ষড়যন্ত্রের কবলে পর্দা!

হাকিমুল উম্মাহ শায়খ আইমান

আমার আজকের এই বার্তা, বিশেষভাবে মুসলিম মা-বোনদের উদ্দেশ্যে। তাদের মধ্য থেকে বিশেষ করে যারা পর্দার বিধান মেনে চলেন তাদের উদ্দেশ্যে।

হে মুসলিম মা-বোনেরা! এ বিষয়টি অবশ্যই সকলেরই জানা যে, আজ আমাদের উম্মতের উপর পৃথিবীর সর্বত্র সামগ্রিকভাবে যুদ্ধ চলমান। সামরিক, রাজনৈতিক, মনস্তাত্বিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক, আক্বিদাগত, শিক্ষাগত ইত্যাদি সকল দিক থেকে। 

আর মুসলিম জাতি যাদেরকে এই যুদ্ধের কারণ মনে করে তারা হচ্ছে “আধুনিক বিশ্বব্যবস্থাপক”। যার নেতৃত্বে রয়েছে অপরাধীদের মধ্যকার সবচে বড় অপরাধী।

মুসলিম উম্মাহ নিজেদের দুর্বলতা সত্ত্বেও, কেউ কেউ শরীয়তের কিছু অংশের উপর আমল না করলেও সবাই এ বৈশ্বিক অপরাধী আধুনিক ব্যবস্থাপনাকে সবার জন্য সবচে বড় বিপদ বলে বিশ্বাস করে থাকে।

মুসলিম উম্মাহ তো হলো একনিষ্ঠ তাওহীদের উম্মাহ। আর ওরা হলো শিরকের উপর প্রতিষ্ঠিত জাতি। যদিও তাদের অনেকেই বর্তমানে বস্তুগত ইট-পাথরের মূর্তিকে ছেড়ে দিয়েছে। কিন্তু ইট-পাথরের মূর্তির চেয়েও তাদের বর্তমানে পূজিত অধিকাংশের প্রবৃত্তি, শক্তি-ক্ষমতা, কুপ্রবৃত্তি, বস্তুগত স্বার্থের মূর্তিগুলো আরো জঘন্যতম।

এগুলোর সবকটি নাস্তিক্যবাদ, জাতীয়বাদভিত্তিক ঝগড়া ও শক্তিশালীদের জন্য আন্তর্জাতিক আইনানুগতায় মিশ্রিত।

মুসলিম উম্মাহ তো হচ্ছে পবিত্রতা ও নিস্কলুষতার জাতি। আর ওরা হলো কুপ্রবৃত্তি, কুপ্রবৃত্তির সরঞ্জামের কারিগর ও তার ব্যবসাকারী জাতি।

মুসলিম উম্মাহ তো হলো আল্লাহর রাস্তায় সর্বদা জিহাদকারী উম্মাহ। আর ওরা হলো অন্যায় হত্যা, লুণ্ঠন, অপহরণ, ধ্বংসযজ্ঞ ও আগ্রাসনকারী জাতি। যেগুলোকে তারা শান্তি, কল্যাণ ও স্থিতিশীলতার নাম দেয়।

কাফেরগোষ্ঠী এটি ভালো করেই বুঝে যে, শরীয়াহ এবং আক্বিদাকে আঁকড়ে ধরা মুসলিম জাতির শক্তি ও অবিচলতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। আর এটা তারা বুঝতে পেরেছে শতাব্দীর পর শতাব্দী চলে আসা ইসলাম ও মুসলিমের বিরুদ্ধে কৃত যুদ্ধের অভিজ্ঞতা থেকে।

এই জন্য তারা মুসলিম জাতিকে তাদের এই আক্বিদা-বিশ্বাস ও শরীয়ত থেকে বিচ্ছিন্ন করার জন্য সম্ভাব্য সকল উপায়-উপকরণ নিয়ে উঠে পড়ে লেগেছে। তাই তারা মুসলমানদের চিন্তা-চেতনা, আক্বিদা-বিশ্বাস, শিক্ষা-দীক্ষা, মিডিয়া ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি সকল ক্ষেত্রে আক্রমণ হেনে যাচ্ছে।

তারা চায় আমরা যেন আমাদের তাওহীদকে ছেড়ে দেই। আল্লাহ তা‘আলা সত্যই বলেছেন। তিনি এরশাদ করেছেন-

وَلاَ يَزَالُونَ يُقَاتِلُونَكُمْ حَتَّىَ يَرُدُّوكُمْ عَن دِينِكُمْ إِنِ اسْتَطَاعُواْ… ﴿البقرة: ٢١٧﴾

“বস্তুতঃ তারা তো সর্বদাই তোমাদের সাথে যুদ্ধ করতে থাকবে, যাতে করে তোমাদিগকে দ্বীন থেকে ফিরিয়ে দিতে পারে যদি সম্ভব হয়।” (সূরা বাকারাহ : ২১৭)

তারা চায় —আমরা যেন এখনই সেক্যুলার, নাস্তিক, খ্রিস্টান, কমিউনিস্ট, সুবিধাভোগী প্রভৃতি যে কোনো কিছু হয়ে যাই। যেন মুসলিম-মুওয়াহহিদ না থাকি।

ওরা চায় আমরা আত্মিক পবিত্রতা, পরিচ্ছন্নতা, নিষ্কলুষতা ও শ্রেষ্ঠত্বকে বর্জন করে প্রবৃত্তি, দুনিয়ার মোহ, ভোগ-বিলাস, পাপ-ফেতনার অতল গহীনে হারিয়ে যাই। আমরা যেন এমন হয়ে যাই, যারা সচ্চরিত্র, ধর্ম ও আদর্শের প্রতি কোনো রূপ ভ্রুক্ষেপ করে না। শ্রেষ্ঠত্বের কোন চিহ্নই যেন না দেখা যায় আমাদের মাঝে।

আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেছেন-

وَاللَّهُ يُرِيدُ أَن يَتُوبَ عَلَيْكُمْ وَيُرِيدُ الَّذِينَ يَتَّبِعُونَ الشَّهَوَاتِ أَن تَمِيلُواْ مَيْلاً عَظِيمًا. ﴿النساء: ٢٧﴾

“আল্লাহ তোমাদের প্রতি ক্ষমাশীল হতে চান, এবং যারা কামনা-বাসনার অনুসারী, তারা চায় যে, তোমরা পথ থেকে অনেক দূরে বিচ্যুত হয়ে পড়।” (সূরা নিসা : ২৭)

আল্লাহ তা‘আলা তাঁর প্রিয় নবী আদম আ. এর প্রতি ইরশাদ করেছেন-

وَيَا آدَمُ اسْكُنْ أَنتَ وَزَوْجُكَ الْجَنَّةَ فَكُلَا مِنْ حَيْثُ شِئْتُمَا وَلَا تَقْرَبَا هَٰذِهِ الشَّجَرَةَ فَتَكُونَا مِنَ الظَّالِمِينَ ﴿الأعراف: ١٩﴾ فَوَسْوَسَ لَهُمَا الشَّيْطَانُ لِيُبْدِيَ لَهُمَا مَا وُورِيَ عَنْهُمَا مِن سَوْآتِهِمَا … ﴿الأعراف: ٢٠﴾

“হে আদম তুমি এবং তোমার স্ত্রী জান্নাতে বসবাস কর। অতঃপর সেখান থেকে যা ইচ্ছা খাও তবে এ বৃক্ষের কাছে যেয়োনা তাহলে তোমরা গোনাহগার হয়ে যাবে। অতঃপর শয়তান উভয়কে প্ররোচিত করল, যাতে তাদের অঙ্গ, যা তাদের কাছে গোপন ছিল, তাদের সামনে প্রকাশ করে দেয়।” (সূরা আ‘রাফ : ১৯-২০)

তিনি আরও বলেছেন-

يَا بَنِي آدَمَ لَا يَفْتِنَنَّكُمُ الشَّيْطَانُ كَمَا أَخْرَجَ أَبَوَيْكُم مِّنَ الْجَنَّةِ يَنزِعُ عَنْهُمَا لِبَاسَهُمَا لِيُرِيَهُمَا سَوْآتِهِمَا إِنَّهُ يَرَاكُمْ هُوَ وَقَبِيلُهُ مِنْ حَيْثُ لَا تَرَوْنَهُمْ إِنَّا جَعَلْنَا الشَّيَاطِينَ أَوْلِيَاءَ لِلَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ ﴿الأعراف: ٢٧﴾

“হে বনী-আদম শয়তান যেন তোমাদেরকে বিভ্রান্ত না করে; যেমন সে তোমাদের পিতামাতাকে জান্নাত থেকে বের করে দিয়েছে এমতাবস্থায় যে, তাদের পোশাক তাদের থেকে খুলিয়ে দিয়েছি-যাতে তাদেরকে লজ্জাস্থান দেখিয়ে দেয়।” (সূরা আ‘রাফ : ২৭)

তারা আমাদের কাছে সকল হীনতা-নীচতা আশা করে। যাতে আমরা লাঞ্চিত, তাদের অনুসারী, তাদের কাছে নতজানু হয়ে যাই। যেন তাদের প্রতি আমরা এই দৃষ্টিতে না তাকাই যে, তারা তো মুশরিক, সেক্যুলার, পাপিষ্ঠ, প্রবৃত্তি পূজারী, হত্যাকারী, ধোঁকাবাজ প্রভৃতি।

যারা জাপানে আণবিক বোমা নিক্ষেপ করেছে, ভিয়েতনামে পাঁচ মিলিয়ন মানুষ হত্যা করেছে, আমাদের দেশগুলোকে দখল করে নিয়েছে, উসমানী খেলাফত ধ্বংস করে দিয়েছে, আমাদের কলিজার টুকরো ফিলিস্তীনে ইহুদীরাজ্য প্রতিষ্ঠা করেছে…

যারা পঞ্চাশটিরও বেশী ভূখন্ডে আমাদের বিভক্ত করেছে, প্রতিনিয়ত আমাদের সম্পদ চুরি করছে, বরং পুরো মানবজাতির সব সম্পদ হরণ করে বসে আছে, যারা নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করতে জলবায়ু দূষণ করে আমাদের এ পৃথিবীকে শেষ করে দিচ্ছে, সকল নিকৃষ্ট ও প্রতাপশালী তাগুতদেরকে আমাদের দেশের কর্তৃত্ব দিয়ে রেখেছে, তাগুতদেরকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে – এমন গুণধর; আমাদেরকে মানুষের অধিকার, স্বাধীনতা, সভ্যতা ও ন্যায়পরায়ণতা শেখানো কী বিস্ময়কর নয়? 

এটা কি আশ্চর্যের বিষয় নয় যে, পাঁচজন সর্বনিকৃষ্ট অপরাধী পৃথিবীর নেতৃত্ব দিবে আর আমাদের কাছে এসে গণতন্ত্র ও সাম্যের বুলি আওড়াবে!

এটা কি আশ্চর্যের বিষয় নয় যে, যারা নারী স্বাধীনতা ও উপকারের কথা বলে, তারাই আবার পর্দা নিষিদ্ধ করে?

তাই আমরা এ উপসংহারে উপনীত হচ্ছি যে, অসৎ উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার লক্ষ্যেই তারা আমাদের উপর সর্বদিক থেকে যুদ্ধ করে যাচ্ছে।

হে মুসলিম বোন! তাদের এই চতুর্মুখী যুদ্ধের গোলক ধাঁধায় আজ তুমিও নিপতিত। হে বোন! তারা আমাদের চেয়ে বিশেষ করে তোমার কাছে এটিই কামনা করে যে,

তুমি যেন তোমার দ্বীন, আনুগত্য, পবিত্রতা, সতীত্ব, নিষ্কলুষতা, লজ্জা, পর্দা ও তোমার উত্তম চরিত্রকে ছুঁড়ে ফেলে দাও। তারা চায় তুমি যেন আল্লাহর শেআরকে সম্মান না কর। তারা চায়, তুমি যেন আল্লাহর নৈকট্যশীল না হতে পারো।

তারা কামনা করে, তুমি যেন তোমার পর্দা, দ্বীনদারিতা ও শরীয়াহ পালনের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করতে না পারো। তারা চায় যে, তুমি যেন ইবাদত করে আল্লাহর নৈকট্য হাসিল করতে না পারো।

তাদের ইচ্ছা, তুমি যেন নাস্তিক, ধর্মহীন, কমিউনিস্ট এবং সর্বোপরি সকল সচ্চরিত্রের বন্ধন থেকে মুক্ত হয়ে যাও। কারণ, তারা জানে যে, তুমি মুসলিম সমাজের এক গুরুত্বপূর্ণ ও অবিচ্ছেদ্য অংশ, তুমিই একজন নেককার মা, বোন, মেয়ে, খালা, চাচি, ফুফু…।

তারা জানে যে, মুসলিম সমাজের আভ্যন্তরীন প্রতিরক্ষা তুমিই করে থাকো। তুমিই লালন-পালন করো, ভবিষ্যৎ বীর তুমিই সৃষ্টি করো, একনিষ্ঠতা তোমার কাছেই শিখে মুসলিম সন্তানেরা, তুমিই বিরল বীরত্বের উপমা, উন্নত চরিত্রের সংগঠক।

তারা এও জানে যে, তুমি ধৈর্য শেখাও, অটলতা শেখাও, কষ্টে সহীষ্ণুতা শেখাও, পাথেয় যোগাও, সাহস যোগাও। তাইতো তোমাকে নিয়ে তাদের এত ষড়যন্ত্র।

কত এমন মা আছেন, যার সন্তানকে শহীদ করা হয়েছে অথবা বন্দী করা হয়েছে কিংবা হারিয়ে গেছে। তখন সে মা কষ্ট সহ্য করেছেন, ধৈর্য ধরেছেন, অটল থেকেছেন, অন্যকে ধৈর্য ধরার শিক্ষা দিয়েছেন।

কত এমন স্ত্রী আছেন, যার স্বামী শহীদ বা বন্দী অথবা হারিয়ে গেছেন কিংবা পালিয়ে আছেন অথবা নির্বাসিত হয়েছেন। তখন এ স্বামীহারা স্ত্রী; সন্তানদের মা-বাবা, প্রতিপালনকারী, লালনপালনকারী ও আদর্শ হন।

এমন কত স্ত্রী আছেন, যারা স্বামীর হিজরতে, দেশ ত্যাগের সঙ্গী হন। স্বামীর সাথে তাকেও দূর দেশে যেতে হয়, স্বদেশ ও স্বজন ত্যাগ করতে হয়। সহজ ও সুন্দর জীবনকে পরিত্যাগ করেন। সহ্য করেন জীবনে কষ্ট নামক অধ্যায়। সহ্য করেন বিপদাপদ, ভয়, শঙ্কা ও অস্থিতিশীলতা, জান-মালের অনিরাপত্তাকে।

এমনও কত বোন আছেন, যারা প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে বা উপত্যকায় বসবাস করার জন্য সুখ-আহ্লাদে ভরপুর জীবনকে ছুঁড়ে ফেলে আসেন। আবার কেউ বিভিন্ন স্থান ও মরুর বিবিধ কোণায় যাযাবরের জীবন যাপন করেন।

কত বোন এমন আছেন, যারা ইয়াতিম হয়ে গেছেন, বিধবা হয়েছেন। কারো কাপড়গুলো রক্তমাখা। কেউ পলায়নরত। কেউ বিতাড়িত। কেউ বোমার আঘাতে হয়েছেন ক্ষতবিক্ষত। কাউকে আহত করা হয়েছে। কাউকে শহীদ করা হয়েছে।

এমন অনেক মা, বোন, স্ত্রী, কন্যা আছেন, যারা তাঁদের জিহাদের ময়দানের পথযাত্রী সন্তান, ভাই, স্বামী কিংবা বাবাকে শেষ বিদায় জানিয়েছেন। তারা জানেনও না জীবনে আর দ্বিতীয়বার তাদের সাথে দেখা হবে কি না।

তাদের এমন অনেকে আছেন, যারা নিজের স্বামীকে জুলুম ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের জন্য বের হওয়ার উৎসাহ দিয়েছেন। অথচ তাঁরা কেউ জানেন না যে, তার স্বামী বের হলে নিরাপদে ফিরে আসবেন কিনা? নাকি আহত হবেন? নাকি বন্দী হয়ে যাবেন?

এমন অনেক দেখা গেছে যে, তাঁর স্বামীকে বন্দী করা হয়েছে। তাই সে বিচ্ছেদের অসহ্য যন্ত্রনা সহ্য করে এবং পরিবারের ভার বহন করেন। যখন এমন নারী স্বামীর সাথে সাক্ষাৎ করতে যায়, তখন স্বামীকে সাহস যোগায়, স্বান্তনা দেয়, স্বামীর মনে থাকা কষ্ট লাঘবের চেষ্টা করে। যাতে করে স্বামীর উপর দিয়ে যাওয়া কষ্ট কিছুটা কমে যায়।

মুসলিম উম্মাহর মাঝে এমন কত…কত…কত…মিলিয়ন উদাহরণ আছে!

হে আদর্শবান নারীরা! আমরা তোমাদের মাঝে ঈমান, ধৈর্য, আল্লাহর সন্তুষ্টি, কষ্ট সহ্য, জান-মাল-আরাম বিসর্জন দিয়ে জিহাদ করা প্রভৃতি অনেক বিষয়ে উত্তম আদর্শ ও চরিত্র লক্ষ্য করেছি।

আর মুসলিম উম্মাহর বিরদ্ধে কুফফারদের পরিচালিত যুদ্ধের প্রধান টার্গেটগুলোর একটি হচ্ছে মুসলিম নারীরা। তারা তোমাদের ঈমান, বিশ্বাস, চেতনা ও দৃঢ়তাকে যেকোন উপায়ে হরণ করার চেষ্টা করবে। তারা তোমাদের চেতনা, বাহ্যিক ও মিডিয়াসহ সকল দিক থেকে আক্রমণ করবে।

অতএব, তোমরা ধৈর্য্য ধারণ করো, দৃঢ় থাকো, কষ্ট সহ্য করো, আল্লাহর কাছে সাহায্য কামনা করো। আর তোমার পাথেয় যেন হয় আল্লাহর উপর দৃঢ় বিশ্বাস, সন্তুষ্টি কামনা ও জিকর, দু‘আ, আসমান-জমিনের মহান প্রতিপালক আল্লাহর কাছে কাকুতি-মিনতি করা। যিনি কোন কিছুর ইচ্ছা করলেই তাকে বলেন “হও” ফলে তা হয়ে যায়।

আমরা সকলেই দুর্বল, গুনাহগার, পাপে লিপ্ত। তবুও যে তাওবা করে; তার ব্যাপারে আমরা দয়াময় প্রভুর ক্ষমার আশা করি এবং যে তাঁর কাছে সাহায্য চায় তাকে তিনি দৃঢ় করবেন বলে আশা রাখি।

সুতরাং আমাদের মধ্যে যে সামান্য হলেও পশ্চাদপদ হয়, প্রবল বাতাসে যে সামান্য হলেও নুয়ে যায়, ক্ষীণ হলেও যে প্রবৃত্তি ও সন্দেহের ঘোরে আচ্ছন্ন হয়; সে যেন ফিরে আসে, দ্রুত তাওবা করে নেয়, সে যেন তার রবের কাছে সাহায্য চায়, হেদায়েত চায়। আর আল্লাহ তা‘আলা তাঁর কার্য সম্পাদনে অপ্রতিরোধ্য। কিন্তু অধিকাংশ মানুষই তা জানে না। আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেছেন-

إِنَّ الْمُسْلِمِينَ وَالْمُسْلِمَاتِ وَالْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ وَالْقَانِتِينَ وَالْقَانِتَاتِ وَالصَّادِقِينَ وَالصَّادِقَاتِ وَالصَّابِرِينَ وَالصَّابِرَاتِ وَالْخَاشِعِينَ وَالْخَاشِعَاتِ وَالْمُتَصَدِّقِينَ وَالْمُتَصَدِّقَاتِ وَالصَّائِمِينَ وَالصَّائِمَاتِ وَالْحَافِظِينَ فُرُوجَهُمْ وَالْحَافِظَاتِ وَالذَّاكِرِينَ اللَّهَ كَثِيرًا وَالذَّاكِرَاتِ أَعَدَّ اللَّهُ لَهُم مَّغْفِرَةً وَأَجْرًا عَظِيمًا ﴿الأحزاب: ٣٥﴾

“নিশ্চয় মুসলমান পুরুষ, মুসলমান নারী, ঈমানদার পুরুষ, ঈমানদার নারী, অনুগত পুরুষ, অনুগত নারী, সত্যবাদী পুরুষ, সত্যবাদী নারী, ধৈর্য্যশীল পুরুষ, ধৈর্য্যশীল নারী, বিনীত পুরুষ, বিনীত নারী, দানশীল পুরুষ, দানশীল নারী, রোযা পালণকারী পুরুষ, রোযা পালনকারী নারী, যৌনাঙ্গ হেফাযতকারী পুরুষ, , যৌনাঙ্গ হেফাযতকারী নারী, আল্লাহর অধিক যিকরকারী পুরুষ ও যিকরকারী নারী-তাদের জন্য আল্লাহ প্রস্তুত রেখেছেন ক্ষমা ও মহাপুরষ্কার।” (সূরা আহযাব : ৩৫)

 

وآخرُ دعوانا أن الحمدُ للهِ ربِ العالمين، وصلى اللهُ على سيدِنا محمدٍ وآلِه وصحبه وسلم.

والسلامُ عليكم ورحمةُ اللهِ وبركاتُه

(Visited 61 times, 1 visits today)