মুখলিস হোন!

শায়খ খালিদ বাতারফি

সকলেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এই হাদিসটি সর্বদা বলে থাকেন: 

“আলক্বামাহ ইব্‌নু ওয়াক্কাস আল-লায়সী রহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত- 

আমি ‘উমর ইব্‌নুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহুকে মিম্বারের উপর দাঁড়িয়ে বলতে শুনেছিঃ আমি আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছিঃ

আমল (এর প্রাপ্য হবে) নিয়ত অনুযায়ী। আর মানুষ তার নিয়ত অনুযায়ী প্রতিফল পাবে।

তাই যার হিজরত হবে ইহকাল লাভের অথবা কোন মহিলাকে বিবাহ করার উদ্দেশ্যে- তবে তার হিজরত সে উদ্দেশ্যেই হবে, যে জন্যে, সে হিজরত করেছে।” (সহিহ বুখারী ৫৪, ২৫২৯, ৩৮৯৮, ৫০৭০, ৬৬৮৯, ৬৯৫৩; মুসলিম ২৩/৪৫ হাঃ ১৯০৭, আহমাদ ১৬৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১)

এমনকি সাধারণ মুসলমানগণও এই গুরুত্বপূর্ণ হাদিসটি ব্যাপকভাবে বলে থাকেন। এটাকে উলামায়ে কেরাম সার্বজনীন হাদিসগুলোর মধ্যে গণ্য করেন। 

ইমাম বুখারী রহিমাহুল্লাহ তার সহিহ এর অনেক স্থানে এটা পুনরাবৃত্তি করেছেন। এমনকি তার কিতাবের সূচনা করেছেন এই হাদিসের মাধ্যমে। এটা করেছেন মুসলমানদের জীবনে এই হাদিসের গুরুত্ব ও মর্যাদার কারণে।

আমরা জানি যে, মানুষের কোন কাজই নিয়ত ছাড়া হয় না। নিয়ত ছাড়া কোন কাজ করা মানুষের পক্ষে সম্ভব না।

যেমন ইবনুল কায়্যিম রহিমাহুল্লাহ বলেছেন: 

“কেউ যদি নিজের ঐচ্ছিক কাজগুলোকে নিয়তমুক্ত করতে চায়, তাহলে এটা পারবে না। যদি মহান আল্লাহ মানুষকে নিয়ত ছাড়া নামায ও ওযু করার দায়িত্ব দিতেন, তাহলে এটা এমন জিনিসের দায়িত্ব চাপানো হত, যা সামর্থ্যের বাইরে, সাধ্যের বাইরে।”

অনেক সময় একই কাজ অনেক মানুষ করে, কিন্তু তাদের নিয়তের মধ্যে পার্থক্য থাকে।

এখানেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই হাদিসটির কার্যকারিতা দেখা যায়- “প্রত্যেক ব্যক্তি যা নিয়ত করেছে, তাই পাবে।”

সুতরাং হে মুসলিম ভাই! 

আপনি যত নেক আমল করবেন, তাতে আপনার পুরস্কার হবে ওই কাজে আপনার আল্লাহর প্রতি ইখলাস বা একনিষ্ঠতার হিসাবে। নেক আমল আল্লাহর নিকট কবুল হওয়া – উক্ত কাজে আপনার আল্লাহর প্রতি একনিষ্ঠতা এবং রাসূলের সুন্নাহ অনুসরণের উপর নির্ভরশীল। আল্লাহ তা’আলা বলেন:

فَمَنْ كَانَ يَرْجُو لِقَاءَ رَبِّهِ فَلْيَعْمَلْ عَمَلًا صَالِحًا وَلَا يُشْرِكْ بِعِبَادَةِ رَبِّهِ أَحَدًا  

“সুতরাং যে নিজ রবের সঙ্গে সাক্ষাতের আশা রাখে, সে যেন সৎকর্ম করে এবং নিজ রবের ইবাদতে অন্য কাউকে শরীক না করে।” (সূরা কাহফ ১৮:১১০)

সুতরাং হে মুসলিম! 

আপনি কি চান, আপনার ইখলাস-একনিষ্ঠতার মধ্যে কোনরূপ ত্রুটি থাকার কারণে আপনার আমল ব্যর্থ হয়ে যাক বা আপনার পুরস্কার কমে যাক?! 

হে প্রিয় মুজাহিদ ভাই, 

এই প্রশ্নটি আমি বিশেষভাবে আপনাকে করছি। কারণ আপনি পরিবার ও প্রিয়জনদের ছেড়ে এসেছেন। আপনি বৈশ্বিক তাগুতগোষ্ঠী এবং তাদের দোসরদের সাথে শত্রুতা প্রদর্শন করেছেন।

আপনি মন্দ আলেম এবং যারা নিজ পথভ্রষ্টতায় নিমজ্জিত হয়ে আছে, তাদের বিরোধিতা করছেন। তাই সাবধান! সাবধান!! শয়তান যেন আপনার নিকট এই দরজা (নিয়তের দরজা) দিয়ে না আসে।

জেনে রাখুন, জিহাদের মধ্যে থাকাকালীন সময়ে এই দরজা (নিয়তের দরজা) দিয়ে যে সকল প্রতিবন্ধকতাগুলো আসে, তা বহুবিধ। তন্মধ্যে কয়েকটি হল: নেতৃত্বের লোভ, প্রসিদ্ধি, গনিমত, প্রদর্শনের ইচ্ছা, সমশ্রেণীর লোকদের প্রতি হিংসা, অহংকার, অন্যদের হীনদৃষ্টিতে দেখা ইত্যাদি।

এছাড়াও আরো অনেক প্রতিবন্ধকতা আছে, যেগুলো আপনার মধ্যে ঢুকে গেলে, তা আপনার জিহাদকে নষ্ট করে দিবে এবং আপনার আমলকে বাতিল করে দিবে। আল্লাহ আমাকে এবং আমাদের সবাইকে এ থেকে রক্ষা করুন।

এক্ষেত্রে আপনার জন্য এ হাদিসটিই যথেষ্ট, যা ইমাম মুসলিম রহিমাহুল্লাহ “অধ্যায়: যে ব্যক্তি প্রদর্শন ও সুখ্যাতির জন্য যুদ্ধ করবে, সে জাহান্নামের অধিকারী হবে”এর অধীনে আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন।

আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: আমি রাসূলুল্লাহকে বলতে শুনেছি:

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَبِيبٍ الْحَارِثِيُّ، حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ الْحَارِثِ، حَدَّثَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، حَدَّثَنِي يُونُسُ بْنُ يُوسُفَ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ، قَالَ تَفَرَّقَ النَّاسُ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، فَقَالَ لَهُ نَاتِلُ أَهْلِ الشَّامِ أَيُّهَا الشَّيْخُ حَدِّثْنَا حَدِيثًا سَمِعْتَهُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ نَعَمْ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ ‏ “‏ إِنَّ أَوَّلَ النَّاسِ يُقْضَى يَوْمَ الْقِيَامَةِ عَلَيْهِ رَجُلٌ اسْتُشْهِدَ فَأُتِيَ بِهِ فَعَرَّفَهُ نِعَمَهُ فَعَرَفَهَا قَالَ فَمَا عَمِلْتَ فِيهَا قَالَ قَاتَلْتُ فِيكَ حَتَّى اسْتُشْهِدْتُ ‏.‏ قَالَ كَذَبْتَ وَلَكِنَّكَ قَاتَلْتَ لأَنْ يُقَالَ جَرِيءٌ ‏.‏ فَقَدْ قِيلَ ‏.‏ ثُمَّ أُمِرَ بِهِ فَسُحِبَ عَلَى وَجْهِهِ حَتَّى أُلْقِيَ فِي النَّارِ وَرَجُلٌ تَعَلَّمَ الْعِلْمَ وَعَلَّمَهُ وَقَرَأَ الْقُرْآنَ فَأُتِيَ بِهِ فَعَرَّفَهُ نِعَمَهُ فَعَرَفَهَا قَالَ فَمَا عَمِلْتَ فِيهَا قَالَ تَعَلَّمْتُ الْعِلْمَ وَعَلَّمْتُهُ وَقَرَأْتُ فِيكَ الْقُرْآنَ ‏.‏ قَالَ كَذَبْتَ وَلَكِنَّكَ تَعَلَّمْتَ الْعِلْمَ لِيُقَالَ عَالِمٌ ‏.‏ وَقَرَأْتَ الْقُرْآنَ لِيُقَالَ هُوَ قَارِئٌ ‏.‏ فَقَدْ قِيلَ ثُمَّ أُمِرَ بِهِ فَسُحِبَ عَلَى وَجْهِهِ حَتَّى أُلْقِيَ فِي النَّارِ ‏.‏ وَرَجُلٌ وَسَّعَ اللَّهُ عَلَيْهِ وَأَعْطَاهُ مِنْ أَصْنَافِ الْمَالِ كُلِّهِ فَأُتِيَ بِهِ فَعَرَّفَهُ نِعَمَهُ فَعَرَفَهَا قَالَ فَمَا عَمِلْتَ فِيهَا قَالَ مَا تَرَكْتُ مِنْ سَبِيلٍ تُحِبُّ أَنْ يُنْفَقَ فِيهَا إِلاَّ أَنْفَقْتُ فِيهَا لَكَ قَالَ كَذَبْتَ وَلَكِنَّكَ فَعَلْتَ لِيُقَالَ هُوَ جَوَادٌ ‏.‏ فَقَدْ قِيلَ ثُمَّ أُمِرَ بِهِ فَسُحِبَ عَلَى وَجْهِهِ ثُمَّ أُلْقِيَ فِي النَّارِ ‏”‏ ‏.‏

“সুলাইমান ইবনু ইয়াসার রহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত- 

তিনি বলেন, একদা লোকজন যখন আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু এর নিকট থেকে বিদায় নিচ্ছিল, তখন সিরিয়াবাসী নাতিল (রহিমাহুল্লাহ) বললেন, হে শায়খ! আপনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট থেকে শুনেছেন এমন একখানা হাদিস আমাদেরকে শুনান। তিনি বলেন, হ্যাঁ! (শুনাবো)।

আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি, কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম যার বিচার করা হবে, সে হচ্ছে এমন একজন যে শহীদ হয়েছিল।

তাঁকে উপস্থিত করা হবে এবং আল্লাহ তাঁর নিয়ামতরাশির কথা তাকে বলবেন এবং সে তার সবটাই চিনতে পারবে (এবং যথারীতি তার স্বীকারোক্তিও করবে।)

তখন আল্লাহ তা’আলা বলবেন, এর বিনিময়ে‌ ‘কী আমাল করেছিলে?’ সে বলবে, আমি তোমারই পথে যুদ্ধ করেছি এমনকি শেষ পর্যন্ত শহীদ হয়েছি।

তখন আল্লাহ তা’আলা বলবেন, তুমি মিথ্যা বলেছো। তুমি বরং এ জন্যেই যুদ্ধ করেছিলে যাতে লোকে তোমাকে বলে, তুমি বীর। তা বলা হয়েছে, এরপর নির্দেশ দেয়া হবে। সে মতে তাকে উপুড় করে হেঁচড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হবে এবং জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।

তারপর এমন এক ব্যক্তির বিচার করা হবে যে জ্ঞান অর্জন ও বিতরণ করেছে এবং কুরআন মাজীদ অধ্যয়ন করেছে। তখন তাকে হাযির করা হবে। আল্লাহ তা’আলা তাঁর প্রদত্ত নিয়ামতের কথা তাকে বলবেন এবং সে তা চিনতে পারবে (এবং যথারীতি তার স্বীকারোক্তিও করবে।)

তখন আল্লাহ তা’আলা বলবেন, এত বড় নিয়ামত পেয়ে বিনিময়ে তুমি কী করলে? জবাবে সে বলবে, আমি জ্ঞান অর্জন করেছি এবং তা শিক্ষা দিয়েছি এবং তোমারই সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে কুরআন অধ্যয়ন করেছি।

জবাবে আল্লাহ তা’আলা বলবেন, তুমি মিথ্যা বলেছো।তুমি তো জ্ঞান অর্জন করেছিলে এজন্যে যাতে লোকে তোমাকে জ্ঞানী বলে। কুরআন তিলাওয়াত করেছিলে এ জন্যে যাতে লোকে বলে, তুমি একজন ক্বারী। তা বলা হয়েছে। তারপর নির্দেশ দেয়া হবে, সে মতে তাকেও উপুড় করে হেঁচড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হবে এবং জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।

তারপর এমন এক ব্যক্তির বিচার হবে যাকে আল্লাহ তা’আলা সচ্ছলতা এবং সর্ববিধ বিত্ত-বৈভব দান করেছেন। তাকে উপস্থিত করা হবে এবং তাকে প্রদত্ত নিয়ামতসমূহের কথা তাঁকে বলবেন। সে তা চিনতে পারবে (স্বীকারোক্তিও করবে।)

তখন আল্লাহ তা’আলা বলবেন, ‘এসব নিয়ামতের বিনিময়ে তুমি কী ‘আমল করেছো?’ জবাবে সে বলবে, সম্পদ ব্যয়ের এমন কোন খাত নেই যাতে সম্পদ ব্যয় করা তুমি পছন্দ কর, আমি সে খাতে তোমার সন্তুষ্টির জন্যে ব্যয় করেছি।

তখন আল্লাহ তা’আলা বলবেন, তুমি মিথ্যা বলছো। তুমি বরং এ জন্যে তা করেছিলে যাতে লোকে তোমাকে ‘দানবীর’ বলে অভিহিত করে। তা বলা হয়েছে। তারপর নির্দেশ দেয়া হবে। সে মতে তাকেও উপুড় করে হেঁচড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হবে এবং জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।” (সহিহ মুসলিম ই.ফা. ৪৭৭০, ই.সে. ৪৭৭১)

নিয়তের সব ধরণের সমস্যা এই হাদিসের মর্মের আওতাভুক্ত। আল্লাহই সর্বাধিক অবগত।

আমরা আমাদের জিহাদি যাত্রার শুরুর দিকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই হাদিসটি পড়তাম, যা ইমাম বুখারী রহিমাহুল্লাহ আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন: 

‏”‏ مَنْ آمَنَ بِاللَّهِ وَبِرَسُولِهِ وَأَقَامَ الصَّلاَةَ وَصَامَ رَمَضَانَ، كَانَ حَقًّا عَلَى اللَّهِ أَنْ يُدْخِلَهُ الْجَنَّةَ جَاهَدَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ، أَوْ جَلَسَ فِي أَرْضِهِ الَّتِي وُلِدَ فِيهَا ‏”‏‏.‏ فَقَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ أَفَلاَ نُبَشِّرُ النَّاسَ‏.‏ قَالَ ‏”‏ إِنَّ فِي الْجَنَّةِ مِائَةَ دَرَجَةٍ أَعَدَّهَا اللَّهُ لِلْمُجَاهِدِينَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ، مَا بَيْنَ الدَّرَجَتَيْنِ كَمَا بَيْنَ السَّمَاءِ وَالأَرْضِ، فَإِذَا سَأَلْتُمُ اللَّهَ فَاسْأَلُوهُ الْفِرْدَوْسَ، فَإِنَّهُ أَوْسَطُ الْجَنَّةِ وَأَعْلَى الْجَنَّةِ، أُرَاهُ فَوْقَهُ عَرْشُ الرَّحْمَنِ، وَمِنْهُ تَفَجَّرُ أَنْهَارُ الْجَنَّةِ ‏”‏‏.‏ قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ فُلَيْحٍ عَنْ أَبِيهِ ‏”‏ وَفَوْقَهُ عَرْشُ الرَّحْمَنِ ‏”

“আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি যে ঈমান আনল, সালাত আদায় করল ও রমযানের সিয়াম পালন করল সে আল্লাহর পথে জিহাদ করুক কিংবা স্বীয় জন্মভূমিতে বসে থাকুক, তাকে জান্নাতে প্রবেশ করিয়ে দেওয়া আল্লাহর দায়িত্ব হয়ে যায়।

সাহাবীগণ বললেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমরা কি লোকদের এ সুসংবাদ পৌঁছে দিব না? তিনি বলেন, আল্লাহর পথের মুজাহিদদের জন্য আল্লাহ তায়ালা জান্নাতে একশটি মর্যাদার স্তর প্রস্তুত রেখেছেন। দু’টি স্তরের ব্যবধান আসমান ও জমিনের দূরত্বের ন্যায়।

তোমরা আল্লাহর কাছে চাইলে ফেরদাউস চাইবে। কেননা এটাই হল সবচাইতে উত্তম ও সর্বোচ্চ জান্নাত। আমার মনে হয়, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ-ও বলেছেন, এর উপরে রয়েছে আরশে রহমান। আর সেখান থেকে জান্নাতের নহরসমূহ প্রবাহিত হচ্ছে।” (সহিহ বুখারী ই ফা – ২৭৯০)

আমরা এ হাদিস পড়ে বিস্মিত হতাম এবং আশা করতাম, আমরা যেন মুজাহিদগণের স্তরসমূহের সর্বোচ্চ স্তরে থাকি।

তখন আমরা মুজাহিদগণের স্তরসমূহের সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছার পদ্ধতি সম্পর্কে আলেমগণকে জিজ্ঞেস করলাম।

আমাদেরকে উত্তরে বলা হল: এটা জিহাদের মধ্যে মুজাহিদগণের ইখলাস ও আমলের হিসাবে হবে। তার জিহাদের কাজে আমীর বা মাসুল হওয়া আবশ্যক নয়। বরং একজন সৈনিক হয়েও সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছতে পারে।

এর প্রমাণ হল এই মহান হাদিস, যা আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন। রাসূল বলেন:

“‏ تَعِسَ عَبْدُ الدِّينَارِ وَعَبْدُ الدِّرْهَمِ وَعَبْدُ الْخَمِيصَةِ، إِنْ أُعْطِيَ رَضِيَ، وَإِنْ لَمْ يُعْطَ سَخِطَ، تَعِسَ وَانْتَكَسَ، وَإِذَا شِيكَ فَلاَ انْتَقَشَ، طُوبَى لِعَبْدٍ آخِذٍ بِعِنَانِ فَرَسِهِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ، أَشْعَثَ رَأْسُهُ مُغْبَرَّةٍ قَدَمَاهُ، إِنْ كَانَ فِي الْحِرَاسَةِ كَانَ فِي الْحِرَاسَةِ، وَإِنْ كَانَ فِي السَّاقَةِ كَانَ فِي السَّاقَةِ، إِنِ اسْتَأْذَنَ لَمْ يُؤْذَنْ لَهُ، وَإِنْ شَفَعَ لَمْ يُشَفَّعْ 

“লাঞ্ছিত হোক দিনারের গোলাম, দিরহামের গোলাম এবং শালের গোলাম। তাঁকে দেওয়া হলে সন্তুষ্ট হয়, না দেওয়া হলে অসন্তুষ্ট হয়। এরা লাঞ্ছিত হোক, অপমানিত হোক। (তাদের পায়ে) কাঁটা বিদ্ধ হলে কেউ তা তুলে দিবে না।

ঐ ব্যক্তির জন্য সুসংবাদ, যে ঘোড়ার লাগাম ধরে জিহাদের জন্য প্রস্তুত রয়েছে, যার মাথার চুল এলোমেলো এবং পা ধূলিধূসরিত। তাঁকে পাহারায় নিয়োজিত করলে পাহারায় থাকে আর (সৈন্য দলের) পেছনে রাখলে পেছনেই থাকে। সে কারো সাক্ষাতের অনুমতি চাইলে তাঁকে অনুমতি দেয়া হয় না এবং কোন বিষয়ে সুপারিশ করলে তার সুপারিশ গ্রহণ করা হয় না।” (বুখারী ২৮৮৭, মিশকাত ৫১৬১)

ইবনুল জাওযী রহিমাহুল্লাহ বলেন: “সে হল এমন অখ্যাত ব্যক্তি, যিনি কোন সুখ্যাতি চান না।”

আল্লামা খালখালি বলেন: এর অর্থ হল, ‘যা আদেশ করা হয়, তাই পালন করা এবং যেখানে রাখা হয়, সেখানেই থাকা, আপন স্থান ত্যাগ না করা। প্রহরা ও পিছনের অংশে থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যেহেতু এ দু’টি কাজ সর্বাধিক কষ্টকর’।

তাই প্রিয় মুজাহিদ ভাই,

আপনি যদি আপনার আমীরের মধ্যে স্বজনপ্রীতি দেখতে পান, তাহলে স্মরণ করুন: (আমি) নিজে মুখলিস হই।

যদি এমন কাউকে আপনার উপর প্রাধান্য দেওয়া হয়, যে হিজরত ও জিহাদের ক্ষেত্রে আপনার থেকে নবীন, তাহলে স্মরণ করুন: (আমি) নিজে মুখলিস হই।

যদি অন্যকে দেওয়া হয়, কিন্তু আপনাকে বঞ্চিত করা হয়, তবে স্মরণ করুন: (আমি) নিজে মুখলিস হই। 

আপনার জিহাদি জীবনের, এমনকি আপনার সমগ্র জীবনের স্থায়ী স্লোগান যেন হয়:

قُلْ إِنَّ صَلَاتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِي لِلَّـهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ ﴿﴾ لَا شَرِيكَ لَهُ ۖ وَبِذَٰلِكَ أُمِرْتُ وَأَنَا أَوَّلُ الْمُسْلِمِينَ ﴿﴾

“আপনি বলুনঃ আমার নামায, আমার কোরবাণী এবং আমার জীবন ও মরন বিশ্ব-প্রতিপালক আল্লাহরই জন্যে। তাঁর কোন অংশীদার নেই। আমি তাই আদিষ্ট হয়েছি এবং আমি প্রথম আনুগত্যশীল।” (সূরা আনআম ৬:১৬২-১৬৩)

আমাদের সর্বশেষ কথা: সমস্ত প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য, যিনি জগতসমূহের প্রতিপালক।

(Visited 35 times, 1 visits today)