কাফেরের আমানতের হুকুম

আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহু

প্রশ্নঃ একবার আমার এক অমুসলিম বন্ধু আমার কাছে কিছু মূল্যবান জিনিস আমানত রাখে। এর কিছু দিন পর সে মারা যায়।

এখন তার সেই জিনিসগুলো আমি কি করবো? তার ওয়ারিসদের কাছে ফেরত দেব? না  আমরা নিজেদের কোন কাজে লাগিয়ে ফেলবো?

প্রশ্নকারী: আবু উবায়দা

উত্তরঃ

الحمد لله والصلاة والسلام على رسول الله :

সম্মানিত ভাই! সেই জিনিসগুলো তার ওয়ারিসদের কাছে পৌঁছানো জরুরী। নিজেদের কাজে লাগানো বৈধ হবে না।

 

আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন,

 إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُكُمْ أَنْ تُؤَدُّوا الْأَمَانَاتِ إِلَى أَهْلِهَا

 অর্থঃ নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদেরকে নির্দেশ দেন, তোমরা যেন প্রাপ্য আমানতসমূহ প্রাপকদের নিকট পৌছে দাও। (সুরা নিসাঃ৫৮)

অন্যত্র ইরশাদ করেন,

ياأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَخُونُوا اللَّهَ وَالرَّسُولَ وَتَخُونُوا أَمَانَاتِكُمْ وَأَنْتُمْ تَعْلَمُونَ

 অর্থঃ হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহর সাথে ও রাসূলের সাথে খেয়ানত করো না এবং জেনে শুনে নিজেদের পারস্পরিক আমানতে খেয়ানত করো না। (সুরা আনফালঃ২৭)

উভয় আয়াতের নির্দেশ ব্যাপক, যা মুসলমান-কাফের সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করে।

হাদীসে খেয়ানত করাকে মুনাফিকের কাজ বলা হয়েছে।

রাসূলুল্লাহ সঃ ইরশাদ করেছেন,

آية المنافق ثلاث : إذا حدث كذب وإذا وعد أخلف ، وإذا أؤتمن خان

অর্থঃ মুনাফিকের আলামত তিনটি: যখন কথ বলে মিথ্যা বলে, ওয়াদা করলে তা ভঙ্গ করে, তার কাছে কোন কিছু আমানত রাখা হলে তার খেয়ানত করে।

তিনি আরো ইরশাদ করেছেন,

لا إيمان لمن لا أمانة له

অর্থঃ যার আমানতদারী নেই তার (পূর্ণাঙ্গ) ঈমান নেই।

তিনি আরো ইরশাদ করেছেন,

أد الأمانة إلى من ائتمنك، ولا تخن من خانك

অর্থঃ কেউ তোমার কাছে আমানত রাখলে তা (যথাসময়) তাকে আদায় করে দাও। কেউ তোমার সাথে খেয়ানত করলেও তুমি তার সাথে খেয়ানত করো না।

আল্লাহ আমাদেরকে সেসব সফল মুমিনদের অন্তর্ভূক্ত করুন, যাদের ব্যাপারে তিনি ইরশাদ করেছেন

 وَالَّذِينَ هُمْ لِأَمَانَاتِهِمْ وَعَهْدِهِمْ رَاعُونَ

অর্থ: এবং যারা তাদের আমানত ও প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে| (সুরা মুমিনুনঃ ৮)

 

উত্তর প্রদানকারী:

শায়খ আবু মুহাম্মাদ মাকদিসী

সদস্য, আল-লাজনাতুশ শরইয়্যাহ

মিম্বারুত তাওহীদ ওয়াল জিহাদ

অনুবাদ: মাওলানা সা’দ 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *