উকালতি/আইনব্যবস্থায় কাজ করার অনুমতি আছে কি?

প্রশ্ন:    মুসলমানদের সাহায্য করা এবং তারা যদি তাওয়াগিতের (মিথ্যা ইলাহ) প্রশ্নের সম্মুখীন হয় তবে তাদের রক্ষা করার অজুহাতে মানবরচিত আইন দ্বারা গঠিত জাহেলী আইনব্যবস্থায় কাজ করার অনুমতি আছে কি?

উত্তর দিয়েছেন  শায়খ আলি বিন খুদাইর আল খুদাইর –

এটা অনুমোদিত নয় যদি এর অর্থ হয় এমন আইন মানা যা আল্লাহর আইনবিরুদ্ধ।
যদি সে জেনেও স্বেচ্ছায় এমন আইন নিয়ে কাজ করে যা শরীয়াহবিরুদ্ধ, তবে এটা কুফরি এবং রিদ্দা এবং তাগুতে বিশ্বাস – আল্লাহ আমাদের এসব থেকে হেফাজত করুন।

আল্লাহ বলেন:
“আপনি কি তাদেরকে(মুনাফিক) দেখেননি যারা দাবি করে যে, আপনার প্রতি এবং আপনার পূ্র্ববর্তীদের প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তাতে তারা ঈমান এনেছে এবং তারা তাদের বিরোধীয় বিষয়গুলোকে তাগুতের দিকে নিয়ে যেতে চায় যখন তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে তাকে অমান্য করে।”(সুরা আন-নিসা ৪:৬০)

কিন্তু তারা যদি মুসলমানদের রক্ষা করার জন্য তাদের আইনজীবি হিসেবে কাজ করে এবং সে কোন ধরনের কুফরি ও গুনায় লিপ্ত না হয় এবং নির্দিষ্ট নিয়মের প্রতি অসন্তুষ্ট থাকে এবং সে পথ থেকে সরে না যায় তবে কোন আপত্তি নেই।

যেমনটা হাদিসে আছে,

“তোমাদের মধ্যে যেই নিজ ভাইকে সাহায্য করতে পার, তার তা করা উচিৎ।”

আল্লাহ বলেন,

“অতঃপর কেউ অণু পরিমাণ সৎকর্ম করলে তা দেখতে পাবে” (সুরা যিলযাল ৯৯:৭)

এবং হাদিসে আছে,

“একজন মুসলিম আরেকজন মুসলিমের জন্য খুঁটিস্বরুপ”

এবং এছাড়াও আরো হাদিস আছে।

এসব থেকে বলা যায় যে, এটার অনুমোদন নেই, এবং প্রথমেই উত্তরে বলতে হয় প্রতিক্রিয়ার কথা, বরং তাদের ধৈর্য্যধারণ করা উচিৎ কেননা যখন সাহাবারা কুরাইশদের তাওয়াগিত দ্বারা নির্যাতিত হচ্ছিল তখন আল্লাহর রাসুল তাদের রক্ষার্থে কোন কুফরি বা রিদ্দার আশ্রয় নেননি, বরং তাদের ধৈর্য্যধারণ করতে হয় বা একটি নিরাপদ স্থানে হিজরত করতে হয় যতদিন না জিহাদের নির্দেশ বা সাহায্য আসে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *