওপর না কি দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে থাকার ওপর?

ধরে নিন আপনি গাড়ি চালাচ্ছেন। ফাঁকা রাস্তা পড়ে আছে। দূর পর্যন্ত অন্যকোনো গাড়ি চোখে পড়ছে না। অন্য দিকে লাল বাতি জ্বলছে। তাহলে এমন সময় থেকে যাওয়ার হুকুম কার্যকরী হবে কি না? স্পষ্ট কথা যে, থেমে যাওয়ার হুকুম কার্যকরী হবে। অথচ তখন থেমে যাওয়ার হুকুমটি অর্থক বলে মনে হয় এবং থেমে থাকার কারণে সময়ের অপচয় হয়। কেননা, তখন সংঘর্ষের কোনো আশঙ্কা নেই। সোজা পথে চললে কোনো গাড়ির সঙ্গে সংঘর্ষ লাগবে না।

কিন্তু তারপরও থামতে হচ্ছে। কেন থামতে হচ্ছে?

কেননা, তার ইল্লত বিদ্যমান। যদিও হিকমাত দৃষ্টিগোচর হচ্ছে না। এখান থেকে বোঝা যায় যে, হুকুমের মূল ভিত্তি হলো ইল্লতের ওপর, হেকমতের উপর নয়।

যদি গভীর দৃষ্টিতে দেখা হয়, তাহলে ফাঁকা রাস্তা হওয়ার পরও সেখানে লাল বাতি জ্বালিয়ে রাখার মধ্যেও হিকমাত রয়েছে। আসল হিকমাত হলো, প্রত্যেককে যদি এই স্বাধীনতা দেওয়া হয় যে, সংঘর্ষের সম্ভাবনা আছে কি না এ ব্যপারে তুমি নিজে সিদ্ধান্ত নিবে। যদি সংঘর্ষের সম্ভাবনা থাকে, তাহলে তুমি থেমে যাবে।

আর সংঘর্ষের আশঙ্কা না থাকলে গাড়ি চালাবে। সবাইকে যদি এমন স্বাধীনতা দেওয়া হয়, তাহলে অরাজকতা ছড়িয়ে পড়বে। যুদ্ধ বেঁধে যাবে। কেননা, প্রত্যেকে তার ইচ্ছা অনুযায়ী সে স্বাধীনতা ব্যবহার করবে এং সে কারণে লাল বাতি লাগানোর উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে।

এটি একটি বাস্তবিক উদাহরণ। যার মাধ্যমে এ কথাটি খুব ভালোভাবে বুঝে আসে যে, শরিয়তের হুকুমের মূল ভিত্তি হলো ইল্লত। হেকমতের ওপর নয়।

ইল্লতের অর্থ

ইল্লতের অর্থ হলো, এমন গুণ বা আলামত শরিয়ত যার ওপর হুকুমের ভিত্তি রেখেছে।

ইল্লতের ওপর হুকুমের মূলভিত্তি হওয়ার প্রথম ফিকহি উদাহরণ

প্রথম উদাহরণ

ফিকহি উদাহরণ দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রথমে সে উদাহরণটি দেবো, যা শুরুতে উল্লেখ করেছি। আর সেটি এই যে, নামাজে কসর করার ইল্লত হলো সফর। আর হিকমাত হলো কষ্ট থেকে বাঁচা। এখন হুকুমের মূল ভিত্তি হলো সফর। সফর হলেই সেখানে কসর করতে হবে। চাই বিশেষ কোনো সফরে কষ্ট না হোক। যেমন-উড়োজাহাজে করে সফর করে প্রথম শ্রেণীতে যাওয়া এবং হোটেলে অবস্থান করা।

বাহ্যিক দৃষ্টিতে এমন সফরে কোনো কষ্ট হয় না। সুতরাং সেখানে হিকমাত পাওয়া যাচ্ছে না। বরং অনেক সময় আমাদের মতো মানুষ যারা এখানে থাকা অবস্থায় খুব বেশি ব্যস্থ থাকে এবং নামাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত বিষয়গুলো আদায় করা কঠিন হয়ে পড়ে। কিন্তু আমরা যখন সফরে যাই এবং সে সম্পর্কে কেউ জানতে পারে না।

তখন সফরের মধ্যে আমি এতো বেশি সময় পাই যে, একাগ্রচিত্তে নফল নামাজ ও তেলাওয়াত সব কিছু হতে থাকে। সুতরাং এমন বিশেষ সফরে কোনো কষ্ট হয় না। কিন্তু সে কারণে হুকুমে কোনো পরিবর্তন আসে নি। কেননা, মূল ইল্লত সফর পাওয়া গেছে। সব শরয়ী বিধানের ক্ষেত্রে অনুরূপ হুকুম হবে।

দ্বিতীয় উদাহরণ

কুরআনুল কারিমে মদের হিকমাত বর্ণনা করা হয়েছে। বর্ণিত হয়েছে-

{إِنَّمَا يُرِيدُ الشَّيْطَانُ أَنْ يُوقِعَ بَيْنَكُمُ الْعَدَاوَةَ وَالْبَغْضَاءَ فِي الْخَمْرِ وَالْمَيْسِرِ وَيَصُدَّكُمْ عَنْ ذِكْرِ اللَّهِ وَعَنِ الصَّلَاةِ} [المائدة: 91]

‘শয়তান মদ ও জুয়ার মাধ্যমে শত্রুতা ও ক্রোধ সৃষ্টি করতে চায় এবং আল্লাহর স্মরণ ও নামাজ থেকে বাধা দেবে।’ (সুরা মায়েদা – ৯১)

 

বর্তমানের দাবিদাররা এ কথা বলে যে, এখনকার রিফাইন করা মদের মাধ্যমে শত্রুতা ও ক্রোধ সৃষ্টি হয় না। বরং বন্ধুত্ব সৃষ্টি হয়। এ কথাটি রক্ষা করতে ইংরেজিতে প্রসিদ্ধ বাক্য রয়েছে যে, নেশা সুস্থতা এনে দেয়। নেশা কষ্টকে লাঘব করে। সুতরাং সেটি পানে কি আর ক্ষতি হবে? তার মাধ্যমে তো বন্ধুত্ব সৃষ্টি হচ্ছে।

সুতরাং কেউ যদি বলে যে, এখানে তো কোনো শত্রুতা বা আক্রোশ সৃষ্টি হচ্ছে না, তাই তা হারাম হওয়ার হুকুম শেষ হয়ে গেছে। তার এ কথাটি গ্রহণ করা হবে না। কেননা, সেটি হলো হিকমাত, ইল্লত নয়। তাহলে তার ইল্লত কি?

মদ হারাম হওয়ার ইল্লত নেশা নয়, বরং মদ হওয়াটাই ইল্লত

মদ হারাম হওয়ার আসল ইল্লত সেটি নয়, যা মান্তেকের কিতাবে আমরা যা পড়েছি। অর্থাৎ নেশা হওয়া মদ হারাম হওয়ার ইল্লত নয়। নেশা হওয়া যদি সেটি হারাম হওয়ার ইল্লত হতো, তাহলে নেশা হয় না, এতোটুকু পরিমাণ মদ পান করা জায়েজ হতো। কেননা, তার মধ্যে তো নেশা পাওয়া যায় নি।

আর বর্তমানে মদপানে অভ্যস্ত এমন অনেক লোকের প্রকৃত অর্থে নেশাই আসে না। বাস্তবে নেশা তার ইল্লত নয়। বরং মদ হারাম হওয়ার ইল্লত হলো সেটি মদ হওয়া। মদ হওয়াটিই তার প্রকৃত ইল্লত। যেখানেই মদের বাস্তবতা পাওয়া যাবে, সেখানেই হারাম হবে। যদিও হারাম হওয়ার যে হেকমতের কথা (শত্রুতা ও আক্রোশ সৃষ্টি হওয়া) বলা হয়েছে সেটি না পাওয়া যায়।

অনেক ফকির ভন্ড দরবেশ এবং মিথ্যুক সুফি মদ পান করে বলে, মদ পানে আমাদের তো আল্লাহর কথা স্মরণ আসে। সুতরাং তার হিকমাত না পাওয়ার কারণে সেটি হারাম হওয়ার হুকুম শেষ হবে না।

 

ইল্লত ও হেকমতের মধ্যে পার্থক্য

এই বাস্তবতাকে একটু ভালোভাবে নেওয়া আবশ্যক যে, সব সময় এমন জিনিস ইল্লত হয়, যার অস্তিত্ব হওয়া না হওয়ার বিষয়ে কোনো ধরনের মতানৈক্য থাকে না, ভিন্নমত হয় না। সেটি হওয়া না হওয়ার বিষয়টি সবাই একেবারে স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করতে পারে। সেটি এমন অস্পষ্ট বা সংক্ষিপ্ত জিনিস হয় না যে, তার সম্পর্কে একজন বলবে ইল্লত পাওয়া গেছে, আর অন্যজন বলবে ইল্লত পাওয়া যায় নি।

বরং সব সময় সেটি স্পষ্ট জিনিস হয়। যা পাওয়া যাওয়া না যাওয়ার বিষয়টি স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব হয়। উদাহরণস্বরূপ এটি মদ কি না? বিষয়টি একবারেই স্পষ্ট বিষয়। এটি সফর কি না? একটি স্পষ্ট বিষয়। তবে হিকমাত এর বিপরীত। সেটি স্পষ্ট হয় না।

কেননা, সেটি নির্ধারণের নির্দিষ্ট কোনো মানদন্ড থাকে না। সেটি নির্ধারণ করা কঠিন। যেমন- সফরে কষ্ট হওয়া।

এখন কষ্ট নির্ধারণের জন্য এমন কোনো মানদন্ড নেই, যেটি এ কথা বলে দেবে যে, ভাই এই পরিমাণ কষ্ট হলে সফরে কসর করা যাবে, আর এ পরিমাণ না হলে কসর করা যাবে না। যেমন- বাসে চড়ে আপনি গৌরঙ্গি থেকে শহরে এসেছেন। অনেক সময় এমন যাত্রাতে এতো কষ্ট হয় যে, বিমানে করে লাহরে গেলেও সে পরিমাণ কষ্ট হয় না। যার কারণে নামাজ কসর করতে হবে।

সুতরাং কষ্ট এমন একটি অস্পষ্ট বিষয়, যার ব্যপারে কেউ বলে আমার কষ্ট হয়েছে, আর কেউ বলে আমার কষ্ট হয়নি। কষ্টকে নেশার ক্ষেত্রেও একই কথা। নেশা লাগার ওপর যদি মদ হারামের ভিত্তি রাখা হতো, তাহলে কেউ বলতো আমরা নেশা লেগেছে, আর কেউ বলতো আমার নেশা লাগে নি। সুতরাং আমার জন্য মদ পান করা জায়েজ আছে।

তৃতীয় উদাহরণ

অনুরূপভাবে সুদের ব্যপারে কুরআনুল কারীমে বর্ণিত হয়েছে-

{وَإِنْ تُبْتُمْ فَلَكُمْ رُءُوسُ أَمْوَالِكُمْ لَا تَظْلِمُونَ وَلَا تُظْلَمُونَ} [البقرة: 279]

‘তোমরা যদি তওবা করো, তাহলে আসল সম্পদ নিত পারবে। তোমরা জুলুম করো না। তোমাদের ওপরও জুলুম করা হবে না। (সুরা বাকারা:২৭৯)

জুলুম থেকে বাঁচানো সুদের ইল্লত নয়, বরং হিকমাত

সুদের হিকমাত হলো, তুমি অন্যের ওপর জুলুম করবে না এবং অন্য কেউ তোমার ওপর জুলুম করবে না। মানুষেরা এই হিকমাতকে ইল্লত বানিয়ে দিয়েছে। তাদের ধারণা অনুযায়ী বর্তমান সময়ের ব্যাংকের সুদের মধ্যে জুলুম নেই, তাই এটি হালাল। অথচ এটি কোনো ইল্লত ছিলো না, হিকমাত ছিলো।

এখন এই জুলুম এমন একটি বিষয় যা মাপার কোনো মানদন্ড নেই। বিবেকের ওপরই যদি তার মূল ভিত্তি রাখা হতো, তাহলে ওহি আসার কি প্রয়োজন ছিলো?

প্রত্যেকেই বলতে পারতো যে, এই লেনদেনে কোনো জুলুম (Transection) নেই। এটির মধ্যে নেই। ওই লেনদেনের মধ্যে বাড়াবাড়ি হচ্ছে। এটির মধ্যে হচ্ছে না।

এ ধরনের ক্ষেত্রে মানুষের মতামতের ভিন্নতা হতো। আর এর জন্য কোনো তুলোরাশি এবং স্বচ্ছ মানদন্ড নির্ধারণ করা সম্ভব হতো না। সুতরাং এটির মধ্যে ইল্লত হওয়ার যোগ্যতা নেই। মনে রাখবেন, সব সময় জিনিসি ইল্লত হয়ে থাকে। আর সে ইল্লত হলো সুদ এবং সুদের সংজ্ঞা হলো –

الزيادة المشروطة في القرض

‘ঋণে শর্তকৃত অতিরিক্ত বস্তু।’

সুতরাং যেখানেই অতিরিক্ত পাওয়া যাবে, সেটি সুদ হবে। আর যখন সুদ হবে, তখন সেটি হারাম হবে। ইল্লত ও হেকমতের মধ্যের পার্থক্য বোঝার জন্য এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট।

আর সেই সঙ্গে এটিও গুরুত্বপূর্ণ যে, হুকুমের মূল ভিত্তি হলো ইল্লতের ওপর, হেকমতের ওপর নয়। এটি যদি বুঝে আসে, তাহলে অগণিত ভ্রান্তির দরজা বন্ধ হয়ে যাবে।

 

ইজতিহাদের ব্যপারে পাওয়া ভ্রান্ত দর্শনের কারণসমূহ

আজকের আলোচনার সারসংক্ষেপ হলো যে, ইজতিহাদের পক্ষে যে শ্লোগান তোলা হয় এবং বিশেষ করে নতুন শিক্ষার্থীদের মধ্যে সে সম্পর্কে যে ভ্রান্ত দর্শন পাওয়া যাচ্ছে সেগুলোর মোট তিনটি কারণ রয়েছে।

১. প্রথম কারণ হলো, মানুষেরা ইজতিহাদের উদ্দেশ্য এই মনে করে যে, তার মাধ্যমে কুরআন-হাদিসের বিপক্ষে কোনো শিথিলতা বা সহজ পাওয়া যাবে। কিন্তু ইজতিহাদের মাধ্যমে যদি কোনো কষ্ট সৃষ্টি হয় অথবা এমন পরিবর্তন হয় যে, তার কারণে পূর্বের জায়েজ কাজটি এখন না জায়েজ হয়ে গেছে। তাহলে সেটিকে এমন মনে করে যে, এখানে ইজতিহাদই হয়নি।

২. দ্বিতীয় কারণ এই যে, তাদের মাথায় ইজতিহাদের দরজা বন্ধ হওযার সঠিক ব্যাখ্যা স্পষ্ট নয়। এ কারণে তাদের মধ্যে ভ্রান্ত দর্শনের সৃষ্টি হয়েছে।

৩. তৃতীয় কারণ হলো, যুগের পরিবর্তনের ওপর নির্ভর করে যে ইজতিহাদের দাবি করা হয়, সেখানে ইল্লত ও হেকমতের মধ্যের পার্থক্য বোঝে না। সে কারণে এই ভ্রান্ত দর্শনের সৃষ্টি হয়েছে।

এই তিনটি বিষয় যদি মস্তিষ্কে বসে যায়, তাহলে (ইনশা-আল্লাহ) ইজতিহাদের বিষয়ে যেসব ভ্রান্তি আসছে তার সবগুলোর যুক্তি ও দলিলের আলোকে স্পষ্ট উত্তর দেওয়া যাবে। যুগের পরিবর্তনের বিষয়ে (ইনশা-আল্লাহ) আগামী কোনো মজলিসে বিস্তারিত আলোচনা করবো।

وأخر دعوانا عن الحمد لله رب العلمين

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *