শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া রহ. এর বক্তব্য থেকে সৃষ্ট মুরজিআদের সংশয়ের নিরসন

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি জগতসমূহের প্রতিপালক। আম্মাবাদ…

শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া রহ. এর একটি বক্তব্য বর্ণিত হয়েছে, যার বিবরণ নিম্নরূপ:

“যে সমস্ত প্রকাশ্য কাজ কুফর হয়- যেমন প্রতিমাকে সিজদাহ করা, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে গালি দেওয়া বা এজাতীয় কাজগুলো- (এগুলোর কুফর হবার কারণ হল) তার কারণ হল, তার মধ্যে অনিবার্যভাবে আভ্যন্তরীণ কুফরও বিদ্যমান থাকে। অন্যথায় যদি ধরে নেওয়া হয় যে, সে মূর্তির সামনে সিজদাহ করেছে, কিন্তু মনে মনে তাকে সিজদাহ করার ইচ্ছা করেনি, বরং মনে মনে আল্লাহকেই সিজদাহ করার ইচ্ছা করেছে, তাহলে এটা কুফর হবে না। Continue reading

শরীয়তের সুস্পষ্ট বিধাণের বিরোধিতা বা প্রত্যাখ্যান করা দলের ব্যাপারে হুকুম

শাইখ নাসির আল-ফাহাদ (ফাক্কাল্লাহু আসরাহ) এর কাছে প্রশ্ন করা হয়েছিল –

যারা বলে তাইফাহ মুমতানি’য়াহ ব্যাপারে দুটি মত আছে, তাদের জবাবে কী বলা উচিৎ? আর শাইখুল ইসলাম (ইবনু তাইমিয়া) এ ব্যাপারে যে ইজমার কথা বলছেন – এটা যে  অস্বীকার করে এবং বলে, “আমি ইজমা থাকার ব্যাপারে দাবিটি খতিয়ে দেখলাম কিন্তু এমন কিছু খুঁজে পেলাম না” – তাদের ক্ষেত্রে জবাব কী হবে? তাছাড়া এটা কিভাবে সম্ভব যে তাইফাতুল মুমতানি’য়াহর ব্যাপারে সাহাবীদের রা. মধ্যে ইজমা থাকার পরও পরবর্তীতে ফকিহগণ এ ইজমার সাথে ভিন্নমত পোষণ করলেন? এবং তাইফা মুমতানি’য়াহর কুফরের ব্যাপারে ভিন্নমত পোষণ করলেন?

Continue reading

দরবারী আলিমদের মতে তাকফির

আশ-শাইখ আল্লামা নাসির ইবনু হামাদ আল-ফাহাদ ফাক্কাল্লাহু আসরাহ বলেনঃ

শুনে রাখুন আমার মুসলিম ভাইয়েরা, অধিকাংশ আলিমরা দুঃখজনকভাবে তাকফিরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে মূলনীতি এতোদিন জানতেন না, তা হল যে ব্যক্তি এমন কোন কাজ করে যা তাকে ইসলামের গণ্ডী থেকে বের করে দেয় – সে কখনো শাসকদের একজন হতে পারে না। কারণ শাসকরা যে কুফর বা শিরকই করুক না কেন, তাদের তাকফির করা হলে আকাশ ভেঙ্গে পড়া এবং পর্বতমালা ধ্বসে পড়ার মতো অবস্থা হবে।

Continue reading

গণতন্ত্র ও সংসদে অংশগ্রহণের ব্যাপারে হুকুম – শায়খ নাসির আল ফাহদ

শাইখ নাসির ইব্‌ন হামদ আল-ফাহাদ (ফাক্কাল্লাহু আশরাহ) -কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল গণতন্ত্রের অর্থ কী? শূরা এবং গণতন্ত্রের মধ্যে পার্থক্য কী? এবং সংসদে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে কী হুকুম?

শাইখ (ফাক্কাল্লাহু আশরাহ) -এর জবাব: গণতন্ত্র হল জনগণের শাসন। যার অর্থ হল আইন প্রণয়ন এবং হালাল-হারাম নির্ধারণের অধিকার জনগণের। ইসা (আ) -এর জন্মের আগে প্রাচীন গ্রীসে এর অস্তিত্ব ছিল। ইংরেজ এবং ফরাসী বিপ্লবের সময় থেকে এ ধারণা আরো বিকশিত হতে হতে আজকের অবস্থায় পৌছেছে।

এটি নির্জলা কুফর, বিধান দেয়ার অধিকার একমাত্র আল্লাহ তা’আলার, যার কোন শরীক নেই। যেমনটা তিনি বলেন,

وَلَا يُشْرِكُ فِي حُكْمِهِ أَحَدًا
হুকুম দেয়ার ক্ষেত্রে তিনি কাউকে নিজের সাথে শরীক করেন না” [সূরা কাহাফ: ২৬]

 

বিয়ে এবং ব্যাভিচারের মধ্যে যত পার্থক্য, শূরা এবং গণতন্ত্রের মধ্যে পার্থক্য তার চেয়েও বেশি। এবং সেগুলো কয়েকটি দিক থেকে:

১. শূরা শুধু ইজতিহাদি বিষয়ের ক্ষেত্রে হতে পারে, যেগুলোর ব্যাপারে স্পষ্ট কোন নস পাওয়া যায় না। কিন্তু যে বিধানগুলো সুস্পষ্ট, সেগুলোর ব্যাপারে কোন শূরা নেই। অথচ গণতন্ত্রের ক্ষেত্রে এরকম কোন শর্ত নেই।

২. শূরা হল “আহলুল-হাল ওয়াল-আকদ” এর মধ্য থেকে যারা ইহসান, ইখলাস এবং দ্বীনদারিতার ব্যাপারে সুপ্রসিদ্ধ, সেইসব সালিহ বান্দার জন্য। অথচ গণতন্ত্রের ক্ষেত্রে সংসদ হল এমন কিছু লোকদের জন্য যাদেরকে জনগণ নির্বাচিত করে নিজেদের খেয়ালখুশি ও কামনা অনু্যায়ী, নিজেদের স্বার্থ পূরণের জন্য, এমনকি তারা যদি সমাজের সর্বনিকৃষ্টও হয়।

৩. শূরার রায় যে সর্বদা সঠিক হয়, তা নয়। তাই যদি তিনি উত্তম বিকল্প পান, অথবা মান্য না করায় কল্যাণ আছে বলে মনে করেন তাহলে শূরার রায় মানতে ন্যায়বান শাসক বাধ্য নন। অথচ গণতন্ত্রের ক্ষেত্রে তা ব্যাপারটা বিপরীত। গণতন্ত্রে যে রায় আসবে সেটাই মানতে হবে।

৪. শূরাতে এমন কোন সিদ্ধান্ত ও আইন নিয়ে আসা হয় না, যা জনগণের উপর চাপিয়ে দেয়া হয়। অথচ গণতন্ত্র সিদ্ধান্ত জোর করে চাপিয়ে দেয়া হয়।

এসব পার্থক্য ছাড়াও, গণতন্ত্র এবং শূরার মধ্যে আরও বেশ কিছু পার্থক্য আছে। এই ইস্যুতে বেশ কিছু ভালো বই আছে, সেগুলো পড়লে ব্যাপারগুলো আরো স্পষ্ট হবে।

এবং বিভিন্ন দিক থেকে সংসদে অংশগ্রহণ করা মারাত্মক মুনকার (মন্দ), বেশ কয়েকটি দিক থেকে –

১. জনগণের আইনকে স্বীকৃতি দেয়া। সংসদ হল একটি বিধানসভা, যা আইন প্রণয়ণ করে। তাই এতে অংশগ্রহণ করার অর্থ হল, যে সংসদে অংশগ্রহণ করছে সে আল্লাহর ব্যাতীত অপর বিধানদাতার স্বীকৃতি দিচ্ছে, যা সুস্পষ্ট কুফর। এমনকি ইসলামপন্থীরাও যদি সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়, এবং সংবিধানকে ইসলামসম্মত করে, তবুও সেটা আল্লাহর বিধান, আল্লাহর আইনের শাসন বলে বিবেচিত হবে না। বরং এটা জনগনে শাসন হিসেবেই বিবেচিত হবে। কারণ এটা করা হয়েছে জনগণের ইচ্ছে অনুযায়ী, আল্লাহর নির্দেশ অনুযায়ী না। তাই যখন সংসদ সদস্য পরিবর্তন হয়, তখন আইনও বদলে যায়। সুতরাং এটি কখনোই শরীয়াহর শাসন না।

শরীয়াহ বাধ্য করে, নিয়ন্ত্রন করে, শর্তহীন শাসন করে। যারা একে অস্বীকার করে তাদেরকে তরবারী দ্বারা আঘাত করে আস্তাকুঁড়ে নিক্ষেপ করে, আর এ কাজের আগে আমরা পক্ষ-বিপক্ষের ভোট গুনতে বসি না।

২. এছাড়াও সংসদে অংশগ্রহণকারী প্রত্যেককে সংবিধানকে সম্মান করার শপথ করতে হয়, যে সংবিধানটি মূলত কুফর ছাড়া কিছুই নয়। এছাড়াও এর মধ্যে রয়েছে আরো অনেক মুকাফফিরাত, আর এই সংবিধানকে সম্মান করাও কুফর। তাহলে কীভাবে আপনি এই সংবিধানের ওপর শপথ করেন? কীভাবে এ সংবিধানকে সম্মান ও বাস্তবায়নের শপথ করেন!

৩. যাদেরকে ইসলামপন্থী বলা হয় তারা সংসদে যাবার জন্য দ্বীনের অনেক বিষয়ের ব্যাপারে ছাড় দেয়, দিয়ে আসছে। কিন্তু সংসদে যাবার জন্য দ্বীনের ব্যাপারে যা কিছু তারা ছাড় দিয়েছে তার ভগ্নাংশও তারা অর্জন করতে পারেনি। বর্তমান অবস্থা খেয়াল করলেই আপনারা তা ভালো করেই বুঝবেন।

 

শাইখ আহমাদ শাকির (রহ) তার উমদাতুল তাফসীরে আল্লাহর বাণী, এবং পরামর্শ করো তাদের সাথে” [আলী ইমরান: ১৫৯] এর আলোচনায় খুব সুন্দর ভাবে শূরার সাথে গণতন্ত্রের তুলনা করে দেখিয়েছেন। যারা গণতন্ত্রকে শূরার একটি প্রকারভেদ বলে দাবি করে এবং নির্বাচনে অংশগ্রহণের আহবান করে, এখানে শাইখ আহমাদ শাকির তাদের সুন্দর জবাব দিয়েছেন। তাই আমি আপনাদের বলবো শাইখের উমদাতুল তাফসির পড়ে দেখুন, কারণ এতে এমন কথা আছে যা স্বর্ণাক্ষরে লিখে রাখার মত।

৯/১১ হামলার ব্যাপারে শাইখ নাসির আল-ফাহদের ফতোয়া

আস সালামু আলাইকুম, আপনার উপর আল্লাহর রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক

সম্মানিত শায়খ, ভিসা কি শার’ঈ আমান (নিরাপত্তা চুক্তি) হিসেবে গণ্য হবে? যদি ভিসা শার’ঈ আমান হিসেবে গণ্য হয় তাহলে যেসব মুজাহিদীন অ্যামেরিকার টুইন টাওয়ারে হামলা চালিয়েছেন তারা কি শার’ই চুক্তি ভঙ্গকারী হিসেবে গণ্য হবেন?

Continue reading

শায়খ নাসির আল-ফাহাদের জীবনি

শায়খ নাসির আল-ফাহাদের জীবনি। আল্লাহ সুবহানু ওয়া তা’আলা তার মুক্তি ত্বরান্বিত করুন

তার নাম, বংশপরিচয় ও বাসস্থানঃ

তার নাম নাসির ইবনে হামাদ ইবন হুমাইয়্যিন ইবনে হামাদ ইবন ফাহাদ। তিনি জন্মেছেন আল-আসা’ইদা আল-রাওয়াকিয়া গোত্রে। তার পূর্বপুরুষ ছিলেন বনি সাদ ইবনে বাকর, যারা শৈশবে রাসুল (সাঃ) কে লালন পালন করেছিলেন। বর্তমানে তারা উতাইবাহ নামে পরিচিত। তার মায়ের নাম নুরা আল গাজী। তিনি জন্মসূত্রে আল দাওয়াসীর গোত্রের। শায়খ নাসিরের পারিবারিক বাসস্থান ছিলো আল-সুয়াইরে যেটি “আল-যুলফি” নামক গ্রামে অবস্থিত।। শায়খ আল-আল্লামাহ মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহীমের(রাহিমাহুল্লাহ) সাথে কাজ করার জন্য শায়খ নাসিরের পিতা শেখ হামাদ ইবনে হুমাইয়্যিন রিয়াদে গিয়েছিলেন। তার সাথে তিনি ১৮ বছর অতিবাহিত করেন এবং রিয়াদেই মৃত্যুবরণ করেন।

Continue reading

আগুন!

শায়খ নাসির বিন হামদ আল ফাহদ

ডাউনলোড

শায়খ সাথে পা ভাজ করে বসলেন। স্বভাবসুলভ গাম্ভীর্যের সাথে আমামাহ ঠিক করলেন। তারপর ধীরে ধীরে তাঁর চারপাশে বসে থাকা ছাত্রদের দিকে এক একে তাকালেন। তাঁরা বসে ছিল স্থির হয়ে, নিবিষ্ট মনে মাটির দিকে চোখ নামিয়ে – যেন তাঁদের মাথায় পাখি বসে আছে, আর একটু নড়াচড়াতেই উড়ে যাবে। শায়খ শুরু করলেনঃ Continue reading

জিহাদ যখন আমেরিকার জন্য!

জিহাদ যখন আমেরিকার জন্য!

শায়খ নাসির আল ফাহদ (আল্লাহ তাঁর মুক্তি ত্বরান্বিত করুন)

পিডিএফ ডাউনলোড

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এবং শান্তি ও কল্যাণ বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূল(সা), তাঁর পরিবার, তাঁর সাহাবা এবং তাদের উপর যারা তাঁদের অনুসরণ করেন।

সম্প্রতি আমরা ইরাকে ক্রুসেডারদের বিরুদ্ধে জিহাদ এবং সশস্ত্র প্রতিরোধে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির খবর পেয়েছি।

তাছাড়া এই সশস্ত্র প্রতিরোধ সম্পর্কে সৌদি আরব নামক রাষ্ট্রের অবস্থান দিবালোকের মত স্পষ্ট হয়ে গেছে এবং তারা যে ক্রুসেডারদের প্রতিরোধে যে কোন ধরনের সাহায্যকে অপরাধ সাব্যস্ত করছে, সে সম্পর্কেও আমরা অবগত হয়েছি। Continue reading

নারীর জিহাদ?

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম

প্রশ্নঃ

কিভাবে একজন নারী জিহাদে অংশগ্রহণ করতে পারে? এবং একজন নারী কি তার পিতামাতার অনুমতি ছাড়া জিহাদের জন্য বের হতে পারে? আমি উত্তর আশা করছি এবং আমার ক্ষেত্রে জিহাদ কি আক্রমণাত্মক নাকি রক্ষণাত্মক? জাযাকাল্লাহু খাইর। Continue reading