শায়খ আব্দুল হাকিম হাসসান

শায়খের সকল রচনাবলী

জন্মঃ ১৩৭৯ হিজরি, মিসর

আল্লাহ তাআলা তার উপর নেয়ামত বর্ষণ করুন, তিনি সত্তরের দশক থেকে সালাফি মানহাজের সাথে লেগে ছিলেন।

তিনি মিসরি মাশায়েখদের একটি জামাআতের কাছে ইলম অর্জন করেছিলেন। সে সময় তাঁর দরস সমূহের গুরুত্বপূর্ণ ছিল মাসায়েলে ঈমান ও ই’তেকাদ সম্পর্কিত দরসগুলো।

এব্যাপারে অধিকাংশ দরস তিনি যার কাছে নিয়েছিলেন, তিনি হলেন শায়খ মুহাম্মাদ আমর ইলিয়াস। শায়খ রহঃ ১৪০০ হিজরিতে হারামের দুর্ঘটনায় নিহত হন।

তিনি উলামাদের একটি জামাআতের কাছে অক্ষরে অক্ষরে ও গভীরভাবে ইলমে উসুল, ফিকহ ও ইলমে হাদিস শিখেন। অধিকন্তু তিনি আল আজহারের শায়খদের কাছেও দরস নিয়েছেন, বিশেষত যারা সালাফি ধারার শায়খ।

শায়খ মিসরে ফিরাউনি শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে জিহাদে মুজাহিদদের সাথে শরীক হয়েছিলেন। এমনকি ১৪০০ হিজরিতে তাগুত আনওয়ার সাদাতের নিহত হওয়ার পর তাঁকে বন্দি করা হয়।

মুক্ত হওয়ার পর শায়খ আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত উলামাদের কাছে ইলম অর্জনে ব্রতী হন। আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক পড়াশোনা শেষ করার পর তিনি কৃষি বিদ্যালয়ে “পরিচালনা শাস্ত্রে” দরস নেন।

শায়খ জাজিরাহ ও ইয়েমেনে সফর করেছেন। সেখানের উলামাদের সাহচর্য গ্রহণ করেছেন। তাদের কাছে বিভিন্ন কিতাব ও মাসায়েল অধ্যয়ন করেছেন। অতঃপর ইলম অর্জন সম্পন্ন করে জাজিরাহ থেকে সফরে বের হয়েছেন, যেহেতু সেখানে তাঁর অবস্থান করার সম্ভব ছিল না।

শায়খ ১৪০৬ হিজরিতে আফগানিস্তানের জিহাদে শরীক হওয়ার জন্য হিজরতের আগ পর্যন্ত ইলম অর্জন, কখনো কখনো শিক্ষা প্রদান ও খতীবের এর কাজে লিপ্ত ছিলেন।

শায়খ আফগানিস্তানে মুজাহিদদের মাঝে শরঈ ইলম প্রচারের কাজে শরীক হয়েছিলেন, তিনি একাধিক শরিয়াহ কোর্সে শরীক হয়েছেন, যেগুলোকে জিহাদ ও মুজাহিদদের খেদমত ও তাঁদেরকে যোগ্য করার জন্য অনুষ্ঠিত করা হয়েছিল।

বিশেষত নিত্যনতুন ফিকহের পাশাপাশি “আহকামুল ঈমান ওয়া কুফর” সংক্রান্ত মাসায়েলের ক্ষেত্রে। এই প্রশিক্ষণগুলোতে অংশগ্রহণকারী অনেকের থেকেই তিনি উপকৃত হয়েছিলেন। উদাহরনত শায়খ আব্দুল্লাহ আজ্জাম রহঃ, শায়খ আব্দুল কাদের বিন আব্দুল আজিজ রহঃ, এবং এই প্রশিক্ষণগুলো অনেক দীর্ঘ হত।

শায়খ ১৪১২ হিজরিতে কাবুলের প্রথম বিজয়ের পর আফগান মুজাহিদদের সংগঠনগুলোর মাঝে জিহাদের অধঃপতনের পর ১৪১৩ হিজরিতে ইয়েমেনে হিজরত করার পর সেখানের পারিবারিক শরঈ কেন্দ্রগুলো/ মাদরাসাগুলোতে এভাবেই শিক্ষা দান করেছেন।

অতঃপর বিভিন্ন রাষ্ট্র অতিক্রম করে তিনি ১৪১৬ হিজরিতে তালেবান শাসনের শুরুতে আফগানিস্তানে ফিরে আসেন। এবং জিহাদ ও দাওয়াহ’র কাজে তাঁর ভাইদের সাথে অংশগ্রহণকারী, বক্তৃতা দানকারী ও প্রশিক্ষক হোন।

অবশেষে আমেরিকা ইমারতে ইসলামীর উপর ক্রুসেড হামলা চালায়।

ইমারতে ইসলামীর পতনের পর শাইখ তাঁর মুজাহিদ ও মুহাজির ভাইদের সাথে আফগানিস্তানের পাহাড়ি অঞ্চলে চলে যান, এবং আল্লাহ তাআলার দয়া ও করুণায় আল্লাহ তাআলার কাছে কবুলের আশা করে ও শাহাদাতের মৃত্যু কামনা করে মুজাহিদদের সাথে রয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *